আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

দৈনন্দিন

ভিটামিন সি’র অভাব হলে বুঝবেন কীভাবে

লেখক

ভিটামিন সি স্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে একটি অত্যন্ত প্রয়োজনীয় পুষ্টি। ভিটামিন সি এমন একটি শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, যা হৃৎপিণ্ড ভালো রাখে এবং অন্যান্য দীর্ঘস্থায়ী রোগ থেকেও আমাদের রক্ষা করে। ভিটামিন-সি ত্বকের জন্যও অত্যন্ত উপকারী। শরীরে ভিটামিন সি’র ঘাটতি হলে, বিভিন্ন স্বাস্থ্য সমস্যা দেখা দেয়। এ কারণে ভিটামিন-সি এর অভাবজনিত লক্ষণগুলি দেখা দিলে সতর্ক থাকা উচিত।

ভিটামিন-সি এর অভাবে যেসব স্বাস্থ্য সমস্যা দেখা দেয়-

শুষ্ক ত্বক
 : ভিটামিন-সি ত্বকের কোলাজেন উৎপাদনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ভিটামিন-সি এর অভাব, ত্বককে শুষ্ক ও ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। এর ফলে ত্বক নিস্তেজ এবং প্রাণহীন হয়ে ওঠার পাশাপাশি কুঁচকে যায়।

ক্ষতের নিরাময় ধীর গতি : ভিটামিন-সি কোলাজেন উৎপাদনের উপর সরাসরি প্রভাব ফেলে। তাই শরীরে ভিটামিন-সি এর ঘাটতি দেখা দিলে, ক্ষত নিরাময় প্রক্রিয়া অত্যন্ত ধীরে হয়ে যায়। তাছাড়া ভিটামিন-সি এর অভাবে, সংক্রমণের বিস্তারও বৃদ্ধি পেতে পারে। এটি ভিটামিন-সি এর গুরুতর অভাবজনিত লক্ষণের মধ্যে অন্যতম।

দাঁত এবং মাড়ি থেকে রক্তপাত হওয়া : ভিটামিন-সি কেবলমাত্র ত্বকের ক্ষেত্রে নয়, দাঁতের স্বাস্থ্যের ক্ষেত্রেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শরীরের ভিটামিন-সি এর ঘাটতির কারণে কোলাজেনের গঠন দুর্বল হয়, ফলে মাড়ি ফুলে যাওয়া এবং মাড়ি থেকে রক্তপাত হওয়ার মতো ঘটনা ঘটে। তাছাড়া এই ঘাটতি মারাত্মক আকার ধারণ করলে, দাঁত পড়ে যাওয়ার মতো সমস্যাও দেখা দিতে পারে।

অস্থিসন্ধির ব্যথা :  অস্থিসন্ধির কার্টিলেজ প্রাথমিকভাবে কোলাজেন দিয়েই তৈরি। তাই ভিটামিন-সি এর অভাবে, হাড়ের চারপাশের কম প্যাডিং হয়। এর ফলে একটুতেই অস্থিসন্ধিতে ব্যথা অনুভব হতে পারে। তাছাড়া ভিটামিন-সি এর অভাবে, অস্থিসন্ধি এবং হাড়ের চারপাশে প্রদাহ ও ফোলাভাবও দেখা দিতে পারে।

দুর্বল রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা
 : ভিটামিন-সি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ। এটি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে শক্তিশালী করে তুলতে অত্যন্ত সহায়ক। তাই শরীরে ভিটামিন-সি এর অভাব দেখা দিলে, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও দুর্বল হয়ে পড়ে। যার ফলে ঘন ঘন বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়।


ওজন বৃদ্ধি
 : অনেক সময় হঠাৎ করে ওজন বৃদ্ধির পেছনেও ভিটামিন-সি এর অভাব থাকে। ভিটামিন-সি এর অভাবে, বিশেষ করে পেটে চর্বি জমা হয়।

অবিরাম ক্লান্তি 
: ভিটামিন-সি এর অন্যতম অভাবজনিত লক্ষণ হল, সবসময় ক্লান্তি বোধ করা। এর অভাবে শরীরে দুর্বলতা দেখা দেয়। সেই সঙ্গে রক্তাল্পতাও হতে পারে। তাছাড়া ভিটামিন সি এর অভাবে, কাজ করায় অনীহা, আলস্য এবং খিটখিটে মেজাজ হওয়ার মতো সমস্যাও দেখা দিতে পারে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

দৈনন্দিন

অতিরিক্ত ঘাম হতে পারে রোগের উপসর্গ

লেখক

চারদিকে ভ্যাপসা গরম। বৃষ্টি হলেও গরমভাব তেমন কমছে না। এই অতিরিক্ত ঘাম হওয়াটা অস্বস্তিকর ব্যাপার। বাইরে বের হওয়ার পর কাপড়-চোপড় ভিজে একাকার। আপাতদৃষ্টিতে এ সমস্যাটিকে বিরক্তিকর মনে হলেও এই ঘামের মাধ্যমে তাপ ছেড়ে দেওয়ার প্রক্রিয়াটি আপনার শরীরকে ভয়ংকর তাপমাত্রার ক্ষতিকর প্রভাব থেকে রক্ষা করছে।

আসলে লোমকূপের গোড়ায় লুকিয়ে থাকা ঘর্মগ্রন্থি আমাদের দেহের তাপমাত্রার ভারসাম্য রক্ষা করার কাজটি গোপনে করে যাচ্ছে। এ ছাড়া শারীরিক পরিশ্রম ও ব্যায়াম, জ্বর, ব্যথা বা দুশ্চিন্তায় দেহের সিমপ্যাথেটিক স্নায়ুতন্ত্র উজ্জীবিত হওয়ার মাধ্যমে প্রচুর ঘাম সৃষ্টি করে। এসবই স্বাভাবিক শারীরবৃত্তিক ঘটনা। তবে হঠাৎ অতিরিক্ত ঘেমে যাওয়া কোনো সমস্যা বা রোগের উপসর্গও হতে পারে।

নারীরা গর্ভাবস্থায় বেশি ঘামেন। মাসিক বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর নারীরা হঠাৎ গরমে অস্থির হন, ঘাম হয়, সঙ্গে বুক ধড়ফড়ও করতে পারে। এই বিশেষ সমস্যার নাম হট ফ্লাশ। এমনিতে সেরে না গেলেও এর জন্য হরমোন থেরাপি লাগতে পারে। থাইরয়েড বা গ্রোথ হরমোনজনিত জটিলতায় অনেক ঘাম হতে পারে। রাতে ঘাম হয় যক্ষ্ণা রোগীদেরও। কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় ঘাম হতে পারে।

ডায়াবেটিক রোগী যারা ওষুধ খাচ্ছেন বা ইনসুলিন নিচ্ছেন, তাদের রক্তের শর্করা হঠাৎ কমে গেলে ঘামতে পারেন। সঙ্গে বুক ধড়ফড় করা, অস্থির লাগা, মাথা ঘোরা, চোখে ঝাপসা দেখা বা অসংলগ্ন কথা বলতে পারেন। এটি একটি বিপদসংকেত। সঙ্গে সঙ্গে চিনির শরবত বা মিষ্টি কিছু খেয়ে নিলে এই বিপদ থেকে রক্ষা পাওয়া যায়।

ঘামের সঙ্গে বুকে চাপ বা ব্যথা হার্ট অ্যাটাকেরও লক্ষণ হতে পারে। রাতে অতিরিক্ত ঘাম হচ্ছে কিনা, কেবল এক পাশে বেশি হচ্ছে কিনা। বুকে ব্যথা, বুক ধড়ফড়ানি, কাশি, জ্বর বা অন্যান্য উপসর্গ আছে কিনা। ডায়াবেটিক রোগী হলে খেতে অনেক দেরি হয়ে গেছে কিনা।

শিশুদের কাশি-সর্দি থাকাকালে মাথা ঘেমে গেলে এবং তার সঙ্গে শ্বাস-প্রশ্বাসের হার বেড়ে গেলে তা হার্ট ফেইলুরের অশনিসংকেত বহন করতে পারে। বড়দেরও মাথা ঘামার সঙ্গে বুকে ব্যথা, ব্যথা ঘাড় বা হাতে নেমে যাওয়াও ভালো লক্ষণ নয়। এ ক্ষেত্রে হৃদরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

দৈনন্দিন

তৈলাক্ত ত্বকের ঘরোয়া প্যাক

শীত, গ্রীষ্ম, বর্ষা—যেকোনো ঋতুতেই ত্বক সুস্থ রাখতে প্রয়োজন সঠিক যত্নের। আলাদা আলাদা ত্বকের সমস্যাও থাকে আলাদা, যত্নের পদ্ধতিও আলাদা।

যাঁদের তৈলাক্ত ত্বক, তাঁদের যেন ভোগান্তি একটু বেশিই। তাঁরাই বোঝেন এর যন্ত্রণা কতটা। যতই সুন্দর করে মেকআপ করা হোক, কিছুক্ষণ পর মুখ আবার সেই তেলতেলে, চিটচিটে। রাস্তায় বেরোলেই মুখে ময়লা জমে একাকার। বাইরের ধুলা-ময়লা তৈলাক্ত ত্বকে আটকে গিয়ে দেখা দেয় নানা সমস্যা। এর মধ্যে ব্রণের সমস্যা সবচেয়ে বেশি। তৈলাক্ত ত্বকের যত্নে বাইরের রাসায়নিকসমৃদ্ধ প্রসাধনীর চেয়ে প্রাকৃতিক উপাদানগুলো বেশি কার্যকর। আসুন জেনে নিই প্রাকৃতিক উপাদানে ঘরোয়াভাবে তৈরি কিছু ফেসপ্যাক সম্পর্কে, যা তৈলাক্ত ত্বকের তেলতেলে ভাব দূর করে, ব্রণ কমিয়ে মুখে ফিরিয়ে আনবে উজ্জ্বলতা।

বেসনের ফেসপ্যাক

বেসন হলো প্রাকৃতিক ফেসওয়াশ, যা মুখের তেলতেলে ভাব দূর করে চটজলদি উজ্জ্বলতা বাড়ায়। সেই সঙ্গে ত্বকের দাগও দূর করে। ২ চামচ বেসন ও ৪ চামচ দুধ একসঙ্গে ভালো করে গুলিয়ে নিন। এবার এই পেস্ট মুখে, গলায় লাগান। ১৫ মিনিট পর শুকিয়ে গেলে ঠান্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। সপ্তাহে ২ দিন ব্যবহার করুন। তারপর তফাতটা নিজেই দেখুন। ত্বক কতটা ফরসা আর তেলমুক্ত লাগছে।

তৈলাক্ত ত্বকের ঘরোয়া প্যাক

ডিম, শসা ও পুদিনার প্যাক

ডিমের সাদা অংশ তৈলাক্ত ত্বকের জন্য খুবই উপকারী। এটি ত্বকের অতিরিক্ত তেল দূর করে, ত্বক টানটান করতে সাহায্য করে। একটি ডিমের সাদা অংশের সঙ্গে শসার রস ও পুদিনাপাতার পেস্ট মিশিয়ে ত্বকে লাগান। শুকিয়ে গেলে ধুয়ে ফেলুন। পুদিনার অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল উপাদান ব্রণমুক্ত রাখবে ত্বক। এ ছাড়া শসা ত্বককে ভেতর থেকে ঠান্ডা রাখবে।বিজ্ঞাপন

কমলার ফেসপ্যাক

মুখের অতিরিক্ত তেল কন্ট্রোল করতে কমলালেবুর খোসার জুড়ি নেই। ২ চামচ কমলালেবুর খোসার গুঁড়া, ৪ চামচ দুধ, ১ চামচ কাঁচা হলুদবাটা একসঙ্গে মিশিয়ে মুখে লাগান। ২০ মিনিট পর ধুয়ে ফেলুন। এটা শুধু অতিরিক্ত তেলই কন্ট্রোল করবে না, ত্বককে করে তুলবে গ্লোয়িং। সপ্তাহে এক বা দুদিন করুন।
কাঁচা হলুদবাটা, চালের গুঁড়া, কমলার খোসার গুঁড়া এবং সামান্য মসুর ডালবাটা একসঙ্গে মুখে লাগিয়ে ১৫ মিনিট পর হালকা ম্যাসাজ করে ধুয়ে ফেলুন। এতে ত্বক টানটান হবে।

তৈলাক্ত ত্বকের ঘরোয়া প্যাক

পাকা কলার ফেসপ্যাক

কলা তৈলাক্ত ত্বকের পরিচর্যার জন্য অত্যন্ত কার্যকর। এটি ত্বকের ঔজ্জ্বল্য আর কোমলতা বৃদ্ধি করতেও সাহায্য করে।

লেবুর রস ত্বকের তেলতেলে ভাব দূর করতে সাহায্য করে। একই সঙ্গে ত্বকের জেল্লা বাড়াতে সাহায্য করে।

মধু হলো প্রাকৃতিক অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট, যা ত্বকের ব্রণ-ফুসকুড়ির সমস্যা দূর করে ত্বককে প্রাকৃতিকভাবে ময়েশ্চারাইজ করতে সাহায্য করে। ১টি পাকা কলা, ২ চা-চামচ পাতি লেবুর রস, ১ চা-চামচ মধু নিন। কলার খোসা ছাড়িয়ে সেটিকে ভালো করে চটকে এর সঙ্গে মধু আর পাতি লেবুর রস ভালো করে মিশিয়ে ঘন পেস্টের মতো তৈরি করুন। এই পেস্ট হাতে, মুখে ও গলার ত্বকে ভালো করে মেখে নিয়ে মিনিট ১৫ রেখে দিন। ১৫ মিনিট পর কুসুম গরম পানি দিয়ে ধুয়ে একটি নরম তোয়ালে দিয়ে চেপে চেপে মুছে নিন।

সপ্তাহে অন্তত ২-৩ বার এই প্যাক ব্যবহার করতে পারলে খুব ভালো ফল পাওয়া যাবে।

শসার প্যাক

শসা খুব ভালো টোনারের কাজ করে। ত্বকের ভেতরের অতিরিক্ত তেল নিয়ন্ত্রণ করে ও ত্বককে ভেতর থেকে ফ্রেশ রাখে। ২ টেবিল চামচ শসার পেস্ট, ১ চা-চামচ গোলাপজল ও কয়েক ফোঁটা লেবুর রস নিয়ে নিন। একসঙ্গে মিশিয়ে প্যাকটি মুখে লাগিয়ে নিন। ১৫ থেকে ২০ মিনিট রাখুন। তারপর ঠান্ডা পানিতে ধুয়ে নিন। এটা রোজও করতে পারেন। তাহলে খুব ভালো তেল কন্ট্রোল হবে। আর রোজ সময় না থাকলে সপ্তাহে তিন দিন করুন। ত্বক থাকবে ফ্রেশ ও তেলমুক্ত।

তৈলাক্ত ত্বকের ঘরোয়া প্যাক

লেবুর রস ও মধুর প্যাক

তৈলাক্ত ত্বকের যত্নে লেবু সবচেয়ে ভালো ঘরোয়া উপাদান, লেবুতে উপস্থিত সাইট্রিক অ্যাসিড তৈলাক্ত ত্বকের তেল নিয়ন্ত্রণ করার সঙ্গে সঙ্গে ত্বকের ব্যাকটেরিয়া প্রতিরোধ করে ত্বকে পিম্পল হওয়ার সম্ভাবনা কমিয়ে দেয়।

১ টেবিল চামচ তাজা লেবুর রসের সঙ্গে সমপরিমাণ মধু নিয়ে একসঙ্গে মিশিয়ে গাঢ় লিকুইড তৈরি করুন । এই লিকুইড ত্বকে লাগিয়ে ১৫ মিনিট রেখে দিন। ১৫ মিনিট পর ঠান্ডা পানি দিয়ে আপনার ত্বক ধুয়ে ফেলুন।

এই প্যাক ব্যবহারে ত্বকে ব্রণ কমে আসবে, ব্রণের দাগ হালকা হতে শুরু করবে এবং আপনার ত্বকও উজ্জ্বল হবে। তৈলাক্ত ত্বকের ব্রণ প্রতিরোধে এই প্যাক সপ্তাহে দুইবার ব্যবহার করলে ভালো ফল পাবেন।

প্রাকৃতিক উপাদানগুলো দিয়ে খুব সহজেই ত্বকের তৈলাক্ততা দূর করা যায়। ভালো ফলাফল পেতে এক দিন পরপর বা প্রতিদিনই এগুলো ব্যবহার করতে পারেন। মনে রাখবেন, প্রাকৃতিক উপাদান ব্যবহারে রাতারাতি পরিবর্তন কখনো সম্ভব নয়। তাই নিয়মিত ব্যবহার করতে থাকুন।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

দৈনন্দিন

টিকোলো নাকের জন্য কনট্যুরিং

একসময় মেকআপ মানেই ছিল মুখে ভারী ফাউন্ডেশন আর ব্লাশনের কড়া ব্যবহার। তবে ফ্যাশনের হাল পরিবর্তনে মেকআপ করার ধাপে যোগ হয়েছে ভিন্ন ভিন্ন সব পদ্ধতি। এখন ফাউন্ডেশন করার আগে আরও কয়েকটি ধাপ মানতে হয়। এমনকি মুখের প্রতিটি অংশ যেমন নাক, চোখ, গালে আলাদা সব মেকআপ সামগ্রী ব্যবহার করা হয়। আর ব্যবহারের আগে সঠিক নিয়ম জানাও গুরুত্বপূর্ণ। এই সময়ে মেকআপের অনেক কৌশল বা ট্রিকের মধ্যে একটি হলো কনট্যুরিং। আর কনট্যুরিং শুধু মুখের জন্যই নয়, নাক সুন্দর দেখাতেও প্রয়োজন।

নাক কনট্যুরিং কেন

প্রত্যেক মানুষের নাকের আকৃতি আলাদা। লম্বা বা সোজা, চিকন অথবা দেখতে ছোট, এমন আকারের নাক অনেকেই পছন্দ করেন। আর কনট্যুরিং মূলত এ কারণেই করা হয়। যেন মেকআপের মাধ্যমে পছন্দমতো নাকের আকার পাওয়া যায়। মানে হলো, যেমন নাক আপনার মুখের সঙ্গে মানানসই, কনট্যুরিং করে আপনি তেমন নাকের শেপ আনতে পারবেন। বিজ্ঞাপনবিজ্ঞাপন

নাক কনট্যুরিং করতে কী লাগবে

ধাপে ধাপে কনট্যুরিং। মেকআপ: বাপন রহমান
ধাপে ধাপে কনট্যুরিং। মেকআপ: বাপন রহমান

নাক কনট্যুরিং করতে বেশ কয়েকটি মেকআপ সামগ্রী জরুরি। ফাউন্ডেশন বা কনসিলার পাউডার এর অন্যতম প্রধান উপকরণ। কিন্তু তা হতে হবে আপনার স্কিন টোন থেকে এক বা দুই শেড গাঢ়।

নাক কখন কনট্যুর করব

নাক কনট্যুরিং করার আগে কিছু নিয়ম জেনে নেওয়া ভালো। মেকআপের শুরুতেই নাক কনট্যুরিং করা যাবে না। অবশ্যই মুখে ফাউন্ডেশন ব্যবহার শেষে নাক কনট্যুরিং করতে হবে। এরপরে মুখের বাকি মেকআপ করে সেট করতে হবে।

নাক চিকন দেখাতে

১. নাকের দুই পাশের হাড়ে ফাউন্ডেশন বা কনসিলার দিয়ে চিকন করে দাগ টেনে নিন। এবার একটি আইশ্যাডো ব্রাশ দিয়ে হালকাভাবে মিশিয়ে নিন। দাগ টানার আরেকটি সহজ উপায় হলো আই ভ্রুর শুরু বরাবর নাকের পাশে দাগ টানা।

২. দ্বিতীয় ধাপে নাকের মাঝবরাবর বা নাকের ব্রিজে হাইলাইটার ব্যবহার করতে হবে। হাইলাইটার হতে হবে আপনার স্বাভাবিক স্কিন টোনের চেয়ে ২–৩ ধাপ হালকা। হাইলাইটার ব্যবহার শুরু করতে হবে নাকের ওপরের দিক থেকে। কোনোভাবেই দাগ বেশি মোটা করা যাবে না। হাইলাইটার নাকের ওই অংশটিকে ফুটিয়ে তোলে। তাই চিকন করে ব্যবহার করলে নাক চিকন দেখাবে। আর মোটা করে ব্যবহার করলে মোটা দেখাবে।

৩. যদি আপনার নাক নিচের দিকে মোটা হয়, তবে হাইলাইটার নাকের অর্ধেক অংশ থেকে ব্যবহার শুরু করুন।

৪. সবশেষে একটি ব্লেন্ডারের মাধ্যমে হার্স লাইন বা গাঢ় দাগ ও হাইলাইটার আলতো করে মিশিয়ে নিন। তবে অনেক সময় ধরে মেশাবেন না।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

দৈনন্দিন

মেনোপজের পরও থাকুন সুস্থ

একজন নারী তাঁর জীবনচক্রের শৈশব, কৈশোর এবং পূর্ণ বিকশিত প্রজননক্ষম সময় পেরিয়ে একসময় মধ্য বয়সে উপনীত হন। প্রতিটি পর্যায়েই নারীর জীবনে হরমোনজনিত নানা রকম পরিবর্তন ঘটে। এ বয়সও ব্যতিক্রম নয়। একটা বয়সের পর নারী হরমোনগুলো নিম্নমুখী হতে থাকে, ডিম্বাণুর পরিস্ফুটন বন্ধ হয়ে যায় বলে আর মাসিক হয় না এবং সন্তানধারণের সক্ষমতা থাকে না—এ পরিবর্তনকালকেই বলা হয় ‘মেনোপজ’।

চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় ‘মেনোপজ’ বলতে বোঝায় নারীর মাসিক ঋতুচক্র চিরতরে বন্ধ হয়ে যাওয়া। মাসিক যদি একাধারে ১২ মাস বন্ধ থাকে, তখন সেই নারী মেনোপজে পৌঁছেছেন বলে ধরা হয়। এটি হয় যখন ডিম্বাশয় সম্পূর্ণরূপে ডিম্বাণু পরিস্ফুটন বন্ধ করে দেয়। ফল হিসেবে শরীরে নারী হরমোন ইস্ট্রোজেন ও প্রজেস্টেরন কমতে থাকে। সাধারণত ৪৫ থেকে ৫৫ বছর বয়সের মধ্যেই নারীদের মেনোপজ হয়ে থাকে। মেনোপজের গড় বয়স ৫০ বছর। ৪০ বছরের আগেও এ ঘটনা ঘটতে পারে, ৪০–এর আগে কারও মেনোপজ হলে তাকে বলা হয় ‘প্রিম্যাচিউরড মেনোপজ’। আবার ৫৫ বছরের পরে প্রতি মাসে মাসিক হওয়াটাও স্বাভাবিক নয়।

কীভাবে বুঝবেন মেনোপজ হয়েছে?

যখন একজন নারীর কোনো অসুস্থতা অথবা ওষুধ ছাড়া একনাগাড়ে ১২ মাস মাসিক বন্ধ থাকে, তখন তিনি মেনোপজে পৌঁছেছেন বলে ধরা হয়। মেনোপজের আগে অনেক নারীর নানা কারণে মাসিক অনিয়মিত হতে পারে, কিছুদিন বন্ধ থাকা, দেরি করে হওয়া, অথবা ঘন ঘন মাসিক হওয়া, পরিমাণে বেশি বা কম হওয়া ইত্যাদি হতে পারে। সে ক্ষেত্রে অন্য কোনো বিশেষ কারণ আছে কি না খতিয়ে দেখতে হয়।

ডিম্বাশয় থেকে নিঃসৃত নারী হরমোন ইস্ট্রোজেন ও প্রজেস্টেরন নারী দেহের সৌন্দর্য, নিয়মিত মাসিক ও সন্তান ধারণ, ত্বকের লাবণ্য ও কমনীয়তা, স্বাভাবিক যৌনজীবন ও যৌনচাহিদা, চুলের ঘনত্ব, হাড়ের ক্ষয়রোধ, হৃদ্‌যন্ত্রের সচলতা ও মনোদৈহিক কর্মক্ষমতা ধরে রাখে। মেনোপজের পর এ হরমোন কমে যাওয়ার কারণে শরীর ও মনে তার কিছু প্রভাব পড়তে থাকে।

এ কারণে মাসিক একাধারে এক বছর বন্ধ থাকার পাশাপাশি আরও কিছু উপসর্গ দেখা যায়—বিজ্ঞাপন

হট ফ্লাশ: হঠাৎ হঠাৎ শরীরে অনেক গরম লাগা, ঘাম হওয়া, অস্থিরতা বোধ হতে পারে। এটা দিনে অনেকবার হতে পারে এবং কয়েক সেকেন্ড থেকে কয়েক মিনিট পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে।

নাইট সোয়েট: রাতে অতিরিক্ত ঘাম এমনকি এসির মধ্যেও ঘামতে থাকা।

অনিয়মিত ঘুম: ঘুম ভেঙে যাওয়া বা ঠিকমতো না হওয়া।

আবেগীয় পরিবর্তন: আবেগপ্রবণতা, ভুলে যাওয়া, অস্থিরতা, মন–মেজাজ খিটখিটে হওয়া, মাথাব্যথা, কোনো কিছুতে মন স্থির করতে না পারা, অবসাদগ্রস্ততা দেখা দিতে পারে।

ত্বকের পরিবর্তন: চুল পড়ে যাওয়া, ত্বক পাতলা হওয়া ও সজীব ভাব নষ্ট হওয়া, ত্বকের শুষ্কতা, মেছতা বা মেলাসমা–জাতীয় সমস্যা হতে পারে।

প্রজননতন্ত্রের সমস্যা: মূত্রথলির পেশির টান কমে যাওয়ার কারণে ঘন ঘন প্রস্রাব ও প্রস্রাব ধরে রাখতে না পারার সমস্যা ভোগাতে পারে। এ ছাড়া যোনির শুষ্কতা, যৌনচাহিদা কমে যাওয়া, যৌনমিলনে অস্বস্তি বা ব্যথা পাওয়া ইত্যাদি হতে পারে।

অন্যান্য: মেনোপজের পর হরমোনের মাত্রা কমে যাওয়ার কারণে হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি বাড়ে। রক্তচাপ বা রক্তের চর্বি বাড়া, হৃদ্‌রোগ ধরা পড়ার মতো ঘটনা ঘটে।

মেনোপজের পর জীবনাচরণ

ওজন নিয়ন্ত্রণ: এ বয়সে অনেকেরই ওজন বেড়ে যায়। তাই ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে ক্যালরি মেপে সুষম স্বাস্থ্যকর খাবার খেতে হবে। ওজন নিয়ন্ত্রণ মেনোপজের উপসর্গ কমাতে সাহায্য করে। অতিরিক্ত তেল, চর্বি, কোমল পানীয়, জাংক ফুড, লাল মাংস, মিষ্টিজাতীয় খাদ্য পরিহার করতে হবে।

বাড়তি লবণ খাওয়া যাবে না। দুধ, টক দই, সবুজ সবজি ও ফল, ছোট মাছ খাদ্যতালিকায় রাখতে হবে। ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ডি–সমৃদ্ধ খাবার খেতে হবে। কারণ, মেনোপজের পর হাড়ক্ষয় বা অস্টিওপোরোসিসের ঝুঁকি বাড়ে। ধূমপান, মদ্যপান পরিহার করতে হবে।

ফিটনেস: ফিটনেস বাড়াতে প্রতিদিন ৩০-৪০ মিনিট হাঁটা, যোগব্যায়াম বা নিয়মিত শরীরচর্চা করা উচিত এ সময়। হাড়ক্ষয় ও হাড় ভাঙার ঝুঁকি কমাতে ভারসাম্য রক্ষার ব্যায়াম (ব্যালান্সিং এক্সারসাইজ) করবেন। প্রতিদিন কিছু সময় রোদে কাটাবেন।

প্রফুল্ল থাকুন: আবেগীয় সমস্যা নিয়ন্ত্রণে সব সময় প্রফুল্ল থাকুন। মানসিক চাপ কমান। নিজেকে বিভিন্ন ধরনের কাজে নিযুক্ত রাখা ভালো। নিজেকে সময় দিন। সমাজসেবামূলক কাজ, বাগান করা, বন্ধুবান্ধব ও আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানো, বই পড়া, গান শোনা ইত্যাদি করতে পারেন।

চিকিৎসা: মেনোপজের পর হাড়ক্ষয়ের ঝুঁকি কমাতে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ডি গ্রহণ করতে পারেন। এ সময় নিয়মিত রক্তচাপ, রক্তের সুগার ও চর্বি ইত্যাদি পরীক্ষা করুন। কোনো সমস্যা ধরা পড়লে তার চিকিৎসা নিন। যাঁদের ডায়াবেটিস, রক্তচাপ, ডিসলিপিডেমিয়া আছে, তাঁরা এগুলো নিয়ন্ত্রণ করুন। হট ফ্লাশের সমস্যা অতিরিক্ত হলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী এ জন্য চিকিৎসা নিতে পারেন।

মেনোপজ মানে নতুন জীবন

অনেকেই মনে করেন, মেনোপজ মানেই জীবনের সবকিছু শেষ হয়ে যাওয়া। কিন্তু আসলে তা নয়। মেনোপজের পর জীবনের নতুন এক পর্যায়ে প্রবেশ করবেন আপনি। জীবনচক্রের এটি একটি স্বাভাবিক ও গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। বর্তমান যুগে মানুষের গড় আয়ু বেড়ে যাওয়ায় জীবনের এক-তৃতীয়াংশ সময় পার করতে হয় এ মেনোপজের পরে। পরিণত বয়সে এসে একজন নারী এ সময় সমাজকে আরও অনেক কিছু দিতে পারেন। তাই এটিকে স্বাভাবিক হিসেবে মেনে নেওয়া এবং এর সঙ্গে খাপ খাইয়ে চলা, জীবনাচরণে পরিবর্তন আনা, প্রয়োজনে ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ ব্যবহার ও সেবনের মাধ্যমে জীবনের এ পর্যায়কে পূর্ণভাবে উপভোগ করুন।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২১ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com