আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

লাইভস্টক

আমেরিকার ‘আমিষ’ খাওয়া গরুর দুধ নিয়ে আপত্তি ভারতে আরএসএস-এর শাখার

 ভারতে এক লক্ষ স্থানীয় দুগ্ধ সমবায় আছে
ভারতে এক লক্ষ স্থানীয় দুগ্ধ সমবায় আছে

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ভারত সফরের ঠিক আগে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ভারতে দুগ্ধজাত পণ্য আমদানি করার ব্যাপারে ভারত সরকারকে সতর্ক করে দিয়েছে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ বা আরএসএসের শাখা স্বদেশী জাগরণ মঞ্চ।

মি. ট্রাম্পের এই সফরে ভারত-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বড়সড় কোনও বাণিজ্য চুক্তির সম্ভাবনা না থাকলেও যুক্তরাষ্ট্র যেসব পণ্যের জন্য ভারতের বাজার ধরতে আগ্রহী, তার মধ্যে আছে দুগ্ধজাত পণ্যও।

স্বদেশী জাগরণ মঞ্চ বলছে যুক্তরাষ্ট্রের গবাদি পশুদের আমিষ খাদ্য দেওয়া হয়।

তাই সেই দুধ ভারতে এলে নিরামিষাশীরা তা খাবেন না এবং পূজাতেও তা ব্যবহার করা যাবে না।

যদিও আমিষ খাদ্য খেলে সেই দুধের মান কোনোভাবে বদলে যায় না বলছেন পশুখাদ্য বিশেষজ্ঞরা।

আপত্তি কোথায়?

স্বদেশী জাগরণ মঞ্চ দীর্ঘদিন ধরেই বিদেশী পণ্য আমদানির বদলে দেশীয় পণ্য উৎপাদনকে উৎসাহ দেওয়ার কথা বলে আসছে।

 ভারতে দুগ্ধজাত পণ্য উৎপাদন ও বিপণনের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত এক কোটি মানুষ
ভারতে দুগ্ধজাত পণ্য উৎপাদন ও বিপণনের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত এক কোটি মানুষ

সংগঠনটির জাতীয় সমন্বয়ক অশ্বিনী মহাজন বিবিসি বাংলাকে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র থেকে দুগ্ধজাত পণ্য আমদানি শুরু হলে ভারতে যে কোটি কোটি মানুষ গবাদি পশু পালন করেন আর দুধের ব্যবসায় জড়িত, তারা কী করবেন!

“এরা তো যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানগুলোর মতো বড় কর্পোরেট সংস্থা নয়, ছোট ব্যবসায়ী বা কৃষক। তাদের স্বার্থহানি ঘটবে, সেটা সরকারকে জানানো হয়েছে।”

মি. মহাজন বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রে দুধের আরেকটা সমস্যা আছে, ওখানে মাংস আর রক্তের উপাদান দিয়ে তৈরি পশুখাদ্য খাওয়ানো হয় গরুদের। সেই দুধ যদি ভারতে আসে, তাহলে যে বহুসংখ্যক মানুষ নিরামিষাশী, তারা সেই দুধ খেতে অস্বস্তি বোধ করবেন – তাদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত লাগবে। আবার পূজাতেও দুধ ব্যবহার হয় – সেটাও করা যাবে না।”

ভারতে পশুখাদ্যে মাংসজাত খাদ্য খাওয়ানো আইনত নিষিদ্ধ।

পশুখাদ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন দেশীয় বা শঙ্কর প্রজাতির গরুরা ভারতে যে পরিমাণ দুধ দেয়, তাতে মাংসের উপাদান থেকে তৈরি পশুখাদ্য দেওয়ার প্রয়োজন হয় না।

বৈজ্ঞানিক ভিত্তি কী?

গরুকে যে খাদ্যই দেওয়া হোক, দুধ আমিষ বা নিরামিষ – এই তত্ত্বের কোনও বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই বলেই মনে করেন পশ্চিমবঙ্গ প্রাণী ও মৎসবিজ্ঞান বিশ্ববিদ্যালয়ের পশুখাদ্য বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ও অধ্যাপক বরুণ রায়।

তিনি বলেন, “দেশীয় যেসব গরু দৈনিক ৫-১০ লিটার দুধ দেয়, তাদের এমনি ঘাসেই পুষ্টি হয়ে যায়। আর যেসব গরু কিছুটা বেশী দুধ দেয়, আর শঙ্কর প্রজাতির গরু, তাদের খাদ্যে ঘাসের সঙ্গে আর কিছু পুষ্টিকর উপাদান মেশাতে হয়। আমাদের দেশের গরুর এর থেকে বেশী দুধ সংরক্ষণ করা সম্ভবও নয়।”

“কিন্তু দৈনিক ৫০-৬০ এমনটি ৮০ বা ১০০ লিটারও দুধ দেবে, এমন গরুকে সেরকম পুষ্টিও দিতে হবে। তবে খাদ্যের পরিমাণ তো নির্দিষ্ট। তাই খাদ্যের মধ্যে পুষ্টিকর উপাদান মেশাতে হয়। বিদেশে, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রে ছাঁট মাংস থেকে প্রক্রিয়াজাত উপাদান খাওয়ানো হয়।”

বরুণ রায় বলেন, খাদ্য যাই দেওয়া হোক, তাতে দুধের মানের পরিবর্তন হয় না। দুধটা দুধই থাকে।

“এখন যদি কেউ মনে করেন আমিষ খাদ্য খেয়েছে বলে সেই গরুর দুধ আমিষ হয়ে গেছে – এটা তো কাউকে যুক্তি দিয়ে বোঝানো যায় না! তার নিজের বিশ্বাসের ব্যাপার সেটা।”

অর্থনীতির বিশেষজ্ঞরাও বলছেন যেকোনো ক্ষেত্রেই আমদানি বন্ধ করলেই যে দেশের স্বার্থ রক্ষিত হবে, তা নয়।

ইন্ডিয়ান স্ট্যাটিস্টিক্যাল ইন্সটিটিউটের অর্থনীতির অধ্যাপক অভিরূপ সরকার মনে করেন, স্বদেশী জাগরণ মঞ্চ সবসময়েই মুক্ত বাণিজ্যের বিরুদ্ধে, এবং তাদের যুক্তি যে সেটা দেশীয় উৎপাদনকে ক্ষতি করবে।

“অর্থশাস্ত্র দিয়ে এর বিচার করলে এটা সম্পূর্ণ ভুল কথা। দুগ্ধজাত পণ্যের ক্ষেত্রে যারা দেশের উৎপাদনকারী, তারা গুণমান উন্নত করুন না – লোকে এমনিই কিনবে তাদের পণ্য। একটা শুল্কের দেয়াল কেন তুলে দেওয়া হবে!”

“এছাড়াও দুগ্ধজাত পণ্য আমদানির ব্যাপারে তারা আবার ধর্মবিশ্বাসকেও টেনে এনেছে! যুক্তরাষ্ট্রের গরু আমিষ খেল না কী খেল – সেসব প্রশ্ন তোলা হচ্ছে। আমার মতে এটা আরও আপত্তিকর,” বলছিলেন মি. সরকার।

ভারতে দুগ্ধজাত পণ্যের বাজার

ভারতে দুগ্ধজাত পণ্যের বাজার ২০১৯ সালে এক হাজার কোটি রুপি ছাড়িয়ে গেছে। এ খাতের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত এক কোটি মানুষ।

এছাড়াও প্রায় এক লক্ষ স্থানীয় দুগ্ধ সমবায় আছে, যারা আবার বড় সমবায় সমিতিগুলিকে দুধ বিক্রি করে।

২০১৯ সালে সারা বিশ্বে দুগ্ধজাত পণ্যের বাজার যেখানে বছরে প্রায় দুই শতাংশ হারে বেড়েছে , সেখানে ভারতে এই বাজার বেড়েছে প্রায় সাড়ে ছয় শতাংশ হারে।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন

অনুগ্রহ করে মন্তব্য করতে লগ ইন করুন লগ ইন

Leave a Reply

লাইভস্টক

৪০ দিনের বকনা বাছুর দৈনিক দুধ দিচ্ছে আধা লিটার

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে বিদেশি জাতের গাভির প্রজনন থেকে ভূমিষ্ঠ ৪০ দিন বয়সী একটি বকনা বাছুর দৈনিক আধা লিটার করে দুধ দিচ্ছে। ব্যতিক্রমী এ দৃশ্য দেখতে উৎসুক জনতা গরুর মালিকের বাড়িতে ভিড় করছেন।

উপজেলার সর্বানন্দ ইউনিয়নের কিশামত সর্বানন্দ গ্রামের আফছার আলীর বাড়িতে এ ঘটনা ঘটেছে।

রোববার (১০ অক্টোবর) বিকেলে খামারি আফছার আলীর বাড়িতে গিয়ে দেখা গেছে, আশপাশের গ্রাম থেকে আসা উৎসুক মানুষ ওই বাড়িতে ভিড় করেছেন। আফছার আলী দুধ দোহন করছেন।

গরুর মালিক আফছার আলী বলেন, তিনি প্রতিদিন একবেলা করে দুধ সংগ্রহ করেন। দুধ সংগ্রহ না করলে বাছুরটির ওলান ফুলে শক্ত হয়ে যায়। তিনি ১৫ দিন ধরে এভাবে দুধ সংগ্রহ করছেন।

আফছার আলী পেশায় একজন কৃষক। জমি চাষাবাদ ও গরু লালন-পালন করে সংসার চালান। পরিবারে স্ত্রী ছাড়াও তিন ছেলে ও চার মেয়ে রয়েছে। গত ২৫ সেপ্টেম্বর সকালে আফছার আলী বকনা বাছুরটির কাছে গিয়ে দেখতে পান বাছুরটির ওলান ফোলা। তখনই তিনি ধারণা করেন এর ওলানে দুধ জমেছে। পরে স্থানীয় পশু চিকিৎসককে নিয়ে এসে বিষয়টি নিশ্চিত হন।

তিনি তাৎক্ষণিকভাবে ওলান থেকে দুধ সংগ্রহ করেন। প্রথম দুইদিন এক পোয়া দুধ পান। এখন আধা লিটার, কখনো তিন পোয়া দুধ সংগ্রহ করেন। বিষয়টি শুনে অবাক হয়ে প্রতিবেশীসহ বিভিন্ন গ্রাম থেকে মানুষ তা দেখার জন্য বাড়িতে ভিড় করছেন।

ব্যতিক্রমী এ বাছুরটি দেখতে আসা গ্রামের বাসিন্দা স্থানীয় যুবক আব্দুল মালেক বলেন, আমি ছোটবেলা থেকেই গরু লালন-পালন করি। কখনো বাছুর ছাড়া এভাবে গরুকে দুধ দিতে দেখিনি।

বাছুর দেখতে আসা কলেজছাত্র সিহাব উদ্দিন বলেন, ৪০ দিনের বকনা বাছুর দুধ দেয়, লোকমুখে এমন খবর শুনেছি। এখন এসে দেখি ঘটনা সত্য। এমন ঘটনা জীবনে প্রথম দেখলাম।

সুন্দরগঞ্জ উপজেলা উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ফজলুল করিম বলেন, হরমোনের কারণে এমনটা হতে পারে। হরমোন যদি বেড়ে যায় তাহলে এরকম বকনা গরু থেকে দুধ আসতে পারে। এটা নিয়ে কৌতূহলের কিছু নেই। যদি এ দুধ স্বাস্থ্যসম্মত হয় তাহলে এটা যে কেউ খেতে পারেন।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

লাইভস্টক

জেনে নিন কবুতর পালনের সহজ উপায়

অনেকেই শখের বশে কবুতর পালন করেন। এছাড়া আমাদের দেশে এখন বাণিজ্যিকভাবেও কবুতর পালন করছেন কেউ কেউ। বিশেষ করে বেকারত্ব দূর করতে কবুতর পালন ব্যাপক ভূমিকা পালন করছে। কবুতর পালন করতে বেশি জায়গারও প্রয়োজন হয় না। অন্যদিকে কম খরচে অল্প সময়ে বাচ্চা পাওয়া যায়, বাজারে দামও বেশি। তাই খুব সহজেই কবুতর পালন করে আয় করা সম্ভব।

লাভজনক এই পাখি পালনের জন্য বাড়তি জ্ঞান ও শিক্ষার প্রয়োজনও হয় না। শুধু সামান্য নজরদারি আর সতর্ক হলেই কবুতর পালন করে বেকারত্ব দূর করা যায়। কবুতর প্রতি মাসে দুটি করে বাচ্চা দেয়। বাচ্চার বয়স ২১ দিন হলেই বিক্রির উপযোগী হয়। সবচেয়ে মজার ব্যাপার হলো অন্যান্য পাখির মতো কবুতর খাদ্যের অপচয় বেশি করে না। বরং বলা যায় অপচয়রোধী পাখি কবুতর।

কবুতরের বিভিন্ন জাত রয়েছে। বলা হয় পৃথিবীতে ৬০০ জাতের কবুতর রয়েছে। ‘জালালি কবুতর’ উন্নত জাতের দেশি কবুতর। এ ছাড়াও মাংস উৎপাদনের জন্য হোয়াইট কিং, টেক্সেনা, সিলভার কিং, হামকাচ্চা, কাউরা, হোমার, গোলা, ডাউকা, লক্ষ্যা ও পক্কা উল্লেখযাগ্য কবুতরের জাত।

আমাদের দেশে শখের বশে সিরাজী, ময়ুরপঙ্খী, লাহোরি, ফ্যানটেইল, জেকোভিন, মুখি, গিরিবাজ, টাম্পলার, লোটন প্রভৃতি কবুতর বেশি চাষ করা হয়। গিরিবাজ কবুতর উড়ন্ত অবস্থায় ডিগবাজি খেয়ে মানুষের নজরকাড়ে।

Pigeon-Farm

কবুতরের জন্য ঘর তৈরি পদ্ধতি আগে জেনে নিতে হবে। ক্ষতিকর প্রাণী ও পাখি যাতে কবুতরকে খেয়ে ফেলতে না পারে সে জন্য প্রয়োজন উঁচু ও শক্ত ঘর তৈরি করতে হবে। হালকা কাঠ, বাঁশ ও বাঁশের চাটাই, শন, পলিথিন, খড় ইত্যাদি সহজলভ্য উপকরণ দিয়ে কবুতরের ঘর বানানো যায় সহজেই।

প্রতি জোড়া (একটি পুরুষ ও একটি স্ত্রী) কবুতরের জন্য এক বর্গফুট করে ঘর হলেই চলে। একই সঙ্গে একই জায়গায় কবুতরের ঘর কয়েক তলা করা যেতে পারে। এতে খরচও বাঁচে। এক বর্গফুট মাপের ঘরের সামনে ৫ থেকে ৬ ইঞ্চির বারান্দা অবশ্যই রাখতে হবে, যাতে কবুতর সহজে দূর থেকে উড়ে এসে আশ্রয় নিতে পারে আবার খাবারও খেতে পারে। প্রতি ঘরের দরজা রাখতে হবে ৪ ইঞ্চি বাই ৪ ইঞ্চি।

ঘর সব সময় পরিষ্কার রাখতে হবে। প্রতি মাসে একবার করে ঘর পরিষ্কার করে দিতে হবে। ডিম পাড়ার সময় যাতে সহজেই খড় সংগ্রহ করতে পারে সে জন্য কবুতরের ঘরের আশপাশে খড় রেখে দিতে হয়। ঘর রাখতে হবে সবসময় শুকনো। কবুতর সাধারণত জোয়ার, ভুট্টা, ধান, চাল, কলাই, কাউন, মটর, খেসারি, সরিষা, গম কবুতরের পছন্দনীয় খাবার। এসব খাদ্য প্রতিদিন প্রত্যেকটি কবুতরের জন্য ৩৫ থেকে ৬০ গ্রাম খাদ্য প্রয়োজন।

এছাড়া বাজারেও কিনতে পাওয়া যায় কবুতরের খাবার। তবে সেসব খাদ্যে ১৫% থেকে ১৬ % আমিষের নিশ্চয়তা থাকতে হবে। প্রতি ঘরের সামনে নিয়ম করে খাবার রেখে দিতে হবে সকাল ও বিকালে, সেই সঙ্গে দিতে হবে পর্যাপ্ত পানির জোগানও। ঘরে কবুতরের সুষম খাদ্য তৈরি করা যায়।

Pigeon-Farm

কবুতরের জন্য প্রতি ১০০ গ্রাম খাদ্যে ভুট্টা ভাঙা ৩৫ গ্রাম, গম ভাঙা ২০ গ্রাম, সরিষা দানা ১৫ গ্রাম, ছোলা ভাঙা ২০ গ্রাম, সয়াবিন ভাঙা ৫ গ্রাম, চালের কুঁড়া ৪.৫ গ্রাম, লবণ ০.৫ গ্রাম।

কবুতরের কবুতরের খুব বেশি রোগের প্রকোপ দেখা যায় না। তবে যেসব রোগ হয় সেগুলোর মধ্যে বসন্ত, কলেরা, রক্ত আমাশয় যাকে বলা হয়ে থাকে ককসিডিওসিস, আরও আক্রমণ করতে পারে কৃমি।

কবুতরের বসন্ত রোগে পালকবিহীন স্থানে ফোস্কা পড়ে। গলার ভেতর ঘা হয়, খেতে পারে না। রোগ দেখা দিলে আক্রান্ত কবুতরের গুটিতে টিংচার আয়োডিন বা স্যাভলন লাগানো যেতে পারে। কবুতরের বয়স যখন চার সপ্তাহ তখন পিজিয়ন পক্স টিকা বুকে ও পায়ের পালক তুলে সিরিঞ্জ দিয়ে দিলে বসন্ত রোগ হয় না।

কলেরা রোগ হলে অস্বাভাবিকভবে কবুতরের দেহের তাপমাত্রা বাড়ে। শ্বাসকষ্ট হয়, পিপাসা বাড়ে, সবুজ বা হলুদ রঙের ঘন ঘন পায়খানা হতে পারে, কবুতরের ওজন কমে যায়। শেষে কবুতর হঠাৎই মারা যায়। কলেরা রোগে আক্রন্ত কবুতরকে রোগ দেখা দেয়ার সঙ্গে সঙ্গে টেরামাইসিন ক্যাপসুল বা ইনজেকশন বা কসুমিক্স প্লাস দেয়া যেতে পারে। রক্ত আমাশয় বা ককসিডিওসিস রোগে রক্ত পায়খানা হয়। খাবার প্রতি অরুচি বাড়ে ও শরীরে দুর্বলতা দেখা যায়। শেষে পালক ঝুলে পড়ে।

রোগ দেখা দেয়ার সঙ্গে সঙ্গ বা রোগের আশঙ্কা করলে পানিতে মিশিয়ে ই.এস.বি-৩ আ এমবাজিন জাতীয় ওষুধ খাওয়াতে হবে প্যাকেটের নির্দেশনা মতো। কৃমি হলে কবুতর দুর্বল হয়ে পড়ে ও ডায়রিয়া হয়। পানির পিপাসা বাড়ে। রক্তশূন্যতা দেখা যায়। ঠিকমতো কবুতরের যত্ন নিলে এটি পালন করে আনন্দ লাভের পাশাপাশি অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়া যায়।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

লাইভস্টক

উল্লম্ব চাষ ও ছাদ বাগানের সাথে কৃষির ক্রমবিকাশ

একবিংশ শতাব্দীতে বিশ্ব কৃষি তিনটি প্রধান চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হবে; যথা কিভাবে ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার খাদ্যের চাহিদা মেটানো যায়, কিভাবে গ্রামীণ দারিদ্র্যের উচ্চ বিস্তার হ্রাসে অবদান রাখা যায় এবং কিভাবে প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষণাবেক্ষণের বিষয়ে বর্ধিত উদ্বেগের প্রতিক্রিয়া জানানো যায় । এই সমস্ত সমস্যা মোকাবিলায় নতুন, উদ্ভাবনী ও পরিবেশবান্ধব কৃষি পদ্ধতি এবং প্রযুক্তির উন্নয়ন প্রয়োজন । বর্তমান যুগের কৃষকদের দক্ষতা এবং ক্রমাগত উন্নতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ । নতুন প্রযুক্তিকে অন্তর্ভুক্ত করা কৃষকদের কাজ করার পদ্ধতি পরিবর্তন করার একটি অভিনব উপায় যা তাদের আরও ভাল ব্যবসায়িক সিদ্ধান্ত নিতে, আরও দক্ষ হতে ও ভাল পণ্য উৎপাদনে সহায়তা করে ।

জনসংখ্যা বিশেষজ্ঞরা একবিংশ শতাব্দীর মাঝামাঝি পর্যন্ত পৃথিবীর জনসংখ্যায় আরও প্রায় তিন বিলিয়ন মানুষের সংযোজন আশা করেন । অন্যদিকে, আবাদযোগ্য জমির পরিমাণ অর্ধ শতাব্দীরও বেশি সময়ে উল্লেখযোগ্যভাবে পরিবর্তিত হয়নি । দ্য ল্যান্ড কমোডিটিস গ্লোবাল এগ্রিকালচার অ্যান্ড ফার্মল্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট রিপোর্ট (২০০৯) অনুযায়ী নগরায়ণ, লবণাক্তকরণ এবং  মরুভূমির কারণে ভবিষ্যতেও এটি খুব বেশি বাড়ার সম্ভাবনা নেই । নিম্নগামী উৎপাদনশীলতা, জলবায়ু পরিবর্তন, জলের অভাব, ক্ষুদ্র ও খণ্ডিত চাষযোগ্য জমি, পুষ্টির খনন, একাধিক পুষ্টির ঘাটতি, ভূগর্ভস্থ জলের মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহার, নিবিড় চাষের কারণে মাটির অবনতি ও মাটির জৈব কার্বন হ্রাস ইত্যাদি হল কিছু সাধারণ উদ্বেগ যা উৎপাদনে স্থবিরতা সৃষ্টি করে । আধুনিক কৃষির দ্বারা উদ্ভূত এই ধরনের উদ্বেগ এবং সমস্যাগুলি কৃষিতে নতুন ধারণার জন্ম দিয়েছে, যেমন জৈব চাষ, প্রাকৃতিক চাষ, জৈব-গতিশীল কৃষি, কিছুই না করা কৃষি, ইকো-চাষ, নির্ভুল কৃষি, টেকসই কৃষি, উল্লম্ব চাষ ইত্যাদি ।

এই ধরনের চাষ পদ্ধতির সারাংশ সহজভাবে বোঝায় যে মাটি-উদ্ভিদ-প্রাণীর ধারাবাহিকতার দীর্ঘমেয়াদী উৎপাদনশীলতা বজায় রাখতে প্রকৃতির কাছে ফিরে আসুন । এই প্রেক্ষাপটে, অভ্যন্তরীণ উল্লম্ব চাষ খুবই তাৎপর্যপূর্ণ এবং এটিকে একটি বন্ধ ও নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে স্তূপীকৃত উপায়ে উৎপাদন বৃদ্ধির পদ্ধতি হিসাবে সংজ্ঞায়িত করা যেতে পারে । উল্লম্ব চাষের ধারণা শহুরে এলাকায় প্রথম প্রচার পেয়েছে এবং পদ্ধতিগুলি পরিমার্জন করার জন্য চাষীদের ক্ষমতা এই অভ্যাসকে একটি নিয়মিত ঘটনায় পরিণত করছে ।

উল্লম্ব চাষ কি?

উল্লম্ব চাষ হল ফসল উৎপাদনের একটি পদ্ধতি যা আমরা সাধারণত চাষাবাদ বলে যাকে মনে করি তার থেকে একেবারেই আলাদা । বিস্তীর্ণ মাঠের পরিবর্তে ফসল উল্লম্বভাবে বা বাতাসে উত্থিত হয় । এটি উল্লম্বভাবে ঝুঁকে থাকা কোন পৃষ্ঠতলে খাদ্য উৎপাদনের অভ্যাস । এই পদ্ধতিটি একক স্তর যেমন মাঠ বা গ্রিনহাউসের পরিবর্তে উল্লম্বভাবে স্তুপীকৃত স্তরে শাকসবজি এবং অন্যান্য ফসল উৎপন্ন করে যা সাধারণত অন্যান্য কাঠামোর মধ্যে সংহত হয় যেমন একটি আকাশচুম্বী, শিপিং কন্টেইনার বা পুনঃপ্রতিষ্ঠিত গুদামে । উল্লম্ব কৃষি আমাদের শহরের মেট্রোপলিটন এলাকায় বিভিন্ন ভবনের অভ্যন্তরে কার্যকর উৎপাদনের সুবিধা দান করে । তাই এটি শহুরে কৃষির একটি রূপ যার কৃতিত্ব কলোম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বাস্তুশাস্ত্রের অধ্যাপক ডিকসন ডেসপোমিয়ারকে দেওয়া হয়, যিনি শহুরে ছাদ বাগানকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার এবং বাড়ির মধ্যে উল্লম্ব কৃষি টাওয়ার তৈরির ধারণা নিয়ে এসেছিলেন, যা শুধুমাত্র ছাদ নয়, একটি ভবনের সম্পূর্ণ মেঝে ফসল উৎপাদনের জন্য ব্যবহার করার অনুমতি দেবে ।

উল্লম্ব চাষের উপকারিতা

১. উল্লম্ব কৃষির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উদ্দেশ্যগুলির মধ্যে একটি হল সর্বনিম্ন জমি ব্যবহার করে সর্বোচ্চ উৎপাদন লাভ করা । এটি প্রায় সমস্ত অবস্থায় উদ্ভিদ জন্মানোর যথোপযুক্ত পরিস্থিতি প্রদান করে । অতএব, ফসল ফলানোর জন্য নির্দিষ্ট ঋতুর জন্য অপেক্ষা করার প্রয়োজন নেই ।

২. এটি ভবিষ্যতে খাদ্যের চাহিদা সামলানোর জন্য একটি পরিকল্পনা প্রদান করে যা ক্রমাগত উন্নত গুনমান সমৃদ্ধ ফসল সরবরাহ করে ।

৩. এই ধরণের চাষের পদ্ধতি ফসলকে সারা বছর বাড়তে দেয় যা আবহাওয়া এবং ঋতুর ওপর নির্ভরশীল নয় ।

৪. এটি উল্লেখযোগ্যভাবে কম জল ব্যবহার করে বা প্রায় ৯৫% পর্যন্ত জল সাশ্রয় করে ।

৫. এই উপায়ে বেশি জৈব ফসল চাষ করা যায় যাতে রাসায়নিক ও রোগের সংস্পর্শ কম থাকে ।

৬. এটি কৃষি জমির ব্যবহার ও খাদ্যের অপচয় বা নষ্ট হওয়াকে ব্যাপকভাবে কমাতে পারে এবং শহরে সর্বাধিক সতেজতা আনতে পারে ।

৭. উল্লম্ব চাষ ক্রেতাদের কাছে পরিবহনের খরচ কমায়; কার্বন ডাই অক্সাইড নির্গমন সীমিত করে; জলবায়ুর উপর কম নেতিবাচক প্রভাব ফেলে এবং কৃষিকে শহুরে মানুষদের দৈনন্দিন জীবনে ফিরিয়ে আনে । 

৮. উপরন্তু, উল্লম্ব খামার থেকে খাবার সাধারণত স্থানীয়ভাবে বিক্রি হয় যার ফলে পরিবহনের মাধ্যমে সৃষ্ট নির্গমন এবং খামার থেকে টেবিলে পৌঁছানোর সময় হ্রাস পায় । এটি কোন বিলম্ব ছাড়াই টাটকা বা বিশুদ্ধ ফলনের সরবরাহ সহজ করে তোলে অথবা খামার থেকে বাজারজাত হওয়ার প্রক্রিয়াকে কয়েক দিন থেকে মাত্র কয়েক ঘন্টা পর্যন্ত হ্রাস করে ।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

লাইভস্টক

জেনে নিন ডিমের খোসা দিয়ে সার তৈরী করার অভিনব পদ্ধতি

আমরা ডিমের খোসা অপ্রয়োজনীয় মনে করে ফেলে দেই। কিন্তু এই ডিমের খোসা দিয়ে জৈব সার তৈরি করতে পারলে তা হতে পারে উৎকৃষ্টমানের সার। এজন্য সার তৈরির পদ্ধতি জেনে নিতে হবে। গাছের ম্যাক্রো নিউট্রিয়েন্টস-এর চাহিদা পূরণ করে ডিমের খোসা। ডিমের খোসার মধ্যে থাকে প্রচুর পরিমাণ ক্যালসিয়াম। গাছের জন্য প্রয়োজনীয় ক্যালসিয়াম কার্বনেট পাওয়া যায় এই উপকরণ থেকে। এ ছাড়া ডিমের খোসায় আছে আয়রন, কপার, ম্যাঙ্গানিজ, জিঙ্ক, ফ্লোরিন, ক্রোমিয়াম ও মলিবডেনাম। ক্যালসিয়ামের অভাবে ফুল, কাণ্ড ও শিকড়ের বৃদ্ধি বাধাপ্রাপ্ত হয়। এর অভাবে বৃদ্ধির ক্ষেত্রে বিকৃতি, পাতা ও ফলে কালো দাগ দেখা দেয়। পাতার ধার ঘেঁষে হলুদ রং দেখা দেয়।

কম্পোস্ট সার বা জৈব সার তৈরি করার পদ্ধতি(Procedure):

প্রথমেই ডিমের খোসাকে ব্যবহার উপযোগী করতে হবে। এক্ষেত্রে প্রথমে ডিমের খোসা সংগ্রহ করতে হবে, সংগ্রহকৃত ডিমের খোসা ভালোভাবে শুকিয়ে নিতে হবে। শুকনো ডিমের খোসাগুলকে গুঁড়ো করে পাউডারে রূপান্তর করতে হবে। সেক্ষেত্রে ব্লেন্ডার, মিক্সচার ব্যবহার করা যেতে পারে বা পাটায় পিশেও তৈরি করা যেতে পারে। খেয়াল রাখতে হবে খোসাগুলো যেন ভালোভাবে মিহি হয়, দানা দানা যেন না থেকে যায়।

বড় দানার চেয়ে পাউডার দ্রুত মাটির সাথে মিশতে পারে, ফলে সহজেই তার মিনারেলসগুলো গাছের গ্রহণ উপযোগী হয়ে উঠে। দানা দানা থেকে গেলে এগুলো ব্যবহারে বা গাছে প্রয়োগের পর তা মাটির সাথে মিশতে অনেক সময় লাগে, পোকার আক্রমণ দেখা দিতে পারে। তাই এমন পাউডার তৈরি করতে হবে যাতে পিঁপড়ে বা পোকামাকড় তাতে আক্রমণ করে সেগুলোকে বহন করে নিয়ে যেতে না পারে। ডিমের খোসা থেকে তৈরিকৃত সার যেকোনো ধরনের গাছে ব্যবহার করা যায়।

গাছে বা টবে ডিমের খোসার প্রয়োগের পরিমাণ:

৮ ইঞ্চি টবে ১ টেবিল চামচ

১০ ইঞ্চি টবে ১ টেবিল চামচ

১২ ইঞ্চি টবে ১.৫ টেবিল চামচ

ডিমের খোসার গুঁড়া পানি দিয়ে পাতলা করে গাছের নিচে ব্যবহার করতে পারি। এই সার টমেটো এবং বেগুনের মতো শাক-সবজি পানিজনিত রোগ এবং পাতা হলুদ বর্ণ ধারণ করা- এরমতো রোগের চিকিৎসা করতে কার্যকর। এছাড়া এই কম্পোস্ট গোলাপ গাছে প্রয়োগ করলে ফুল ধারণ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। গাছ বৃদ্ধির প্রাথমিক পর্যায়ে এই পদ্ধতিটি প্রয়োগ করা যেতে পারে। টবে মাটির মিশ্রণ প্রস্তুত করার সময় ১-৪ ডিমের খোসার চূর্ণ দিয়ে একটি গাছ লাগানো যেতে পারে।

টবের মাটিতে ডিমের খোসার সার প্রয়োগের ক্ষেত্রে প্রথমে টবের মাটিকে নিড়ানি দিয়ে বা খুঁচিয়ে আলগা করে দিতে হবে। তারপর পরিমাণমতো ডিমের খোসার সার টবের চারিদিকে খুঁচানো মাটির উপর ছিটিয়ে প্রয়োগ করতে হবে।

এগ শেল বা ডিমের খোসা সিদ্ধ পানি গাছের দ্রুত বর্ধনশীলতার জন্য পৃথিবীর অন্যতম এক সার। এক লিটার পানিতে ৫টি ডিমের খোসা সিদ্ধ করুন। এই পানি উষ্ণ আবহাওয়ায় ২৪ ঘণ্টা পর্যন্ত রাখুন। পরের দিন মিশ্রণটি মাটিতে প্রয়োগ করুন অথবা গাছে স্প্রে করতে পারেন। এতে আরও বেশি ফল পাওয়া যায়। যদি ফুলের গাছ হয় তবে এর প্রয়োগে আরও বেশি ফুল পাবেন।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

বাংলাদেশ

পোল্ট্রি ফিডের বস্তায় ৩৫০ টাকা কমানোর দাবি

ক্রমাগত বৃদ্ধি পাওয়া পোল্ট্রি ফিডের ৫০ কেজির বস্তায় ৩৫০ টাকা কমানোর দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ পোল্ট্রি খামার রক্ষা জাতীয় পরিষদ (বিপিকেআরজেপি)।

খামারিদের দাবি আদায়ে সরব প্রতিষ্ঠানটির সাধারণ সম্পাদক খন্দকার মহসিন এগ্রিকেয়ার২৪.কমকে বলেন, পোল্ট্রি খাদ্যের প্রতিকেজিতে ৬ থেকে ৭ টাকা কমানো সময়ের দাবি। ভারতে সয়াবিন রপ্তানি বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের ঘোষণার ১দিনে সয়াবিন মিল ৪৯ টাকা ২০ পয়সা থেকে গাজীপুরে পৌছানো পর্যন্ত ৪৪ টাকা ৬০ পয়সা হয়েছে। ভুট্টা ৩২ থেকে ৪ টাকা কমে ২৮ টাকায় নেমে এসেছে। সে হিসাবে খাদ্যের দাম কেজিতে ৬ থেকে ৭ টাকা কমানো উচিৎ। ফিড মিলারদের কাছে দাবী, খাদ্যের দাম কমানো হোক।

তিনি আরো বলেন, ক্রমাগত পোল্ট্রি ফিডের দাম বাড়ার কারণে খামারিরা বিপাকে পড়েছেন। ফিড মিলাররা সংঘবদ্ধ হয়ে খামারিদের চুষে খাচ্ছে। তারা যদি সামান্য ছাড় দেয় তাহলে খামারিরা রক্ষা পায়। তাদের লাভের সামান্য অংশ খামারিদের দিলে প্রতিবস্তায় ৩০০ থেকে সাড়ে ৩০০ টাকা কমানো সম্ভব।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বর্তমান বিভিন্ন কোম্পানির তৈরি ফিডের দাম আগের মতো রয়েছে। নারিশ কোম্পানির ৫০ কেজি লেয়ার ফিডের আজকের বাজারদর ২২২০ টাকা। ব্রয়লার মুরগির ২৬১০ টাকা. সোনালী ২৪০০ টাকা এবং স্টার্টার ফিডের দাম ২৪০০ টাকা। সিপি কোম্পানির ৫০ কেজি ব্রয়লার ফিডের দাম ২৫২৬ টাকা।

এছাড়া, সোনালী ২৩৪০ টাকা এবং লেয়ার সিপি ফিডের দাম ২১৪০ টাকা। সগুণা কোম্পানির প্রতি এক বস্তা ফিডের দাম ব্রয়লার ২৫৪০ টাকা, সোনালী ২৩৪০ এবং লেয়ার ২১৬০ টাকা। বিশ্বাস কোম্পানির এক বস্তা ব্রয়লার ফিডের দাম ২৫৭০ টাকা, সোনালী ২৩৪০ টাকা, এবং লেয়ার ২১৭৫ টাকা। আমান কোম্পানির ব্রয়লার খাদ্যের দাম ২৭৫০ টাকা এবং সোনালী মুরগির এক বস্তা খাদ্যের দাম ধরা হয়েছে ২৫২৫ টাকা।

বাংলাদেশ পোল্ট্রি খামার রক্ষা জাতীয় পরিষদ আরোও জানিয়েছে ২০২১-২০২২ অর্থ বছরের বাজেটে পোল্ট্রি খাদ্যের মূল্য কমানোর ঘোষণা থাকলেও তা মানা হয়রি। বাজেটের ঘোষণা উপেক্ষা করে বাজেট ঘোষণার পর তিন দফায় পোল্ট্রি খাদ্যের দাম বাড়ানো হয়েছে। যথাক্রমে প্রথমে ৫০ টাকা বছরের শুরুতেই, এরপর ৭৫ টাকা এবং সর্বশেষ ১০০ টাকা বৃদ্ধি করা হয়। বাজেটের আগে ২৭৫ টাকা বৃদ্ধি করা হয়। মোট একবস্তা খাদ্যে ৫০০ টাকা বৃদ্ধি করা হয়েছে। এখন দ্রুত কমানোর দাবি জানান তারা।

বাংলাদেশ পোলট্রি ইন্ডাস্ট্রিজ সেন্ট্রাল কাউন্সিল (বিপিআইসিসি) সভাপতি মসিউর রহমান বলেন, দেরীতে হলেও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তকে আমরা স্বাগত ও ধন্যবাদ জানাই। আমরা আশা করবো, ভবিষ্যতে শিল্পের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট যেকোন বিষয়ে সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে আমাদের এসোসিয়েশন এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সাথে পরামর্শ করে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় উপযুক্ত সিদ্ধান্ত নিবেন। কারণ, প্রথম থেকেই আমাদের পোলট্রি সংশ্লিষ্ট এসোসিয়েশন, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় এবং কৃষি মন্ত্রণালয়ের মতামতকে উপেক্ষা করে সয়াবিন মিল রপ্তানির সিদ্ধান্ত দেয় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।

এর ফলে ফিডের দাম কমার সম্ভাবনা আছে কি না জানতে চাইলে বিপিআইসিসি সভাপতি বলেন, আমরা আশা করছি এতে করে ফিডের দাম কমানো সহনীয় হবে, তবে কিছুটা সময় লাগবে। আন্তর্জাতিক বাজারে ফিড তৈরির অন্যান্য কাঁচামালের দাম আগামী এক দু মাসের মধ্যেই কমবে বলে আশা করি, মোদ্দা কথা কাঁচামালের দাম কমলে আমরা অবশ্যই ফিডের দাম কমিয়ে সমন্বয় করবো। কারণ, ব্যবসার পাশাপাশি খামারি ও ভোক্তার স্বার্থ দেখাও আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।

এদিকে আন্তর্জাতিক বাজারে ভুট্টার দাম বাড়ায় প্রভাব পড়েছে স্থানায় বাজারে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির তথ্য অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ভুট্টার দাম বিগত ছয় বছরের সর্বোচ্চে পৌঁছেছে। চীনে চাহিদা বাড়ার পরিপ্রেক্ষিতে ভুট্টার দাম ১ শতাংশ বেড়েছে। এ বিষয়ে খরব প্রকাম করেছে অ্যাগ্রিকালচার ডটকম।

দক্ষিণ আমেরিকার বিরূপ আবহাওয়ার কারণে যুক্তরাষ্ট্রের সয়াবিনের দামও ভালো অবস্থানে ছিল এবং গমের দাম উচ্চ ছিল। সয়াবিনের দামও বুশেলপ্রতি দশমিক ৮ শতাংশ বেড়ে ১৩ দশমিক ৮১ ডলারে পৌঁছেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মূলত বৃষ্টির কারণে ব্রাজিলের উৎপাদন ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থেকে সয়াবিনের চাহিদা বেড়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো বোর্ড অব ট্রেডে (সিবিওটি) ভুট্টার দাম বাড়ে ১ দশমিক ৪ শতাংশ। যেখানে বুশেলপ্রতি ৫ দশমিক ৫০ ডলার থেকে দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫ দশমিক ৫৪ ডলারে এবং সেশনে গিয়ে সেটি বুশেলপ্রতি ৫ দশমিক ৫৫ ডলার থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫ দশমিক ৭৫ ডলারে। যা কিনা ২০১৩ সালের পর সর্বোচ্চ ছিল।

বিশ্লেষকরা বলছেন, ভুট্টা চীনের চাহিদা বৃদ্ধির পরিপ্রেক্ষিতে ভালোই সহায়তা পাচ্ছে। এ চিত্র মূলত সামনে আসে গত সপ্তাহে, যখন যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগ থেকে চীনে ২ দশমিক ১০৮ মিলিয়ন ডলারের বেসরকারি বিক্রি নিশ্চিত করা হয়।

কমনওয়েলথ ব্যাংক অব অস্ট্রেলিয়ার কৃষি কৌশল বিভাগের পরিচালক টবিন গোরেই বলেন, এ বিক্রির অর্থ হচ্ছে চীন সম্ভবত গত সপ্তাহে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে ছয় মিলিয়ন টন ভুট্টা নিয়েছে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২১ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com