আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

ফল

আমের শ্রেষ্ঠত্ব বিচার

প্রাচীন সংস্কৃত সাহিত্যে আমকে বলা হয়েছে শ্রীফল। এই উপমহাদেশের প্রাচীন কবি-সাহিত্যিক ও গুণীজনদের কাছে আম ফল হিসেবে শ্রেষ্ঠত্বের আসনে আসীন, যেখানে কোনো বিতর্ক নেই। কিন্তু সমস্যা ভিন্ন ক্ষেত্রে। আমের রয়েছে হাজারো জাত। আর উৎকৃষ্টতার বিচারে কোন জাতের আম শ্রেষ্ঠ, এটিই হচ্ছে প্রশ্ন।

তবে আম বিশেষজ্ঞ বা আমের সঙ্গে যাঁদের সরাসরি সংশ্লিষ্টতা, তাঁরা জানেন এই প্রশ্নের মীমাংসা অত্যন্ত দুরূহ। এর সমাধান সম্ভবত কোনো দিনই হবে না। এর প্রধান কারণ, সমগ্র বিশ্বে আম এমন একটি ফল, যার জাত রয়েছে অসংখ্য আর উৎকৃষ্টতা ও নানা গুণে গুণান্বিত জাতের সংখ্যারও শেষ নেই। স্বাভাবিকভাবে শ্রেষ্ঠত্বের বিচারে ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দের প্রশ্নটি কোনো কোনো ক্ষেত্রে মুখ্য বিষয় হিসেবে প্রাধান্য পেয়েছে।

বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তান ছাড়া পৃথিবীর অন্য দেশগুলোতে যে যে জাতের আম উৎপন্ন হচ্ছে, সন্দেহ নেই সেগুলো আকারে বেশ বড়। কোনোটির রং আকর্ষণীয় কিন্তু অধিকাংশই আঁশে ভরা। স্বাদ ও সুগন্ধের মধ্যেও অনেক ফারাক।

আম-সংস্কৃতি আমাদের জীবনের নানা কর্মকাণ্ডের মধ্যে মিশে একাকার হয়ে আছে। আমরা লক্ষ করি, আম উৎপাদনকারী দেশ বা নির্দিষ্ট কোনো অঞ্চলের মানুষদের নিজ নিজ এলাকায় উৎপাদিত উৎকৃষ্ট জাতের আম নিয়ে গর্ব আর অহংকারের শেষ নেই। এরূপ ভাবনা এসেছে আঞ্চলিকতা, জাতীয়তাবোধ এবং সর্বোপরি দেশাত্মবোধ থেকে। বাংলাদেশে এমন মানুষের সংখ্যা খুব কম নয়, যাঁরা বিশ্বাস করেন বাংলাদেশের ফজলি, ল্যাংড়া, ক্ষীরশাপাতি এগুলোই পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ আম।

আমের শ্রেষ্ঠত্ব বিচার

একসময় সমগ্র বাংলাদেশের মধ্যে রাজশাহী শহরের রায়পাড়া আমবাগানটি ছিল সার্বিকভাবে আয়তনে দীর্ঘ এবং উন্নতমানের আমগাছের সমাহারে সমৃদ্ধ। আসলে রায়পাড়া নামক মৌজায় কয়েকটি আমবাগান নিয়ে গঠিত বৃহৎ একটি আম্রকাননের নাম রায়পাড়া আমবাগান। এই বাগানে উৎপাদিত বিভিন্ন জাতের আম শহরের ব্যাপ্তি ছাড়িয়ে বাইরেও জনপ্রিয়তা লাভ করছে। আমের মৌসুমে রাজশাহী শহরের ঐতিহ্যবাহী সাহেব বাজারে এসে ভোক্তারা প্রথমেই রায়পাড়া বাগানের আম খোঁজ করেন।
বিজ্ঞাপন

নাটোর শহরের স্টেশন বাজার, নিচাবাজার তেবাড়িয়া হাট বা শহরসংলগ্ন দত্তপাড়া বাজার এবং ইদানীং গড়ে ওঠা মাদ্রাসা মোড় বাজারগুলোতে মৌসুমের শুরুতে যখন আম আসতে থাকবে, ভোক্তার দল প্রথমেই ‘কালুয়া’ নামের অতি সুস্বাদু একটি আমের সন্ধানে ব্যস্ত থাকবেন।

রাজশাহীর বাঘা, চারঘাট, পুঠিয়া অঞ্চলের লোকজনের বিশ্বাস, তাঁদের এলাকায় উৎপাদিত ফজলি আম শুধু বাংলাদেশ নয়, পৃথিবীতে সেরা। মিষ্টতা, স্বাদ এবং গন্ধে এখানকার অতুলনীয় ফজলি আমের সুনাম ব্রিটিশ আমল থেকেই। আর নওগাঁর বিশেষ কয়েকটি অঞ্চলে উৎপাদিত নাক ফজলি আম সম্পর্কে এদের আস্থার সীমা অত্যন্ত উচ্চপর্যায়ে।

উত্তর ভারতের বিশেষ করে উত্তর প্রদেশ, উত্তরাঞ্চল, বিহারের পশ্চিমাঞ্চলসহ মধ্যপ্রদেশের উত্তরাংশে বসবাসরত মানুষেরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন, তাঁদের অঞ্চলে উৎপাদিত দোসেহরী, চৌষা ও সামারবাহিশত শুধু ভারতে নয়, বিশ্বের উন্নত জাতের আমগুলোর মধ্যে শীর্ষস্থানে।

রংপুরের বদরগঞ্জ ও মিঠাপুকুর উপজেলায় প্রচুর পরিমাণে উৎপন্ন হচ্ছে হাঁড়িভাঙা আম। এ আম বৃহত্তর রংপুরসহ ঢাকা শহরেও পরিচিতি পেয়েছে। ঠাকুরগাঁও জেলার মানুষেরা তাঁদের অতি প্রিয় আম সূর্যপুরি নিয়েই আনন্দে বিভোর। দিনাজপুরবাসী তাঁদের জেলায় উৎপন্ন মিছরিভোগ আমকে সৃষ্টিকর্তার বিশেষ উপহার বলেই বিশ্বাস করেন। মেহেরপুর ও চুয়াডাঙ্গার মানুষ তাঁদের জেলায় উৎপাদিত বোম্বাই আমের সঙ্গে অন্য কোনো আমের তুলনা করতে নারাজ। একইভাবে সাতক্ষীরাবাসী তাঁদের অঞ্চলে উৎপাদিত ল্যাংড়া ও গোবিন্দভোগ আমের প্রশংসায় উচ্ছ্বসিত।

ভারতের অবস্থা আমাদের দেশের মতোই। দক্ষিণ ভারতীয়রা বিশেষ করে অন্ধ্র প্রদেশ, তামিলনাড়ু ও কর্ণাটকের লোকেরা এ কথা সহজভাবে স্বীকার করতে নারাজ যে সমগ্র ভারতে ‘আল্লামপুর বানেশান’ আমটির চেয়ে উৎকৃষ্ট কোনো আম রয়েছে। উত্তর ভারতের বিশেষ করে উত্তর প্রদেশ, উত্তরাঞ্চল, বিহারের পশ্চিমাঞ্চলসহ মধ্যপ্রদেশের উত্তরাংশে বসবাসরত মানুষেরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন, তাঁদের অঞ্চলে উৎপাদিত দোসেহরী, চৌষা ও সামারবাহিশত শুধু ভারতে নয়, বিশ্বের উন্নত জাতের আমগুলোর মধ্যে শীর্ষস্থানে।

পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ ও মালদহের লোকেরা মনে করেন, তাঁদের জেলায় উৎপন্ন যথাক্রমে শাদওয়ালা, কোহিতুর এবং ফজলি স্বাদে-গন্ধে উৎকৃষ্ট।

বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তান ছাড়া পৃথিবীর অন্য দেশগুলোতে যে যে জাতের আম উৎপন্ন হচ্ছে, সন্দেহ নেই সেগুলো আকারে বেশ বড়। কোনোটির রং আকর্ষণীয় কিন্তু অধিকাংশই আঁশে ভরা। স্বাদ ও সুগন্ধের মধ্যেও অনেক ফারাক।

আমের সৌরভ, স্বাদ, মিষ্টতা, রং, আঁশের পরিমাণ ইত্যাদি বিচার করে বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তানের শ্রেষ্ঠ আমের জাতগুলোর নাম নিচে দেওয়া হলো।

ল্যাংড়া (বেনারস), আলফনসো, চৌষা, সাদওয়ালা, ক্ষীরশাপাতি, হিমসাগর, আনোয়ার রাতাউল, বারি আম-৪, আম্রপালি, বোম্বে গ্রিন, গোপালভোগ, গৌড়মতি, সিন্ধুরি, হিমাউদ্দিন, রানিপছন্দ, বাগানপল্লি, জর্দালু, আজিজপছন্দ, আলফান, সুরমা ফজলি, বোম্বে ইয়েলো, গুলাবখাস, জাহাঙ্গীর, খাসুলখাস, কৃষ্ণভোগ, সফদারপছন্দ (বিড়া), বাদামি, লতা, মালগোভা, মোহাম্মদওয়ালা, মল্লিকা ও সুবর্ণরেখা।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন

অনুগ্রহ করে মন্তব্য করতে লগ ইন করুন লগ ইন

Leave a Reply

ফল

ড্রাগন চাষে স্বপ্ন পূরণ সফিউল্লাহর

চাঁদপুরে ড্রাগন চাষ করে সফলতার মুখ দেখেছেন সফিউল্লাহ হাওলাদার নামের এক কৃষক। মাত্র ৩০ শতাংশ জমিতে ড্রাগন চাষ করে মাসে আয় করছেন প্রায় ১০ হাজার টাকা। এ কারণে তিনি ড্রাগনের আবাদ আরো বাড়ানোর পরিকল্পনা করেছেন।

প্রায় দুই লাখ টাকা ব্যয় করে ৩০ শতাংশ জমিতে ২০১৯ সালে ড্রাগন আবাদ শুরু করেন চাঁদপুরের হাইমচর উপজেলার ভিঙ্গুলিয়া গ্রামের প্রবাসফেরত সফিউল্লাহ হাওলাদার। মাত্র আট মাসের মধ্যেই তিনি প্রথম ফলন পান।

এরপর থেকে প্রতি মাসে যে ফলন পাচ্ছেন তাতে লাভ হচ্ছে অন্তত ১০ হাজার টাকা। ড্রাগনের আবাদ আরো বাড়াতে চান তিনি।

ড্রাগন চাষি সফিউল্লাহ ৪০০ চারা দিয়ে শুরু করলেও বর্তমানে তার ড্রাগন গাছ ২ হাজার। বাংলাদেশে ২০০৭ সালে প্রথম থাইল্যান্ড, ফ্লোরিডা ও ভিয়েতনাম থেকে এ ফলের বিভিন্ন জাত আনা হয়। এর জাত তিনটি, বারি-১ এবং বারি-২, বারি-৩। একবার গাছ লাগালে প্রায় ২০ বছর এর ফল পাওয়া যায় বলে জানায় কৃষি বিভাগ।

অপরদিকে তার দেখাদেখি ড্রাগন চাষে অনেকেই উদ্বুদ্ধ হচ্ছে। প্রতিদিনই বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ এসে চাষ পদ্ধতি সম্পর্কে জেনে নিচ্ছেন।

সফিউল্লাহ হাওলাদার প্রবাসী হওয়ায় ড্রাগন বাগানের দেখাশোনা করেন তার স্ত্রী আয়েশা বেগম। তার হাত ধরেই ড্রাগন চাষে এতটা সফলতার মুখ দেখেছেন সফিউল্লাহ হাওলাদার। চাষের বিষয়ে আয়েশা বেগম বলেন, ড্রাগন বাগান তৈরি করতে আমার বেশকিছু রেডি ফিলার এবং চারাগাছের প্রয়োজন হয়। যাতে মোট এক লাখ টাকার মতো খরচ হয়েছিল। এখন আলহামদুলিল্লাহ অনেক ভালো আছি।

এই ফলের বাগানের আরেকটা দিক হলো ড্রাগন গাছ উপরে থাকায় এবং এর কোন পাতা না থাকায় নিচের অংশে অন্যান্য সবজির চাষও করা যায়, যা অত্যন্ত লাভজনক। আমার এই বাগান বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

কৃষি বিভাগের দেয়া তথ্য মতে, ভিটামিন সি সমৃদ্ধ ড্রাগন ফল মরণব্যাধি ক্যান্সারসহ বিভিন্ন রোগের প্রতিশোধক হিসেবে কাজ করে। এ বিষয়টি নিয়ে খুব গুরুত্বসহকারে কাজ করা হচ্ছে।

এ বিষয়ে হাইমচর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা দেবব্রত সরদার জানান, চাঁদপুরের একমাত্র ড্রাগন চাষি হিসেবে কৃষক সফিউল্লাহকে সার্বিক সহযোগিতা, পরামর্শ ও টেকনিক্যাল সাপোর্ট দেয়া হচ্ছে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

পরিবেশ

যেসব ঔষধি গাছ রোগ সারাবে

প্রাচীন আমল থেকে উপমহাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে নানান রকমের ঔষধি গাছ দিয়ে চিকিৎসা করা হত। এখনও হচ্ছে। এসব ও গাছের অধিকাংশই আমাদের আশপাশে অযত্নে, অবহেলায় জন্মে। অনেক গাছ আবার সংরক্ষণের অভাবে হারিয়েও যাচ্ছে। বিশেষ করে আয়ুর্বেদিক ও ইউনানি ওষুধের ক্ষেত্রে এসব গাছের ব্যাপক ব্যবহার রয়েছে।

সজনে: উচ্চ রক্তচাপ ও লিভারের সমস্যায় সাজনার পাতা ও ফল ব্যবহার হয়। সজনে খেলে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে থাকে। কাঁচা রসুনের সঙ্গে সজনে গাছের পাতা একসাথে মিলিয়ে খেলে বাতের ব্যথা উপশম হয়। এছাড়া এই গাছের পাতা ও ফল অনেক পুষ্টিকর বলে গবেষণায় দেখা গেছে। রুচি বৃদ্ধি ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে।

মেন্দা: দেশের অঞ্চলভেদে চাপাইত্তা, কারজুকি, রতন, খারাজুরা নামেও পরিচিতি রয়েছে এই গাছটির। গ্রামাঞ্চলে এখনো পেটের পীড়া, রক্ত-আমাশা হলে পাতা বেটে পানিতে মিশিয়ে দুইবেলা খাওয়া হয়। গবেষণায় দেখা গেছে, ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে কার্যকর ভূমিকা রাখে। এই গাছের বাকল ও পাতা উভয়ই ব্যবহার করা হয়। একসময় হাড় ভেঙ্গে গেলে ছালের মিশ্রণ স্থানীয়ভাবে প্লাস্টারিংয়ে ব্যবহার করা হতো। অনেক সময় বুকের ব্যথার জন্য মালিশ করা হয়।

ভাট ফুল: কৃমিনাশক এবং ডায়রিয়ার জন্য কাজ করে। কাঁচা হলুদের সঙ্গে পাতার রস মিশিয়ে খাওয়ানো হয়। যাদের চর্ম রোগ রয়েছে, তারা এই ফুলের রস মালিশ করে উপকার পেয়েছেন।

নিম: ডায়াবেটিসের রোগীরা অনেকে নিমের পাতা শুকিয়ে ছোট ছোট ট্যাবলেট বানিয়ে সকাল বিকেল খেয়ে থাকেন। এছাড়া বহুকাল থেকে চিকেন পক্স, চামড়ার অ্যালার্জির মতো সমস্যায় নিমের পাতা গরম পানিতে মিশিয়ে ব্যবহার করা হয়ে থাকে। পোকা মাকড়ের কামড়ের ক্ষত হলে, সেখানে নিম আর হলুদের রস একসাথে মিশিয়ে লাগানো হয়। দাঁতের ব্যথার জন্য নিমের ডালের রস ব্যবহার করা হয়।

তুলসী: বিশেষ করে গ্রামের অনেক বাড়িতেই দেখা যায় তুলসী গাছ। সর্দিজনিত রোগে এই গাছটির পাতা খাওয়া হয়। অনেকে চায়ের সঙ্গেও ভিজিয়ে খান। বলা হয়ে থাকে, তুলসী পাতা ভেজে ঘি দিয়ে নিয়মিত খেলে মস্তিষ্কের ক্ষমতা বাড়াতে কাজ করে।

চিরতা: এটি অনেক স্থানে কালমেঘ নামেও পরিচিত। ডায়াবেটিস রোগীরা খেয়ে থাকেন। পাতাগুলো গুড়ো করে পানির সঙ্গে মিশিয়ে প্রতিদিন সকালে খালি পেটে অনেকে খান। পেট খারাপ, ডায়রিয়া, জ্বর ও বাত ব্যথার ক্ষেত্রে সারারাত পানিতে ভিজিয়ে খাওয়া হয়।

পাথরকুচি: গ্রামে একটা প্রচলিত ধারণা আছে, পাথরকুচি কিডনির পাথর ভাঙ্গতে সহায়তা করে, যদিও এর বৈজ্ঞানিক ভিত্তি পাওয়া যায়নি। তবে ব্যবহারকারীরা গবেষকদের কাছে বলেছেন, জ্বর ও পেট ফাঁপার মতো সমস্যায় পাথরকুচির পাতা বেটে খেয়ে তারা উপকার পেয়েছেন। চামড়ার অ্যালার্জির জন্যও এটি বেটে ব্যবহার করা হয়। ঠাণ্ডাজনিত সমস্যায় পাথরকুচির পাতার রস ব্যবহার করা হয়।

কালোকেশী: প্রাচীনকাল থেকেই চুলের যত্নে এই গুল্মজাতীয় গাছটি ব্যবহার করা হচ্ছে। এটি চুল পড়া বন্ধ করতে সহায়তা করে বলে বিশ্বাস করা হয়। ড. তাহমিনা হক বলছেন, গবেষণার সময় অনেকে বলেছেন, মেয়েদের মাসিকের সমস্যায় অনেকে পাতার রস খেয়ে থাকেন। বৈজ্ঞানিকভাবে এটা ছত্রাকরোধী বা অ্যান্টিফাঙ্গাল হিসাবে প্রমাণিত হয়।

বাসক: ঠান্ডার জন্য, ফুসফুসের নানা সমস্যায় বাসক পাতার রস ফুটিয়ে সেই রস বা পানি খাওয়ানো হয়। শ্বাসনালীর সমস্যায় লালাগ্রন্থিকে বাসকের রস সক্রিয় করে বলে বৈজ্ঞানিক পরীক্ষায় দেখা গেছে। তবে অধিক মাত্রায় খেলে বমি ভাব হতে পারে।

অর্জুন: এই গাছের মূল, ছাল, কাণ্ড, পাতা, ফল ও ফুল ওষধি হিসাবে ব্যবহার করা হয়ে থাকে। হৃদরোগ, বুকে ব্যথার জন্য অর্জুনের ছাল গুড়ো করে খেয়ে থাকে। অর্জুনের গুড়ো বাসক পাতার সঙ্গে মিশিয়ে খেলে যৌন ক্ষমতা বৃদ্ধি করে বলে মনে করা হয়। মচকে গেলে বা হাড়ে চিড় ধরলে রসুনের সঙ্গে মিশিয়ে অর্জুনের ছাল বেটে লাগালে উপকার পাওয়া যায়।

জবা: পেট খারাপের জন্য জবা গাছের পাতা ও ফুল গরম ভাতের সঙ্গে মিশিয়ে খাওয়া হয়। জন্ডিসের জন্য পাতার জুস খাওয়া হয়। ফুলের রস নারীরা মাসিক ও স্রাবজনিত সমস্যার জন্য খেয়ে থাকেন।

লজ্জাবতী: অনেকে একে লাজুক লতা বা অঞ্জলিকারিকাও বলে থাকেন। এই গাছের শেকড় বেটে গুড়ো করে ডায়রিয়ার জন্য খাওয়া হয়ে থাকে। পাতা ঘা-পাঁচড়া নিরাময়ের জন্য ব্যবহার করা হয়। গাছের পাতা ও ফুল বেটে শরীরের ক্ষতের স্থানে ব্যবহার করা হয়। বাতজ্বর বা হাড়ের ব্যথায়ও এই গাছটি বেটে দিলে উপকার পাওয়া যায়। এছাড়া আমাশয়, হাত-পায় জলুনির জন্য অনেকে লজ্জাবতী গাছের মিশ্রণ ব্যবহার করেন।

দুর্বা ঘাস: মাঠে, ঘাটে, রাস্তার এই ঘাস অবাধে জন্মালেও অনেকেরই এর ওষধি গুণের কথা জানা নেই। রক্তক্ষরণ, আঘাতজনিত কেটে যাওয়া, চর্ম রোগে এই ঘাসের রস অনেক উপকারী। কোথাও কেটে গেলে এই পাতার রস লাগালে রক্তপাত তাৎক্ষণিক বন্ধ হয়ে যায়। এতে অনেক অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে বলে গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে।

ধুতুরা: এটা অনেকে অ্যাজমার জন্য ব্যবহার করতেন। পাতা শুকিয়ে গুড়ো করে ধোয়া তৈরি করে সেটা শোকা হতো।

থানকুনি: এটি সম্ভবত বাংলাদেশে বহুল প্রচলিত একটি ওষধি উদ্ভিদ। খুবই সাধারণ যেকোনো পেটের ওষুধের জন্য থানকুনি পাতা কার্যকরী। এটা পাতা বেটে রস বা ভর্তা করে খাওয়া হয়। এই পাতা হজম শক্তি বাড়ায়, কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি করে, চুল পড়া কমায়, ক্ষত নিরাময়ে সহায়তা করে এবং ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়ায়।

স্বর্ণলতা: জন্ডিস নিরাময়, তলপেটের ব্যথা কমানো, ও ক্ষত উপশমে এই লতা কাজ করে বলে গবেষণায় দেখা গেছে। লতা সেদ্ধ করে পানি খাওয়া হয়। এই লতার পানি পিত্তনাশক ও কৃমি দমনে সহায়তা করে। ব্যাকটেরিয়া দমনেও এটি সহায়ক। তবে এই পাতার রস অনেক সময় গর্ভপাত, বা প্রজনন ক্ষমতা কমিয়ে দেয় বলেও

শতমূলী: শতমূলী উচ্চমানের ফলিক এসিড ও পটাশিয়ামের প্রাকৃতিক উৎস। এতে ফাইবার, ভিটামিন এ ও ভিটামিন বি রয়েছে। এটি বন্ধ্যাত্ব নিরাময় ও শক্তিবর্ধক হিসাবে কাজ করে। সেই সঙ্গে উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণেও সহায়তা করে।

বিলিম্বি: কামরাঙ্গা গোত্রের একটি ফল হলেও এটি আলাদা ধরণের একটি ফল। এই ফল ডায়াবেটিক নিয়ন্ত্রণে প্রমাণিত। গবেষণায় দেখা গেছে, এর ভেতরে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট আছে। চুলকানি নিরাময়, মাম্পস, চামড়া ফাটা, যৌনরোগ চিকিৎসায় অনেক আয়ুর্বেদিক চিকিৎসক এই গাছের ফল ও পাতা খাওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকেন। তবে যাদের কিডনির রোগ রয়েছে, তাদের জন্য এই ফল বা পাতা ক্ষতিকর।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ফল

পাহাড়ের রসালো আনারস

খাগড়াছড়ি: গেলো বছরের তুলনায় এবার খাগড়াছড়িতে আনারসের বাম্পার ফলন হয়েছে। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে যাচ্ছে সুস্বাদু পাহাড়ি এই আনারস। আবহাওয়া ভালো থাকায় এবার আনারসের ফলন ও লাভ ভালো হওয়ায় খুশি কৃষকরা।

প্রতিদিন খাগড়াছড়ি বাজার, মাটিরাঙা, গুইমারা, মানিকছড়ির গাড়িটানাসহ জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে পাইকারি আনারস বিক্রি করা হচ্ছে। এসব আনারস চট্টগ্রাম, ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

এছাড়াও জেলা উপজেলার বাজারগুলোতে হাতের নাগালেই পাওয়া যাচ্ছে রসালো আনারস। সবচেয়ে বেশি আনারসের চাষ হয়েছে রাঙামাটির নানিয়ারচর উপজেলা এবং খাগড়াছড়ির মহালছড়ি ও মানিকছড়ি উপজেলায়। বাজারে বড়-ছোট অনুপাতে একটি আনারস বিক্রি হচ্ছে ১০ থেকে ১৫ টাকায়।

খাগড়াছড়ির মহালছড়ি এলাকার আনারস চাষি মুকুল চাকমা বাংলানিউজকে বলেন, ‘এবার দুই একর জমিতে ৫০ হাজার আনারাসের চারা লাগিয়েছি। ফলনও হয়েছে ভালো। ক্ষেত থেকেই সব আনারস পাইকারি দামে বিক্রি করে দিয়েছি। সামনের বছর আরও বড় পরিসরে আনারসের চাষ করবেন বলেও জানান তিনি।

মহালছড়ির লেমুছড়ি এলাকার চাষি জহিরুল ইসলাম বাংলানিউজকে বলেন, গতবছর দুই কানি জমিতে ২০ হাজার আনারসের চারা লাগিয়েছি। তখন ৭০ হাজার টাকা লাভ হয়েছিল। তবে এবার লাভের পরিমাণ দ্বিগুণ। ’জেলা কৃষি বিভাগ বলছে, গতবার খাগড়াছড়িতে ১ হাজার ৬৫ হেক্টর জমিতে আনারস আবাদ হয়। যেখান থেকে উৎপাদন হয় ১৮ হাজার ৯শ ৮ মেট্রিক টন আনারস। আর এবার আনারসের উৎপাদন তার চেয়ে বেশি হবে।

খাগড়াছড়ি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ পরিচালক সফর উদ্দিন বাংলানিউজকে বলেন, এমনিতে পাহাড়ের মাটি খুব উর্বর। তবে আবহাওয়ার পরিবর্তনের কারণে কখনও ফলন ভালো হয় কখনও খারাপ। তবে চলতি বছর আবহাওয়া ভালো থাকায় ফলনও ভালো হয়েছে

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ফল

পাহাড়ে ইক্ষু চাষই হতে পারে তামাকের বিকল্প

রাঙামাটি: তামাকের ক্ষতিক্ষারক দিক তুলে ধরে কৃষকদের সচেতনতা বৃদ্ধি করে রাঙামাটির পাহাড়গুলোতে এর আগ্রাসন রুখে দিতে কয়েকবছর ধরে কাজ করছে বাংলাদেশ সুগারক্রপ গবেষণা ইনস্টিটিউট।

তুলনামূলকভাবে ইক্ষু চাষ বেশি লাভজনক, পাশাপাশি অধিক আয় এবং সাথী ফসলও ফলানো যায় উল্লেখ করে রাঙামাটিতে তামাক চাষ দূর করতে প্রচারণা চালাচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। তারা বিভিন্ন সময় সভা-সেমিনার করেও তামাকের ক্ষতিক্ষারক দিক এবং ইক্ষুর লাভজনক দিকটি তুলে ধরছে কৃষকদের মাঝে।

এ কয়েক বছরে প্রতিষ্ঠানটি সফলতার মুখও দেখতে পেয়েছে। তাদের গবেষণায়- পাহাড়ে ইক্ষু চাষই হতে পারে পরিবেশ নষ্টকারী তামাক চাষের বিকল্প হিসেবে।

সুগারক্রপ গবেষণা ইনস্টিটিউট রাঙামাটি শাখা সূত্রে জানা গেছে, সরকারের এ সংস্থাটি ২০১২ সাল থেকে তিন পার্বত্য জেলায় কাজ শুরু করে। তামাক চাষকে নিরুৎসাহিত এবং এর ক্ষতিক্ষারক দিক তুলে ধরে  পাহাড়ের জমিতে ইক্ষু চাষে স্থানীয় কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করছে সংস্থটি। যার প্রতিফলন হিসেবে চলতি বছরে রাঙামাটির সদর ও কাউখালী উপজেলায় ২৫০ হেক্টর পাহাড়ি জমিতে স্থানীয় কৃষকরা ইক্ষু চাষ করেছেন। এছাড়া এসব জমিতে কৃষকরা ইক্ষুর সঙ্গে সাথী ফসল হিসেবে চাষ করেছেন মিষ্টি আলু, গাজরসহ ১৭ জাতের সবজি।

কাউখালী উপজেলার বগাপাড়া গ্রামের কৃষাণী সবিতা চাকমা বাংলানিউজকে বলেন, আমার পাঁচ একর জমিতে আগে তামাক চাষ করতাম। ইক্ষু গবেষণা ইনস্টিটিউটের কর্মকর্তাদের সহযোগিতায় এ বছর থেকে তামাকের পরিবর্তে ইক্ষু চাষ এবং সাথী ফলন হিসেবে মিষ্টি আলু চাষ করেছি। ইক্ষু এবং মিষ্টি আলু বিক্রি করে তামাকের চেয়ে বেশি লাভ হবে বলে আমার আশা।

ওই উপজেলার সাক্রাছড়ি এলাকার কৃষক পরিতোষ কার্বারী বাংলানিউজকে বলেন, এ বছর ইক্ষু চাষের দুই সারির মধ্যবর্তী জমিতে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে মিষ্টি আলুর চাষ করে বেশি লাভবান হচ্ছেন কৃষকরা। বর্তমানে আমার জমিতে উৎপাদিত মিষ্টি আলুর বিক্রি শুরু করেছি।

সুগারক্রপ গবেষণা ইনস্টিটিউট রাঙামাটির শাখার বৈজ্ঞানিক সহকারী কর্মকর্তা নিকসন চাকমা বাংলানিউজকে বলেন, রাঙামাটি সদর ও কাউখালী উপজেলায় ১৮ জাতের ইক্ষু চাষ করা হচ্ছে। এর মধ্যে আইএসডি (ঈশ্বরদী) -২৬, আইএসডি (ঈশ্বরদী) -২৪, আইএসডি (ঈশ্বরদী) -৩৮, আইএসডি (ঈশ্বরদী) -৪০, বিএসআরআই-৪১ অমৃত (চুষে খাওয়া ও গুড় তৈরির জাত), বিএসআরআই-৪২ রংবিলাস (চুষে খাওয়ার জাত, যা পার্বত্য এলাকার জন্য খুবই উপযোগী), বিএসআরআই-৪৩, বিএসআরআই-৪৪, বিএসআরআই-৬৯ (অস্ট্রেরিয়া), ভিএমসি-৮৬-৫৫০ (ফিলিপাইন)।

সুগারক্রপ গবেষণা ইনস্টিটিউট রাঙামাটি শাখার ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ধনেশ্বর তঞ্চাঙ্গ্যা বাংলানিউজকে বলেন, পাহাড়ে রয়েছে ইক্ষু চাষের ব্যাপক সম্ভাবনা। পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও কৃষি গবেষণা ফাউন্ডেশনের যৌথ অর্থায়নে দুটি প্রকল্পের মধ্যে একটি সম্প্রসারণমূলক ও দ্বিতীয়টি গবেষণামূলক কার্যক্রম। এর মধ্যে রাঙামাটি সদর, কাউখালী, নানিয়ারচর, বাঘাইছড়ি, জুরাছড়ি, ও কাপ্তাই উপজেলায় ইক্ষুর চাষ সম্প্রসারণ প্রকল্প বাস্তবায়নে কাজ করা হচ্ছে।

তিনি আরো বলেন, তামাকের চেয়ে ইক্ষু চাষে লাভ বেশি এবং পরিবেশ বান্ধব হওয়ায় জমির উর্বরতাও ঠিক থাকে। তাই ইক্ষু চাষ জনপ্রিয় হয়ে উঠায় পাহাড়ে তামাক চাষের আগ্রাসন কমতে শুরু করেছে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ফল

শিবচরে পতিত জমিতে জনপ্রিয় হচ্ছে কলা চাষ

মাদারীপুর: মাদারীপুর জেলার শিবচর উপজেলার চরাঞ্চলসহ নদীবেষ্টিত বিভিন্ন এলাকার পতিত জমিতে ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে কলা চাষ। 

অন্যান্য ফসলের চেয়ে বেশ লাভবান হওয়ায় দিন দিন বাড়ছে কলা চাষির সংখ্যাও।  

শিবচর উপজেলার পদ্মার চরাঞ্চল, পদ্মাসেতুর অ্যাপ্রোচ সড়কের পাশের জমিসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, চাষযোগ্য জমির পাশাপাশি পতিত জমিতে করা হয়েছে অসংখ্য কলার বাগান।

আর কলা চাষে সফলতার মুখ দেখেছেন চাষিরা। ফলে অন্যের জমি বর্গা নিয়েও অনেকে কলা বাগান করছেন। আবার অনেকে পরীক্ষামূলকভাবে বাড়ির পাশের পতিত জমিতেও বাগান করছেন কলার।

যেখানে অন্যান্য ফসল করে লাভবান হতে পারছে না স্থানীয় চাষিরা, সেখানে কলা চাষে সফল হচ্ছেন। ফলে দিন দিন বাড়ছে কলার বাগানের সংখ্যা। এতে সম্পৃক্ত হচ্ছেন নতুন নতুন চাষি। একরের পর একর কলার বাগান করে বছর শেষে মোটা অংকের টাকা উপার্জন করতে পারায় স্থানীয় অনেক যুবকেরা পেশাও বদলাচ্ছেন। অন্য পেশা ছেড়ে আসছেন কলা চাষে।

শিবচর উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, বিস্তৃত জমিতে কলার বাগান। পরিচর্যায় ব্যস্ত বাগানের মালিক-কর্মচারীরা।

পদ্মানদী বেষ্টিত মাদারীপুরের মাদবরেরচর ইউনিয়ন। এ ইউনিয়নের পতিত জমির বেশির ভাগেই বালু মাটির আস্তরণ। অন্যান্য ফসল যেখানে তেমন ভালো হচ্ছে না, সেখানে কলা বাগান করে আর্থিক স্বচ্ছলতা এনেছেন অনেকেই। এ ইউনিয়নের মোল্যাকান্দি এলাকার কয়েকজন কলা চাষি জানান, অন্যান্য ফসল উৎপাদনের চেয়ে কলা চাষে খরচ কম, লাভও বেশি। এ এলাকার যেসব জমিতে আগে ধান চাষ হতো, এখন সেখানে করা হচ্ছে কলা বাগান।

ভালো লাভ হওয়ায় ওই এলাকার এক চাষি অন্যের জমি বছর চুক্তিতে ভাড়া নিয়ে প্রায় ৪৫ বিঘা জমিতে কলা বাগান করেছেন।

স্থানীয় চাষি বারেক মোল্লা ও আক্কাস মোল্লা জানান, তারা বিগত চার বছর ধরে কলা চাষ করছেন। এর আগে ভালো লাভ হয়েছে। এজন্য এ বছর নিজের এক বিঘা জমির পুরোটাতেই কলা বাগান করেছেন। কয়েক মাস  পর তার বাগানের কলা বিক্রির উপযোগী হবে।

তারা জানান, আগের মৌসুমে কলা বিক্রি করে প্রায় দুই লাখ টাকা লাভ হয়েছিল। সব মিলিয়ে অন্যান্য ফসলের চেয়ে লাভের অংক একটু বেশি হওয়ায় কলা চাষ জনপ্রিয়তা অর্জন করছে।

ওই এলাকার আরো এক কলা চাষি মো. ওমর ফারুক জানান, চলতি মৌসুমে ৪৫ বিঘা জমিতে তিনি কলা বাগান করেছেন। আট থেকে ১০ জন কর্মচারী তার বাগানে কাজ করেন। তিনিও নিয়মিত বাগান পরিচর্যা করে আসছেন। কলা চাষে সফল হওয়ায় এটাই এখন একমাত্র পেশা তার।

জানা গেছে, পদ্মাবেষ্টিত মাদবরেরচর ইউনিয়নের চরাঞ্চলে ব্যক্তিগত জমি ছাড়াও অন্যের জমি ভাড়া নিয়ে স্থানীয় অসংখ্য যুবক কলা চাষ করছেন। বিঘা প্রতি বছরে ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা চুক্তিতে জমি ভাড়া নিয়ে থাকেন তারা। বিঘা প্রতি কলা চাষে কমপক্ষে ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকা খরচ হয়। প্রতি বিঘা জমিতে প্রায় চারশ’ কলা গাছ লাগানো হয়। মৌসুম শেষে প্রতি বিঘা বাগান থেকে কমপক্ষে দেড় থেকে দুই লাখ টাকার কলা বিক্রি করা যায়। তবে প্রাকৃতিক দুর্যোগে বাগানের ক্ষতি হলে লাভের পরিমাণ কিছুটা হেরফের হয়। 

প্রতি বছর ফেব্রুয়ারি ও মার্চ মাসের দিকে জমিতে কলা গাছ লাগানো হয়। পরবর্তী বছর এ সময়ে কলা বিক্রির উপযোগী হয়। উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজার উৎপাদিত কলার অন্যতম বিক্রির স্থান। দেশীয় হওয়ায় ক্রেতাদের কাছে গ্রহণযোগ্যতাও বেশি। বাজারের দোকানিরা ভালো দামে বিক্রি করতে পারে এসব কলা।

শিবচর উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, গত বছর উপজেলার প্রায় দুইশ’ হেক্টর জমিতে কলা চাষ করা হয়েছে। এসব জমিতে সবরী ও মেহেরসাগর কলা উৎপাদন করা হচ্ছে।

উপজেলা সহকারী কৃষি কর্মকর্তা এসএম সালাহউদ্দিন জানিয়েছেন, শিবচর উপজেলায় দিন দিন কলাচাষে আগ্রহীদের সংখ্যা বাড়ছে। খরচের তুলনায় লাভ বেশি হওয়ায় চাষিরা অন্যান্য ফসল বাদ দিয়ে কলা চাষ করছেন। বিগত বছরগুলোতে ধান, পাট বা বিভিন্ন রবিশস্য চাষে অনাগ্রহীরাই মূলত কলা চাষে ঝুঁকেছেন। কলা চাষে কৃষি কর্মকতারা চাষিদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও দিকনির্দেশনা দিয়ে থাকেন।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com