আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

এগ্রোবিজ

আরও কমেছে চালের দাম

আরও কমেছে চালের দাম
আরও কমেছে চালের দাম

মহামারি করোনাভাইরাস প্রকোপের মধ্যে দফায় দফায় অস্বাভাবিক দাম বাড়ার পর এখন কমছে চালের দাম। ১০ দিনের ব্যবধানে রাজধানীর বাজারে দুই দফায় কমেছে চালের দাম। এর মাধ্যমে করোনাভাইরাসের প্রকোপ শুরু হওয়ার আগের দামে ফিরে গেছে বেশিরভাগ চালের দাম। একদিকে চাহিদা কম অন্যদিকে বাজারে নতুন ধানের চাল আসায় এই দাম কমছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

চালের খুচরা ব্যবসায়ীরা বলছেন, ১০ দিনের ব্যবধানে দুই দফায় চালের দাম কেজিতে কমেছে ১০ টাকা পর্যন্ত। এর মধ্যে গত দুই দিনে কেজিতে চালের দাম কমেছে তিন টাকা। তবে কিছু কিছু পুরাতন চাল এখনও এক সপ্তাহ আগের দামে বিক্রি হচ্ছে।

খুচরা ব্যবসায়ীরা বলছেন, করোনাভাইরাস আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ার শুরুতেই চাল বিক্রি বেড়ে যায়, এতে দামও বাড়ে। এরপর বিক্রি কমলে মাঝে দাম কিছুটা কমে। তবে রোজার আগে আবার চালের চাহিদা বাড়ায় দাম বেড়ে যায়। এখন বাজারে নতুন চাল আসছে, কিন্তু বিক্রি অনেক কমে গেছে।

সোমবার রাজধানীর বিভিন্ন বাজারের খুচরা ব্যবসায়ীদের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে মিনিকেট ও নাজিরশাইল চাল বিক্রি হচ্ছে ৫২ থেকে ৫৫ টাকা কেজি, যা দুদিন আগে ছিল ৫৫ থেকে ৫৮ টাকা এবং রোজা শুরু হওয়ার আগে ছিল ৬২ থেকে ৬৮ টাকা কেজি। করোনার শুরুতে ছিল ৫৬ থেকে ৬০ টাকা এবং করোনার আগে ছিল ৫২ থেকে ৫৫ টাকা কেজি। অর্থাৎ রোজায় দুই দফায় কেজিতে ১০ টাকা কমে চিকন চাল এখন করোনার আগের দামে ফিরে গেছে।

দাম কমার তালিকায় রয়েছে মাঝারি মানের পাইজাম ও লতা। বর্তমানে মাঝারি মানের চালের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৪২ থেকে ৪৪ টাকা, যা দুদিন আগে ছিল ৪৪ থেকে ৪৮ টাকা এং রোজার আগে ছিল ৪৮ থেকে ৫৬ টাকা। আর করোনার আগে ছিল ৪২ থেকে ৪৫ টাকা। অর্থাৎ দুই দফায় দাম কমে মাঝারি মানের চালও করোনার আগের দামে ফিরে গেছে।

চিকন ও মাঝারি মানের চালের দাম কমলেও নতুন করে গরিবের মোটা চালের দাম কমেনি। গত সপ্তাহের মতো মোটা চালের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৩৬ থেকে ৪০ টাকা, যা রোজার আগে ৫০ টাকা পর্যন্ত উঠে ছিল। আর করোনার আগে ছিল ৩২ থেকে ৩৫ টাকার মধ্যে।

এদিকে সরকারি প্রতিষ্ঠান ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) তথ্যেও দুদিনের ব্যবধানে চিকন ও মাঝারি চালের দাম কমেছে। সেই সঙ্গে কমেছে মোটা চালের দামও। ১০ মে থেকে তিন ধরনের চালের দামই কমেছে বলে প্রতিষ্ঠানটির প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। এর মধ্যে চিকন চালের দাম ২ দশমিক ৪৪ শতাংশ, মাঝারি চালের দাম ৫ শতাংশ এবং মোটা চলের দাম ২ দশমিক ২৭ শতাংশ কমেছে।

টিসিবির তথ্য অনুযায়ী, খুচরা বাজারে মিনিকেট ও নাজির চালের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৫৫ থেকে ৬৫ টাকা, যা দুদিন আগে ছিল ৫৮ থেকে ৬৫ টাকা আর এক মাস আগে ছিল ৫৫ থেকে ৬৫ টাকা।

অপরদিকে মাঝারি মানের চালের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৪৫ থেকে ৫০ টাকা, যা দুদিন আগে ছিল ৪৮ থেকে ৫২ টাকা। আর এক মাস আগে ছিল ৫০ থেকে ৫৫ টাকা। মোটা চালের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৩৮ থেকে ৪৮ টাকা, যা দুদিন আগে ছিল ৩৮ থেকে ৫০ টাকা এবং এক মাস আগে ছিল ৪২ থেকে ৫০ টাকা।

খিলগাঁও তালতলার চাল ব্যবসায়ী জানে আলম ভূঁইয়া বলেন, নতুন চালের কারণে এখন চালের দাম কিছুটা কমেছে। তবে পুরাতন চাল এখনও আগের দামেই বিক্রি হচ্ছে। রশিদের নতুন মিনিকেট ২৫ কেজির বস্তা বিক্রি হচ্ছে ১৩০০ টাকা। তবে পুরাতনটা এখনও ১৪৫০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। আর ৫০ কেজির বস্তা নতুনটা ২৭০০ টাকা এবং পুরাতনটা ২৮৫০ টাকা বিক্রি হচ্ছে।

তিনি বলেন, চিকন চালের পাশাপাশি নতুন আসা পাইজাম ও লতা চালের দামও কিছুটা কমেছে। আর মোটা চাল নতুনটা এখনও বাজারে সেইভাবে আসেনি। যে কারণে মোটা চালের দাম নতুন করে কমেনি। তবে এখন সব ধরনের চালের বিক্রি কম। করোনার আগে দিনে যে চাল বিক্রি করেছি, এখন তার ১০ ভাগের এক ভাগও বিক্রি হয় না।

রামপুরার ব্যবসায়ী আব্দুস সালাম বলেন, মিনিকেট, নাজির, পাইজাম ও লতা চালের দাম আরও কমেছে। এ নিয়ে গত দুই সপ্তাহে চালের দাম কেজিতে কমেছে ১০ টাকার পর্যন্ত। বাজারে নতুন চাল আসায় এবং বিক্রি কম হওয়ায় এই দাম কমেছে। তবে সামনে চালের বিক্রি বাড়লে তখন হয় তো আবার দাম বাড়তে পারে।

তিনি বলেন, নতুন যে চাল এসেছে তার সবগুলোই এখন আমরা কম দামে বিক্রি করছি। তবে পুরাতন কিছু চাল রয়েছে। ওগুলো আমার বাড়তি দামে কেনা। ওই চাল তো কেজিতে ১০ টাকা কমে বিক্রি করতে পারি না। সে কারণে পুরাতন চালের দাম এখন একটু বেশি। তারপরও পুরাতন চালের দাম আমরা কিছুটা কমিয়ে দিয়েছি। ৫০ কেজির যে বস্তা ২৮৫০ টাকা বিক্রি করছিলাম, এখন তা ২৭৮০ থেকে ২৮০০ টাকা দাম পেলে বিক্রি করে দিচ্ছি। কারণ এই চাল ধরে রাখলে লোকসান আরও বেশি হতে পারে।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন

অনুগ্রহ করে মন্তব্য করতে লগ ইন করুন লগ ইন

Leave a Reply

এগ্রোবিজ

সরবরাহ বাড়ায় কমেছে পেঁয়াজের দাম, চিনির দাম অপরিবর্তিত

শুল্ক কমানো হলেও বাজারে পেঁয়াজ ও চিনির দামে তার কোনো প্রভাব নেই। তবে সরবরাহ বৃদ্ধি পাওয়ায় পেঁয়াজের দাম কিছুটা কমেছে। গত বৃহস্পতিবার জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) প্রজ্ঞাপন জারি করে বলেছে, আগামী ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত পেঁয়াজ আমদানিতে কোনো শুল্ক দিতে হবে না। এতদিন ৫ শতাংশ হারে আমদানি শুল্ক দিতে হতো। আর অপরিশোধিত চিনি আমদানির ক্ষেত্রে আগামী বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক (এসডি) ১০ শতাংশ কমানো হয়েছে।বিজ্ঞাপনবিজ্ঞাপন

দেড় মাসের ব্যবধানে ৭০ টাকা কেজির চিনি ৮০ থেকে ৮৫ টাকা এবং এক সপ্তাহের ব্যবধানে ৪০ টাকা কেজির পেঁয়াজ ৮০ টাকা হয়ে যাওয়ার পর শুল্ক কমানোর এ ঘোষণা দেওয়া হয়। তাতে কিছুটা স্বস্তি পেয়েছিলেন ক্রেতারা। তবে আজ রোববার রাজধানীর একাধিক বাজারে ঘুরে দেখা যায়, আগের দামেই বিক্রি হচ্ছে চিনি। তবে পেঁয়াজের দাম কিছুটা কমে ৬০–৬৫ টাকায় নেমেছে।

রাজধানীর টাউন হল বাজারে আজ দুপুরে বাজার করতে এসেছিলেন গৃহিণী নাজমা সুলতানা। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘করোনায় প্রায় সব জিনিসের দাম বেড়েছে। কিন্তু আয় বাড়েনি। করোনার কারণে যেসব প্রতিষ্ঠান বেতন কমিয়ে দিয়েছিল, সেসব প্রতিষ্ঠানের অনেকে তা আর বাড়ায়নি। পেঁয়াজ ও চিনির ওপর থেকে শুল্ক কমানোর খবরে ভেবেছিলাম আগের চেয়ে কম দামে কিনতে পারব। কিন্তু বাজারে এসে দেখলাম কাগজের সিদ্ধান্ত কাগজেই আছে।’বিজ্ঞাপন

রাজধানীর রামপুরা বাজার, টাউন হল বাজার ও কারওয়ান বাজার ঘুরে দেখা যায়, এক কেজি খোলা চিনি ৮০ টাকায় এবং প্যাকেট চিনি ৮৫–৮৬ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। টাউন হল বাজারে খোলা চিনির মজুতই ছিল না। টাউন হল বাজারের মুদি দোকানদার জাফর হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, ‘সরকার খোলা চিনির বিক্রয় মূল্য প্রতি কেজি ৭৪ টাকা বেঁধে দিলেও ডিলারের কাছ থেকে আমাদের ৭৮ টাকা কেজি দরে চিনি কিনতে হচ্ছে। ওদিকে মোবাইল কোর্ট এলে জরিমানা করা হয়। তাই খোলা চিনি দোকানে রাখছি না।’
আবদুল মোনেম গ্রুপের ইগলু ব্র্যান্ড ও সিটি গ্রুপের তীর ব্র্যান্ডের চিনি মজুত থাকলেও মেঘনা গ্রুপের ফ্রেশ ব্র্যান্ডের চিনির মজুত ছিল না কারওয়ান বাজারে। তবে কারওয়ান বাজারে ফ্রেশ ব্র্যান্ডের চিনির ডিলার মো. ইসহাক বলেন, ১৫ দিন ধরে তাঁদের কাছে চিনির জোগান নেই। কবে আসবে তা–ও জানেন না তিনি।’

গত ৯ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ সুগার রিফাইনার্স অ্যাসোসিয়েশন প্রতি কেজি খোলা চিনির সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য ৭৪ টাকা ও প্রতি কেজি প্যাকেটজাত চিনির সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য ৭৫ টাকা নির্ধারণ করে, যার প্রভাব এখন পর্যন্ত নিত্যপণ্যের বাজারে দেখা যায়নি।

সুগার রিফাইনার্স অ্যাসোসিয়েশনের নির্বাহী সচিব রাশেদুজ্জামান আজ রোববার প্রথম আলোকে বলেন, এনবিআর আমদানি শুল্ক কমাতে সম্মত হলেও চিনির নতুন কোনো দাম এখনো নির্ধারণ করা হয়নি। ফলে বাজারে চিনির দাম আগের মতোই আছে। নতুন দাম নির্ধারিত হওয়ার পর বলা যাবে খুচরা বাজারে কত টাকায় বিক্রি হবে।

বাজারে পেঁয়াজের দাম গত সপ্তাহের মাঝামাঝি ছিল প্রতি কেজি ৭০ থেকে ৭৫ টাকা।

আজ রোববার রাজধানীর একাধিক খুচরা বাজারে সেই দাম কিছুটা কমে ৬০ থেকে ৬৫ টাকা হয়েছে। তবে আড়তদারেরা বলছেন, পেঁয়াজের দাম কমেছে মূলত সরবরাহ বৃদ্ধি পাওয়ায়। আমদানি শুল্ক কমানোর কোনো প্রভাব দামের ওপর ছিল না বলে জানান রাজধানীর শ্যামবাজারের আড়তদার নারায়ণ সাহা। প্রথম আলোকে তিনি বলেন, ভারত ও মিয়ানমার থেকে চালান আসায় বর্তমানে পেঁয়াজের জোগান বেশ ভালো। তাতে পাইকারি বাজারে ভারতীয় পেঁয়াজ ৫০ থেকে ৫৪ টাকা ও মিয়ানমারের পেঁয়াজ ৩০ থেকে ৪০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। আর দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হয় ৫০ থেকে ৫২ টাকা কেজিতে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

পেঁয়াজের মজুত পর্যাপ্ত, তবু বাজার অস্থির

দেশে পর্যাপ্ত পেঁয়াজের মজুত আছে অথচ অস্থির এই পণ্যটির বাজার। আগামী এক মাস নিত্যপ্রয়োজনীয় এই পণ্যটির বাজার পরিস্থিতি নাজুক থাকতে পারে বলে আশংকা করছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। গতকাল সোমবার সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মজুত, সরবরাহ, আমদানি, মূল্য পরিস্থিতি স্বাভাবিক ও স্থিতিশীল রাখতে অনুষ্ঠিত এক সভা শেষে সাংবাদিকদের কাছে এ শঙ্কার কথা জানান বাণিজ্য সচিব তপন কান্তি ঘোষ। সভায় অনলাইনে অংশ নেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি।

বাণিজ্য সচিব বলেন, পেঁয়াজের যথেষ্ট মজুত আছে আমাদের। সেপ্টেম্বর থেকে নভেম্বর সময়টাতে পেঁয়াজ উৎপাদন কম হয়। নভেম্বরের মাঝামাঝি বা শেষে বাজারে নতুন পেঁয়াজ আসবে। তখন দাম এমনিতেই কমে যাবে। তার আগে এক মাস হয়তো পেঁয়াজের দাম বেশি থাকার সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে। তিনি বলেন, পেঁয়াজের বাজার বেশি খারাপ হবে না, তবে উৎপাদন পরিস্থিতি ও ভারতে পেঁয়াজের দাম বাড়ার কারণে আগামী এক মাস নাজুক অবস্থা থাকবে। আমাদের চেষ্টা থাকবে, যেন যৌক্তিকভাবে মূল্য প্রতিফলিত হয়, ব্যবসায়ীরা যাতে অতি মুনাফা করতে না পারে।

পোশাক খাতের অস্থিরতা চলতে দেওয়া হবে না: টিপু মুনশি

বাজার পরিস্থিতি মনিটরিংয়ের জন্য জেলা প্রশাসনকে চিঠি দেয়া হয়েছে জানিয়ে বাণিজ্য সচিব বলেন, দ্রব্যমূল্য অতিমাত্রায় নেওয়া হচ্ছে কি না, সেটা নজরে রাখা হবে। এছাড়া পরিস্থিতি যাতে সহনীয় থাকে, সেই চেষ্টা করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে পেঁয়াজের শুল্ক প্রত্যাহার করতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআরকে) অনুরোধ জানানো হয়েছে। আশা করছি, এ ব্যাপারে দু-এক দিনের মধ্যে ইতিবাচক ফল পাওয়া যাবে।

সভার শুরুতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব এ এইচ এম সফিকুজ্জামান পেঁয়াজ, ভোজ্যতেল, চিনি ও মসুর ডালের আন্তর্জাতিক বাজারমূল্য ও বাংলাদেশের পরিস্থিতির তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরেন। পরে অনলাইনে যুক্ত হয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, দেশে প্রায় ৫ লাখ টন পেঁয়াজের মজুদ আছে। তাই আতংকিত হবার কারন নেই। এছাড়া ভারত ও মিয়ানমার থেকে পেঁয়াজ আমদানি অব্যাহত রয়েছে। তিনি বলেন, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় বাজার অভিযান জোরদার করেছে। জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর ও প্রশাসন মাঠ পর্যায়ে বাজার তদারকি বৃদ্ধি করেছে। পেঁয়াজের সরবরাহ, মজুত ও মূল্য স্বাভাবিক রাখতে সরকার সবধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। পেঁয়াজ নিয়ে কোনো ধরনের কারসাজি করা হলে বা কৃত্তিম উপায়ে সংকট সৃষ্টি করলে সরকার কঠোর ব্যবস্থা নেবে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বন্দরে দ্রুত পেঁয়াজ খালাসের বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে অনুরোধ জানানো হয়েছে। এছাড়া সীমান্তবর্তী এলাকায় পেঁয়াজ পরিবহনকারী ট্রাক চলাচলে যাতে জটলা সৃষ্টি না হয়, সে জন্য স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানকে অনুরোধ করা হয়েছে। পেঁয়াজ আমদনির অনুমতিপত্র দ্রুত প্রদানের জন্য কৃষি বিভাগকেও বলা হয়েছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, পেঁয়াজের বাজার নিয়ন্ত্রণে টিসিবি ৩০ টাকা কেজি দরে খোলা বাজারে পেঁয়াজ বিক্রি করছে। প্রতিদিন সারা দেশে ৪০০ ট্রাকে ৪০০ থেকে ১০০০ কেজি পেঁয়াজ বিক্রি করা হচ্ছে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

সবজিতে বাজার ভরপুর, দাম চড়া

সিলেট নগরের লালবাজার এলাকার এক সবজির দোকানে ফুলকপি দেখে দাম জিজ্ঞেস করলেন এক ক্রেতা। বিক্রেতা বললেন, ‘এক দাম ১২০ টাকায় নিতে পারবেন’। এত দাম শুনে ক্রেতা বললেন, ‘আরেকটু কম হয় না?’ তাঁর উত্তরে বিক্রেতার সাফ কথা, ‘এই দামে পোষাইলে নেন।’

বাজারে শীতের আগাম সবজির সরবরাহ প্রচুর হলেও সিলেটে সবজির দাম আকাশছোঁয়া বলে জানিয়েছেন ক্রেতারা। নগরের বন্দরবাজার, ব্রহ্মময়ীবাজার, মদিনা মার্কেট, রিকাবীবাজার ও আম্বরখানা এলাকার পাঁচটি কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা গেছে, খুচরা বাজারে প্রতি কেজি ফুলকপি সর্বোচ্চ ১৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। প্রতি কেজি গাজর ১৩০ থেকে ১৪০ টাকা, টমেটো ১০০ থেকে ১২০ টাকা, শিম ৯০ টাকা থেকে ১২০ টাকা, শসা, বাঁধাকপি ও ঢ্যাঁড়স ৫০ থেকে ৬০ টাকা করে বিক্রি হচ্ছে। অন্যদিকে মুলা, কাঁকরোল, কচুমুখী ও বেগুন ৪০ থেকে ৫০ টাকা করে বিক্রি হচ্ছে।বিজ্ঞাপনবিজ্ঞাপন

শীতের সবজির যখন আগাম সরবরাহ শুরু হয়, তখন প্রতিবছরই দাম একটু বেশি থাকে। দাম সহনীয় অবস্থায় চলে আসবে।

ফারুক মিয়া, বিক্রেতা

কেবল পটোল ও পেঁপের দাম তুলনামূলকভাবে একটু কম দেখা গেছে। বাজারে প্রতি কেজি পটোল ৩০-৪০ টাকা ও পেঁপে ২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। প্রতি কেজি কাঁচা মরিচ ১০০ থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি করছেন বিক্রেতারা। এ ছাড়া বরবটি প্রতি আঁটি ৬০ থেকে ৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। শাকের দামও বেশি।

ব্যবসায়ীরা বলেন, শীতের মৌসুম পুরোপুরি শুরু হলে সবজির সরবরাহ আরও বাড়বে। তখন দাম তুলনামূলকভাবে দাম অনেক কমবে। এখন আগাম সবজি কেবল আসতে শুরু করায় পাইকারি বাজারে দামও ঊর্ধ্বমুখী। ফলে খুচরা বাজারেও এর প্রভাব পড়ছে।

ব্রহ্মময়ী সবজির বাজারের ব্যবসায়ী ফারুক মিয়া বলেন, শীতের সবজির যখন আগাম সরবরাহ শুরু হয়, তখন প্রতিবছরই দাম একটু বেশি থাকে। তবে কিছুদিনের মধ্যে দাম সহনীয় অবস্থায় চলে আসে।বিজ্ঞাপন

বাজারে এত এত সবজির সরবরাহ, এরপরও দাম কেন চড়া, এমন প্রশ্নের কোনো জবাব সবজি বিক্রেতাদের কাছে নেই

রবিউল ইসলাম, ক্রেতা

নগরের শাহি ঈদগাহ এলাকার বাসিন্দা রবিউল ইসলাম বলেন, বাজারে দাম বেশি থাকায় অনেকটা বাধ্য হয়েই ক্রেতাদের বেশি দামে এসব সবজি কিনতে হচ্ছে। বাজারে এত এত সবজির সরবরাহ, এরপরও দাম কেন চড়া, এমন প্রশ্নের কোনো জবাব সবজি বিক্রেতাদের কাছে নেই। অন্যদিকে করোনাভাইরাসের কারণে মানুষের আয়রোজগার কম, এর মধ্যে চড়া দামের কারণে সাধারণ মানুষ বেকায়দায় পড়েছেন। বাজারে প্রশাসনের নজরদারিও নেই।

সিলেটের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) ইমরুল হাসান বলেন, বাজারদর নিয়ন্ত্রণে রাখতে বাজারে নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালিত হয়। প্রয়োজনে সবজির বাজারে বিশেষ নজরদারি রাখা হবে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

ভারত থেকে এলো পেঁয়াজ, কমলো দাম

শারদীয় দুর্গাপূজার বন্ধ শেষে ছয় দিন পর দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দর দিয়ে গতকাল রবিবার আমদানি-রফতানি চালু হয়েছে। সেই সঙ্গে ভারত থেকে পুনরায় শুরু হয়েছে পেঁয়াজ আমদানি।  

আমদানি চালুর পর থেকে পেঁয়াজের দাম কেজিতে ১২ টাকা কমেছে। বন্ধের আগে বন্দরে প্রতি কেজি পেঁয়াজ ৪৮ থেকে ৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়। বর্তমানে তা কমে ৩৬ থেকে ৩৮ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পেঁয়াজের দাম কমায় খুশি বন্দরের পাইকাররা।

হিলি বন্দরে পেঁয়াজ কিনতে আসা মিরাজুল ইসলাম ও সিরাজ উদ্দিন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, পূঁজার বন্ধের আগে বন্দর থেকে পেঁয়াজ কিনে কিনেছি ৪৫ থেকে ৫০ টাকা কেজি দরে। বন্ধের পর বন্দর দিয়ে পেঁয়াজ আমদানি শুরু হওয়ায় দাম কমেছে। দাম কমায় আমাদের বেশ সুবিধা হয়েছে।

হিলি বন্দরের আমদানিকারক মাহফুজার রহমান ও পেয়াজ ব্যবসায়ী রবিউল ইসলাম বলেন, শারদীয় দুর্গাপূজার বন্ধ শেষে বন্দর দিয়ে পুনরায় পেঁয়াজ আমদানি শুরু হয়েছে। এতে দেশের বাজারে সরবরাহ বাড়ায় পেঁয়াজের দাম কমতে শুরু করেছে। 

তারা বলছেন, সরকার আমদানিতে শুল্ক প্রত্যাহার করে নেওয়ায় পেঁয়াজের দাম কমার মূল কারণ। এতে কেজিপ্রতি ২ টাকার মতো শুল্ক কমেছে। এর ওপর মিয়ানমার থেকে প্রচুর পেঁয়াজ আমদানি হচ্ছে। তুলনামূলক পেঁয়াজের দাম কম রয়েছে। বাজারে এর চাহিদাও রয়েছে। দেশি পেঁয়াজের দাম কমে ৪৫ থেকে ৫০ টাকায় নেমেছে। তবে সামনে নতুন পাতা পেঁয়াজ উঠবে। তখন দাম আরও কমবে।

হিলি স্থলবন্দরের জনসংযোগ কর্মকর্তা সোহরাব হোসেন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, দুর্গাপূজা উপলক্ষে ১১ থেকে ১৬ অক্টোবর পর্যন্ত টানা ছয় দিন বন্ধের পর রবিবার বন্দর দিয়ে পুনরায় আমদানি-রফতানি শুরু হয়েছে। বন্দর দিয়ে অন্যান্য পন্যের পাশাপাশি পেঁয়াজও আমদানি হচ্ছে। গতকল বন্দর দিয়ে ১৭টি ট্রাকে ৪৭৪ টন পেঁয়াজ আসে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

এক সপ্তাহে কেজিতে পেঁয়াজের দাম কমেছে ৮ টাকা

দুর্গাপূজার ছুটি কাটিয়ে ফের সচল হয়েছে দেশের দ্বিতীয় স্থলবন্দর হিলি। আমদানি-রফতানির শুরুর দিনেই ভারত থেকে ট্রাকে ট্রাকে প্রবেশ করছে পেঁয়াজ। তবে বন্দরে ক্রেতা সংকট, পেঁয়াজ আমদানিতে শুল্ক প্রত্যাহার এবং অতিরিক্ত গরমের কারণে দাম কমতে শুরু করেছে। সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতি কেজি পেঁয়াজের দাম কমেছে আট টাকা। দাম কমলেও বন্দরে ক্রেতা না থাকায় বিপাকে আমদানিকারকরা।

হিলি স্থলবন্দরের অভ্যন্তরে পেঁয়াজ পয়েন্ট ঘুরে দেখা যায়, থরে থরে সাজানো পেঁয়াজ বোঝাই ভারতীয় ট্রাক দাঁড়িয়ে আছে। বন্দরে নেই তেমন ক্রেতা সমাগম। যদিও দুই-একজন পাইকার আসছেন। কিন্তু আড়তে পেঁয়াজের বিক্রি না থাকায় তারও কিনছেন না। পূজার বন্ধের আগে যে পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ৪৮-৫০ টাকা কেজি দরে সেই পেঁয়াজ এখন কেজিতে ৮ টাকা কমে বিক্রি হচ্ছে ৪০-৪২ টাকা।

হিলি স্থলবন্দরে পেঁয়াজ কিনতে আসা পাইকার সাদ্দাম বলেন, পূজার আগে হিলি বন্দর দিয়ে পেঁয়াজের আমদানি প্রচুর ছিল। আমরা এখান থেকে পেঁয়াজ কিনে দেশের বিভিন্ন স্থানে পাঠিয়েছি। তারা সেই পেঁয়াজ বিক্রি করতে না পারায় নতুন করে আর কোনো অর্ডার নিচ্ছেন না। আর এ কারণে আমরাও পেঁয়াজ কিনতে পারছি না। এদিকে আবার সরকার শুল্ক প্রত্যাহার করে নিয়েছে। দাম আরও কমে আসবে।

হিলি স্থলবন্দরের আমদানি-রফতানি গ্রুপের সভাপতি হারুন উর রশিদ হারুন বলেন, পেঁয়াজ আমদানিতে সরকারের শুল্ক প্রত্যাহার, অতিরিক্ত গরমের কারণে বন্দরে ক্রেতা না থাকায় দাম কমতে শুরু করেছে। 

হিলি কাস্টমসের তথ্য মতে, প্রথম কর্মদিবসে হিলি স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে ১৮টি পেঁয়াজ বোঝাই ট্রাকে ৪৭৪ মেট্টিক টন পেঁয়াজ আমদানি হয়েছে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২১ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com