আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

পরিবেশ

অবশেষে আলোর মুখ দেখছে চিড়িয়াখানা আইন

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় এবং পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের মধ্যে বিরোধের কারণে ১০ বছর ধরে আটকে আছে চিড়িয়াখানা আইন। অবশেষে সমঝোতা হয়েছে দুই মন্ত্রণালয়ের। খসড়া চিড়িয়াখানা আইনটি অনুমোদনের জন্য মন্ত্রিসভা বৈঠকে পাঠানো হচ্ছে।

বেসরকারি চিড়িয়াখানাগুলোর নিয়ন্ত্রণ বন মন্ত্রণালয়ের হাতে নিতে তারা চিড়িয়াখানা আইনটি করতে দিচ্ছিল না। পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের দাবি ছিল, বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের এ ধরনের আইন করার সুযোগ নেই। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় থেকে জানা গেছে, ২০০৮ সাল থেকে চিড়িয়াখানা আইন করার চেষ্টা চালিয়ে আসছেন তারা। এ আইনটি না হওয়ায় ওয়ার্ল্ড অ্যাসোসিয়েশন অব জু অ্যান্ড একুরিয়ামসহ (ওয়াজা) সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সদস্য হতে পারছে না বাংলাদেশ। সহযোগিতা পেতে সমস্যা হচ্ছে ওই সব সংগঠন থেকে। সরকারি দুটি চিড়িয়াখানা (মিরপুরে জাতীয় চিড়িয়াখানা ও রংপুর চিড়িয়াখানা) পরিচালনায় জটিলতা নিরসনসহ ব্যবস্থাপনাকে আইনগত ভিত্তি দিতে আইন প্রয়োজন। আইনি কাঠামো না থাকায় চিড়িয়াখানায় বড় ধরনের উন্নয়ন করা যাচ্ছে না। এছাড়া বেসরকারি ও ব্যক্তি পর্যায়ে গড়ে ওঠা চিড়িয়াখানাগুলোর উপরও সরকারের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠায় ব্যবহৃত হবে এ আইন।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. নজরুল আনোয়ার জাগো নিউজকে বলেন, খসড়া চিড়িয়াখানা আইনটি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের বাংলা ভাষা বাস্তবায়ন কোষে পাঠানো হয়েছিল। তারা ভাষাটা ঠিক করে পাঠিয়েছে, আমরা এখন এটি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠাব। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগেও একটি কমিটি আছে সেই কমিটি এটি দেখে মন্ত্রিসভা বৈঠকে অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করবে। তিনি বলেন, এটি নিয়ে পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আর কোন দ্বিমত নেই। তাদের সঙ্গে একাধিক সভা করে আমরা আপত্তিগুলো নিষ্পত্তি করে খসড়াটি চূড়ান্ত করেছি। এখন আর কোন জটিলতা নেই, যেগুলো ছিল সেগুলো দূর হয়েছে।

প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা জানান, ২০০৮ সাল থেকে চিড়িয়াখানা আইন করার প্রক্রিয়া শুরু হয়। শেষ পর্যন্ত ২০১২ সালে মন্ত্রিসভা বৈঠকে খসড়া আইনটি পাঠানো হয়। পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের আপত্তির মুখে কিছু পর্যবেক্ষণসহ মন্ত্রিসভা খসড়াটি ফেরত দেয়। ২০১২ সালের ২ আগস্ট মন্ত্রিসভা বৈঠকে ‘বাংলাদেশ চিড়িয়াখানা আইন’ এর খসড়া নীতিগত অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হলেও তা ফেরত পাঠানো হয়। তখনকার মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ মোশাররাফ হোসাইন ভূইঞা জানিয়েছিলেন, পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইনের সঙ্গে কিছু বিষয় সাংঘর্ষিক থাকায় আইনটি ফেরত পাঠানো হয়েছে। তিনি আরও জানান, আইনটি নিয়ে পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয় এবং প্রাণিসম্পদ বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলোচনা করে আরও সংশোধন ও সংযোজনের মাধ্যমে নতুনভাবে আইনটি মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করতে বলা হয়েছে।

মৎস্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের পর্যবেক্ষণ নিয়ে অনেকবার বৈঠক হয়েছে পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে। বহুবার আন্তঃমন্ত্রণালয় মিটিং হয়েছে। সেখানে বন মন্ত্রণালয় আপত্তি দিয়েছে, সেই আপত্তি আমরা নিষ্পত্তি করেছি। পরের মিটিংয়ে এসে তারা বলে, না আমরা এটা বলিনি। লিখিত মতামত চাইলে সেটা আবার দেয় না। আগের সচিব ও মন্ত্রী বন সচিব ও মন্ত্রীর কাছে চিঠি লিখেছেন। বিষয়টি নিষ্পত্তি না হওয়া ও রুলস অব বিজনেস অনুযায়ী দুই মন্ত্রণালয় ঐক্যমত না হওয়ায় সিদ্ধান্তের জন্য ২০১৪ সালের এপ্রিলে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রস্তাব পাঠনো হয়। বন মন্ত্রণালয় কোথায় কোথায় দ্বিমত পোষণ করে সেগুলো ও বিশেষজ্ঞদের মতামত আলাদা ছকে দেয়ার জন্য বলে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। পরে বিষয়টি নিয়ে আবার দুই মন্ত্রণালয় আলোচনায় বসলে বিষয়টি নিষ্পত্তি হয়। ইতোমধ্যে দুই মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ পদগুলোতেও পরিবর্তন আসে।

পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব আবদুল্লাহ আল মোহসীন চৌধুরী বলেন, চিড়িয়াখানা আইনটি মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় করছে। আমি এ বিষয়ে বিস্তারিত বলতে পারব না। বন অধিদফতরের বন সংরক্ষক (বন্যপ্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষণ) জাহিদুল কবির বলেন, ‘চিড়িয়াখানা আইন করা নিয়ে এখন আর কোন জটিলতা নেই। পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয় আইনটি করছে।

পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা বলেন, ‘বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন, ২০১২’ একটি সমন্বিত আইন। এর সঙ্গে চিড়িয়াখানা আইনের কিছু ধারা সাংঘর্ষিক ছিল। বাঘ যখন বনে থাকে তখন সেটা বন্যপ্রাণী, বাঘ যখন চিড়িয়াখানায় থাকে তখন সেটি প্রাণিসম্পদ মন্ত্রালয়ের অধীন। আমরা যদি বন থেকে প্রাণী ধরে চিড়িয়াখানায় রাখি তবে বন থেকে এগুলো হারিয়ে যাবে। আমাদের উদ্দেশ্য বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ, ব্যবসা করা নয়।

জাতীয় চিড়িয়াখানার একজন কর্মকর্তা জানান, চিড়িয়াখানায় কোনো প্রাণী স্বাভাবিক আয়ুস্কাল অতিক্রম করলে সেগুলো বয়স্ক তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়। এসব প্রাণী সাধারণত দৃষ্টিনন্দন থাকে না, প্রদর্শনের অযোগ্য হয়ে পড়ে। বার্ধক্যজনিত জটিলতায় চিকিৎসা ও এসব প্রাণীর খাবারের পেছনে সরকারে বিপুল অঙ্কের অর্থের অপচয় হয়। তাই এদের বেদনাহীন মৃত্যুর ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। কিন্তু বাংলাদেশে চিড়িয়াখানা আইন না থাকায় মেডিকেল বোর্ডের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বয়স্ক প্রাণী ও পাখি অপসারণ করা যায় না। ওই কর্মকর্তা আরও জানান, চিড়িয়াখানায় জন্ম দেয়া উদ্বৃত্ত প্রাণী হস্তান্তর ও বিনিময়ের জন্য আইন প্রয়োজন। ২০১৩ সালের ১০ জানুয়ারি এক বৈঠকে দেশের চিড়িয়াখানাগুলোর সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার জন্য দ্রুত চিড়িয়াখানা আইন প্রণয়নের তাগিদ দেয় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটি।

জাতীয় চিড়িয়াখানার কিউরেটর নজরুল ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, চিড়িয়াখানা আইনটি এখন মন্ত্রিসভা বৈঠকে উঠার পর্যায়ে আছে। ৩২টি মন্ত্রণালয়ের সচিবদের প্রতিনিধিদের নিয়ে আইনের খসড়াটি রিফাইন করে দিয়েছি আমরা। এখন হয়ে যাবে আশা করি। এবার আর অসুবিধা হবে বলে মনে করছি না। পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের বিষয়গুলোও আমরা বিবেচনায় নিয়ে নিষ্পত্তি করেছি। চিড়িয়াখানার ব্যবস্থাপনায় একটি সমন্বিত আইন থাকা প্রয়োজন।

আইনের খসড়াটি পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, খসড়া আইনে চিড়িয়াখানায় জন্ম দেয়া উদ্বৃত্ত প্রাণী বিনিময় ও হস্তান্তরের বিধান রাখা হয়েছে। বেসরকারি চিড়িয়াখানা অনুমোদন দেয়ার বিধানও থাকছে এতে। ব্যক্তি পর্যায়ে চলমান চিড়িয়াখানাগুলোকে নিবন্ধন ও খাঁচায় পাখি ক্রয়-বিক্রয়ের অনুমোদন দেয়ার বিধান রাখা হয়েছে খসড়া আইনে। এছাড়া প্রদর্শনের অনুপযুক্ত বয়স্ক প্রাণীর ব্যথাহীন মৃত্যুর (ইউথেনেসিয়া) ব্যবস্থা, প্রতিটি চিড়িয়াখানায় আধুনিক ভেটেরিনারি কেয়ার হাসপাতাল রাখা, ২৪ ঘণ্টা চিকিৎসার ব্যবস্থা করার কথা বলা হয়েছে খসড়ায়।

  • অবশেষে আলোর মুখ দেখছে চিড়িয়াখানা আইন

    অবশেষে আলোর মুখ দেখছে চিড়িয়াখানা আইন

  • অবশেষে আলোর মুখ দেখছে চিড়িয়াখানা আইন

    অবশেষে আলোর মুখ দেখছে চিড়িয়াখানা আইন

  • অবশেষে আলোর মুখ দেখছে চিড়িয়াখানা আইন

    অবশেষে আলোর মুখ দেখছে চিড়িয়াখানা আইন

  • অবশেষে আলোর মুখ দেখছে চিড়িয়াখানা আইন

    অবশেষে আলোর মুখ দেখছে চিড়িয়াখানা আইন

  • অবশেষে আলোর মুখ দেখছে চিড়িয়াখানা আইন
  • অবশেষে আলোর মুখ দেখছে চিড়িয়াখানা আইন
  • অবশেষে আলোর মুখ দেখছে চিড়িয়াখানা আইন
  • অবশেষে আলোর মুখ দেখছে চিড়িয়াখানা আইন

পরিবেশ

বিরল প্রজাতির নেপালি ঈগল উদ্ধার

বিশ্বব্যাপী বিপন্ন ও বিরল প্রজাতির একটি নেপালি ঈগল নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলার দূর্লভপুর থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। শুক্রবার সকালে উপজেলা প্রশাসন, বিবিসিএফ ও সবুজ বাংলার স্বেচ্ছাসেবীদের সহায়তায় ঈগলটিকে উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারের পর পাখিটিকে প্রথমে উপজেলা প্রশাসনের কার্যালয় ও পরে রাজশাহী বন্যপ্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগে নেয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ জীববৈচিত্র সংরক্ষণ ফেডারেশনের (বিবিসিএফ) দফতর ও সবুজ বাংলার সাধারণ সম্পাদক ফজলে রাব্বী বলেন, বৃক্ষ নিধন, বন উজাড়সহ নানান কারণে প্রকৃতি থেকে হারিয়ে যেতে বসেছে পাখিগুলো। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আমরা খবর পাই নাটোরের নলডাঙ্গার দূর্লভপুরে ফারুক হোসেন নামে একজনের বাড়িতে আছে ঈগলটি। তিনি এটিকে অসুস্থ অবস্থায় পান। প্রসাশনকে সঙ্গে নিয়ে অনেক চেষ্টার পর ঈগলটিকে উদ্ধারে সক্ষম হয়েছি।

নলডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাকিব আল রাব্বী বলেন, পাখিসহ সকল বন্যপ্রানী নিধন বন্ধে উপজেলা প্রসাশনের পক্ষ থেকে প্রতিটি ইউনিয়নে মাইকিং করা হবে।

অভিযান পরিচালনাকালে অন্যান্যদের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন, বিলহালতি জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ কমিটির প্রধান উপদেষ্টা মো. ইসাহাক আলী ও স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. সঞ্চয় হোসেনসহ অনেকে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

পরিবেশ

তিমির পেটে এত প্লাস্টিক!

ইন্দোনেশিয়ার একটি ন্যাশনাল পার্কের জলাশয় থেকে মৃত একটি তিমিকে উদ্ধার করা হয়েছে। পার্কের কর্মকর্তারা বলছেন, তিমিটির পাকস্থলীতে ৬ কেজি প্লাস্টিক পাওয়া গেছে। ৬ কেজি প্লাস্টিকের মধ্যে ১১৫টি পানির খাওয়ার কাপ, ৪টি বোতল, ২৫টি ব্যাগ ও একজোড়া স্যান্ডেল, ১৯ পিস শক্ত প্লাস্টিক, সোয়া তিন কেজি ওজনের সমপরিমাণ দড়ি পাওয়া গেছে।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৩১ ফুটের এই তিমিটি ইন্দোনেশিয়ার ওকাতোবি ন্যাশনাল পার্কের কাপোতা দ্বীপের তীর থেকে সোমবার উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন পরিবেশবাদীরা। ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ফান্ড ফর ন্যাচার (ডব্লিউডব্লিউএফ) ইন্দোনেশিয়ার সামুদ্রিক প্রজাতি সংরক্ষণ টিমের কো-অর্ডিনেটর ডোয়াই সুপ্রপতি বার্তা সংস্থা এপিকে বলেন, স্তন্যপায়ী এই প্রাণিটির মৃত্যুর সংখ্যা কমাতে আমরা এখনও সক্ষম হয়নি। এমতাবস্থায় এ ধরনের মৃত্যু সত্যিই উদ্বেগের।

ইন্দোনেশিয়াসহ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর জন্য প্লাস্টিকের ব্যবহার একটা বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ২০১৫ সালে পরিচালিত একটি জরিপ বলছে, চীন, ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপাইন, ভিয়েতনাম ও থাইল্যান্ডে যত প্লাস্টিক ব্যবহার করা হয় তার ৬০ শতাংশ সমুদ্রে পতিত হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্লাস্টিক খেয়ে প্রতি বছর শত শত সামুদ্রিক প্রাণি মারা যাচ্ছে।

চলতি বছরের জুনে থাইল্যান্ডের দক্ষিণাংশের একটি জলাশয়ে একটি পাইলট তিমিকে মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। তিমিটি একপর্যায়ে বমি করে ৮০টি প্লাস্টিকের ব্যাগ বের করে দেয়। পরে ওই তিমিটির মৃত্যু হয়।

চলতি শুরুতে এ-সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন বের হয়। এতে সতর্ক করে দিয়ে বলা হয়, সমুদ্র থেকে এ জঞ্জাল যদি দ্রুত অপসারণ করা সম্ভব না হয়, তাহলে আগামী এক দশকের মধ্যে এ জঞ্জালের সংখ্যা তিন গুণে গিয়ে দাঁড়াবে।

গত বছরের শেষের দিক জাতিসংঘের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রতি বছর ১০০ লাখ টন প্লাস্টিকের বর্জ্য সমুদ্রে গিয়ে মেশে। এর ফলে মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে সামুদ্রিক প্রাণির জীবন।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

পরিবেশ

জেলের জালে ধরা পড়লো ঘড়িয়াল ছানা

মানিকগঞ্জের শিবালয়ে যমুনা নদীতে জেলেদের জালে ধরা পড়েছে বিরল প্রজাতির একটি ঘড়িয়াল ছানা। ঘড়িয়ালটির দৈর্ঘ্য সাড়ে তিন ফুট। প্রাণী সম্পদ অধিদফতরের মাধ্যমে ঘড়িয়ালটি মিরপুর চিড়িয়াখানায় পাঠানো হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার সকালে উপজেলার তেওতা এলাকায় যমুনা নদীতে মাছ ধরছিলেন স্থানীয় জেলে আবুল কালাম। হঠাৎ তার জালে ধরা পড়ে বিরল প্রজাতির একটি ঘড়িয়াল ছানা। পরে এটিকে তিনি এক হাজার টাকায় স্থানীয় এক ব্যক্তির কাছে বিক্রি করেন।

এদিকে ঘড়িয়াল ধরা পড়ার খবর ছড়িয়ে পড়লে নদী তীরে ভিড় জমায় শত শত মানুষ। খবর পেয়ে উপজেলা প্রাণী সম্পদ বিভাগের এক কর্মচারী ঘড়িয়ালের ছানাটি উদ্ধার করেন। পরে প্রাণী সম্পদ বিভাগের মাধ্যমে ঘড়িয়ালটি মিরপুর জাতীয় চিড়িয়াখানায় পাঠানো হয়।

মিরপুর জাতীয় চিড়িয়াখানার জুনিয়র অফিসার ডা. সঞ্জিত কুমার বিশ্বাস জানান, এক সময় পদ্মা-যমুনায় এই প্রজাতির ঘড়িয়ালের বসবাস থাকলেও এখন প্রায় বিলুপ্ত। দেশের সকল চিড়িয়াখানা মিলিয়ে মাত্র ১১টি ঘড়িয়াল রয়েছে। উদ্ধারকৃত ঘড়িয়ালটি মিরপুর চিড়িয়াখানায় রক্ষণাবেক্ষণ করা হবে। পরে দর্শনার্থীদের দেখার জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হবে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

পরিবেশ

বিলুপ্তির পথে বৈচিত্রময় প্রাণী ভোঁদড়

বৈচিত্রময় এক প্রাণী ভোঁদড়। এরা দেখতে অনেকটা বেজির মত। এরা আধাজলচর স্তন্যপায়ী প্রাণী। স্থান ভেদে এটি ধেড়ে, উদ, উদবিলাই, উদবিড়াল, মাছ নেউল ইত্যাদি নামেও পরিচিত। প্রায় শতবছর ধরে এই অঞ্চলে মাছ শিকারের জন্য শিকারিরা ভোঁদড় ব্যবহার করে আসছেন।

কিন্তু দিনে দিনে মানুষের অত্যাচারে এই প্রাণির সংখ্যা কমছে। তাই আগের মত এদের যেমন দেখা যায় না তেমনি এদের দিয়ে মাছ শিকার করতেও দেখা যায় না ।

বর্তমানে সব প্রাণিই বিলুপ্তির পথে। ভোঁদড়ও এর ব্যতিক্রম নয়। আমাদের দেশে মূলত নড়াইল, খুলনা, সিলেট এবং দেশের পূর্বাঞ্চলীয় পাহাড়ি এলাকার নদী, খাল, বিল, পুকুরের পাশে, প্লাবনভূমি ও খানাখন্দে এবং উপকূলীয় জেলায় ভোঁদড় দেখা যায়। বাংলাদেশ ছাড়াও দক্ষিণ ভারত, শ্রীলঙ্কা, নেপাল, ভুটান, মিয়ানমার, থাইল্যান্ড, লাওস, কম্বোডিয়া, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, ফিলিপাইন, ব্রুনাই ও সিঙ্গাপুরে ভোঁদরের দেখা মিলে।

এই উভচর প্রাণির প্রিয় খাবার মাছ। তাই এরা পুকুর বা বিলে মাছ শিকার করে। তবে মাছ ছাড়াও বিভিন্ন জলজ প্রাণী শিকারে পটু এই ভোঁদড়। এরা বসবাস করে জলাশয়ের পাশে বন-জঙ্গলে। এরা পানির নিচে ডুব দিয়ে একাধারে আধা কিলোমিটার যেতে পারে। সাঁতারের সময় কান ও নাকের ফুটো বন্ধ রাখে।

কিছু ভ্রান্ত ধারণার ফলে মানুষ ভোঁদড় মারছে। এর একটি হচ্ছে- এরা পুকুরের সব মাছ খেয়ে ফেলে। আর কিছু মানুষ মনে করে ভোঁদড়ের তৈলাক্ত চামড়ার অনেক দাম, তাই তারা লোভে এদের নির্বিচারে হত্যা করছে। আবাসভূমি ধ্বংস ও পরিবর্তনই এদের কমে যাওয়ার আরও একটি বড় কারণ। এর বাইরে আরেকটি বড় কারণ হচ্ছে বন্যপ্রাণিকে হত্যা করতে সাধারণ মানুষ খুব উৎসাহী। বণ্যপ্রাণী দেখামাত্র সবাই লাঠিসোটা নিয়ে দৌড়ে আসে মারতে। এতে জীব-জগতের অন্যতম সুন্দর আর বৈচিত্রময় প্রাণী ভোঁদড় হারিয়ে যাচ্ছে। নষ্ট হচ্ছে প্রাকৃতিক ভারসাম্য।

ভোঁদেরর ইংরেজী নাম- Smooth-coated Otter বৈজ্ঞানিক নাম- Lutrogale perspicillata

বিভিন্ন কুসংস্কার, অবৈধ শিকারের ফলে এরা যেমন দ্রুত কমছে তেমনি এখনও কিছু মানুষ ভালোবেসে তাদের ঠিকিয়ে রেখেছে। ভোঁদড় দিয়ে মাছ শিকারের ঐতিহ্যকে টিকিয়ে রেখেছে , নড়াইল ও সুন্দরবন অঞ্চলের কিছু জেলে। তারা প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম ধরে ভোঁদড় দিয়ে বিশেষ কায়দায় মাছ ধরতে অভ্যস্ত।

নড়াইলের চিত্রা নদীর পাড়ের গোবড়া গ্রামে গেলে ভোঁদড় দিয়ে মাছ শিকারের শত বছরের কৌশল দেখতে পাওয়া যায়। এই গ্রামের মৎসজীবীরা মাছ শিকারের পাশাপাশি ভোঁদড়কে টিকিয়ে রাখতে নিজেরা প্রজনন করে যাচ্ছেন।

চিত্রা নদীতে ভোঁদড় দিয়ে মাছ শিকার দেখে বন্যপ্রাণী গবেষক সীমান্ত দিপু জাগো নিউজকে বলেন, সত্যিই অসাধারণ। সাধারণত এই প্রজাতির ভোঁদড় প্রকৃতিক পরিবেশ ছাড়া প্রজননের ঘটনা খুবই বিরল। নড়াইলের গোবড়া গ্রামের ১৫-২০ জন মৎসজীবীর ঘরে কৃত্রিম পরিবেশে বাচ্চা দেয় ভোঁদড়। এই পরিবারগুলোর জীবিকা হয় মূলত ভোঁদড়কে কেন্দ্র করে। আমাদের দেশের জেলেরা অবৈধ জাল দিয়ে মাছ ধরার যে রণকৌশল শিখেছে তার বিপরীতে তাদের উদ্যোগকে সত্যিই সাধুবাদ জানাতে হয়।

ভোঁদড়ের শরীর কালচে বাদামি ঘন লোমে ঢাকা। মাথা ও শরীরের মাপ ৬৫-৭৫ সে.মি.। গলার দিকে সাদা । লেজ ৪০-৪৫ সে.মি. চ্যাপ্টা। ফলে সাঁতারে বেশ সুবিধা হয় । কান ছোট। পায়ের পাতা হাঁসের পায়ের মত চ্যাপ্টা । স্ত্রী ভোঁদর প্রতি বছরে একবার তিন থেকে চারটি বাচ্চা প্রসব করে। এরা বেঁচে থাকে প্রায় ২০ বছর।

ভোঁদড় নিয়ে গবেষণা করেছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. কামরুল হাসান। তিনি জাগো নিউজকে জানান, প্রাণিজগতের মধ্যে বৈচিত্রময় একটি প্রাণী হচ্ছে ভোঁদড়। সাধারণ মানুষের অসচেতনতায় এরা দিন দিন কমে যাচ্ছে। এদের রক্ষায় সবাইকে সচেতন হতে হবে। প্রতিটি প্রাণী পরিবেশের জন্য প্রয়োজন। পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হলে মানুষের অস্তিত্বও হুমকিতে পড়বে। তাই নিজেদের স্বার্থে হলেও প্রাণিদের নিরাপদ আবাসের সুযোগ দিতে হবে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

পরিবেশ

প্রতি ১০ হাজারে জন্ম নেয় একটি সাদা বাঘ

সাদা বাঘের জন্ম খুবই বিরল। ১০ হাজার বাঘের বাচ্চা জন্ম নিলে সেখান থেকে একটি হতে পারে সাদা বাঘ। এতদিন সাদা বাঘের দেখা পেতে যেতে হত দেশের বাইরের বিভিন্ন চিড়িয়াখানায়। কিন্তু স্বপ্নের সেই বাঘের দেখা মিলছে এখন বাংলাদেশে, তাও একটি নয় আছে ২টা। দেশের ইতিহাসে চলতি বছরই প্রথম সাদা বাঘের দেখা মিলেছে।

কিন্তু কিভাবে এলো এই সাদা বাঘ? সাদা বাঘ কি আসলেই কোনো বিশেষ প্রজাতি? এসব নিয়ে নানা কৌতূহল থাকলেও বাস্তবতা হচ্ছে সাদা বাঘ আসলে কোনো আলাদা প্রজাতি নয়, এরা অন্য ৮/১০টা রয়েল বেঙ্গল টাইগারের মতোই। জিনগত ও শ্বেত রোগের কারণে এসব বাঘের রঙ সাদা হয়।

সাধারণ বাঘ থেকেই এদের জন্ম হয় তবে তা সচরাচর হয় না। প্রতি ১০ হাজার বাঘের বাচ্চা জন্ম নিলে সেখান থেকে একটি সাদা বাঘ পাওয়া যেতে পারে।

চট্টগ্রাম চিরিয়াখানায় এবছরের ১৯ জুলাই ‘রাজ’ ও ‘পরী’ দম্পতির ঘরে জন্ম নেয় একটি সাদা বাঘ। রাজ ও পরীকে ২০১৬ সালের ডিসেম্বরে দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে কিনে আনা হয় চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানায়। এই সাদা বাঘটিই দেশের ইতিহাসে প্রথম সাদা বাঘ। এর কিছুদিন পর চলতি বছরের ৮ আগস্ট গাজীপুরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্কে জন্ম নেয় আরও একটি সাদা বাঘ।

কোনো প্রাণী ভিন্ন রঙের হলে সেটি প্রাণীবিজ্ঞানের ভাষায় পরিচিত হয় ‘এলবিনো’ হিসেবে। সাদা বাঘও এলবিনো হিসেবেই হতে পারে আবার জিনগত কারণে হতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে বাংলাদেশে যে ২টি সাদা বাঘ জন্ম নিয়েছে তা জিনগত কারণেই সাদা হয়েছে। যদিও অনেকের ধারণা মেলানিনের অভাবে মানুষের শরীরে যেমন শ্বেতী রোগ হয়ে সারা শরীর সাদা হয়ে যায় বাংলাদেশের সাদা বাঘের ক্ষেত্রেও হয়ত তাই। কিন্তু এ ধারণা ঠিক নয়। এর কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। কারণ শ্বেত রোগ হলে বাংলাদেশের সাদা বাঘের গায়ে যে ডোরাকাটা কালো দাগ আছে তা থাকার কথা নয় এবং চোখের মণি নীল না হয়ে ফ্যাকাশে থাকার কথা।

সাদা বাঘের জন্ম খুবই বিরল ঘটনা। সর্বশেষ অন্তত ৫০ বছর আগে মধ্যভারতে একটি সাদা বাঘ বুনো পরিবেশে জন্ম নেয়। তবে খাঁচাবন্দি অবস্থায় সাদা বাঘ বেশি হয় এর কারণ খাঁচায় জিনগত ত্রুটি সম্পন্ন নিকট আত্মীয়দের মধ্যে ক্রসিং ঘটে। যেমন বাপ-মেয়ে, ভাই-বোন।

তবে প্রাণী বিশেষজ্ঞদের মতে বরফ যুগের সময় বাঘের পূর্ব-পুরুষরা সাদা ছিল। যে কারণে তাদের জিনগত সে বৈশিষ্ট্য সুপ্ত অবস্থায় রয়ে গেছে যা মাঝে মাঝে প্রকাশ পাচ্ছে।

অন্যান্য বাঘ থেকে সাদা বাঘের কিছু আলাদা বৈশিষ্ট্য আছে। যেমন তুলনামূলক ভাবে সাদা বাঘ জন্মের সময় সাইজে বড় থাকে, জন্মের পর দ্রুত বৃদ্ধি পায় এবং তাদের ওজনও হয় বেশি। ২-৩ বছর বয়সে সাদা বাঘ প্রাপ্তবয়স্ক হয়ে থাকে। সাদা পুরুষ বাঘ সাধারণত ওজনে ২০০ থেকে ২৬০ কেজি এবং দৈর্ঘ্যে ৩ মিটার পর্যন্ত হয়ে থাকে।

চীনের পিকিং বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানী সু-জিন লুয়ো ও তার সতীর্থরা ‘কারেন্ট বায়োলজি’ নামক একটি জার্নালে সাদা বাঘ নিয়ে তাদের একটা গবেষণা পত্র প্রকাশ করেন। সেটা থেকে জানা যায়, জিনের একটি বিশেষ রঞ্জক পদার্থের পরিবর্তনই এই সাদা রঙের জন্য দায়ী। বিজ্ঞানীদের মতে কোনো প্রাণীর কোষের স্বাভাবিক রঞ্জক পদার্থই দেহবর্ণ নিয়ন্ত্রণ করে।

বিজ্ঞানীরা সাদা বাঘের দেহকোষের জিন পরীক্ষা করে দেখেছেন কোষের মধ্যে বিশেষ রঞ্জক জিন ‘এসএলসি ৪৫এ২’ আছে। বিশেষত মানুষসহ ঘোড়া, মুরগি ও মাছের দেহের হাল্কা রঙের জন্যও এই রঞ্জক পদার্থটি দায়ী। এই বিশেষ রঞ্জকটি কালো-হলুদ রং তৈরিতে বাধা দেয়। কিন্তু সাদা বাঘের গায়ে হাল্কা কালো ডোরার কারণ ‘এসএলসি৪৫এ’ জিনের মধ্যে ‘এ৪৭৭ভি’ নামক অ্যামাইনো অ্যাসিডের পরিবর্তন।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক প্রাণী বিশেষজ্ঞ মনিরুল এইচ খান জাগো নিউজকে জানান, দুটি কারণে যেকোনো প্রাণী সাদা রঙের হতে পারে। একটি হচ্ছে শ্বেতী রোগ, অন্যটি জিনগত কারণ। বাংলাদেশের সাদা বাঘগুলোর জন্ম জিনগত কারণেই হয়েছে।

ওয়াইল্ড লাইফ ফটোগ্রাফার ও গবেষক আদনান আজাদ জানান, বিশ্বের অন্যান্য দেশের চিড়িয়াখানায় সাদা বাঘ থাকলেও বাংলাদেশে ছিল না। কিন্তু এখন আর এই বাঘ দেখতে বিদেশ যেতে হবে না।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com