আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

এগ্রোবিজ

আম রপ্তানি একটি স্বপ্নের সূচনা ও অপমৃত্যু

 আম রপ্তানি একটি স্বপ্নের সূচনা ও অপমৃত্যু
জনাব শাইখ সিরাজ

আমের মিষ্টতা ও ঘ্রাণের প্রেমে পড়েনি এ দেশে এমন মানুষ পাওয়া যাবে কি? একটা রসালো আম ভুলিয়ে দিতে পারে সব ক্লান্তি। যেমন মহাবীর আলেকজান্ডার ভুলে গিয়েছিলেন। পৃথিবী জয় করতে নেমে ভারতবর্ষ অবধি এসে মজে গিয়েছিলেন আমের রসে। তাই ফিরে যাওয়ার সময় আলেকজান্ডার ঝুড়িতে করে আম নিয়ে গিয়েছিলেন সুদূর গ্রিসে। কিন্তু পৃথিবীর ইতিহাস বলে আমের ইতিহাস আরও পুরনো। আম এ উপমহাদেশের এক নিজস্ব ফল। ভারতের কুউমন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের ড. ইন্দু মেহতার আমের ইতিহাস নিয়ে একটি গবেষণা পেপার পড়ছিলাম। সেখানে উল্লেখ আছে, হাজার বছরের আমের ইতিহাসের কথা। তবে ৬৩২-৬৪৫ খ্রিস্টাব্দে চীনা পর্যটক হিউয়েন সাং যখন ভারতবর্ষে বেড়াতে আসেন, তখন পরিচিত হন এ অঞ্চলের ফল আমের সঙ্গে। প্রচলিত আছে- সে সময় তিনি ফল হিসেবে আমকে বিশ্বের কাছে পরিচিত করে তোলেন। আমি এর আগে একটি লেখায় আম নিয়ে মুঘল সম্রাট আকবরের গল্পটি উল্লেখ করেছিলাম। সম্রাট আকবর তাঁর শাসনামলে ভারতের লাখবাগের দ্বারভাঙা এলাকায় প্রায় ১ লাখ আম গাছ রোপণ করেছিলেন। যেটিকে বলা হয় ভারতীয় উপমহাদেশে সবচেয়ে বড় আমবাগান। এরপর পর্তুগিজরা এসে আমের রস ও গন্ধে মজে ওঠে। তারাই আমকে ছড়িয়ে দেয় সারা বিশ্বে। যেখানে যেখানে তারা কলোনি গড়েছে সেখানেই নিয়ে গেছে আমকে, গড়েছে আমের বাগান। ১৬০০ সালের মধ্যে আম পৌঁছে যায় মেক্সিকোয়, ১৮৩৩ সালে আমেরিকার ফ্লোরিডায়। এ জনপদের আম ছড়িয়ে পড়ে সারা বিশ্বে।

আম চাষ ও বাগানের পরিচর্যা
আম রপ্তানি একটি স্বপ্নের সূচনা ও অপমৃত্যু

বর্তমানে ৯০টির বেশি দেশে আমের ফলন হয়। আমের রসে মুগ্ধ পৃথিবীবাসী। আম জনপ্রিয় এক ফল। বিশ্বে কোটি কোটি টাকার আমের বাজার। কয়েকদিন আগেও ধারণা করা হচ্ছিল ২০২৯ সালের বৈশ্বিক আমের বাজার হবে প্রায় ১ লাখ ৮০ হাজার কোটি ইউএস ডলারের। আম উৎপাদনকারী প্রথম ১০ দেশের মধ্যে বাংলাদেশ অষ্টম স্থানে আছে বটে কিন্তু আম রপ্তানিকারী প্রথম ২০ দেশের মধ্যেও বাংলাদেশ নেই। অথচ প্রতি বছর বাড়ছে আমের উৎপাদন। আম চাষিরা আগ্রহ নিয়ে প্রতি বছর আম উৎপাদন করে চলেছেন বড় একটি বাজার ধরবেন বলে। কিন্তু আমরা কেন বৈশ্বিক বাজারে আর সব শাকসবজি, ফলমূলসহ আম নিয়েও প্রবেশ করতে পারছি না? এ প্রশ্নের উত্তর খোঁজার আগে পাঠক, আপনাদের জানিয়ে রাখতে চাই, বছর দশেক আগেও এ দেশে প্রতিটি ফলের দোকান ভরে থাকত ভারতীয় আমে। বাংলাদেশে প্রধানত ভালো জাতের আম হতো রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ অঞ্চলে। তা ছাড়া সারা দেশের মানুষের গৃহস্থ ভিটায় যেসব আম গাছ থাকত সেগুলো ছিল সাধারণ জাতের। মানুষ বিশ্বাস করত, রাজশাহী-চাঁপাই ছাড়া ভালো আম কোনো মাটিতেই সম্ভব নয়। এমন বিশ্বাস ছিল বিশেষজ্ঞদের মধ্যেও। কিন্তু এ দেশের কৌতূহলী কৃষক বাণিজ্যিক কৃষির প্রসারের সঙ্গে সঙ্গেই ফল উৎপাদনের বিষয়টিকে লাভজনক হিসেবে গ্রহণ করেছে। উদ্যোক্তা কৃষকের হাত দিয়ে ফলের রাজা আম ছড়িয়ে গেছে সারা দেশে।

প্রচলিত বিখ্যাত জাতগুলোর পাশাপাশি আরও নতুন নতুন জাত এসেছে। দিনে দিনে সবখানে ছড়িয়ে গেছে আমবাগান। বাংলাদেশে আম উৎপাদন প্রসারের সঙ্গে সঙ্গে আমের বহুমুখী বাণিজ্যিকায়ন শুরু করে কৃষি শিল্প প্রতিষ্ঠান। মনে আছে, উত্তরাঞ্চলের মানুষ একসময় ‘আশ্বিনা’ আম নিয়ে বিপাকে ছিল। দাম পেত না। দেশে প্রথমবারের মতো আম থেকে শিল্পপণ্য তৈরির উদ্যোগ নিয়েছিল প্রাণ গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা আমজাদ খানচৌধুরী। প্রায় পনের বছর আগে হৃদয়ে মাটি ও মানুষ অনুষ্ঠানে আপনাদের সামনে তুলে ধরেছিলাম নাটোরসহ উত্তরের বিভিন্ন জেলায় স্থানীয় জাতের টক আম ও আশ্বিনা আম কী করে যুক্ত হয় বাণিজ্যিক ধারায়। আগে যেসব আম গাছের নিচে পড়ে থেকে নষ্ট হতো, সেগুলোও হয়ে উঠল কৃষকের অর্থকরী পণ্য। আম এখন শুধু মিষ্টতায়, স্বাদে আমাদের মুগ্ধ করে না, বাণিজ্যেও বড় অঙ্কের কৃষি-অর্থনীতির স্বপ্ন দেখায়। আমাদের দেশে ফল উৎপাদন বৃদ্ধির হার কৃষি অর্থনীতিতে যে মাত্রা যোগ করেছে, সেখানে রপ্তানি সম্ভাবনারও একটি বড় অবদান রয়েছে। বেশ ক’বছর আগে থেকেই আমাদের দেশের আম বিচ্ছিন্নভাবে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে যাচ্ছে। স্থানীয় ছোট ছোট বাজারে, যেগুলোকে বলা হয় এথনিক মার্কেট, সেগুলোয় প্রবাসীদের মাঝে বিক্রি হয়ে আসছে।

কিন্তু ইংল্যান্ড বা আমেরিকার হোলসেল মার্কেটগুলোয় বাংলাদেশের পণ্য আমি খুঁজে পাইনি। ২০১৫ সালে প্রথম আনুষ্ঠানিক আম রপ্তানির একটি দ্বার উন্মোচিত হয়। বাংলাদেশ থেকে প্রথমবারের মতো যুক্তরাজ্যের বাজারে আম রপ্তানি শুরু হয়।

আম রপ্তানির প্রথম চালান যুক্তরাজ্যের ওয়ালমার্ট চেইনশপে পৌঁছায়। আমের রপ্তানি বাজার উন্মুক্ত করার পেছনে বড় ভূমিকাটি ছিল বিশ্ব খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও)। এফএওর তৎকালীন প্রতিনিধি মাইক রবসন, রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর, হর্টেক্স ফাউন্ডেশনকে সঙ্গে নিয়ে আম রপ্তানির কার্যক্রম শুরু হয়। ২০১৪ সালে যুক্তরাজ্যের একটি বিশেষজ্ঞ দল এসে দেশের আম উৎপাদনকারী এলাকা সাতক্ষীরা, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও রাজশাহী পরিদর্শন করেন। নয়টি জাতের আমের নমুনাও পাঠানো হয়। সেখান থেকে তারা তিনটি জাত- হিমসাগর, ল্যাংড়া ও আম্রপালি বাছাই করেন। এ সময়টিতে আমকে ঘিরে এক বিরাট বাণিজ্য সম্ভাবনা দানা বাঁধে। হৃদয়ে মাটি ও মানুষ অনুষ্ঠানের পক্ষ থেকেও রপ্তানি উপযোগী আম উৎপাদন, ব্যাগিং পদ্ধতির ব্যবহার ও সচেতনতা নিয়ে একাধিক অনুষ্ঠান করি। রাজশাহী-চাঁপাইনবাবগঞ্জের আম চাষিদের নিয়ে নানাবিধ পরামর্শ সভা ও বৈঠকের আয়োজন করা হয়। আমরা শুধু আমের বাণিজ্য সম্ভাবনা নিয়ে রাজশাহীতে ‘কৃষি বাজেট কৃষকের বাজেট’-এরও আয়োজন করি। সে আয়োজনেই কৃষক তুলে ধরেন আমের ‘ফ্রুট ফ্লাই’ সমস্যার কথা। ২০১৪-১৫ সাল থেকে টানা কয়েক বছর আম রপ্তানি কার্যক্রম চলেছে।

আম রপ্তানি একটি স্বপ্নের সূচনা ও অপমৃত্যু
আম রপ্তানি একটি স্বপ্নের সূচনা ও অপমৃত্যু

কিন্তু তারপর আকস্মিকভাবেই থমকে যায় এ উদ্যোগ। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর জানায়, ২০১৪-১৫ সালে যেখানে ৭৮৮ টন আম রপ্তানি হয়, সেখানে ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ২৮৮ টনে নেমে আসে এবং তারপর কমতে কমতে প্রায় শূন্যের কাছাকাছি পরিমাণে এসে পৌঁছে। আমের রপ্তানি বাণিজ্যে এ ভাটার পেছনে বেশকিছু কারণ রয়েছে। তার মধ্যে সবচেয়ে বড় কারণ আমাদের গাফিলতি। আমি কথা বলেছি যারা ওয়ালমার্টে প্রথম আম রপ্তানিতে অংশ নিয়েছিলেন তাদের কয়েকজনের সঙ্গে। তারা বলেছেন কীভাবে একটা সম্ভাবনা মুকুলেই নষ্ট করে দেওয়া হয়। কৃষক ও রপ্তানিকারকদের মাঝখানে থাকা কিছু মানুষের অসততার কারণেই একটা সম্ভাবনার দ্বারে প্রথম আঘাত আসে। কৃষক জানায়, তারা যে মানের আম দেন, তার সঙ্গে বাইরে থেকে কেনা আম মিশিয়ে কোয়ালিটি নষ্ট করে ফেলা হয়েছিল। এমনও হয়েছে, তাদের কাছ থেকে আম না নিয়েই আম রপ্তানি সম্পন্ন করে ফেলেছে। পাঠক! আপনাদের জ্ঞাতার্থে বলে রাখতে চাই, আন্তর্জাতিক হোলসেল মার্কেটগুলোয় কৃষিপণ্য রপ্তানি করতে চাইলে অবশ্যই গ্যাপ (গুড অ্যাগ্রিকালচারাল প্র্যাকটিস) সার্টিফাইড হতে হবে। ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত কোনো দেশে পণ্য পাঠাতে চাইলে উৎপাদন থেকে প্যাকেটজাতকরণে ইইউর কমপ্লায়েন্স মেনে করতে হবে। এ রপ্তানি কার্যক্রমের সঙ্গে যারা যুক্ত ছিলেন তাদের উদাসীনতা, ইচ্ছার অভাবের কারণে এখন পর্যন্ত গ্যাপ সার্টিফিকেটপ্রাপ্তির বিষয়টি নিষ্পত্তি হয়নি। যা হোক, বলছিলাম ওয়ালমার্টের সঙ্গে আম পাঠানোর চুক্তিটা কীভাবে মুখ থুবড়ে পড়ে সেই কথা। ওয়ালমার্টের সঙ্গে চুক্তি ছিল লন্ডনের জামিল আহমেদের। তিনি এক বছর আগে থেকেই ওয়ালমার্টের ৭০০ টন আমের প্লেস বুকিং দিয়ে রাখেন। ওয়ালমার্টও চুক্তি অনুযায়ী প্লেস খালি রাখে এবং রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান হিসেবে বাংলাদেশের দ্বীপ ইন্টারন্যাশনালকে রেজিস্ট্রার করে এবং শর্ত অনুযায়ী দ্বীপ ইন্টারন্যাশনাল আম পাঠানোও শুরু করে। ৪-৫ টন আম পাঠানোর পর দ্বীপ ইন্টারন্যাশনাল ওয়ালমার্টে আম পাঠাতে ব্যর্থ হয়। কারণ জানতে কথা বলি দ্বীপ ইন্টারন্যাশনালের স্বত্বাধিকারী পরিতোষ চন্দ্র দাস মানিক বাবুর সঙ্গে। তিনি জানান, হঠাৎ করে অন্য দেশের একটি এথনিক মার্কেটে রপ্তানি করা সবজিতে ফ্রুট ফ্লাই থাকার কথা বলে সরকারের কৃষিপণ্য রপ্তানির কোরাইন্টাইন বিভাগ দ্বীপ ইন্টারন্যাশনালের কৃষিপণ্য রপ্তানি বন্ধ করে দেয়। ফলে তার পক্ষে আর ওয়ালমার্টে আম পাঠানো সম্ভব হয় না। প্রসঙ্গতই আমি কথা বলি ওয়ালমার্টের সঙ্গে চুক্তিকারী জামিল আহমেদের সঙ্গে। তিনিও জানান, ফলের মান নিয়ে ওয়ালমার্টের প্রশ্ন ছিল না। এফএওর প্রতিনিধি চিঠিতে লিখে দিয়েছিলেন আমের উৎপাদন কমপ্লাইন্স মেনে মানসম্পন্নভাবেই হয়েছে। এতে ওয়ালমার্ট সে বছরের জন্য আম নিতে রাজি হয়, কিন্তু পরের বছর অবশ্যই গ্যাপ সার্টিফিকেট লাগবে এ কথাও জানিয়ে দেয়।

কিন্তু সবচেয়ে সমস্যা হয়ে দাঁড়ায় হঠাৎ করে চুক্তিবদ্ধ প্রতিষ্ঠান দ্বীপ ইন্টারন্যাশনালের রপ্তানি করার সুযোগ বন্ধ করে দেওয়া। এর ফলে চরম ক্ষতির সম্মুখীন হন জামিল আহমেদ। পাশাপাশি বাংলাদেশের আম রপ্তানির বড় একটি সুযোগ নষ্ট হয়ে যায়। সে সময় হর্টেক্স ফাউন্ডেশনের কনসালট্যান্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন ড. সালেহ আহমেদ। তিনি জানান, গ্যাপ সার্টিফিকেশনের জন্য তিনি চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু একক প্রচেষ্টায় অন্যান্য দফতরের সঙ্গে সমন্বয় করা সম্ভব হয়নি। আম রপ্তানির পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেছি হর্টেক্স ফাউন্ডেশনের বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক কৃষিবিদ মনসুরুল হান্নানের সঙ্গে। প্রশ্ন ছিল, পাঁচ বছরেও একটি সার্টিফিকেশনের আওতায় কৃষিপণ্যকে আমরা আনতে পারিনি কেন? তার কথায়ও বোঝা গেল, মাঠ পর্যায়ে সমন্বয় করাটাই কঠিন। সর্বশেষ বিষয়টি জানতে ও জানাতে কথা বলি কৃষিমন্ত্রী ড. আবদুর রাজ্জাকের সঙ্গে। তিনি সরলভাবেই জানিয়েছেন, বিষয়টি সম্পর্কে তিনি জানতেন না। কেউ তাকে জানায়ওনি। সম্প্রতি জানার পর তিনি উদ্যোগ নিয়েছেন। আশা করছেন খুব শিগগিরই গ্যাপ সার্টিফিকেশনের জটিলতা কেটে যাবে। গত বছর কৃষি মন্ত্রণালয়ে এক অনুষ্ঠানে জাপানের রাষ্ট্রদূত তাদের দেশে বাংলাদেশের আমদানির আগ্রহের কথা জানান। তবে জাপানের রাষ্ট্রদূত মি. নাওকি ইটো শর্ত দেন ফ্রুট ফ্লাই কিটমুক্ত আম হতে হবে। সে প্রক্রিয়া কতদূর অগ্রসর হয়েছে তাও মন্ত্রী মহোদয়ের কাছে জানতে চেয়েছিলাম। এ ব্যাপারেও তিনি আমাকে আশ্বস্ত করেছেন, প্রক্রিয়া চলছে।

বহু আগে থেকেই আন্তর্জাতিক বাজারে আমাদের কৃষিপণ্য উপেক্ষিত। রপ্তানির জন্য আমাদের আন্তরিকতাও একসময় ঝিমিয়ে পড়েছে। আমি গত এক দশকে ইংল্যান্ড তথা ইউরোপের বিভিন্ন হোলসেল মার্কেটে আমাদের কৃষিপণ্য খুঁজেছি। কিন্তু বারবারই হতাশ হয়েছি। আফ্রিকার ছোট্ট কোনো দেশ থেকেও পণ্য আসে কিন্তু আমরা সেখানে আমাদের পণ্য নিয়ে ঢুকতে পারি না। ইংল্যান্ডের বার্মিংহামের সবচেয়ে বড় হোলসেল মার্কেটে গিয়ে জানলাম সে দেশের কৃষি ও খাদ্যের নিরাপত্তা বিধানকারী প্রতিষ্ঠান ডেফরার যথেষ্টই আন্তরিকতা রয়েছে আমাদের দেশের কৃষিপণ্যের ব্যাপারে, কিন্তু আমরা বারবারই তাদের বেঁধে দেওয়া নিয়ম ভঙ্গ করে চলেছি। আমাদের দেশের লেবু ও পানের ক্ষেত্রে সেই একই ঘটনা বারবার ঘটেছে। সর্বশেষ ২০১৮ সালের অক্টোবরে আমি ইংল্যান্ডের কেন্দ্রস্থলের একটি হোলসেল মার্কেটে গিয়েও আরও হতাশাজনক চিত্র খুঁজে পাই। দেখলাম সেখানে আমাদের দেশের পান ঠিকই পৌঁছে, কিন্তু তা আমাদের প্রতিবেশী দেশের পরিচয়ে। আমের ক্ষেত্রেও সেই একই হতাশা আমাদের গ্রাস করেছিল। গত এক দশকে আমরা ফল উৎপাদনে বিরাট এক সাফল্য অর্জন করেছি।

২০১৪-১৫ সালে আম রপ্তানি শুরু হতেই পৃথিবীতে আম রপ্তানিতে আমরা অষ্টম স্থানে পৌঁছে যাই। কিন্তু তার পরই থমকে যায়। করোনা পরিস্থিতি পৃথিবীর সামনে অনেক অনিশ্চয়তা টেনে এনেছে। গোটা পৃথিবী এক মহামারী ও দুর্ভিক্ষের শঙ্কার মধ্যে পড়ে গেছে। এ অবস্থায়ও কৃষিতে বহুমুখী সাফল্যের জায়গা থেকে আমরা আশার আলো দেখতে পাই। কিন্তু এ আশার আলো জ্বালিয়ে রাখতে পৃথিবীবাসীর মুখে খাদ্য পৌঁছে দিতে আমাদের অংশ নিতে হবে। বহুমুখী উদ্যোগ নিতে হবে। খাদ্য ও পুষ্টির প্রশ্নে আমদানিনির্ভর দেশগুলোর চাহিদা পূরণে আমাদের তৎপর হতে হবে। এখানে সর্বোচ্চ কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক তৎপরতা দেখাতে হবে আমাদের। সৃষ্টি করতে হবে রপ্তানি বাজার। যেসব পণ্য রপ্তানিতে প্রশ্ন আছে, সেসব প্রশ্ন দূর করার জন্য সর্বোচ্চ আন্তরিকতা নিয়ে তৎপর হতে হবে সরকারি সব প্রতিষ্ঠানকে। আশা করব সরকার আমসহ সব মৌসুমি ফলের রপ্তানি বাণিজ্যের দ্বার আবার উন্মুক্ত করতে প্রয়োজনীয়  উদ্যোগ গ্রহণ করবে।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন

অনুগ্রহ করে মন্তব্য করতে লগ ইন করুন লগ ইন

Leave a Reply

এগ্রোবিজ

নাগালের বাইরে সবজির দাম দিশেহারা মধ্য ও নিম্নআয়ের মানুষরা

শাকসবজির দাম চড়া হওয়ায় কষ্টে নিম্ন আয়ের মানুষ গাজীপুরের সবজির বাজারে বন্যার প্রভাব ছিল আগ থেকেই। এরসঙ্গে সাম্প্রতিক বৃষ্টিতে সব ধরনের সবজির দাম বেড়েছে আবারো। গত কয়েকদিনে কেজি প্রতি সবজির দাম বেড়েছে ২০ থেকে ৩০ টাকা। কোনো কোনো সবজির দাম বেড়েছে আরো বেশী। আর ডিমের দামও বেড়ে গেছে।

[৩] বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বাজারে কাঁচা মরিচের দাম চড়া। প্রতি কেজি কাঁচা মরিচের দাম ২০০ টাকার ওপরে। সবজির দাম কয়েক সপ্তাহ ধরেই নিন্ম আয়ের মানুষের নাগালের বাইরে। নতুন করে দাম বাড়ায় চাপে পড়েছে মধ্যম আয়ের মানুষও। করোনা দুর্যোগে মানুষের আয় কমায় বাজার করতে এখন সাধারণ ক্রেতারা হিমশিম খাচ্ছে।

[৪] বাজার ঘুরে ক্রেতাদের সাথে কথা বলে জানা যায়, অন্য বছরগুলোতে এ সময় বাজারে সবজির দাম সাধারণত কেজি প্রতি ৪০ থেকে ৫০ টাকার মধ্যে থাকে। বর্তমানে এসব সবজির দাম দেড় থেকে দুইগুণ বেড়েছে। কোনো কোনো সবজির দাম দ্বিগুণ বেড়েছে। শীত মৌসুমের সবজি না আসা পর্যন্ত এমন দাম থাকতে পারে বলে মনে করছেন বিক্রেতারা। জয়দেবপুর বাজার, হাড়িনাল বাজার, রথখোলা কাচাবাজার, চৌরাস্তা বাজার ও চৌরাস্তার আড়ৎদাররা বলছেন, করোনার প্রভাব কমলেও উত্তরাঞ্চলে বন্যা থাকায় আড়তে সবজি কম আসছে। এরপর বন্যার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে অনেক সবজি ক্ষেত। এহেন বন্যা পরিস্থিতিতে সব সবজির দাম বেশি।

[৫] গাজীপুর শহরের সড়কে ও আবাসিক এলাকায় রিক্সাভ্যানে বিক্রেতারা করলা ৮০ থেকে ১০০ টাকা, হাইব্রিড করলা ৭০ টাকা, প্রতি কেজি বরবটি ৭০টাকা, চিচিংগা ৫০ থেকে ৬০ টাকা, কচুর লতি ৬০ থেকে ৭০ টাকা, পটোল ৫০ থেকে ৬০ টাকা, কাঁকরোল ৬০ থেকে ৭০ টাকায় বিক্রি করছে। টমেটোর কেজি ১২০ থেকে ১৪০ টাকা, গাঁজর ৮০ থেকে ১০০ টাকা এবং স্থানিয় কৃষকদের ঢেঁড়স বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ৮০ টাকায়।

[৬] এসব সবজি বাজার ও মান ভেদে গত দুই মাস আগে ২০ টাকা পর্যন্ত কমে পাওয়া গিয়েছিল। কিছুটা কমে পাওয়া যাচ্ছে কচুর মুখি ও তবে পেঁপে ২০ থেকে ৩০ টাকা কেজি। লাউয়ের পিস ৭০ থেকে ৯০ টাকা, চালকুমড়া ৬০ থেকে ৯০ টাকা পিস।

[৭] কাঁচা মরিচের দাম দেড় মাস ধরে ২০০ টাকা। গতকাল বৃহস্পতিবার পর্যন্ত আরেক দফা বেড়ে গড়ে আড়াই’শ টাকায় উঠেছে। এখন কোনো ক্রেতাই একশ থেকে আড়াই শ গ্রামের বেশী কাঁচা মরিচ কিনতে দেখা যায়না। এক কেজি নিলে ২২০ থেকে ২৪০ টাকা দাম রাখা হচ্ছে। আলুর দাম এখনো ২০ থেকে ৩০ টাকা কেজি।

[৮] শহরের বিভিন্ন বাজারে লালশাক, কলমিশাকের পাশাপাশি পাওয়া যাচ্ছে পুঁইশাক। পুঁইশাকের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৩৫ থেকে ৪০ টাকায়। আর লালশাক ও কলমিশাকের বিক্রি হচ্ছে প্রায় একই দামে।
একজন গৃহিনী আক্ষেপ করে বলেন, এখন ৫০০ টাকা দিয়ে দুই দিনের কাচা বাজার করা যায়না। গাজীপুর শহরের রথখোলা এলাকার মতিনের হোটেলের মালিক আব্দুল মতিন বলেন, চাল, ডাল, ডিম, তৈল ও সকল প্রকার সবজির দাম বেশী, অথচ কাস্টমাররা আগের মতোই বিল দিতে চায়। খাবার বিল পাঁচ টাকা বেশী হলেই আপত্তি করেন।

[৯] হাড়িনাল এলাকার কৃষি খামারের মালিক শাকিল আহমেদ, বুলবুল আহমেদ বলেন, অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে বারবার সবজি ক্ষেতের অনেক ক্ষতি হয়ে গেছে, সবজির উৎপাদনও কমে গেছে, তাই বাজারে এর প্রভাব পড়েছে।

[১০] গাজীপুর রাজবাড়ি সড়কে রিক্সাভ্যানের সবজি বিক্রেতা লতিফ বলেন, উত্তরবঙ্গের সবজি ক্ষেত পানিতে ডুবে গেছে। আড়তে কাড়াকাড়ি করে সবজি কিনতে হয়। তাই কিনতে হয় বেশীতে বিক্রিও করতে হয় বেশি দামে।

[১১] এদিকে চড়া সবজির দামের সঙ্গে বাড়ছে ভোজ্য তেল সয়াবিনের দামও। চলতি সপ্তাহে লিটারে দুই থেকে পাঁচ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। এখন খোলা সয়াবিন বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ১৩০ টাকা লিটার। আর বোতলজাত সয়াবিন তৈলের দাম পাঁচ টাকা বেড়ে ১৪৫ থেকে ১৫০ টাকা।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

টিসিবির পণ্যে নতুন চমক

নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যসামগ্রীর দাম ভোক্তাদের নাগালে রাখতে সাশ্রয়ী মূল্যে সারাদেশে চারটি পণ্য বিক্রি শুরু করেছে ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)। এগুলোর মধ্যে ৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করা হচ্ছে পেঁয়াজ। ডেইলি বাংলাদেশ

টিসিবির মুখপাত্র হুমায়ুন কবির বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, টিসিবির আমদানি করা তুরস্কের পেঁয়াজের চট্টগ্রাম বন্দরে এসেছে। ট্রাকসেলে পেঁয়াজের বরাদ্দ বাড়ানো হবে। গাড়ি প্রতি ৭০০ কেজি করে পেঁয়াজ বরাদ্দ দেওয়া হবে। তবে চাহিদা অনুযায়ী পর্যায়ক্রমে বরাদ্দ বাড়ানো হবে।

সারাদেশে ৪৫০ জন ডিলারের ভ্রাম্যমাণ ট্রাকের মাধ্যমে টিসিবির এ বিক্রি কার্যক্রম চলছে। সংস্থাটি জানায়, ভ্রাম্যমাণ ট্রাকে চিনির পাশাপাশি মসুর ডাল, সয়াবিন তেল ও পেঁয়াজ বিক্রি করছে টিসিবি। এ কার্যক্রম ২৮ অক্টোবর পর্যন্ত চলবে।

টিসিবির ট্রাক থেকে প্রতি কেজি পেঁয়াজ পাওয়া যাবে ৩০ টাকা দরে, যা একজন ক্রেতা সর্বোচ্চ চার কেজি কিনতে পারবেন। এছাড়া সয়াবিন তেল ১০০ টাকা লিটারে একজন ক্রেতা সর্বোচ্চ দুই লিটার নিতে পারবেন।

এছাড়া চিনি পাওয়া যাবে ৫৫ টাকায়, যা একজন ক্রেতা সর্বোচ্চ চার কেজি কিনতে পারবেন। আর প্রতি কেজি মসুর ডাল পাওয়া যাবে ৫৫ টাকায়, যা একজন ক্রেতা সর্বোচ্চ দুই কেজি কিনতে পারবেন।

উল্লেখ্য, বর্তমানে দেশের বাজারে পেঁয়াজের দাম অস্বাভাবিক বেড়ে গেছে। এতে ভোক্তা সাধারণের নাভিশ্বাস। বিশেষ করে পেঁয়াজের দাম কয়েকগুণ বেড়ে গেছে। নিম্ন ও মধ্যবিত্তদের কথা চিন্তা করে টিসিবি ৩০ টাকায় পেঁয়াজ বিক্রির সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। টিসিবি জানিয়েছে, তুরস্কের পেঁয়াজের সঙ্গে সয়াবিন তেল, মসুর ডাল ও চিনি বিক্রি চলমান কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

হিলিতে কমেছে কাঁচা মরিচের দাম

লেখক

আমদানিকারকরা বলছেন, ভারতের কাঁচা মরিচ বাংলাদেশে প্রবেশ করায় খুব শিগগিরই স্থিতিশীল হবে উঠবে মরিচের বাজার।

হিলি স্থলবন্দর দিয়ে ট্রাকে ট্রাকে প্রবেশ করছে কাঁচা মরিচবাহী ভারতীয় ট্রাক। আমদানিকারকরা জানান, দেশেরে বাজারে চলতি মৌসুমে বন্যার কারণে মরিচের আবাদ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় দেশে উৎপাদিত কাঁচা মরিচের সরবরাহ কমে যায়। এ কারণে দেশীয় বাজারে কাঁচা মরিচের দামও বেড়ে যায়। আর দেশের বাজারে ভারতীয় কাঁচা মরিচের চাহিদা থাকায় ব্যবসায়ীরাও ভারত থেকে আমদানি শুরু করেছেন। ব্যবসায়ীরা বলেছেন, মরিচগুলো ভারতের মধুপুর থেকে আসছে। সময় লাগছে ২ থেকে ৩ দিন। আগে গাড়ি আসতো ২-৪টি করে, তবে এখন ৮-১০টি আসসে। কাঁচা মরিচগুলো ঢাকার বিভিন্ন জায়গায় যাবে। 


ব্যবসায়ীরা আরও জানান, ভারত থেকে মরিচ আমদানি করে সরকারকে প্রতিকেজি মরিচে ২১ টাকা শুল্ক দিতে হচ্ছে। ভারতীয় কাঁচা মরিচ বাংলাদেশের বাজারে আসায় আগামী কয়েক দিনের মধ্যে মরিচের বাজার স্থিতিশীল হবে বলে মনে করছেন আমদানিকারকেরা।


হিলি স্থলবন্দরেরে আমদানিকারক হারুন উর রশীদ হারুন বলেছেন, দেশে মরিচের আবাদ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কারণে আমাদের ভারতের ওপর নির্ভরশীল হতে হয়েছে। এতোমধ্যেই আমরা ব্যাপক পরিমাণে আমদানির প্রস্তুতি নিয়েছি। কাঁচা মরিচ আসা শুরু করেছে এবং এর প্রভাবে দাম কমাও শুরু করেছে।

হিলি কাস্টমস সূত্রে জানা গেছে, গেল ২৫ সেপ্টেম্বর থেকে হিলি স্থলবন্দর দিয়ে শুরু হয় ভারত থেকে কাচাঁ মরিচের আমদানি। গেল ৮ কর্মদিবসে ভারতীয় ৪১ ট্রাকে ২৯১ মেট্রিক টন মরিচ আমদানি হলেও শুধু মঙ্গলবার (৫ অক্টোবর) একদিনেই ভারত থেকে ১১ ট্রাক কাঁচা মরিচ এসেছে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

কৃষিখাতে লাভজনক বাণিজ্যিকীকরণের চেষ্টা চলছে: বাণিজ্যমন্ত্রী

লেখক

ঢাকায় ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে ইউএস ডিপার্টমেন্ট অব এগ্রিকালচারের আর্থিক সহায়তায় বাংলাদেশি পণ্যের উৎপাদন বৃদ্ধি, সংরক্ষণ, বিশ্ববাজারে প্রবেশ সহায়তা, আমদানি ব্যয় ও সময় কমাতে সহায়তা প্রদানের জন্য ‘বাংলাদেশ ট্রেড ফেসিলিটেশন প্রজেক্ট’ এর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

বাংলাদেশের কৃষি খাতে সহায়তায় প্রকল্প গ্রহণের জন্য মার্কিন সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বাংলাদেশি কৃষিপণ্যের শক্তিশালী অবস্থান নিশ্চিত করতে সরকার এ খাতকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিচ্ছে। কৃষিপণ্যের বাণিজ্য পদ্ধতির আইনি ও কাঠামোগত সংস্কার, পণ্যের গুণগতমান নিশ্চিত করণের জন্য পরীক্ষা পদ্ধতির উন্নয়ন, তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রিত পণ্য সংরক্ষণে অবকাঠামো তৈরি ও উন্নয়নে বাংলাদেশ ট্রেড ফেসিলিটেশন প্রজেক্ট সহায়ক হবে। এ প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে বিশ্ববাণিজ্যে বাংলাদেশি কৃষিপণ্যের শক্তিশালী অবস্থান তৈরি হবে।



উল্লেখ্য, প্রায় ২৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ব্যয়ে প্রকল্পটি বাংলাদেশ সরকারকে বিশ্ববাণিজ্য সংস্থার ট্রেড ফেসিরিটেশন এগ্রিমেন্ট বাস্তবায়নে সহায়তা করবে। এতে করে বাংলাদেশি পণ্যের বিশ্বের বাজারে প্রবেশে সহায়তা প্রদান এবং আমদানি ব্যয় ও সময় হ্রাস করতে সহায়ক হবে। আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে এ প্রকল্প আমদানি-রপ্তানি প্রক্রিয়া সহজতর, স্বয়ংক্রিয়করণ, ঝুঁকিভিত্তিক পণ্য ছাড়করণ প্রক্রিয়া শক্তিশালীকরণ, আমদানি-রপ্তানি প্রক্রিয়া ও পণ্য প্রবেশ সংশ্লিষ্ট নিয়ম-কানুন অবহিতকরণ ও প্রক্রিয়ার উন্নয়ন, পরীক্ষাগারগুলোর পণ্য পরীক্ষার প্রক্রিয়া ও সক্ষমতা উন্নয়ন এবং পচনশীল পণ্যের বাণিজ্যিকীকরণ সহজ করার জন্য কোল্ড-চেইন ব্যবস্থার উন্নয়ন ও সম্প্রসারণে কাজ করবে।ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের ইউএসডিএ এগ্রিকালচারাল এটাসি মিজ মেগান ফ্রানসিক এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত কার্ল আর মিলার, বাণিজ্য সচিব তপন কান্তি ঘোষ, এফবিসিসিআই এর পরিচালক আবুল কাশেম খান। অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ ট্রেড ফেসিলিটেশন প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক মিকায়েল। 

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

আগাম সবজি আসতে শুরু করলেও দামে ঊর্ধ্বগতি

লেখক

ভোররাত থেকেই জেলার বিভিন্ন উপজেলায় উৎপাদিত সব ধরনের টাটকা সবজি নিয়ে আড়তে আসতে থাকেন কৃষকরা। সকাল থেকে ক্রেতা-বিক্রেতার ভিড়ে জমে ওঠে সিরাজগঞ্জের সবচেয়ে বড় পাইকারি এই সবজির আড়ত। প্রতিদিন জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে আসা পাইকাররা এই আড়ত থেকে সবজি কিনে নিয়ে খুচরা দামে বিক্রি করেন।আড়তে শীতকালীন টাটকা সবজির মধ্যে আলু বিক্রি হচ্ছে ১২-১৫ টাকায়, কাঁচা মরিচ ১৩০ টাকায়, আদা ৫৫-৬০ টাকায়, ফুলকপি ৬০-৭০ টাকায় এবং পাতা কপি ৫০ টাকায়। 


এ বিষয়ে ব্যবসায়ীরা বলেন, সিরাজগঞ্জ জেলার সদর থানার মধ্যে এ আড়ত। আশপাশের এলাকার প্রচুর পরিমাণ শাকসবজি এখানে আসে। বর্তমানে শীতকালীন টাটকা সবজি মধ্যে সিমের দাম ৭০ টাকা কেজি, লাউ ১৫-২০ টাকা পিস এবং পেঁপে ৮ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। কিন্তু পেঁয়াজের দামটা একটু বেশি। পেঁয়াজের দাম ৫৬-৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। তবে শসার দাম একটু কমেছে। তারা আরও বলেন, শীতকালের সবজি আস্তে আস্তে আসছে; তবে দামটা একটু বেশি। পুরো দমে মৌসুম এলে মূল্য কমে আসবে। আড়তে কাঁচা মরিচ বিক্রি হচ্ছে বেশি দামে। সেই সঙ্গে শীতকালীন আগাম সবজি উঠতে শুরু করলেও দাম কিছুটা বেশি বলে জানান ব্যবসায়ীরা।
উল্লেখ্য, প্রতিদিন ভোর ৬টা থেকে সকাল ৯টা পর্যন্ত বেচাকেনা চলে এই আড়তে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২১ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com