আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

ফল

আপেল-স্ট্রবেরির দরকার নেই, বাঙালিরা পেয়ারা বা বরই খেলেও একই উপকার পাবেন -ইউনিসেফ কর্মকর্তা

আপেল-স্ট্রবেরির দরকার নেই, বাঙালিরা পেয়ারা বা বরই খেলেও একই উপকার পাবেন -ইউনিসেফ কর্মকর্তা
পেয়ারা বাগান থেকে তোলা হচ্ছে ফসল।

স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত শাকসব্জি বা ডিম, ফলমূল ইত্যাদি থেকেই যে শরীরের প্রয়োজনীয় পুষ্টি পাওয়া সম্ভব – আর এর জন্য বাইরে থেকে খাবার আমদানির কোনও প্রয়োজন নেই – এই বার্তা দিতে ভারত জুড়ে শুরু হয়েছে এক বিশাল ক্যাম্পেন।

জাতিসংঘের সংস্থা ইউনিসেফও এই অভিযানে সক্রিয় সমর্থন জানাচ্ছে – যার মূল কথাটা হল স্থানীয় খাবার বা ‘লোকাল ফুড সিস্টেম’-ই আমার আপনার প্রয়োজন মেটাতে যথেষ্ঠ।

ভারতে ইউনিসেফের প্রধান ইয়াসমিন আলি হক একজন বাংলাদেশী নাগরিক, তিনি বলছেন এই কথাটা ভারতের জন্য যেমন – তেমনি বাংলাদেশের জন্যও সত্যি।

ড: হক বিবিসি বাংলাকে বলছিলেন, “লোকাল ফুড সিস্টেম বলতে আমরা বোঝাচ্ছি আমার বাড়ির আঙিনায় যেটা পাওয়া যাচ্ছে, কিংবা আমার বাড়ির পাশের বাজারে যেগুলো সব সময় পাওয়া যাচ্ছে সেগুলোকে।”

 ইয়াসমিন আলি হক
ইয়াসমিন আলি হক

“এখানে আসলে গর্ভবতী মা-ই বলুন বা বাচ্চারা, তাদের কী খাবার দেওয়া হবে সেখানে লোকাল ফুড সিস্টেমের একটা বড় ভূমিকা থাকা উচিত।

“একটা বাচ্চাকে স্ন্যাকস দেওয়ার সময় আমরা তাকে একটা গাজর, কমলালেবু বা পেয়ারা দিতে পারি। কিন্তু সেগুলো না-দিয়ে আমরা তাকে কমার্শিয়ালি অ্যাভেলেবল একটা বিস্কুটের প্যাকেট ধরিয়ে দিচ্ছি কি না, প্রশ্ন সেটাই।”

“লোকাল ফুড সিস্টেম বলছে আমাদের স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত খাবারদাবারেই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া উচিত, এই ধরনের পুষ্টিকর খাবারের জন্যই সবচেয়ে বেশি সওয়াল করা উচিত”, বলছিলেন ড: হক।

তবে ভারতের মতো বিশাল দেশে প্রতিটি রাজ্যে, এমন কী দেশের প্রতিটি জেলাতেও যে স্থানীয় খাবারের ধরনটা পাল্টে যেতে পারে সে কথাও ইউনিসেফ মনে করিয়ে দিচ্ছে।

 বাংলাদেশের নারায়ণগঞ্জে গ্রামের একটি বাজার
বাংলাদেশের নারায়ণগঞ্জে গ্রামের একটি বাজার

“আসলে এক এক জেলাতে এক এক রকম পরিবেশ, এক এক রকম আবহাওয়া। কোথাও মিলেট (জোয়ার, বাজরা, যব) হচ্ছে, কোথাও আবার ভাতটাই প্রধান খাদ্য।”

“আবার এমন কোনও জেলা নেই যেখানে কিছু না-কিছু স্থানীয় ফল বা শাক উৎপাদিত হচ্ছে না।”

“ডিম তো আবার প্রায় সব জায়গাতেই হচ্ছে, কিন্তু আমরা এখন দেখছি বাচ্চারা ডিম না-খেয়ে বাইরে থেকে আনা অন্য খাবারের দিকে ঝুঁকছে।”

“আমাদের কথাটা খুব সহজ, নিজের বাড়ির আঙিনায় একটু কুমড়ো, লালশাক বা পুঁইশাকও তো আমরা লাগাতে পারি। তা না-করে আমরা কি বাজারে যেটা বেশি চোখে পড়ে সেগুলোই শুধু খাচ্ছি?” বলছিলেন ইউনিসেফ ইন্ডিয়ার প্রধান।

কিন্তু তার মানে কি পশ্চিমবঙ্গের একটি শিশুর হিমাচল প্রদেশ থেকে আনা আপেল খাওয়ার কোনও দরকারই নেই?

 কাশ্মীরের একটি আপেল বাগান
কাশ্মীরের একটি আপেল বাগান

ইয়াসমিন আলি হকের জবাব, “সেই প্রয়োজনটা কিন্তু পেয়ারা দিয়েও মেটানো যেতে পারে। কিংবা বাংলায় তো বরই -ও (কুল) প্রচুর পরিমাণে হয়, তারা বরই খেতে পারে। আপেলই খেতে হবে, এমন তো কোনও কথা নেই।”

“বিষয়টা হল, যেখানে যা পুষ্টিকর খাবার স্থানীয়ভাবে পাওয়া যায়, সেটা যদি আমরা ভারসাম্য রেখে খাই – সঠিক পরিমাণে কার্বোহাইড্রেট, প্রোটিন, ভিটামিনস বা শাকসব্জি খেতে পারি – তাহলেই অনেক সমস্যার সমাধান হয়”, বলছিলেন তিনি।

ইয়াসমিন হকের জন্ম ও বেড়ে ওঠা বাংলাদেশে, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের প্রাক্তন ছাত্রী তিনি। কর্মসূত্রে দুনিয়ার নানা দেশে থাকলেও তিনি আজও একজন বাংলাদেশী নাগরিক।

তার সেই বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা কি ভারতের এই ক্যাম্পেনে কোথাও কাজে লাগতে পারে?

“অবশ্যই। বাংলাদেশে ছোটবেলায় আম্মা সব সময় বলতেন গাজর খেতে, তাতে চোখের দৃষ্টি নাকি ভাল হবে। আমরাও যখন মা হয়েছি, বাচ্চাদের গাজর খেতে উৎসাহ দিতে বাড়িতেই ছোট করে গাজর লাগিয়েছি।”

 নৌকা বোঝাই করা হয়েছে বাংলাদেশের তরমুজ
নৌকা বোঝাই করা হয়েছে বাংলাদেশের তরমুজ

“বাংলাদেশে আর একটা জিনিস ছিল, আপনি কি শাকসব্জি ধুয়ে নিয়ে কাটেন না কি কাটার পর ধোন? কাটার পর ধুলে কিন্তু তার ভিটামিন বা মিনারেলস আমরা হারিয়ে ফেলি – আর বাংলাদেশে সেই অভ্যাসটা পাল্টানোর জন্য জাতীয় স্তরে রীতিমতো একটা ক্যাম্পেন দরকার হয়েছিল।”

“আবার সব্জি রান্না করার সময় অনেকে পানিটা ফেলে দেয়, কিন্তু ওই পানির সঙ্গে অনেক পুষ্টিগুণও চলে যায়। এই অভ্যাসটা পাল্টানোর জন্যও সেখানে অনেক প্রচার চালানো হয়েছে,” বলছিলেন ড: হক।

আসলে সাধারণ মানুষ তাদের খাদ্যাভ্যাসে ছোট ছোট কিছু পরিবর্তন আনলেই যে নিজেদের ডায়েটে অনেক বেশি পুষ্টি নিশ্চিত করতে পারবে, এই অভিযানের মাধ্যমে ইউনিসেফ সেই বার্তাটাই দিতে চাইছে।

আর ঠিক সেই প্রসঙ্গেই একটি দৃষ্টান্ত দিয়ে বলা হচ্ছে, বাঙালিদের জন্য পেয়ারা-বরই যথেষ্ঠ – আপেল-স্ট্রবেরি না খেলেও তাদের দিব্বি চলে যাবে!

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন

অনুগ্রহ করে মন্তব্য করতে লগ ইন করুন লগ ইন

মন্তব্য এর উত্তর দিন

ফল

জয়পুরহাটে স্ট্রবেরি চাষে সাফল্য

জয়পুরহাটে স্ট্রবেরি চাষে সাফল্য
জয়পুরহাটে স্ট্রবেরি চাষে সাফল্য

জয়পুর হাটের উর্বর ভূমি স্ট্রবেরি চাষের উপযোগি। এ কারণে সহজ হয়ে উঠছে স্ট্রবেরি চাষ। কৃষকরা স্ট্রবেরি চাষ করে সুফল পেতে শুরু করেছে। গুণে-মানে স্বাদে ভালো হওয়ায় চাহিদাও বেশ।

জয়পুরহাট সদরের কৃষক মামুনুর রশিদ। কয়েক বছর ধরেই স্ট্রবেরি চাষ করে আসছেন। দেখেছেন সাফল্যের মুখও। শুধু চারা বিক্রি করেই গত বছরে তার লাভ হয়েছে লাখ টাকা। এ বছরেও চারা বিক্রি করছেন তিনি। তাতে তার লক্ষ্য অন্তত দেড় লাখ টাকা লাভ। এসব চারা বিক্রি শেষে পরে একই জমিতে আবারও তিনি চারা তৈরি করবেন। পরে সেই চারা দিয়ে তিন বিঘা জমিতে চাষ করবেন স্ট্রবেরি। গত বছরে লাখ খানেক টাকা লাভ হলেও এবার কয়েক লাখ টাকা আয়ের স্বপ্ন দেখছেন তিনি।

স্ট্রবেরি দিয়েই লাভের স্বপ্ন দেখছেন রাজশাহীর চরঘাটার বাবু ইসলামও। বাবু বলেন, গত বছর আধা বিঘা জমিতে স্ট্রবেরি চাষ করেছি। ৬০ হাজার টাকা খরচ করে দেড় লাখ টাকা লাভ হয়েছে। এবার আরও বেশি জমিতে স্ট্রবেরি লাগানোর ইচ্ছে রয়েছে। তিনি বলেন, এখন চারা তৈরি চলছে। নভেম্বরের দিকে স্ট্রবেরি চাষ শুরু বে। একই এলাকার কৃষক আব্দুল লতিফও জানালেন একই কথা। তারা বলছেন, স্ট্রবেরি চাষ এখন গোটা এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে।
এদিকে, স্ট্রবেরি চাষকে আরও জনপ্রিয় করে তুলতে কাজ করে যাচ্ছে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট। গত বছর পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটি স্ট্রবেরির তিনটি উচ্চফলনশীল জাত এবং উন্নত উদ্ভাবন কৌশল উদ্ভাবন করেছে। জাতগুলো সফলভাবে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে চাষ হচ্ছে। এ ছাড়াও মাঠ পর্যায়ে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর ও কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের কর্মীরা প্রশিক্ষণ দিয়ে যাচ্ছেন।

সম্প্রতি কৃষি অর্থনীতি বিভাগ ও বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের এক গবেষণায় দেখা গেছে, স্ট্রবেরির প্রতিটি গাছে ৪০টি ফল ধরে। প্রতি বিঘা জমিতে প্রায় ২ হাজার ৭৭৮ কেজি ফলন হয়। প্রতি কেজি স্ট্রবেরির উৎপাদন খরচ প্রায় ৪২ টাকা। আর সেটা বিক্রি করা যায় পাওয়া যায়একশ টাকা। সেই হিসাবে এক বিঘা জমিতে এক লাখ টাকা খরচ করে স্ট্রবেরি চাষ করে অন্তত ৩ লাখ টাকা লাভ হতে পারে। এসব বিবেচনায়, স্ট্রবেরি চাষ খুবই লাভজনক বলে দাবি বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের।

স্ট্রবেরি রসালো ও পুষ্টিকর ফল। রঙ, গন্ধ ও স্বাদে অতুলনীয় হওয়ায় এটি সারাবিশ্বে সমাদৃত। ফলটি রবি মৌসুমে চাষের উপযোগী। দেশের আবহাওয়ায় আশ্বিন মাসই (মধ্য সেপ্টেম্বর থেকে মধ্য অক্টোবর) স্ট্রবেরির রোপণের উপযুক্ত সময়। তবে নভেম্বর-ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত চারা রোপণ করা যায়। ডিসেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে গাছে ফুল আসতে শুরু করে এবং ডিসেম্বরের শেষ ভাগ থেকে পর্যন্ত ফল আহরণ করা যায়।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ফল

সারা বছর মিলবে সুস্বাদু কাঁঠাল

সারা বছর মিলবে সুস্বাদু কাঁঠাল
সারা বছর মিলবে সুস্বাদু কাঁঠাল

বাংলাদেশের জাতীয় ফল কাঁঠাল। এটি মৌসুমি ফল। তাই সব মৌসুমে ফলটির স্বাদ পাওয়া যায় না। এ ছাড়া মৌসুমে এর সংরক্ষণব্যবস্থাও গড়ে ওঠেনি। তাই ফলটির অর্থনৈতিক গুরুত্ব কমে গেছে। তবে দেশীয় কৃষিবিজ্ঞানীরা নানা ধরনের প্রতিবন্ধকতা রোধ করে কাঁঠালের অর্থনৈতিক গুরুত্ব বাড়াতে কাজ করেছেন। এর ধারাবাহিকতায় বারোমাসি কাঁঠালের তিনটি জাত উদ্ভাবন করেছেন বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বারি) বিজ্ঞানীরা।

ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে এ ধরনের কাঁঠাল চাষ সম্প্রসারণের কার্যক্রম। এতে নতুন সম্ভাবনা জেগেছে কাঁঠাল চাষ ঘিরে। বারির বিজ্ঞানীরা জানান, প্রাথমিক পর্যায়ে কৃষি গবেষণা ফাউন্ডেশনের অর্থায়নে উচ্চফলনশীল বারোমাসি জাতের কাঁঠাল চাষ সম্প্রসারণ প্রকল্পের অধীন ও সাডা নামক বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সহায়তায় খাগড়াছড়ির রামগড়, নরসিংদী, গাজীপুর ও ময়মনসিংহ জেলায় মাঠপর্যায়ে চলছে এ ধরনের কাঁঠাল চাষ সম্প্রসারণের কাজ। প্রতিটি জেলায় ২৫ জন চাষি ও ৫টি নার্সারির মধ্যে বারি উদ্ভাবিত চারা বিতরণ করা হয়েছে। এ ছাড়া এ ধরনের কাঁঠাল চাষে কৃষকদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে, যা পর্যায়ক্রমে সারা দেশে ছড়িয়ে দেওয়া হবে।

কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের ফল বিভাগ ও উদ্যানতত্ত্ব গবেষণাকেন্দ্রের বিজ্ঞানীদের দেওয়া তথ্যমতে, দেশের সব এলাকাতেই মূলত কাঁঠালের চাষ হয়। তবে ঢাকার উঁচু অঞ্চল, ময়মনসিংহের ভালুকা, ভাওয়াল ও মধুপুরের গড়, সিলেটের পাহাড়ি এলাকা, রাঙামাটি ও খাগড়াছড়িতে সর্বাধিক পরিমাণে কাঁঠাল উৎপাদিত হয়। তবে কাঁঠাল মৌসুমি ফল হওয়ায় সাধারণত বছরে তিন মাসের বেশি কাঁঠাল পাওয়া যায় না। কাঁঠালের অর্থনৈতিক ও পুষ্টিগুণের কথা বিবেচনা করে দেশীয় কৃষিবিজ্ঞানীরা সারা বছর কাঁঠাল উৎপাদনের লক্ষ্যে তিনটি কাঁঠালের জাত উদ্ভাবন করে অবমুক্ত করেছেন। এর মধ্যে বারি-১ জাতের উচ্চফলনশীল কাঁঠাল পাওয়া যাবে বছরের মে-জুন, উচ্চফলনশীল অমৌসুমি জাত বারি-২ কাঁঠাল পাওয়া যাবে জানুয়ারি-এপ্রিল এবং নিয়মিত ফল দানকারী উচ্চফলনশীল বারোমাসি বারি-৩ পাওয়া যাবে সেপ্টেম্বর-জুন মাস পর্যন্ত।

উদ্ভাবিত এ তিনটি জাত সারা দেশেই আবাদযোগ্য। বারি-৩–এর উৎপাদন হেক্টরপ্রতি ১৩৩ মেট্রিক টন, বারি-১–এর উৎপাদন হেক্টরপ্রতি ১১৮ মেট্রিক টন ও বারি-২–এর উৎপাদন হেক্টরপ্রতি ৫৮ মেট্রিক টন।

দীর্ঘদিন ধরে কাঁঠাল নিয়ে গবেষণা করছেন গাজীপুরের বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের ফল বিভাগের ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো. জিল্লুর রহমান। তিনি জানান, উদ্ভাবিত তিনটি জাতের মাধ্যমে সারা বছর ধরেই কাঁঠাল পাওয়া যাবে। মৌসুমের বাইরেও অন্যান্য সময় ধরে উৎপাদিত কাঁঠালও হবে খুব সুস্বাদু। এতে যেমন দেশের লোকজন সারা বছর ধরে কাঁঠালের স্বাদ গ্রহণ করতে পারবেন, তেমনি অধিক মূল্যে কাঁঠাল বিক্রি করতে পারবেন। দেশের মানুষের পুষ্টি ও অর্থনৈতিক গুরুত্ব বাড়াবে কৃষি গবেষণা প্রতিষ্ঠানের উদ্ভাবিত কাঁঠালের এই তিন জাত। তিনি আরও জানান, দেশে কাঁঠালের অসংখ্য জাত রয়েছে, কিন্তু এর নির্দিষ্ট কোনো নাম নেই। এর মধ্যে সারা দেশে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে অসংখ্য বারোমাসি জাতের কাঁঠাল। এসব কাঁঠালের জাত ধরে রাখার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ফল

কমলা চাষ করে সফল ঘাটাইলের শামসুল

নিজের বাগানে কমলা দেখছেন রসুলপুর গ্রামের সফল চাষি শামসুল আলম
নিজের বাগানে কমলা দেখছেন রসুলপুর গ্রামের সফল চাষি শামসুল আলম

টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে চায়না কমলাবাগান করে ব্যাপক সাফল্য পেয়েছেন শিক্ষক শামসুল আলম। তাঁর বাগানের শতাধিক গাছে থোকায় থোকায় কমলা ধরেছে। কমলা আকারে যেমন বড়, তেমন স্বাদেও খুব মিষ্টি।

এই বাগান দেখতে প্রতিদিন ভিড় করছেন বিভিন্ন এলাকার ফলচাষিরা। ভালো ফলন দেখে উৎসাহী হয়ে অনেকেই কমলা চাষের উদ্যোগ নিচ্ছেন।

ঘাটাইল উপজেলার উত্তর সীমান্তে রসুলপুর গ্রামে শামসুল আলমের কমলাবাগান। ছয় বছর আগে তিনি তাঁর পৈতৃক সাত একর জমিতে ফলের বাগান করেন। কৃষি বিভাগের পরামর্শে প্রায় তিন বছর আগে সেই বাগানে শতাধিক কমলার চারা রোপণ করেন। এবারই প্রথম গাছগুলোতে ফল এসেছে। প্রতিটি গাছে ৪০ থেকে ৩ শতাধিক করে কমলা ধরেছে।

শামসুল আলমের বাগানে গিয়ে দেখা যায়, গাছগুলোয় কমলা ধরে আছে। কোনোটা পেকে হলুদ হয়ে গেছে। আবার কোনোটা সবুজ রয়ে গেছে। শামসুল আলম পরিচর্যা করছেন বাগান। তিনি বলেন, এর আগে এ এলাকায় অনেকেই কমলার বাগান করে সফল হতে পারেননি। সে সময় কমলার যে ফলন তাঁরা পেয়েছিলেন, তা ছিল অত্যন্ত টক। কিন্তু তিনি কৃষি বিভাগের পরামর্শে চ্যালেঞ্জ হিসেবে কমলার বাগান করেছিলেন। প্রথম বছরেই সাফল্য পেয়েছেন। সর্বোচ্চ তিন শতাধিক কমলা ধরেছে একটি গাছে। প্রথমবার ফলন কম। সামনে ফলন আরও বাড়বে।

শামসুল আলমের কমলার চাষের সাফল্য দেখে তাঁর নিজ এলাকা তো বটেই, আশপাশের বিভিন্ন এলাকার লোকজন কমলা চাষে উৎসাহী হচ্ছেন। শামসুল আলমের বাগানেই কথা হয় রসুলপুর গ্রামের আবদুল মান্নানের সঙ্গে। তিনি বলেন, শামসুল আলমের বাগানের কমলা ভালো ফলন দেখে তিনি নিজেও কমলা চাষের উদ্যোগ নিয়েছেন। কমলার বাগান করার জন্য এক একর জমি প্রস্তুত করেছেন। 

এ ছাড়া ঘাটাইলের শালিয়াবহ গ্রামের মোখলেছুর রহমান, উপজেলা সদরের মনছুর আলী, পার্শ্ববর্তী মধুপুর উপজেলার বেতবাড়ী গ্রামের আবদুস সাত্তারও কমলাবাগান করছেন শামসুল আলমের বাগানের ভালো ফলন দেখে। আশপাশের জেলা থেকেও উৎসাহী লোকজন এসেছেন কমলার বাগান দেখতে। ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলার ইকবার হোসেন জানান, তিনিও কমলাবাগান করতে আগ্রহী। শামসুল আলমের বাগানে ভালো ফলন হয়েছে শুনে দেখতে এসেছেন।

শামসুল আলম জানান, প্রথমবার, তাই অনেক কমলা আত্মীয়স্বজন, এলাকার মানুষ, দেখতে আসা উৎসাহী মানুষদের দিয়েছেন। এরপরও বাগান থেকেই দেড় শ টাকা কেজি দরে লক্ষাধিক টাকার কমলা বিক্রি করছেন। তিনি বলেন, ‘যখন কমলাবাগান করি, তখন অনেকেই নানা কটূক্তি করতেন। তাঁরা বলতেন এই এলাকায় কখনো মিষ্টি কমলা হবে না। কিন্তু আমার বাগানের কমলার ফলনে প্রমাণিত হয়েছে যে এখানেও মিষ্টি জাতের ভালো কমলার ফলন হবে।’

টাঙ্গাইল কৃষি বিভাগের উপপরিচালক মো. আবদুর রাজ্জাক বলেন, এ অঞ্চলের মাটি কমলা চাষের উপযোগী। কৃষি বিভাগ থেকে কমলাগাছ রোপণ ও পরিচর্যার বিষয়ে চাষিদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া মাঠপর্যায়ের কর্মীরা কৃষকদের কমলা চাষের বিষয়ে পরামর্শও দিচ্ছেন।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ফল

সৌদির ‘সাম্মাম’ এখন বরেন্দ্রভূমিতে

সাম্মামখেতে মনিরুল ইসলাম
সাম্মামখেতে মনিরুল ইসলাম

সৌদি আরব থেকে বীজ নিয়ে এসে বরেন্দ্রভূমিতে ‘সাম্মাম’ চাষ করে সফল হয়েছেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌর এলাকার মনিরুল ইসলাম। জেলায় এই প্রথমবারের মতো ফলটি পরীক্ষামূলকভাবে চাষ করে আশাব্যঞ্জক ফলাফল পেয়েছেন তিনি। আগামী বছর তিনি বাণিজ্যিকভাবে এর চাষাবাদ করবেন।

মনিরুল ইসলাম জানান, তিনি ১৬ বছর ধরে সৌদি আরবের রিয়াদে গাড়িচালকের কাজ করার পর দেশে ফিরে এসে পৈতৃক সূত্রে পাওয়া জমিতে কৃষিকাজ করবেন বলে মনস্থির করেন। ধান চাষ না করে কোনো নতুন ফলের চাষ করার কথা মাথায় আসে তাঁর। সৌদি আরব ও এর আশপাশের দেশের অত্যন্ত জনপ্রিয় ফল সাম্মামের কথা তখন মনে আসে তাঁর। তিনি সৌদি আরব থেকে সাম্মাম ফলের দুটি ও পরে কুয়েতপ্রবাসী এক আত্মীয়ের মাধ্যমে আরও দুটি জাতের সাম্মাম ফলের বীজ সংগ্রহ করেন। তিন মাস আগে বরেন্দ্র এলাকার চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার ঝিলিম ইউনিয়নের ডাকুইর এলাকার জমিতে সাম্মামের চার প্রজাতির ফল চাষ করেন তিনি। ফলটির আশানুরূপ উৎপাদন হয়েছে। পাশাপাশি খেতেও সুস্বাদু হয়েছে। এ কারণে আশপাশের চাষিদের মধ্যেও এটি আগ্রহের সৃষ্টি করেছে।

সম্প্রতি মনিরুল ইসলামের সাম্মামখেতে গিয়ে দেখা গেছে, লতানো গাছে মাটিতে ধরে আছে অনেক ফল। মনিরুল বলেন, প্রথম বছর পরীক্ষামূলকভাবে চাষ করার কারণে মাটিতে ফল নিয়েছেন। এতে আগাছায় ছেয়ে গেছে খেত। তারপরও ফলন ভালো হয়েছে। দেড় বিঘা জমিতে ফলন হয়েছে ১০০ মণের বেশি। সামনের বছর তিনি সাম্মামের জমিতে টাল দেবেন। এই টালের ওপর ফলন যেমন ভালো হবে, তেমনি ভালো হবে মানও।

মনিরুল ইসলাম জানান, একেকটি ফল এক কেজি থেকে তিন কেজি পর্যন্ত হয়েছে। এই চার প্রজাতির মধ্যে একটির রং পুরো হলুদ, দুটির রং সবুজ, ত্বক জালিকার মতো। অপরটি ডোরাকাটা। এর মধ্যে ডোরাকাটার মতো ফলটির স্বাদ পাকা পেঁপের মতো। অন্যগুলো সাদা ও সবুজের মিশেল। সব কটিই সুস্বাদু ও সুগন্ধযুক্ত।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ হর্টিকালচার সেন্টারের উপপরিচালক উদ্যানতত্ত্ববিদ সাইফুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, বাঙ্গিজাতীয় এ ফলকে রক মেলনও বলা হয়ে থাকে। চাঁপাইনবাবগঞ্জে প্রথমবারের মতো এর উৎপাদন আশাব্যঞ্জক হয়েছে। স্বাদ ও সুগন্ধেও ফলটি আকর্ষণীয়। দেশি বাঙ্গির মতো পানসে ভাব নেই। মিষ্টতা মেপে দেখা গেছে, ৮ থেকে ১০ শতাংশ। এ ফলে পর্যাপ্ত পরিমাণ বিটা ক্যারোটিন রয়েছে, যা কমলার চেয়ে ২০ ভাগ বেশি। এ ছাড়া প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন সিও আছে এই ফলে। আরও আছে পটাশিয়াম, ফলিক অ্যাসিড, ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম, ফসফরাস, জিঙ্ক, কপার, ম্যাঙ্গানিজ, ম্যালেনিয়াম প্রভৃতি। এ ফল অ্যান্টি–অক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে। অর্থাৎ রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়ায়।

সাইফুর রহমান বলেন, সৌদি আরব ও আশপাশের দেশগুলোতে এর চাষ হলেও আমাদের এই আবহাওয়ায় ফলটি মানিয়ে নিয়েছে। এখানে এ ফল চাষের উজ্জ্বল সম্ভাবনা রয়েছে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ফল

কলা চাষ করে লাভবান জয়পুরহাটের কৃষকরা

কলা চাষ করে লাভবান জয়পুরহাটের কৃষকরা
কলা চাষ করে লাভবান জয়পুরহাটের কৃষকরা

আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ায় জয়পুরহাট জেলায় বর্তমানে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে কলার চাষ। কলা চাষীদের পরিবারে কেবল ভাত কাপড়ের ব্যবস্থাই নয়, অন্যান্য ব্যয়ের সংস্থানও হচ্ছে কলা চাষ করে। জয়পুরহাট জেলার প্রধান অর্থকরি ফসল হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ এ কলা। জেলায় বিশেষ করে জামালগঞ্জ ও ভাদসা এলাকার অনেক পরিবার কেবল কলা চাষ করেই স্বাবলম্বী হয়েছেন। বাসস

কৃষকদের সাঙ্গে আলাপ করে জানা যায়, অন্য যে কোন ফসলের চেয়ে অনেক বেশী লাভ হয় কলা চাষে। বিশেষ করে যমুনা সেতু চালু হওয়ার পর থেকে জয়পুরহাট জেলার জামালগঞ্জে ও ভাদসার দূর্গাদহ বাজারে কলার বিস্ময়কর বাজার সৃষ্টি হয়েছে। অন্যান্য ফসলের পাশাপাশি এখন কলার চাষও বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। ২/৩ ফুট লম্বা চারা কলা গাছ লাগানোর অল্প দিনেই ফল পাওয়া যায়। সাধারণত বৈশাখ মাসে কলার চারা রোপণ করলে অগ্রহায়ণ মাস থেকে কলা পাওয়া শুরু হয়। যেসব জমিতে বর্ষার পানি সাধারনত এক সপ্তাহের বেশি থাকে না সে সকল জমিতে কলার চাষ ভাল হয়। কৃষকরা জানান, একবিঘা জমিতে কলার জাত ভেদে ৩শ থেকে সাড়ে ৩শ কলার চারা রোপণ করা হয়ে থাকে। যত্ন সহকারে কলা চাষ করলে একটি গাছ থেকে ২ থেকে আড়াই মণ কলা পাওয়া যায়। এক বিঘা জমিতে কলা চাষ করতে ১৫/২০ হাজার টাকা খরচ পড়লেও প্রতি বিঘা জমি থেকে কলা বিক্রি হয় ৮০ হাজার থেকে এক লাখ টাকা। যা অন্য কোন ফসলে সম্ভব নয়।রাজধানী ঢাকা , চট্রগ্রাম, সিলেট, কুমিল্লা, চাঁদপুর, নোয়াখালী, ভৈরবসহ দেশের ৩৫ জেলায় যাচ্ছে এখানকার কলা।

স্থানীয় কৃষি বিভাগ জানায়, জয়পুরহাট জেলায় এবার ৮শ হেক্টর জমিতে এবার কলার চাষ হয়েছে। এতে উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৩০ হাজার মেট্রিক টন। আশরাফুল ইসলাম বলেন, তিনি এবার ৫ বিঘা জমিতে কলার চাষ করেছেন। খরচ বাদে প্রতি বিঘায় ৬০ হাজার থেকে ৮০ হাজার টাকা পর্যন্ত লাভ হয়েছে বলে জানান তিনি। আরেক কলা চাষী নূর আলম বলেন কলা বিক্রিতে কোন ঝামেলা হয় না। খুচরা পাইকাররা জমি থেকেই কলা কেটে নিয়ে যায়।

এ ছাড়াও জামালগঞ্জ ও দূর্গাদহ বাজারে কলার বিশাল হাট বসে। প্রত্যেক দিন সকালে ৬০/৬৫ জন আড়ৎদার কলা কিনে ট্রাকে লোড দেন। প্রতি কাইন ( স্থানীয় নাম ঘাউর) বিক্রি হয় চাপা কলা ১৫০-৩৫০ টাকা, সবরি কলা ৪০০-৫০০ টাকা, সাগর ও রঙ্গিন মেহের সাগর কলা প্রতি কাইন বিক্রি হচ্ছে ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা। প্রায় ৫ শতাধিক লোক প্রতিদিন কলা কেনা-বেচার সঙ্গে জড়িত থাকেন। প্রায় কোটি টাকার কলা কেনা বেচা হয় বলে জানান স্থানীয় কলা ব্যবসায়ীরা। জেলা শহরের গুলশান চৌ মোড়ে হাট বসে ছোট আকারে।

জয়পুরহাটের কলা উন্নত মানের হওয়ায় দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করে থাকেন ব্যবসায়ীরা। বিশেষ করে ঢাকা, সিলেট ও চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, ভৈরব, নোয়াখালী, চাঁদপুরসহ ৩৫ জেলায় জয়পুরহাটের কলার বড় মার্কেট বলে জানান ব্যবসায়ী শফিকুল ইসলাম, বাবু, তাব্বা ও মিজানুর রহমান। জয়পুরহাট থেকে প্রতিদিন গড়ে ১৪/১৫ ট্রাক কলা দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করা হয় বলে জানান এস এ ট্রেডার্সের মালিক ও বিশিষ্ট কলা ব্যবসায়ী শফিকুল ইসলাম। জয়পুরহাটে উৎপাদিত কলার মধ্যে রয়েছে ওষুধী কলা হিসেবে চিহ্নিত চাম্পা কলা, সবরি কলা , রঙ্গিন মেহের সাগর ও সাগর কলা। বর্তমানে জয়পুরহাটের হাটবাজারে সবরি কলা ১৮ থেকে ২০ টাকা হালি এবং চাম্পা ও সাগর কলা ৮ থেকে ১৫ টাকা হালি বিক্রি হচ্ছে। কলা চাষ বেশ লাভজনক ফসল। জেলার প্রায় ১০ হাজার পরিবার কলা চাষের সঙ্গে জড়িত। কলা চাষ করে অনেকেই স্বাবলম্বী হয়েছেন।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

© স্বত্ব দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেড দ্বারা পরিচালিত - ২০১৯
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com