আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

পরিবেশ

আবারও স্থগিত, ফেব্রুয়ারিতে হচ্ছে না একুশে বইমেলা

আবারও অমর একুশে বইমেলা স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছে। ১ ফেব্রুয়ারি বইমেলার উদ্বোধন হবে না। বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক হাবীবুল্লাহ সিরাজী প্রথম আলোকে এ কথা নিশ্চিত করেছেন। তবে প্রকাশকেরা ১ মার্চ থেকে বইমেলা করার প্রস্তাব দিয়েছেন। সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ে বাংলা একাডেমি থেকে প্রস্তাবও পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনা সাড়া পাওয়া যায়নি সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় থেকে।
এর আগে প্রকাশকেরা ১৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৭ মার্চ পর্যন্ত বইমেলা করার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। প্রাথমিক সিদ্ধান্তও হয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত করোনা পরিস্থিতি বিবেচনায় এই অবস্থান থেকে ফিরে এসেছে বাংলা একাডেমি। হাবীবুল্লাহ সিরাজী প্রথম আলোকে বলেন, সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়েছে, বর্তমান করোনা পরিস্থিতির কারণে শারীরিক উপস্থিতিতে ফেব্রুয়ারি মাসে বইমেলা আয়োজন সম্ভব নয়। তাই আমরা আপাতত মেলা স্থগিত ঘোষণা করেছি। পরে কবে আবার বইমেলা হবে, সেটা নির্ভর করছে করোনা পরিস্থিতির ওপর।
বাংলাদেশ জ্ঞান ও সৃজনশীল প্রকাশক সমিতির নির্বাহী পরিচালক মনিরুল হক প্রথম আলোকে জানান, প্রকাশকদের দুই সমিতির পক্ষে ১ মার্চ তারিখ পুনর্নির্ধারণের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। বিজ্ঞাপন

তারা চাইছেন ১ মার্চ থেকে শুরু করে ৩১ মার্চ পর্যন্ত অমর একুশে গ্রন্থমেলা হোক। স্বাস্থ্যবিধি মানার ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করতে পারলে এ সময় বইমেলা আয়োজনে কোনো সমস্যা দেখছেন না প্রকাশকেরা।

২০১৫ সালের অমর একুশে বইমেলার শেষ দিনের চিত্র
২০১৫ সালের অমর একুশে বইমেলার শেষ দিনের চিত্র

ভাষার মাসের প্রথম দিন থেকেই বাংলা একাডেমি চত্বরে বইমেলা শুরু হয়। রেওয়াজ অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী এ বইমেলার উদ্বোধন করে থাকেন। ১৯৮৩ সালে মনজুরে মওলা যখন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক ছিলেন, তখন তিনি বাংলা একাডেমিতে প্রথম অমর একুশে গ্রন্থমেলার উদ্যোগ নেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত বইমেলা করা সম্ভব হয়নি। ১৯৮৪ সালে সাড়ম্বরে বর্তমানের অমর একুশে গ্রন্থমেলার সূচনা হয়। বাংলা একাডেমির তথ্যানুযায়ী, ২০২০ সালের অমর একুশে গ্রন্থমেলায় ৮২ কোটি টাকার বই বিক্রি হয়েছিল। নতুন বই প্রকাশিত হয়েছিল ৪ হাজার ৯১৯টি। বাংলা একাডেমি প্রকাশ করেছিল ৪১টি নতুন বই।

পরিবেশ

ক্ষেতের শাক-সবজি খেয়ে ফেলছে শামুক

রাতের অন্ধকারে ক্ষেতের শাক-সবজির গাছ খেয়ে ফেলছে এক প্রজাতির শামুক। এনিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে নানান কৌতুহলের সৃষ্টি হয়েছে।

এরা বিভিন্ন পাতা, গাছের নরম বাকল, ফল, শাক-সবজি গাছ ইত্যাদি খেয়ে ব্যাপক ক্ষতি করছে। গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার বরাব এলাকায় এমন ঘটনা ঘটছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার বরাব এলাকায় আখতার হোসেনের বাড়ির আশপাশে দেখা যাচ্ছে এক প্রজাতির শামুক। শামুকগুলোর খোলসের ওপর একপ্রকার সাদা দাগ কাটা রয়েছে। দিনের বেলায় এরা বাড়ির দেয়ালে ও বিভিন্ন গাছে এবং বড় বড় ঘাসের নিচে লুকিয়ে থাকে। রাত হলেই ঝাঁক বেঁধে শামুকগুলো ক্ষেতে শাক পাতা ও সবজির গাছ খেয়ে ফেলে।

শামুকগুলো লম্বা প্রকৃতির। গত দুই তিন মাস ধরে ব্যাপক হারে ওই এলাকায় এসব শামুক দেখা যাচ্ছে। এর আগেও দুই-একটি করে এদের দেখা যেত। শাক-সবজি থেকে শুরু করে বিভিন্ন গাছেরও ক্ষতি করছে এরা। দিনের বেলায় এসব শামুক খুব কমই নড়াচড়া করে। তবে সন্ধ্যার পর বাড়ির আশেপাশে এবং রাস্তাঘাটে বেশি পরিমাণ দেখা যায়। কোনো কোনো শামুকের খোলস ২ থেকে ৩ ইঞ্চি লম্বা। আর শামুক যখন চলাফেরা করে তখন ৩-৪ ইঞ্চি লম্বা হয়ে থাকে।

ছোট-বড় বিভিন্ন সাইজের এ প্রজাতির শামুক এলাকায় ছড়িয়ে পড়ছে। এনিয়ে পুরো এলাকায় হৈচৈ শুরু হয়েছে। এছাড়া খবর পেয়ে দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ এসব শামুক দেখতে আসছেন।

বরাব এলাকার বাসিন্দা আখতার হোসেন জানান, গত কয়েক মাস ধরে এ প্রজাতির শামুকের বিচরণ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। দিনে শামুকের সংখ্যা কম থাকলেও রাত হলে বেড়ে যায়। দিনের বেলায় এরা আম, কাঁঠাল, কলা গাছসহ বিভিন্ন গাছে ও ঘাসের নিচে থাকে। এছাড়া বিভিন্ন দেয়ালেও থাকে। বাড়ির আশপাশে শাক-সবজি চাষ করলে শামুকগুলো তা খেয়ে ফেলে। এ কারণে এখন আর শাকসবজি চাষাবাদ করি না। কোথা থেকে এতো শামুক এসেছে তা কেউই বলতে পারছেনা। দিন দিন এসব শামুক ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে।

দেওয়ান রনি নামের এক যুবক জানায়, এলাকার লোকজন অনেক সময় এ শামুক দেখামাত্র মেরে ফেলে। এ ধরনের শামুক আগে এই এলাকায় কোথাও দেখা যায়নি। এছাড়া শুকনো জমিতে এভাবে শামুক চলাফেরা করতে আগে কখনো দেখিনি। তবে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের বিভিন্ন দোকানে এ ধরনের শামুকের খোলসে বিভিন্ন কিছু লিখে  বিক্রি করতে দেখেছি।

এ ব্যাপারে কালিয়াকৈর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম বলেন, শামুক এভাবে শাক-সবজি খাচ্ছে এবং ক্ষতি করছে এমন বিষয় নিয়ে কেউ আগে জানায়নি। বিষয়টি আমার কাছে একেবারেই নতুন। তবে শামুক মাটি দিয়ে চলাচল করলে মাটির উর্বরতা বৃদ্ধি পায় এবং মাটির ভেতর বাতাস ঢুকতে পারে। এটা কৃষির জন্য ভালো। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে বলে তিনি জানান।

গাজীপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. মর্ত্তুজ আলী বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। যেহেতু শামুক মৎস্য অধিদপ্তরের বিষয় তারা এ ব্যাপারে বলতে পারবে।

কালিয়াকৈর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. সলিমুল্লাহ বলেন, এমন ঘটনা আগে শুনিনি। তবে শামুক মানুষের জন্য ক্ষতিকর না। কিন্তু শাক-সবজি খেয়ে ফেলছে এবং বিনষ্ট করছে এটা তো অবশ্যই কৃষকের জন্য ক্ষতি। যেহেতু কৃষির বিষয়টি সঙ্গে জড়িত এটা কৃষি কর্মকর্তারা ভালো বলতে পারবে।  

উইকিপিডিয়া থেকে জানা গেছে, শামুক হচ্ছে মোলাস্কা ফাইলামের গ্যাস্ট্রোপোডা শ্রেণির। এরা নরমদেহী এবং দেহ প্যাঁচানো খোলকে আবৃত থাকে। মরুভূমি, নদী, বদ্ধ জলাশয়, জলাশয়, সমুদ্র উপকূলসহ অনেক আবহাওয়াতে শামুকের দেখা পাওয়া যায়। স্থলচর শামুক শামুকের জগতে সংখ্যালঘু। সামুদ্রিক শামুকরাই বৈচিত্র্যে ও সংখ্যায় অনেক বেশি। বেশিরভাগ শামুকই তৃণভোজী। তবে কিছু সামুদ্রিক শামুক প্রজাতি উভভোজী অথবা মাংসাশী। কিছু শামুক ফুসফুসের সাহায্যে শ্বাস নেয়। এদেরকে পালমোনাটা বলে। যেসব শামুক ফুলকা জাতীয় অঙ্গের সাহায্যে শ্বাস নেয় তাদের প্যারাফিলেটিক দলে ফেলা হয়। স্থলচর শামুকদের মাথায় দুই জোড়া কর্ষিকা থাকে দরকার পড়লে গুটিয়ে রাখতে পারে। পেছনের কর্ষিকাজোড়ায় থাকে চোখ। পায়ের পেশীতে ঘনঘন সঙ্কোচন ঘটিয়ে শামুক চলাচল করে। শামুকের চলার গতি অত্যন্ত ধীর।  

প্রজাতি ভেদে শামুকের আয়ু ভিন্ন। প্রকৃতিতে আকাটিনিডে শামুক ৫-৭ বছর বাঁচে, আবার হেলিক্স প্রজাতির শামুক ২-৩ বছর বাঁচে। অ্যাকোয়াটিক অ্যাপল জাতের শামুকের আয়ু মাত্র বছর খানেক। বেশিরভাগ শামুকের মৃত্যু হয় শিকারীর হাতে নয়তো পরজীবী দ্বারা। কিছু কিছু শামুকের প্রায় ৩০ বছর পর্যন্ত বাঁচার নজির রয়েছে।  

স্থলচর শামুক তৃণভোজী। এরা পাতা, গাছের নরম বাকল, ফল, শাক ইত্যাদি খেয়ে থাকে। শামুকের কিছু প্রজাতি শস্য ও বাগানের গাছের ক্ষতি করে বিধায় এদেরকে ক্ষতিকারক কীটের দলে ফেলা যায়।  

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

পরিবেশ

কৃষক ঠকে ভোক্তাও ঠকে, লাভ শুধু মধ্যস্বত্বভোগীদের

লেখক

নোয়াখালীর উপকূলীয় সুবর্ণচরের চরনঙ্গলিয়ার কৃষক আব্দুল আজিজ এবার বাড়ির আঙিনায় এক একর জমিতে শিম, করলা, শসাসহ বিভিন্ন সবজি চাষ করেছেন। শীতের আগাম সবজি শিম এর মধ্যেই বাজারে চলে এসেছে। পাইকারদের কাছে তিনি প্রতি কেজি শিম বিক্রি করেছেন ৪৫ টাকায়। অথচ গতকাল শুক্রবার রাজধানীর খুচরা বাজারে প্রতি কেজি শিম বিক্রি হতে দেখা গেছে ১০০ টাকায়।

রাজধানীর কাছের জেলা মানিকগঞ্জ ‘সবজির এলাকা’ নামে সুপরিচিত। এখানকার সাটুরিয়া উপজেলার ফুকুরহাটি এলাকার শরীফ মিয়া এবার ৬৫ শতাংশ জমিতে আগাম ফুলকপি, বাঁধাকপি ও লাউ চাষ করেছেন। বীজ, সার, কীটনাশক ও শ্রমিক খরচ মিলিয়ে ৪০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে তার। সম্প্রতি এসব সবজি বিক্রি শুরু হয়েছে। প্রতিটি লাউ তিনি বিক্রি করেছেন ১৫-২০ টাকায়। এই লাউ গতকাল কারওয়ান বাজারে আড়তদারের মাধ্যমে ব্যাপারীরা (পাইকারি) বিক্রি করেছেন ৩০-৩৫ টাকা। আর খুচরা বাজারগুলোতে বিক্রি হয়েছে ৫০-৫৫ টাকায়।

শুধু শিম ও লাউ নয়- টমেটো, গাজর, পেঁয়াজ, কাঁচামরিচ, বেগুন, মুলা, ফুলকপি, বাঁধাকপিসহ প্রায় সব কৃষিপণ্যের ক্ষেত্রেই কৃষক থেকে ভোক্তা পর্যায়ে দামের এমন তফাত রয়েছে। রেকর্ড উৎপাদনেও বাজার নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকে। আবার মাঠ পর্যায়ে কৃষক দাম পান না। আলুসহ কিছু পণ্য ভোক্তা সস্তায় পেলেও ঠকেন কৃষক। কৃষিকাজ করে সিংহভাগ কৃষক পরিবার সচ্ছলতার মুখ দেখতে পারে না। অধিক উৎপাদনের পরও বাজার নিয়ন্ত্রণ, কৃষকের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত ও সুলভমূল্যে নিরাপদ খাবার ভোক্তার কাছে পৌঁছানোই এখন বড় চ্যালেঞ্জ। করোনা মহামারিকালে চাকরি হারানো ও আয় কমে যাওয়াসহ নানা সমস্যায় খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আরও কঠিন হয়ে উঠেছে।

এ অবস্থায় আজ ১৬ অক্টোবর পালিত হচ্ছে বিশ্ব খাদ্য দিবস। কৃষি মন্ত্রণালয় ও জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) যৌথ উদ্যোগে বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও পালিত হচ্ছে খাদ্য দিবস। এবার এ দিবসের প্রতিপাদ্য হলো : ‘আমাদের কর্মই আমাদের ভবিষ্যৎ- ভালো উৎপাদনে ভালো পুষ্টি, আর ভালো পরিবেশেই উন্নত জীবন’। দিবসটির গুরুত্ব তুলে ধরতে কৃষি মন্ত্রণালয় বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়েছে।

আজ শনিবার সকালে দিবসের প্রথমভাগে রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজন করা হয়েছে আন্তর্জাতিক সেমিনারের। এতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রধান অতিথি হিসেবে অংশ নেবেন। একই দিন বিকেলে খাদ্য নিরাপত্তার চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় করণীয় নিয়ে একটি কারিগরি অধিবেশন হবে।

দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন। রাষ্ট্রপতির বাণীতে বলা হয়েছে, মানুষের জন্য নিরাপদ, পুষ্টিকর খাদ্যের জোগান নিশ্চিত করতে অপচয় কমিয়ে সুষম পুষ্টিকর খাবারের অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। প্রধানমন্ত্রী তার বাণীতে বলেছেন, সরকারের গৃহীত কৃষিবান্ধব নীতি ও কার্যক্রমে দানাদার খাদ্য, মাছ, মাংস ও ডিম উৎপাদনে বাংলাদেশ আজ স্বয়ংসম্পূর্ণ এবং দুধ উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতার দ্বারপ্রান্তে।

উৎপাদন পরিস্থিতি: দেশে ধারাবাহিকভাবে কৃষিপণ্যের উৎপাদন বেড়েছে। করোনাকালেও খাদ্য উৎপাদনের ধারা অব্যাহত রয়েছে। কৃষি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ২০২০-২১ অর্থবছরে রেকর্ড বোরো উৎপাদন হয়েছে দুই কোটি টনেরও বেশি, যা দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। গত বছরের তুলনায় এ বছর সব ফসলের উৎপাদনই বেড়েছে। মোট চালের উৎপাদন হয়েছে তিন কোটি ৮৬ লাখ টন, গম ১২ লাখ টন, ভুট্টা প্রায় ৫৭ লাখ টন, আলু এক কোটি ছয় লাখ টন, শাকসবজি এক কোটি ৯৭ লাখ টন, তেল ফসল ১২ লাখ টন ও ডাল ফসল ৯ লাখ টন। ২০০৯ সালের তুলনায় ২০২০ সাল পর্যন্ত পরিসংখ্যানে দেখা যায়, চালের উৎপাদনে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ২৩%, গমের ৪৫%, ভুট্টার ৬৭৫%, আলুতে ১০১%, ডালে ৩৭৫%, তৈলবীজে ৪২% এবং সবজির ক্ষেত্রে ৫৭৮%।

তবুও বাজার ঊর্ধ্বমুখী: পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) হিসাবে মাথাপিছু চাল ভোগের পরিমাণ ধরা হয়েছে ৪১৬ গ্রাম। সেই হিসাবে দেশে চালের চাহিদা দুই কোটি ৫৮ লাখ টন। কিন্তু উৎপাদন হচ্ছে এর চেয়ে অনেক বেশি। তার পরও দাম বেড়েছে। চালে স্বয়ংসম্পূর্ণ হওয়ার কথা বলা হলেও সরকারি গুদামে মজুদ বাড়াতে এবং বাজারে দাম কমাতে এখন চাল আমদানি করতে হচ্ছে। বাংলাদেশ ট্রেডিং করপোরেশনের (টিসিবি) হিসাবে, বর্তমানে বাজারে সরু চাল ৫৮ থেকে ৬৮ টাকা এবং মোটা চাল ৪৬ থেকে ৫৬ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

জাতিসংঘের উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) কান্ট্রি ইকোনমিস্ট ড. নাজনীন আহমেদ বলেন, দাম বাড়ার পেছনে অন্যতম কারণ, বড় কোম্পানিগুলো চালের ব্যবসায় যুক্ত হয়েছে। বড় মিলগুলোতে যে পরিমাণ ধান বা চালের মজুদ থাকে, তাতে চাইলেই তারা বাজার নিয়ন্ত্রণ করতে পারে।

এদিকে মুরগির দামও বেড়েছে কেজিপ্রতি ১০ থেকে ২০ টাকা। বাজারে এখন বেশিরভাগ সবজির দাম ৬০ টাকা কেজির ওপরে। এর মধ্যে নিত্য ব্যবহূত সাধারণ কয়েকটি সবজির দাম ১০০ টাকার বেশি।

ঠকছেন কৃষক: কৃষকরা সবচেয়ে দুশ্চিন্তায় থাকেন ধানের দাম নিয়ে। গত বোরো মৌসুমে তারা ধানের দাম কম পেয়েছেন। দেশে আলুর চাহিদা ৯০ লাখ টন। কিন্তু গত মৌসুমে পরিবেশ অনুকূলে থাকায় উৎপাদন হয়েছে এক কোটি ১৪ লাখ টন। সে হিসাবে আলু উদ্বৃত্ত হয়েছে ২৪ লাখ টন।

উৎপাদিত আলু থেকে দেশের ৪০০ হিমাগারে ৪০ লাখ টন আলু সংরক্ষণ করা হয়েছিল। করোনায় হোটেলসহ সবকিছু বন্ধ থাকায় ৬৫ শতাংশ আলুই বিক্রি হয়নি। দাম না পেয়ে প্রায়ই সবজি গরুকে খাওয়াতে অথবা ফেলে দিতে বাধ্য হন চাষিরা। পোলট্রি খাদ্যের দাম বেড়ে যাওয়াসহ নানা সংকটে মুরগি ও ডিমের হাজার হাজার ছোট খামার বন্ধ হয়ে গেছে। এবার কোরবানির ঈদে ২৯ লাখ পশু অবিক্রীত থেকে গেছে। দাম পাননি খামারিরা।

খাদ্য নিরাপত্তা নেটওয়ার্কের (খানি) সাধারণ সম্পাদক নুরুল আলম মাসুদ বলেন, উৎপাদিত পণ্যের মূল্য পান না কৃষক। কৃষককে লাভবান করার জন্য কোনো কৌশল নেই। মার্কেটের ওপর কৃষকের কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। ফলে তারা বাধ্য হয়ে কম মূল্যে পণ্য বিক্রি করেন। পৃথিবীর বহু দেশে সরকার কৃষককে মূল্য সহায়তা দেয়। বাংলাদেশে কোনো কৃষি মূল্য কমিশনও নেই। কৃষি বিপণন অধিদপ্তর একটি অকার্যকর প্রতিষ্ঠান। তাদের লোকবল নেই, তাদের ওয়েবসাইটে আপডেট তথ্যও নেই।

কৃষি মূল্য কমিশন গঠনের ওপর জোর দিয়ে এ গবেষক বলেন, মূল্য কমিশনে কৃষক, ভোক্তা, সরকারের প্রতিনিধি থাকবে। তারা কোনো ফসল উঠলে মূল্য নির্ধারণ করবে। তখন কৃষক দাম পাবেন। কৃষকের সরকারের কাছে কোনো বিষয় নিয়ে দরকষাকষির জায়গা নেই। ফলে বাজারে একটি মধ্যস্বত্বভোগী চক্র শক্তিশালীভাবে সক্রিয় রয়েছে।

নিরাপদ খাদ্যের অভাব: কৃষি উৎপাদন বাড়লেও নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা বাংলাদেশের জন্য প্রধান চ্যালেঞ্জ। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, ৭৩ শতাংশ মাছে রয়েছে মাইক্রোপ্লাস্টিক বা প্লাস্টিকের ক্ষুদ্র কণা, যা স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি। কৃষিতে অতিমাত্রায় কীটনাশকের ব্যবহারও বড় ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করছে। খামারের মাছ-মুরগিকে অ্যান্টিবায়োটিক আর ক্ষতিকর উপাদানযুক্ত খাবার দেওয়া হচ্ছে। খাদ্যচক্রে আরও দূষণের ঝুঁকি আছে। খাদ্য উৎপাদনে সঠিক জ্ঞান ও অসাধুতা এবং বাজারজাতকরণ ও বিপণনে দক্ষ ব্যবস্থাপনার অভাবে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য জোগানে অনেক পিছিয়ে রয়েছে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

খাদ্য উৎপাদন, বাজার পরিস্থিতি, কৃষকের সমস্যা ও খাদ্য নিরাপত্তায় চ্যালেঞ্জসহ নানা বিষয় কৃষিমন্ত্রী ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, বেশি দামে চাল কিনতে হলেও আয় বেড়ে যাওয়ায় জনগণের মধ্যে কোনো অস্বস্তি নেই। সবজিসহ অন্যান্য নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধিতে বাজার ব্যবস্থাপনার দায় রয়েছে। যেখানে ফুলকপি চাষ হচ্ছে, সেখানে তা বেচাকেনা চলছে ১০-১৫ টাকায়। কিন্তু ঢাকায় আনার পর একই জিনিসের দাম হয়ে যায় ৪০-৫০ টাকা। কারণ রাস্তায় চাঁদা নেওয়া হচ্ছে। বাজার সিন্ডিকেটের দখলে। তাই হাত ঘুরে ঘুরে নিত্যপণ্যের দাম বাড়ছে। ক্ষেত থেকে খাবারের টেবিল পর্যন্ত ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা, চাহিদা এবং উৎপাদনের তথ্য-উপাত্তে বিভ্রাট এই মুহূর্তে সবচেয়ে বড় সংকট বলে তিনি মনে করছেন। এসব সংকট নিরসনে সরকার তৎপর রয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি। 

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

পরিবেশ

নকল সার মজুত করায় ব্যবসায়ীকে এক লাখ টাকা জরিমানা

চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলায় নকল সার মজুত ও বিক্রির অপরাধে নয়ন আহম্মেদ (৪০) নামের এক ব্যবসায়ীকে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। রোববার জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক সজল আহমেদ তাঁকে জরিমানা করেন।

সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার কুতুবপুর ইউনিয়নের দত্তাইল গ্রামের মেসার্স নয়ন ট্রেডার্সের মালিক নয়ন আহম্মেদ দীর্ঘদিন ধরে সার ও কীটনাশকের ব্যবসা করে আসছেন। তাঁর বিরুদ্ধে নকল সার ও কীটনাশক বিক্রির অভিযোগ ছিল। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে অসন্তোষ চলছিল।

শনিবার রাতে নয়ন আহম্মেদ কয়েকটি শ্যালো ইঞ্জিনচালিত যান আলমসাধুতে করে বিএডিসির বস্তাভর্তি টিএসপি সারের বড় একটি চালান গ্রামে নিয়ে আসেন। এরপর তা দোকানে না রেখে নিজের বাড়িতে এবং ঘনিষ্ঠ এক ব্যক্তির বাড়ির গোয়ালঘরে মজুত করেন।

শনিবার রাতে নয়ন আহম্মেদ কয়েকটি শ্যালো ইঞ্জিনচালিত যান আলমসাধুতে করে বিএডিসির বস্তাভর্তি টিএসপি সারের বড় একটি চালান গ্রামে নিয়ে আসেন। এরপর তা দোকানে না রেখে নিজের বাড়িতে এবং ঘনিষ্ঠ এক ব্যক্তির বাড়ির গোয়ালঘরে মজুত করেন। সারের এই চালান ও মজুত নিয়ে কয়েকজন কৃষকের সন্দেহ হয়। এর মধ্যে একজন কৃষক শনিবার রাতেই জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে বিষয়টি জানান।

ওই ফোন পেয়ে উপপরিদর্শক (এসআই) তায়েফুজ্জামানের নেতৃত্বে সরোজগঞ্জ ফাঁড়ির পুলিশ সদস্যরা দত্তাইল গ্রামে গিয়ে নয়ন আহম্মেদের বাড়িতে অভিযান চালান। এ সময় তাঁরা ৭৩ বস্তা নকল সার জব্দ এবং নয়ন আহম্মেদকে আটক করে থানায় নিয়ে আসেন। কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের কর্মকর্তারা তাৎক্ষণিক পরীক্ষা করে ওই সব বস্তায় নকল সার থাকার বিষয়ে নিশ্চিত হন।বিজ্ঞাপন

পুলিশের পক্ষ থেকে বিষয়টি রোববার সকালে সদর উপজেলা প্রশাসনকে জানানো হয়। পরে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শামীম ভুইয়ার সঙ্গে পরামর্শ করে সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তালহা জুবাইর মাসরুর ও জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক সজল আহমেদ সরোজগঞ্জে যান।

চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার দত্তাইল গ্রামে  নকল সার মজুত করার অপরাধে সার ব্যবসায়ী নয়ন আহম্মেদকে (মাঝে) রোববার এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়
চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার দত্তাইল গ্রামে নকল সার মজুত করার অপরাধে সার ব্যবসায়ী নয়ন আহম্মেদকে (মাঝে) রোববার এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয় 

সেখানে যাওয়ার পর নকল সার মজুত ও বিক্রির অপরাধে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক সজল আহমেদ ব্যবসায়ী নয়ন আহম্মেদকে এক লাখ টাকা জরিমানা করেন। পরে পুলিশ নয়ন আহম্মেদকে ছেড়ে দেয়।

এ বিষয়ে সার ব্যবসায়ী নয়ন আহম্মেদ বলেন, বিএডিসির বস্তায় টিএসপি সার হিসেবে জব্দ করা সারগুলো নকল। এগুলো ঝিনাইদহের শৈলকুপা এলাকার সার ব্যবসায়ী নাজমুল হকের কাছ থেকে তিনি কিনে এনেছেন।

ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক সজল আহমেদ বলেন, নয়ন আহম্মেদ সচেতনভাবে নকল সার বিক্রি করে মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করে আসছিলেন। বিষয়টি স্বীকার করায় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন ২০০৯ সালের ৪১ ধারায় নয়ন আহম্মেদকে ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তালহা জুবাইর মাসরুর বলেন, বর্তমানে শস্য উৎপাদনের ভরা মৌসুমে সার ও কীটনাশকের চাহিদা বেড়েছে। এই সুযোগে প্রতারক চক্র নকল সার ও কীটনাশক সরবরাহ করতে পারে, এ আশঙ্কায় কৃষকদের সচেতন করা হচ্ছে। কৃষক সচেতন হয়েছেন বলেই নকল সার বিক্রির ঘটনায় জড়িত ব্যবসায়ীকে শাস্তি দেওয়া সম্ভব হয়েছে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

পরিবেশ

পুষ্টিকর খাবারের নিশ্চয়তায় কাজ চলছে: কৃষিমন্ত্রী

লেখক

কৃষিমন্ত্রী ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক বলেছেন, বর্তমান সরকার সবার জন্য নিরাপদ ও পুষ্টিকর খাবারের নিশ্চয়তা দিতে নিরলসভাবে কাজ করছে। সেজন্য ফসলের ভালে উৎপাদনের জন্য প্রচেষ্টা চলছে। ইতোমধ্যে উত্তম কৃষি চর্চা মেনে উৎপাদন কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এটি মেনে ফসল উৎপাদিত হলে খাবারের পুষ্টিমান যেমন অক্ষুণ্ন থাকবে তেমনি পরিবেশেরও ক্ষতি হবে না।

শনিবার বিকেলে রাজধানীর একটি হোটেলে বিশ্ব খাদ্য দিবস উপলক্ষে ‘ভালো উৎপাদনে ভালো পুষ্টি, আর ভালো পরিবেশেই উন্নত জীবন’ শীর্ষক কারিগরি সেশনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। কৃষি মন্ত্রণালয় ও জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা(এফএও) এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

মন্ত্রী বলেন, দেশে পুষ্টিকর খাবারের অভাব নেই কিন্তু সমস্যা হলো বেশিরভাগ মানুষ তা কিনতে পারে না। কারণ, মানুষের আয় সীমিত। সেজন্য সাধারণ মানুষের আয় বাড়াতে হবে।

এফএওর মহাপরিচালক কিউ দোংয়ু ভিডিও বার্তায় বলেন, ‘চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে বিশ্বব্যাপী মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে একটি রেজিলিয়েন্ট, ইনক্লুসিভ ও সাসটেইনেবল কৃষি ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।’

কৃষি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. মেসবাহুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন খাদ্যসচিব ড. নাজমানারা খানুম, বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. শেখ মোহাম্মদ বখতিয়ার ও এফএওর বাংলাদেশ প্রতিনিধি রবার্ট ডি. সিম্পসন প্রমুখ।

সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনা করেন গ্লোবাল অ্যালায়েন্স ফর ইমপ্রুভড নিউট্রিশনের ( গেইন) নির্বাহী পরিচালক ড. লরেন্স হাদ্দাদ। প্রবন্ধে বলা হয়, কোভিডের প্রভাবে বিশ্বব্যাপী অপুষ্টি, দারিদ্র্য ও খাদ্য পণ্যের দাম উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ছে। করোনার কারণে অপুষ্টিতে ২০২২ সালের মধ্যে অতিরিক্ত ১২ মিলিয়ন খর্বাকৃতি শিশু ও ১৩ মিলিয়ন কৃশকায় শিশু যুক্ত হতে পারে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

পরিবেশ

অনলাইনে এলো প্যাকেটবন্দি কাঁঠাল

লেখক

পারিবারিক রেওয়াজ অনুসারে পূজায় দেবীর নৈবেদ্যের থালায় দিতে হবে কাঁঠাল। কিন্তু এই করোনাকাল আর অসময়ে কাঁঠাল পাওয়া দুষ্কর। উপায় না পেয়ে অনলাইনে অর্ডার দিলেন কাঁঠালের। অবশেষে অর্ডার করা সেই কাঁঠাল এসে পৌঁছেছে। ঘটনাটি ভারতের পশ্চিমবঙ্গের ঝাড়গ্রাম শহরের। খবর আনন্দবাজারের।  

আনন্দবাজার জানায়,  ঝাড়গ্রাম শহরের বাছুরডোবায় সেন পরিবার পূজায় নৈবেদ্যের থালায় কাঁঠালের প্রয়োজন হয়। ১৯৪ বছরের পারিবারিক পূজায় অতি প্রয়োজনের কাঁঠাল পাওয়া যাচ্ছিল না। উপায় না পেয়ে অনলাইনে অর্ডার করা হয়। পরে এক বেসরকারি সংস্থার মাধ্যমে প্যাকেটবন্দি হয়ে সেই কাঁঠাল এসে পৌঁছায় সেন পরিবারে। 

সেন পরিবার সূত্রে জানা যায়, ১২৩৫ বঙ্গাব্দে পূর্ববঙ্গের ময়মনসিংহে র আকুয়াপাড়ায় পুজাটি শুরু করেছিলেন অনেক সম্পতির মালিক রামরতন সেন শর্মা।  পারিবারিক পেশা কবিরাজি হলেও রামরতন ছিলেন ময়মনসিংহের মহারাজা সূর্যকান্ত আচার্য চৌধুরীর দেওয়ান। সেই সময় পারিবারিক পূজায় নৈবেদ্যের থালায় সব সময় কাঁঠাল থাকতো।  সেই ঐতিহ্যে ছেদ পড়ে দেশভাগের পর। রামরতনের উত্তরসূরীরা চলে যান ঝাড়গ্রামে।  পঞ্চাশের দশকের গোড়ায় ঝাড়গ্রামে পূজা শুরু হয়।

সেন পরিবারের তরুণ সদস্য দেবব্রত সেন জানান, অকাল বোধনের পুজায় অসময়ের ফল কাঁঠাল দেওয়ার রীতি রয়েছে। কিন্তু আশ্বিন মাসে ঝাড়গ্রামের বাজারে কাঁঠাল পাওয়া যায় না। আগে কলকাতা থেকে কাঁঠাল আনানো হত। করোনা কারণে গত বছর কাঁঠাল পেতে খুবই সমস্যা হয়েছিল। তাই এবার আগে ভাগে অনলাইনে বেঙ্গালুরুর একটি সংস্থার কাছ থেকে কাঁঠাল কেনা হয়েছে। অষ্টমীতে দেবীর নৈবেদ্যের থালায় আম ও নবমীতে কাঁঠাল দেওয়া হয়।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২১ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com