আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

চাঁপাইনবাবগঞ্জে আমের বাজারগুলোতে ঐতিহ্যবাহী ফজলি আমের ভোক্তা না থাকায় দামে ধস নেমেছে। অপরদিকে নতুন জাতের আম্রপালির চাহিদা তুঙ্গে। আম্রপালি আমের মিষ্টতা ও অন্যান্য গুণাবলি থাকায় এর চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। ফজলি আম বিক্রি হচ্ছে এক হাজার টাকা মণ দরে। তবুও মণ ধরা হচ্ছে ৫২ কেজিতে।

রোববার (১৮ জুলাই) দুপুরে চাঁপাইনবাবগঞ্জ বিভিন্ন আম বাজার ঘুরে দেখা গেছে, পাইকারি ক্রেতা আসলেও দাম অত্যন্ত কম।

ফজলি আম বিক্রি করতে আসা হাদিনগর এলাকার মিনু জানান, তিনি সকালে এক ভ্যান আম নিয়ে এসেছেন। ক্রেতারা দাম বলছে না। দুপুরের দিকে মাত্র সাড়ে ৯শ টাকা মণ দাম বলেছে। কিন্তু সেই দামে বিক্রি করলে তার প্রায় ৩০০ টাকা মণপ্রতি লোকসান হবে। তাই আম নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে। এসময় তিনি বলেন, ‘আমরা সারা বছর খাব কী?’

jagonews24

মুসলিমপুর এলাকার জাহাঙ্গীর বলেন, ‘আমার বাড়ি থেকে কানসাট বাজারে চার মণ আম আনতে প্রায় ৬০০ টাকা খরচ হয়। বাজারে ফজলি আমের দাম নিম্নে এক হাজার টাকা ও ঊর্ধ্বে ১৪শ টাকা মণ। সবমিলিয়ে এক সাইকেল আমে অর্থাৎ চার মণ আমে প্রায় দুই হাজার টাকা লোকসান হচ্ছে।’

তিনি বলেন, মূলত আম্রপালির কারণেই ফজলি আমের বাজারে ধস নেমেছে। একই কথা বললেন শ্যামপুর এলাকার আমিরসহ প্রায় বেশিরভাগ ফজলি আম ব্যবসায়ী।

jagonews24

তারা জানান, এক মণে প্রায় ৫০-৫২ কেজি আম দিতে হচ্ছে। যদিও নিয়ম অনুযায়ী ৪০ কেজি দেয়ার কথা। আমচাষি ইমাম জাগো নিউজকে বলেন, ‘আমি চার মণ আম্রপালি আম নিয়ে এসেছি। প্রতি মণ আম ৩৪০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। সারাদেশে আম্রপালির প্রচুর চাহিদা রয়েছে।’

সিলেট থেকে আসা আম ব্যাপারী শরীফ আলী বলেন, বাজারে ফজলি আমের চাহিদা কমে গেছে। দাম কম হওয়ায় অন্য বছরের মতো ব্যবসা এবার হচ্ছে না।

jagonews24

কানসাট বাজার আম আড়তদার ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক উমর ফারুক টিপু জানান, বরেন্দ্র অঞ্চলে প্রচুর পরিমাণে আম্রপালিসহ বেশ কিছু নতুন জাতের আম উৎপাদন হচ্ছে। সে আমসহ পাশের জেলার কয়েকটি উপজেলা থেকে কানসাটে আম আসায় ফজলি আমের দাম অন্যান্য বছরের তুলনায় একেবারে অর্ধেকে নেমে এসেছে। তার মতে, নতুন জাতের আমের প্রতি চাহিদা বেড়েছে ভোক্তাদের।

jagonews24

চাঁপাইনবাবগঞ্জ কৃষি বিভাগের উপপরিচালক মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম জানান, আম্রপালি গত তিন বছর আগে বাজারে এসেছে। ছোট ছোট গাছে প্রচুর পরিমাণে আম ধরে। আকারে ছোট হলেও খেতে অত্যন্ত সুসাদু। বিশেষ করে উচ্চবিত্তদের চাহিদার খোরাক জোগাচ্ছে এই আম্রপালি। সে কারণেই আম্রপালির দাম ফজলি আমের চেয়ে কিছুটা বেশি।

প্রসঙ্গত, এ বছর চাঁপাইনবাবগঞ্জে আড়াই লাখ মেট্রিক টন আম উৎপাদনের লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন

অনুগ্রহ করে মন্তব্য করতে লগ ইন করুন লগ ইন

Leave a Reply

ফল

আরব দেশের বিখ্যাত খেজুর চাষে সফলতা পেল দিনাজপুরে মোয়াজ্জেম হোসেন

তাহেরুল আনাম : দিনাজপুরে খেজুর চাষে অবিশ্বাস্ব সফলতা দেখিয়েছেন এক গাছ প্রেমী। শুরুতে খেজুর চাষ শখের বসে করলেও আজ বানিজ্যিকভাবে স্বপ্ন দেখছেন তিনি। সৌদি আরবের সবচেয়ে জনপ্রিয় ও দামি জাতের আজোয়া খেজুর এখন থোকায় থোকায় ঝুলছে খেজুর গাছে। তবে সরকারীভাবে সহযোগিতা পেলে অনেক বড় পরিসরে খেজুর বাগান করা সম্ভব বলে মনে করছেন এই বাগানী।

আরব খ্যাতো ও সবচেয়ে দামী জাতের আজোয়া খেজুর এখন দিনাজপুরের একটি ছাদ বাগানে। শহরের চাউলিয়াপট্টির একটি ছাদ বাগানে প্রথমে সখের বসে খেজুরের চাষ করলেও এখন বানিজ্যিক ভাবে সেখানে সম্প্রসারনের জন্য প্রস্তুত আছে ৬শ খেজুর চারা। পাশাপাশি এই জাতের খেজুর গাছের শিকড় থেকে প্রতিবছর ২ থেকে ৩টি বাড়তি চারা গাছ বেড় হয়। যা থেকেও বংশ বিস্তার করা সম্ভব। বাগান মালিক মোয়াজ্জেম হোসেন চাকুরী সুবাদে ৩০ থেকে ৩৫ বছর সৌদি আরবের মদিনা শহরে ছিলেন। প্রায় ছয় বছর আগে অবসর নিয়ে দেশে চলে আসেন। সঙ্গে নিয়ে আসেন আজোয়া খেজুরের বীজ। তার ছোট ছেলের সহযোগিতায় চারা গাছ তৈরী করছেন। এই গাছ রোপনের চারবছরের মাথায় ধরতে শুরু করে খেজুর। প্রথমে দুটি থোকায় খেজুর আসলেও প্রাপ্ত বয়সে ১৮ থেকে ২০টি থোকা হয় এই গাছে। আজোয়া খেজুর শুধু আকারে বড় নয় বাজার মূল্যও অনেক বেশি। আগামীতে আরো বড় পরিসরে খেজুর বাগান করার পরিকল্পনা রয়েছে তাদের।

খেজুর বাগানী মোয়াজ্জেম হোসেন জানালেন, চাকরীর সুবাদে সউদী আরবে যাওয়া। সেখানে খেজুরের বাগান দেখে নিজে মনে মনে চিন্তা করেন দেশে যদি এই খেজুর চাষ করা যায় তবে কিছু একটা করা সম্ভব। আর সেই চিন্তা থেকে দেশে কিছু খেজুরের চারা পাঠিয়ে পরিক্ষা মুলক ভাবে চাষ করেন। এখন তার বাগানে ৬শ খেজুর গাছ রয়েছে। সরকারী ভাবে সহায়তা পেলে এই খেজুর দেশের সকল জায়গায় দেশের পাশাপাশি বেকার যুবকদের কর্মসংস্থান তৈরির সম্বাবনা রয়েছে বলে তিনি জানান।

কৃষি সম্প্রসারণের পরিচালক কৃষিবিদ প্রদীপ কুমার গুহ, এই কৃষি কর্মকর্তা খেজুর বাগানে সব ধরনের সহযোগিতা দেয়ার পাশাপাশি এই ধরনের আন্তর্জাতিক মানের যে সকল ফল রয়েছে তা বেশি বেশি চাষ করারও পরামর্শ দিলেন তিনি।

সরকারি সহযোগিতা অথবা প্রকল্প আকারে এই উন্নত জাতের আজোয়া খেজুর সম্প্রসারন করা গেলে দেশে খেজুরের চাহিদা অনেকটা পূরন করা সম্ভব বলে মনে করছেন সংস্লিষ্টরা।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ফল

ড্রাগন চাষ দেখে ভাগ্য বদলের স্বপ্ন দুলালের

তথ্য প্রযুক্তির উৎকর্ষ সাধনে ইউটিউবে ড্রাগন চাষ দেখে অনুপ্রাণিত হন কুমিল্লার লাকসামের আনিছুর রহমান দুলাল। একের পর এক ভিডিও দেখে তিনি গড়ে তুলেন ড্রাগন ফলের বাগান। 

উপজেলার মুদাফরগঞ্জ উত্তর ইউনিয়নের পাশাপুরের সরকারি হাসপাতালের অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মফিজুর রহমানের ছেলে আনিছুর রহমান দুলাল এইচএসসি পাশ করে সামনে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যান। ২০১৩ সালে তিনি প্রবাসে পাড়ি জমান। দেশে এসে ৫ বছর পর মুদাফরগঞ্জ বাজারে ক্ষুদ্র ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেন। এরই মধ্যে তিনি ইউটিউবে লাভজনক ড্রাগন ফলের চাষ দেখে নিজের ভাগ্য বদলের স্বপ্ন দেখেন। একের পর এক ভিডিও দেখে তিনি ড্রাগন চাষের প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠেন। নিজ বাড়ির পাশে ৬০ শতাংশ জায়গায় তিনি ড্রাগন বাগান গড়ে তুলেন। বাগানে তিনি ১ হাজার ৩শ’ ড্রাগন গাছের রোপণ করেন। ইতোমধ্যে চারাগুলো বেশ পরিপক্ব হয়ে ফল দেয়া শুরু করেছে। বাগানে এ পর্যন্ত তিনি প্রায় ১০ লাখ টাকা খরচ করেছেন। 

দুলাল জানান, ড্রাগন চারা রোপণের এক থেকে দেড় বছরের মধ্যে গাছে ফুল আসে। ফুল আসার পর ২০/২৫ দিনের মধ্যে ফল হয়। ১২ থেকে ১৮ মাস বয়সী গাছ হতে ৫ থেকে ২০টি ফল পাওয়া যায়। তবে প্রাপ্তবয়স্ক একটি গাছ থেকে ১০০টি পর্যন্ত ফল পাওয়া যায়। সঠিক পরিচর্যার মাধ্যমে প্রতিটি ড্রাগন গাছ ২০ বছর পর্যন্ত ফল দিয়ে থাকে। প্রতিটি ফলের ওজন হয় ২০০ গ্রাম থেকে শুরু করে এক কেজি পর্যন্ত। 

তিনি আরও জানান, বর্তমান বাজার দরে প্রতি কেজি ড্রাগন ফল ৫শ’ টাকা থেকে শুরু করে ৭শ’ টাকা পর্যন্ত বিক্রি কারা যায়। এরই প্রেক্ষিতে নিজের প্রতিষ্ঠিত বাগান থেকে তিনি প্রথম দফাতেই ১২/১৩ লাখ টাকার ড্রাগন ফল বিক্রি করতে পারবেন বলে আশা প্রকাশ করেন। ড্রাগন গাছে তেমন রোগবালাই না থাকার কারণে বাগানে তুলনামূলক খরচ কম। অল্প কিছুদিনের মধ্যে আরও জমি সংযুক্ত করে বাগানের পরিধি বৃদ্ধি করবেন। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে ড্রাগন চাষে তার ভাগ্য বদলে যাবে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। 

এ প্রসঙ্গে লাকসাম উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সৈয়দ শাহিনুর ইসলাম জানান, ড্রাগন বাগানটির মাটি ড্রাগন চাষের জন্য বেশ উপযোগী। উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণে অফিসের পক্ষ থেকে আমরা সর্বদা বাগানটি পরিদর্শন করে চাষীকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছি। দুলালের মতো অন্যরাও বাড়ির পাশে পরিত্যক্ত জায়গায় ড্রাগন চাষ করে নিজেরা লাভবান হওয়ার পাশাপাশি কৃষিক্ষেত্রে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনতে পারেন। এজন্য উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিস সার্বিক সহযোগিতা ও পরামর্শ দিতে প্রস্তুত বলে তিনি জানান।   

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ফল

চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে বাণিজ্যিকভাবে ড্রাগন চাষের উজ্জ্বল সম্ভাবনা

মোহাম্মদ হোসেন: [২] চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে বাণিজ্যিকভাবে ড্রাগন চাষের উজ্জ্বল সম্ভাবনা। এখানকার কৃষকদের নতুন আয়ের দিশা দেখাচ্ছে ড্রাগন ফল। চাষে কল্পকাহিনির ড্রাগন নয়, সুস্বাদু ও লোভনীয় ফল ড্রাগন। ভিটামিন সি সমৃদ্ধ ফলটি মূলত ভিনদেশি হলেও এখন দেশেই চাষ হচ্ছে।ড্রাগন মূলত আমেরিকার একটি প্রসিদ্ধ ফল, যা বর্তমানে বাংলাদেশেও জনপ্রিয়তা পাচ্ছে।আমাদের দেশে ২০০৭ সালে প্রথম থাইল্যান্ড, ফ্লোরিডা ও ভিয়েতনাম থেকে এ ফলের বিভিন্ন জাত আনা হয়। নরম শাঁস ও মিষ্ট গন্ধযুক্ত গোলাপি বর্ণের এ ফল খেতে অনেক সুস্বাদু। তার সাথে ভিটামিন সি, মিনারেল পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ ও ফাইবারের উৎকৃষ্ট উৎস। ড্রাগন ফল গাছ ক্যাকটাস সদৃশ। আমাদের দেশের আবহাওয়া ড্রাগন ফল চাষের জন্য উপযোগী।

[৩] সরেজমিন পৌর সদরের পশ্চিম দেওয়ান নগর এলাকার পাহাড়ী এলাকার ড্রাগন চাষী চৌধুরী বলেন, দুই বছর বয়সে একটি ড্রাগন গাছে পরিপূর্ণ ফল আসে। একটি পিলারে প্রতি বছরে ৩০ থেকে ৪০ কেজি ফল পাওয়া সম্ভব। দুই বছরে একটি পিলারে থেকে প্রায় ১০-১২ হাজার টাকা আয় করা সম্ভব। এই দেড় বিঘা জমিতে ড্রাগন ফল বিক্রি করে বছরে আমার ১২ লাখ টাকা আয় হবে বলে আশা করছি। তবে এখানে প্রস্ততি মুলক ভাবে চাষ শুরু করতে যাচ্ছি। যথেষ্ট পরিমানের জমি আছে এবারও যদি ভালো ফলন দেখতে পায় তাহলে আগামীতে এ সব জমিতে ড্রাগন চাষ করব।

পৌর সদরের পশ্চিম পাহাড়ের পাদদেশে সুন্দর পরিবেশে ড্রাগন চাষ করেন,তরুন ব্যবসায়ী নুরুল আবছার,তিনি বলেন, থাইল্যান্ড সফরে গেলে সেখানে কয়েকটি বাগান দেখতে পায় ড্রাগন চাষ, তখন তাদের বাগানের পরিচর্যকারীরা আমাকে জানায় ড্রাগনের ফল আসতে প্রায় দুই বছর সময় লাগে। তখন আমি একটু হতাশ হয়েছিলাম। কিন্তু নিজে যখন চাষ শুরু করেছি তখন ধারণাটি বদলে যায়। আমি গত দুই বছর আগে গাছ লাগিয়েছি।

[৫] গাছ লাগানোর পর প্রায় ৭-৮মাসের মধ্যে আমার বাগানে ফুল, ফল আসতে শুরু করেছে। তবে বাণিজ্যিক ভাবে চিন্তা না করে এমনি এখানকার মাটিতে ড্রাগন চাষ হয় কি-না দেখতে প্রস্ততি মুলক ভাবে পাহাড়ী এলাকার আমার কিছু জায়গায় ড্রাগন চাষ শুরু করেছি। তিনি আরো বলেন,বিভিন্ন চাষীদের মাধ্যমে আমার জমি গুলোতে বিভিন্ন ফসলের পাশাপাশি ড্রাগন চাষ করতে শুরু করেছি,ইনশাআল্লাহ গত বছরও ভালো ফলন দেখেছি এবং এই বছরও গাছে যতোষ্ট পরিমানে আমার বাগানে ফুল, ফল আসতে শুরু করেছে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ফল

কোরিয়ান পানিকচু চাষে সাফল্য

প্রথমবারের মতো খানসামায় উত্তর কোরিয়া থেকে আনা হাইব্রিড এন কে-ওয়ান জাতের পানিকচুর চাষে বাম্পার ফলন হয়েছে। এতে আর্থিক উন্নয়নে অপার সম্ভাবনার স্বপ্ন দেখছেন খানসামার ছিট আলোকডিহি গ্রামের চেয়ারম্যানপাড়ার কৃষক আলমগীর হোসেন। কিন্তু করোনা আর লকডাউনের কারণে বর্তমানে পানিকচু বিক্রি ও রপ্তানি বাধাগ্রস্ত হয়ে পড়ায় সম্ভাবনার স্বপ্ন হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়েছে বলে জানান তিনি।

এদিকে, পানিকচু চাষ করে অর্থনৈতিক উন্নয়নে নজির স্থাপন করেছে খানসামা উপজেলার আলোকঝাড়ী, বাসুলী, জয়গঞ্জ, গুলিয়াড়া, আঙ্গারপাড়া ও ভেড়ভেড়ী গ্রামের কচু চাষিরা। প্রায় চার যুগের বেশি সময় ধরে তারা স্থানীয় জাতের পানিকচু ও মুখিকচু চাষ করছেন। এদের অনেকে পরিবারের সবজির চাহিদা মিটিয়ে কচু বিক্রি করে স্বল্প সময়ে ভাগ্য বদলও করেছেন। এবারও ৩৫ হেক্টর জমিতে স্থানীয় জাতের পানিকচু, লতিরাজ ও মুখিকচুর চাষ করছেন চাষিরা। তবে স্থানীয় পানিকচুর বদলে কৃষক আলমগীর হোসেন এ বছর কোরিয়ান এন কে-ওয়ান জাতের কচুর চারা সংগ্রহ করে চাষ করছেন। এতে বাম্পার ফলন হয়েছে।এ ব্যাপারে কৃষক আলমগীর হোসেন বলেন, আমি পাশের উত্তরা ইপিজেড-এ একটি কোম্পানিতে কাজ করি। সেখানকার একজন কর্মকর্তা উত্তর কোরিয়া যাতায়াত করেন। আমি তার মাধ্যমে কোরিয়া থেকে উন্নত জাতের এ কচুর চারা সংগ্রহ করে চাষ করছি।

উপসহকারী কৃষি অফিসার এম জে এইচ কামরুজ্জামানের সহযোগিতায় ৩৩ শতক জমিতে ২ হাজার ৮০০ চারা ক্রয় করতে খরচ হয়েছে ৩০ হাজার টাকা। হালচাষ, জমি তৈরি, সার প্রয়োগ ও অন্যান্য খরচ হয় আরও ৩০ হাজার টাকা। নভেম্বর মাসে লাগানো এসব পানিকচু বিক্রির উপযোগী হয়ে আসছে। প্রতিটি কচুর উচ্চতা হয়েছে ১০-১২ ফুট আর ওজন হয়েছে ১৫-২০ কেজি। একটি পরিপূর্ণ কচুর ওজন হয় ৩৫-৪০ কেজি পর্যন্ত। এসব কচুর কান্ড, লতি আর শুকনো ডাটা উত্তর কোরিয়াতে রপ্তানি করার কথা রয়েছে। কিন্তু করোনা পরিস্থিতির কারণে রপ্তানিতে সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। তবে এ পর্যন্ত চারা বিক্রি হয়েছে ৪০ হাজার টাকা, কচুর লতি ৩৮ হাজার টাকা এবং ফুল বিক্রি হয়েছে ৫ হাজার টাকা। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা প্রতিটি কচু ৩৫-৪০ টাকা করে দাম করেছে বলে তিনি জানান।

খানসামা উপজেলা কৃষি অফিসার বাসুদেব রায় জানান, এ কচুতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন-এ, বি, সি, প্রোটিন, শর্করা, চর্বি, ক্যালশিয়াম ও আয়রন রয়েছে। স্থানীয় জাতের চেয়ে হাইব্রিড জাতের পানিকচুর ফলন হয় ভালো। এ জাতের কচুর প্রতিটি কাে র ওজন হয় ৩৫ থেকে ৪০ কেজি পর্যন্ত। উপজেলা কৃষি অফিসের মাধ্যমে অন্য চাষির মাঝে চারা সরবরাহ করেছি। এছাড়া পার্শ্ববর্তী ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড়, দেবীগঞ্জ ও বদরগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় চারা বিক্রি হয়েছে। আশা করি করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে তিনি উৎপাদিত কচু বাজারজাত করতে পারবেন এবং লাভবান হবেন।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ফল

রামবুটান চাষে সম্ভাবনার দুয়ার খুলছে রাঙামাটিতে

বিদেশি ফল রামবুটান। মালয় ভাষায় এর অর্থ চুল। এ ফলের খোসার উপরিভাগে শত শত চুল দিয়ে আবৃত থাকায় দেখতে অনেকটা কদমফুলের মতো। কাঁচা অবস্থায় সবুজ। পাকলে উজ্জ্বল লাল, কমলা কিংবা হলুদ। দেখতে অনেকটা লিচুর মতো। তবে লিচুর চেয়ে আকারে বড়। ডিম্বাকৃতির, কিছুটা চ্যাপ্টাও। দেখতে যেমন আকর্ষণীয়, স্বাদেও তেমন মজাদার। রসালো এ ফলের গন্ধও অতুলনীয়। তাই এর নাম রামবুটান। সম্ভাবনাময় এই রামবুটান চাষ ছড়িয়ে পড়ছে রাঙামাটিতে। ফলনও হচ্ছে বাম্পার। চাহিদা বেশি, তাই ভালো দাম পাওয়ায় রামবুটান চাষে আগ্রহী পাহাড়ের অনেক কৃষক। রাঙামাটি রাঙাপানি এলাকার বাসিন্দা সময়ন চাকমা ২০০৭ সালে শখের বসে নিজ বাগানে লাগিয়েছিলেন রামবুটান চারা।

সেই চারা বড় হতে সময় লাগে প্রায় ৫ থেকে ৬ বছর। এরপর শুরু হয় ফলন আসা। প্রথমে তেমন ফলন না হলেও বছরের সঙ্গে বাড়তে থাকে উৎপাদন। চলতি বছর তার রামবুটান গাছে বাম্পার ফলন হওয়ায় চমক সৃষ্টি হয়েছে। বিদেশি এ ফল  চাষে এখন সফল তিনি। রামবুটান গাছে সাড়ে পাঁচ থেকে আট হাজার ফল পাওয়া যাচ্ছে। চাহিদা অনেক থাকায় ফল বিক্রি হচ্ছে ব্যাপক। শুধু তাই নয়, তিনি রামবুটানের চাষ ছড়িয়ে দিয়েছেন পাহাড়ের অন্যান্য চাষিদের মধ্যেও। গাছের চারা বিক্রি করে এরই মধ্যে আয় করেছেন লাখ টাকা। সময়ন চাকমা জানান, তার রামবুটান চারা পাহাড়ে এখন সবখানে ছড়িয়ে পড়েছে। শুধু পার্বত্য জেলা রাঙামাটি নয়, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানের চাষিরা সংগ্রহ করেছে রামবুটান চারা। চলতি বছর প্রতি পিস ৯০ থেকে ১২০ টাকা করে প্রায় লাখ টাকার চারা গাছ বিক্রি করেছেন। পাহাড়ি মাটিতে রামবুটান চাষের ফলন বেশি হওয়ায় চাষাবাদে আগ্রহ বাড়ছে অন্য চাষিদের মাঝেও। রামবুটান ফল কেজি প্রতি বিক্রি হচ্ছে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকায়। সাধারণত মার্চ মাসে রামবুটান গাছে ফুল ফোটা শুরু হয়। এপ্রিল মাসে সবুজ রঙের ফল ধরতে শুরু করে। ফুল ফোটার ৩-৪ মাস পর জুলাই-আগস্ট মাসে ফল পাকে। পুষ্ট হলে সবুজ রঙের ফল হঠাৎ করে লাল,  মেরুন রঙে রূপান্তর হতে থাকে। এ অবস্থা শুরু হওয়ার ১৫-২০ দিনের মধ্যে ফল সংগ্রহ করতে হয়। রামবুটান ফলনে রাঙামাটির আরেক সফল চাষি ডা. উদয় শেকর  দেওয়ান। কয়েক বছর আগে মালয়েশিয়া থেকে নিয়ে আসেন রামবুটান ফলের বীজ। পরীক্ষামূলকভাবে বাড়ির আঙিনায় বীজ রোপণ করলে এই বীজ থেকে গাছ বড় হতে তেমন সময় লাগেনি। বছরখানেকের মধ্যে শুরু হয় ফল উৎপাদন। সে গাছ থেকে বীজ উৎপাদন করে তিনিও রাঙামাটির রাঙাপানি এলাকায় বাগান করেছেন রামবুটানের। আশা করছেন আগামী বছরের মধ্যে বাণিজ্যিকভাবে আসতে পারে তার বাগানে রামবুটানের ফলন। বিদেশি এই ফলের গাছ দেখতে আগ্রহী কৃষকরা আসছেন তার বাগানে। চাষে খরচ কম হওয়ায় চারা সংগ্রহ করে অনেক কৃষক রামবুটান চাষ শুরু করছেন। রাঙামাটি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক পবন কুমার চাকমা বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে রামবুটান চাষের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এখনো এ জেলায় বাণিজ্যিকভাবে চাষ শুরু হয়নি। তাছাড়া সব ধরনের মাটিতে এ ফল চাষ করা যায়। তাই কৃষি কর্মকর্তার রামবুটান চাষ করার জন্য কৃষকদের উ™ভূত করতে কাজ করছে। আশা করি কয়েক বছরের মধ্যে পার্বত্যাঞ্চলে বাণিজ্যিকভাবে রামবুটান চাষ ব্যাপকতা লাভ করবে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com