আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

ইসলাম

আত্মীয়-প্রতিবেশীর সঙ্গে উত্তম আচরণে বিশ্বনবির আদর্শ

ইসলাম এমন এক পরিপূর্ণ ধর্ম; যার শিক্ষার মাঝে সব কিছু বিদ্যমান। আত্মীয় এবং প্রতিবেশীর সঙ্গে উত্তম আচরণে ইসলাম অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়েছে। এসবের মধ্যে রয়েছে ভ্রাতৃত্বের বন্ধন দৃঢ়করণ, আত্মীয়তার সম্পর্ক অটুট রাখা এবং প্রতিবেশীর সঙ্গে ভাল ব্যবহার করা। এ সম্পর্কে আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআনে বলেন-

‘আর তোমরা আল্লাহর ইবাদত কর এবং তার সঙ্গে কোনো কিছুকে শরিক করো না এবং সদয় ব্যবহার কর বাবা-মার সঙ্গে, আত্মীয়-স্বজন, ইয়াতিম, মিসকিন, প্রতিবেশী এবং অনাত্মীয় অসহায় মুসাফির এবং নিজের সঙ্গী -সহচর ও পথচারীদের সঙ্গে। আর তোমাদের ডান হাত যাদের মালিক হয়েছে; তাদের সঙ্গে। নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা দাম্ভিক-অহংকারীকে ভালোবাসেন না।’ (সুরা নিসা : আয়াত ৩৬)

মহান আল্লাহ তাআলা বিশ্বমানবতার জন্য আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশির সঙ্গে উত্তর আচরণ শিক্ষা দিতে বিশ্বনবির প্রতি এ আয়াত নাজিল করে তুলে ধরেছেন ইসলামের অতুলনীয় সুমহান শিক্ষা।

আমরা যেন নিজেদের ভাই, আত্মীয়-স্বজন, আপনজন এবং প্রতিবেশীদের সঙ্গে সর্বোত্তম আচরণ করি। সব ভালো কাজের বিষয়ে তাদের সহযোগিতা করি। তাদের সব ভালো কাজের প্রয়োজনে যথাসাধ্য সাহায্য-সহযোগিতা করি। যতদূর সম্ভব তাদের কল্যাণ পৌঁছে দেই।

আর এমন সব লোকদেরও সাহায্য করি যাদের সঙ্গে আত্মীয়তার সম্পর্ক নেই এবং চেনা-জানাও নেই কিন্তু তারা অসহায়; অপরিচিত মুসাফির। কেননা যদিও তাদের সঙ্গে আমাদের কোনো আত্মীয়তার সম্পর্ক নেই, অল্প সময়ের জন্য সাক্ষাত হয়েছে, তাদেরও যদি কোনো প্রকার সাহায্যের প্রয়োজন হয়, ইসলামের আলোকিত উপদেশ ও বিশ্বনবির আদর্শ হচ্ছে তাদের সাহায্য করা।

আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখা শুধু ইসলামের নির্দেশনাই নয়; বরং এতে অনেক ফজিলত ও মর্যাদাও রয়েছে। কেননা, আত্মীয়তার সঙ্গে সম্পর্ক রক্ষা করা, তাদের খোঁজ-খবর নেয়া, তাদের কাছে আসা-যাওয়া করাও ইবাদতেরই অংশ। এ বিষয়টি যেভাবে তুলে ধরেছেন বিশ্বনবি মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। তাহলো-
– রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওযা সাল্লাম বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি তার রিজিক প্রশস্ত হওয়া এবং মৃত্যুর সময় পিছিয়ে দেয়া কামনা করে, তার উচিত আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখা।’ (বুখারি)
– হজরত আবু আইয়ুব আনসারি রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, এক ব্যক্তি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বললেন, হে আল্লাহর রাসুল! আমাকে এমন আমল বলে দিন; যা আমাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবে। তখন তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, ‘আল্লাহর ইবাদত কর, তার সঙ্গে কোনো কিছু শরিক করো না। নামাজ ভাল করে আদায় কর এবং জাকাত দাও আর আত্মীয়তার সম্পর্ক অক্ষুন্ন রাখ।’ (বুখারি)

আত্মীয়রা যখন কারো সঙ্গে অন্যায় করবে বা দুর্ব্যবহার করবে তখনও তাদের সঙ্গে অন্যায় কিংবা খারাপ আচরণ করা যাবে না। হাদিসের নির্দেশনাও এমনই। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘সে আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষাকারী নয়, যে সম্পর্ক রক্ষাকারীর সঙ্গে সম্পর্ক রক্ষা করে; বরং প্রকৃত সম্পর্ক রক্ষাকারী সে, যে সম্পর্ক ছিন্নকারীরর সঙ্গে সম্পর্ক রক্ষা করে।’ (বুখারি)

আবার আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করার শাস্তি হচ্ছে জাহান্নাম। প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এ সম্পর্কে বিশেষভাবে সতর্ক করেছেন। হাদিসে এসেছে-

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্নকারী জান্নাতে প্রবেশ করবে না।’ (বুখারি)

আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষায় রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আদর্শের ওপর আমল করলেই সম্ভব সুন্দর অতুলনীয় ইসলামি সমাজ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা হওয়া সম্ভব। যে সমাজের ব্যক্তি পরিবার কিংবা সমাজের স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া হবে না। ভাই-ভাই বন্ধন নষ্ট হবে না। বৌ-শাশুড়ির বিবাদ-কলহ থাকবে না। পাড়া-প্রতিবেশির হিংসাত্মক শত্রুতা ও প্রতিযোগিতা থাকবে না।

বিশ্বনবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নসিহত গ্রহণে ব্যক্তি পরিবার সমাজের প্রত্যেকের সঙ্গে তৈরি হবে মধুর সুসম্পর্ক। সবাই শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানে বসবাস করবে। একে অন্যের উপকারে থাকবে উদার ও সচেষ্ট। এ সবই ইসলাম ও মুসলমানের ঐতিহ্য। বিশ্বনবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সর্বোত্তম আচরণ ও আদর্শের বহিঃপ্রকাশ।

কেননা ইসলামে যেসব অধিকারের কথা উল্লেখ করা হয়েছে, আত্মীয়তা-প্রতিবেশীর অধিকার সম্পর্কে অধিক মাত্রায় তাগিদ করা হয়েছে। কুরআনের নির্দেশনায় তা ওঠে এসেছে। বিশ্বনবি অনেক দিকনির্দেশনা দিয়েছেন।

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আরও বলেছেন, ‘জিবরিল আলাইহিস সালাম এসে আমাকে প্রতিবেশীর ব্যাপারে অবিরত উপদেশ দিতে থাকেন। আমার এমনটি মনে হল যে, হয়তো তিনি প্রতিবেশীকে সম্পদের ওয়ারিশ বা উত্তরাধিকার বানিয়ে দেবেন।’ (মুসলিম)

ইসলাম আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষায় এতবেশি গুরুত্ব দিয়েছেন যে, কাফেরদের সঙ্গেও সম্পর্ক রাখতে আর আত্মীয় অমুসলিম হলেও তার সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে উৎসাহিত করা হয়েছে। হাদিসে এসেছে-

হজরত আসমা বিনতে আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহা বর্ণনা করেন, ‘রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জীবদ্দশায় আমার আম্মা মুশরিকা থাকতে একবার আমার কাছে আসেন। আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে জিজ্ঞাসা করলাম- তিনি (আমার আম্মা) আমার সঙ্গে সম্পর্ক রাখতে আগ্রহী; আমি কি আমার আম্মার সঙ্গে সম্পর্ক রাখবো? বিশ্বনবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উত্তর দিলেন, ‘হ্যাঁ’, তুমি নিজ মায়ের সঙ্গে সম্পর্ক ঠিক রাখবে।’ (বুখারি ও মুসলিম)

এ কারণেই ইসলামের অসংখ্য অনুশাসন মেনে চলার পরও কোনো লোক মুমিনের কাফেলায় অন্তর্ভূক্ত হতে পারে না; যদি সে আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্নকারী হয় আর প্রতিবেশির সঙ্গে উত্তম আচরণকারী না হয়।

কেননা ইসলামের নির্দেশনাই হচ্ছে কোনো মুমিন ভ্রাতৃত্বের বন্ধন ছিন্ন করতে পারে না। আর সেই সঙ্গে তার প্রতিবেশীরও ক্ষতি করতে পারে না। ইসলামের এ শিক্ষা উপেক্ষা করে কারো পক্ষে পূর্ণ মুমিন হওয়া সম্ভব নয়। বস্তুত আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্নকারী এবং প্রতিবেশীর অনিষ্ট সাধনকারী ব্যক্তিকে ইসলাম মুমিন বলে স্বীকৃতি দিতেও প্রস্তুত নয়। হাদিসে এসেছে-

হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন,রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাস বলেন, ‘আল্লাহর শপথ! সে মুমিন নয়। জিজ্ঞাসা করা হলো- কে মুমিন নয়? ইয়া রাসুলুল্লাহ! রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উত্তরে বললেন- যার অনিষ্ট থেকে তার প্রতিবেশী নিরাপদ নয়।’ (বুখারি ও মুসলিম)

সুতরাং মুমিন মুসলমানের কর্তব্য হচ্ছে- আত্মীয়তার বন্ধন সুদৃঢ় রাখা এবং প্রতিবেশীর সুবিধা-অসুবিধার দিকে দৃষ্টি রাখা। এক প্রতিবেশী দ্বারা অন্য প্রতিবেশীর যাতে কোনো ধরণের ক্ষতি না হয় তা সব সময় খেয়াল রাখা। হোক না আমার প্রতিবেশী ভিন্ন ধর্মের বা ভিন্ন মত ও পথের অনুসারী।

এমনটি ঠিক নয়-
কারো সঙ্গে আমার মত ও পথের সঙ্গে তার মিল নাও থাকতে পারে, তাই বলে কি তার সঙ্গে আমার আচরণ খারাপ হবে? মোটেও নয়। ধর্মীয় মূল্যবোধে প্রতিবেশীর অধিকার এতো ব্যাপক ও বিস্তৃত যে দৈনন্দিন জীবনের সর্বাবস্থায় প্রতিবেশীর খোঁজ-খবর নেয়ার শিক্ষা ইসলামে রয়েছে।

সুতরাং আমাদের করণীয়-
সাহাবাদের লক্ষ্য করে একবার বিশ্বনবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, তোমরা কি জান প্রতিবেশীর হক কি? তাহলো-
– যদি সে তোমার কাছে সাহায্যপ্রার্থী হয়; তাকে সাহায্য করবে।
– যদি সে ধার চায়; তাকে ধার দেবে।
– যদি সে অভাবগ্রস্থ হয়; তার অভাব মোচন করবে।
– যদি সে রোগাগ্রস্থ হয়; তাকে সেবা দান করবে।
– যদি তার মৃত্যু হয়; জানাজায় শরীক হবে।
– যদি তার মঙ্গল হয়; তাকে উৎসাহিত করবে।
– যদি তার বিপদ হয়; তাকে সহানুভূতি জানাবে।
– প্রতিবেশির অনুমতি ব্যতিত তোমার ঘর এত উঁচু করবে না; যাতে তার প্রতিবেশির আলো বাতাস বন্ধ হয়।
– যদি তুমি ফলমূল কেনাকাটা কর; কিছু অংশ প্রতিবেশীর জন্য উপহারস্বরূপ পাঠাবে আর যদি তা সম্ভব না হয় তাহলে তা গোপনে তোমার সন্তানদের খেতে দিবে যেন প্রতিবেশীর ছেলে মেয়ে তার বাবা মাকে বিরক্ত না করে। তবে এমনটি হওয়া উচিত নয়।

আমাদেরকে বুঝতে হবে-
প্রতিবেশী সে যেই হোক, জাতি ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাই প্রতিবেশী আর সবাই সমান মর্যাদা পাবে এবং মানবিক ব্যবহার বিনিময়ে সবার সঙ্গে সদ্ব্যবহার বজায় রাখতে হবে।

আসুন না, আমরা সবাই সবার আত্মীয়-স্বজন এবং প্রতিবেশির খোঁজ-খবর রাখি আর তাদের সুখে দুঃখে পাশে গিয়ে দাঁড়াই। কুরআন-সুন্নাহর দিকনির্দেশনা মেনে চলি।

আল্লাহ তাআলা বিশ্বমানবতাদর সবাইকে আত্মীয় ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধন অটুট রাখার তাওফিক দান করুন। প্রতিবেশির সঙ্গে উত্তম আচরণ করার ক্ষেত্রে হাদিসের উপর যথাযথ আমল করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন

অনুগ্রহ করে মন্তব্য করতে লগ ইন করুন লগ ইন

Leave a Reply

ইসলাম

সাহায্য লাভে যেভাবে দোয়া করতে বলেছেন বিশ্বনবি

আল্লাহ তাআলার কাছে ইসমে আজম-এর গুরুত্ব এত বেশি যে, কেউ যদি এ নামে তাকে ডাকে বা তার কাছে কোনো কিছু চায়, আল্লাহ তাআলা সঙ্গে সঙ্গে তাকে তা দিয়ে থাকেন। তার দোয়া কবুল করে থাকেন। প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হাদিসের বর্ণনায় ইসমে আজমের গুরুত্বের বিষয়টি তুলে ধরেছেন। হাদিসে এসেছে-

হজরত বুরাইদা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এক ব্যক্তিকে (আবু মুসাকে) এ রূপ বলতে শুনলেন যে-

اَللَّهُمَّ اِنِّىْ أَسْئَلُكَ بِاَنَّكَ اَنْتَ اللهُ لَا اِلَهَ اِلَّا اَنْتَ الْاَحَدُ الصَّمَدُ الَّذِىْ لَمْ يَلِدْ وَ لَمْ يُوْلَدْ وَ لَمْ يَكُنْ لَهُ كُفُواً اَحَدٌ

উচ্চারণ : ‘আল্লাহুম্মা ইন্নি আসআলুকা বিআন্নাকা আংতাল্লাহু লা ইলাহা ইল্লা আংতাল আহাদুস সামাদুল্লাজি লাম ইয়ালিদ ওয়া লাম ইউলাদ ওয়া লাম ইয়াকুল্লাহু কুফুওয়ান আহাদ।’

অর্থ : হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে আশ্রয় চাই এবং জানি যে, তুমিই আল্লাহ; তুমি ব্যতিত কোনো উপাস্য নেই। তুমি এক, অনন্য, মুখাপেক্ষীহীন ও অন্যের নির্ভরস্থল। তুমিই সেই মহান সত্ত্বা যে নাকি কাউকে জন্ম দেননি আর কেউ তাকে জন্ম দেয়নি। আর তার সমকক্ষ কেউ হতে পারবে না।’

তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, সে আল্লাহ তাআলাকে তাঁর ইসমে আজম বা সর্বাধিক বড় ও সম্মানিত নামের সঙ্গে ডাকল; যা দ্বারা যখন কেউ তাঁর (আল্লাহর) কাছে কিছু প্রার্থনা করে, তিনি তাকে তা দান করেন এবং যা দ্বারা কেউ যখন তাঁকে ডাকে, তিনি তার ডাকে সাড়া দেন। (তিরমিজি, আবু দাউদ, মিশকাত)।

হাদিসের আমল ও নির্দেশনা
এ হাদিসে ইসমে আজমের মাধ্যমে আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা, আশ্রয় ও দোয়া করার বিষয়ে আহ্বান করা হয়েছে। আবার দোয়া কবুল হবে এ নিশ্চয়তাও দেয়া হয়েছে। মূল কথা হলো বান্দাকে আল্লাহর কাছে যে কোনো বিষয়ে সাহায্য প্রার্থনায় বিশেষভাবে উৎসাহিত করা হয়েছে। কেননা যে ব্যক্তি আল্লাহর কাছে কিছু চায় না; আল্লাহ তার প্রতি সন্তুষ্ট হয় না। এ সম্পর্কে হাদিসে এসেছে-

সুতরাং মুমিন মুসলমানের উচিত, আল্লাহকে তার ইসমে আজমের সঙ্গে ডাকা। তাঁর কাছে চাহিদা অনুযায়ী প্রার্থনা করা। তাঁর কাছেই সব বিষয়ের সাহায্য চাওয়া বান্দার জন্য সর্বোত্তম এবং কল্যাণের। কারণ তিনিই বান্দার আশা-ভরসার নির্ভরযোগ্য স্থল।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে হাদিসে উল্লেখিত দোয়াটির মাধ্যমে নিজেদের চাহিদা পূরণে ডাকার তাওফিক দান করুন। হাদিসের ওপর যথাযথ আমল করে নিজেদের অভাব-অনটন দূর ও দোয়া কবুল করিয়ে নেয়ার তাওফিক দান করুন। আমিন।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ইসলাম

যেসব অবিশ্বাসে মানুষের ঈমান থাকে না

কোনো ব্যক্তিকে এমন কোনো বিষয়ে সম্বোধন করা ঠিক নয়; যে কাজের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা নেই। যদি তা করা হয় তবে তা অনেক সময় কুফরে পরিণত হয়। কেননা কোনো কিছুকে গোপন করাই হচ্ছে কুফর বা অবিশ্বাস।

তাছাড়া প্রাপ্যক্ষেত্রে শুকরিয়া না করলে কিংবা অকৃতজ্ঞ হওয়া কুফরের অন্তর্ভুক্ত। এ কারণেই ইসলামের বিশ্বাস মর্যাদা শুধু বেশিই নয়, বরং মুক্তির একমাত্র পথও বটে।

ইসলামি শরিয়তে ঈমান বা বিশ্বাস সম্পর্কে বক্তব্য হলো- ‘আল্লাহ তাআলা মানুষের প্রতি ওহির মাধ্যমে যেসব বিধি-নিষেধ দিয়েছেন তার প্রতি বিশ্বাস স্থাপন ও মেনে নেয়ার নামই ঈমান। এ সব বিষয়ের ওপর বিশ্বাসস্থাপন করা ফরজ। এ বিধানের বাইরে কোনো একটি অস্বীকার করাই কুফর বা অবিশ্বাস। যে ব্যক্তি আল্লাহর বিধানের অবাধ্য হয়ে তাকে মিথ্যা বলে জানবে, শরিয়তের আলোকে ওই ব্যক্তিই কাফের বা অবিশ্বাসী।

ইসলামিক স্কলাররা এমন পাঁচটি বিষয়ের ব্যাপারে একমত। যে পাঁচটি বিষয়ে বিশ্বাসস্থাপন না করলে যে কেউ কাফের বা কুফরির সঙ্গে জড়িত। তাহলো-

– আল্লাহ প্রেরিত নবি-রাসুলদের মিথ্যা সাব্যস্ত করা কুফরি।

– আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের দেয়া হুকুম-আহকাম অহংকার করে অমান্য করার পাশাপাশি তা গ্রহণে অস্বীকৃতি জানানো।

– নবি-রাসুলদের ব্যাপারে সত্য-মিথ্যা সাক্ষ্য না দিয়ে তাদের উপক্ষো করা এবং তাদের ব্যাপারে অমনোযোগী হওয়াও কুফর।

– আল্লাহ তাআলা প্রেরিত নবি-রাসুলদের ব্যাপারে সন্দেহ, সংশয় পোষণ করাও কুফরি।

– মুখে ঈমানের কথা বলে অন্তরে বা গোপনে তা অস্বীকার করাও কুফরি। 

এ ছাড়া আরও কিছু কাজ ও বিশ্বাস আছে, যা মানুষকে ঈমানহারা করে দেয়। তাহলো-

– আল্লাহর সঙ্গে অন্য কাউকে শরিক করা।

– বিচার ফয়সালায় আল্লাহর বিধান ও মানুষের মাঝে সমঝোতাকারী হিসেবে কাউকে সাব্যস্ত করা।

– আল্লাহর সঙ্গে শিরক করা ব্যক্তিকে কাফের বা অবিশ্বাসী মনে না করে সঠিক পথের অনুসারী মনে করাও কুফরি।

– সমস্যা সমাধানে বিশ্বনবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সিদ্ধান্ত ও দিকনির্দেশনার বিপরীতে অন্য কোনো ব্যক্তির সিদ্ধান্ত ও দিকনির্দেশনাকে উত্তম বলে মনে করাও কুফরি।

– রাসুলু সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের যে কোনো দিকনির্দেশনাকে ঘৃণা বা অপছন্দ করাও কুফরি।

– কুরআনের আয়াত বা বিধান নিয়ে ঠাট্টা-বিদ্রোপ কিংবা উপহাস করাও কুফরি।

– যে কোনো যাদু-টোনা করা কুফরি। এ কারণে মানুষের শান্তি ও সুসম্পর্ক নষ্ট হয়।

– ঈমান ও ইসলাম সম্পর্কিত যে কোনো বিষয়ে মুসলমানদের বিপক্ষে মুশরিকদের সহায়তা করাও কুফরি।

– আল্লাহ তাআলা প্রদত্ত কুরআনুল কারিমের বিধানকে অস্বীকার করা বা পিঠ দেখানোও কুফরি।

বিশেষ করে

এমন বিশ্বাস রাখা যে, কিছু কিছু ব্যক্তির জন্য আল্লাহ এবং তাঁর রাসুলের দেয়া জীবন বিধানের বিপরীতে কিছু কিছু বিষয়ে নিজস্ব মতামত বা ইখতিয়ার পোষণ করা। তাও মারাত্মক কুফরি।

সুতরাং মানুষের বিশ্বাস হতে হবে সুস্পষ্ট ও নির্মল। যে বিশ্বাসে থাকবে কুরআন-সুন্নাহ বিরোধী কোনো কাজ। যা মানুষকে ঈমানহারা করে দেয়।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে ইসলামের সব বিধানের ওপর যথাযথ বিশ্বাস স্থাপন করার তাওফিক দান করুন। ঈমানের মতো মহামূল্যবান সম্পদ নিরাপদ রাখতে ইসলামের বিধানের প্রতি যথাযথ বিশ্বাস স্থাপন করার তাওফিক দান করুন। কুফর ও শিরক থেকে বেঁচে থাকার তাওফিক দান করুন। আমিন।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ইসলাম

শেষ জীবন ও আমল ভালো হওয়ার দোয়া

জীবনের শেষ আমল ভালো হোক কে না চায়? সবাই চায় জীবনের শেষ কথা, কাজ এবং মৃত্যুর সময়টি ভালো হোক। এ সৌভাগ্য লাভে জীবনভর আল্লাহর কাছে একটি দোয়া বেশি বেশি করা জরুরি। কেননা শেষ কথা-কাজ যদি ভালো হয় তবে সে ব্যক্তি মহান রবের কাছে সফলকাম হিসেবে উপস্থিত হবে।

এ কারণেই জীবনের শেষ কথা ও আমল এবং মৃত্যুর সময়টি যেন ভালো হয়; সে লক্ষ্যে আল্লাহর সাহায্য লাভে সবসময় মুমিন মুসলমানের এভাবে দোয়া করা জরুরি। তাহলো-

اَللَّهُمَّ اجْعَلْ خَيْرَ عُمُرِىْ اَخِرَهُ وَ خَيْرَ عَمَلِىْ خَوَاتِيْمَهُ وَاخْعَلْ خَيْرَ اَيَّامِىْ يَوْمَ اَلْقَاكَ

উচ্চারণ : ‘আল্লাহুম্মাঝআল খাইরা উমুরি আখিরাহু ওয়া খাইরা আমালি খাওয়াতিমাহু ওয়াঝআল খাইরা আইয়্যামি ইয়াওমা আলক্বাকা।’

অর্থ : ‘হে আল্লাহ! আমার জীবনের শেষ অংশই যেন সর্বোত্তম হয়। আমার শেষ আমলই যেন সর্বোত্তম হয় এবং তোমার সঙ্গে সাক্ষাতের দিনই যেন আমার সর্বোত্তম দিন হয়।’

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে জীবনের প্রতিটি মুহূর্তে শেষ জীবনের সব কল্যাণ লাভে বেশি বেশি সাহায্য প্রার্থনার তাওফিক দান করুন। আমিন।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ইসলাম

স্মৃতিশক্তি বাড়ানোর সহজ ১০ উপায়

স্মৃতিশক্তি মানুষের অমূল্য সম্পদ। সঠিক ব্যবহারে মানুষের স্মৃতিশক্তি অটুট থাকে এবং ধীরে ধীরে তা বাড়তে থাকে। আল্লাহ তাআলা মানুষকে স্মৃতিশক্তি বাড়াতে দোয়া, জিকির বেশ কিছু কাজের প্রতি উৎসাহ দিয়েছেন। কুরআন-সুন্নাহর আলোকে স্মৃতিশক্তি বাড়ানোর ১০টি সহজ উপায় তুলে ধরা হলো। যে উপায়গুলো শুধু স্মৃতিশক্তি বাড়িয়ে দেবে এমনই নয় বরং তা মানুষের শারীরিক ও মানসিক সুস্থতায় যথাযথ কার্যকরী। তাহলো-

> ইখলাস বা আন্তরিক
সফলতা অর্জনে যেমন ইখলাস বা আন্তরিকতার বিকল্প নেই। তেমনি স্মৃতিশক্তি ভালো রাখতেও ইখলাসের গুরুত্ব সবচেয়ে বেশি। আর ইখলাসের মূল উপাদানই হচ্ছে বিশুদ্ধ নিয়ত। আল্লাহ তাআলা বলেন-

‘তাদেরকে এছাড়া কোরো নির্দেশ করা হয়নি যে, তারা খাঁটি মনে একনিষ্ঠভাবে আল্লাহর ইবাদত করবে, নামাজ কায়েম করবে এবং জাকাত দেবে। এটাই সঠিক ধর্ম।’ (সুরা আল-বায়্যিনাহ : আয়াত ৫)

এ জন্যই স্মরণশক্তি ধরে রাখা কিংবা বাড়ানোর মূলমন্ত্রও কাজের প্রতি নিয়তের বিশুদ্ধতা, ইখলাস তথা যথাযথ আন্তরিকতা রাখা। এ সম্পর্কে বিশ্বনবি বলেন, ‘ব্যক্তির সব আমলই নিয়তের উপর নির্ভরশীল। অর্থাৎ যার নিয়ত যত পরিশুদ্ধ ও ইখলাসপূর্ণ হবে তার কাজ তত মজুবত হবে।

ইসলামিক স্কলার খুররাম মুরাদ বলেন, ‘উদ্দেশ্য বা নিয়ত হল আমাদের আত্মার মত অথবা বীজের ভিতরে থাকা প্রাণশক্তির মত। বেশীরভাগ বীজই দেখতে মোটামুটি একইরকম, কিন্তু লাগানোর পর বীজগুলো যখন চারাগাছ হয়ে বেড়ে উঠে আর ফল দেয়া শুরু করে তখন মানুষের কাছে বীজের আসল পার্থক্যটা পরিস্কার হয়ে যায়। একইভাবে নিয়ত যত বিশুদ্ধ হবে আমাদের কাজের ফলও তত ভালো হবে।’

সুতরাং মুমিন মুসলমানের নিয়ত এমন হতে হবে যে, আল্লাহ আমাদের স্মৃতিশক্তি যেনো একমাত্র ইসলামের কল্যাণের জন্যই বাড়িয়ে দেন।

> দোয়া ও জিকির
আল্লাহর সাহায্য ছাড়া কোনো কাজেই সফলতা অর্জন করা সম্ভব নয়। এজন্য মুমিন মুসলমানের উচিত সর্বদা আল্লাহর কাছে দোয়া ও জিকির করা যাতে তিনি সবার স্মৃতিশক্তি বাড়িয়ে দেন এবং কল্যাণকর জ্ঞান দান করেন। এক্ষেত্রে কুরআনুল কারিমের এ দোয়াটি বেশি বেশি পাঠ করা-
رَّبِّ زِدْنِي عِلْمًا
উচ্চারণ : ‘রাব্বি যিদনি ইলমা’
অর্থ : হে আমার পালনকর্তা! আমার জ্ঞান বাড়িয়ে দিন।’ (সুরা ত্বহা : আয়াত ১১৪)

> গোনাহ থেকে বিরত থাকা
আলো ও অন্ধকার এক সঙ্গে থাকতে পারে না। জ্ঞান হলো আলো আর গোনাহ হলো অন্ধকার। তাই জ্ঞানের আলোয় আলোকিত হতে হলে অবশ্যই গোনাহ থেকে দূরে থাকতে হবে। তবেই মানুষের স্মরণ শক্তি লোপ পাবে না। তা দিন দিন বাড়বে।

প্রতিনিয়ত পাপ করে যাওয়ার একটি প্রভাব হচ্ছে স্মৃতিশক্তি দুর্বল হয়ে যাওয়া। পাপের অন্ধকার ও জ্ঞানের আলো কখনো একসঙ্গে থাকতে পারে না। ইমাম শাফেঈ রাহিমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন-

‘আমি (আমার শাইখ) ওয়াকিকে আমার খারাপ স্মৃতিশক্তির ব্যাপারে অভিযোগ করেছিলাম এবং তিনি শিখিয়েছিলেন আমি যেন পাপকাজ থেকে নিজেকে দূরে রাখি। তিনি বলেন- আল্লাহর জ্ঞান হলো একটি আলো এবং আল্লাহর আলো কোনো পাপচারীকে দান করা হয় না।’

হজরত ইয়াহইয়া বিন ইয়াহইয়া বলেন, ‘এক ব্যক্তি মালিক ইবনে আনাসকে প্রশ্ন করেছিলেন, ‘হে আল্লাহর বান্দা! আমার স্মৃতিশক্তিকে শক্তিশালী করে দিতে পারে এমন কোনো কিছু কি আছে? তিনি বলেন, যদি কোনো কিছু স্মৃতিকে শক্তিশালী করতে পারে তা হলো পাপ করা ছেড়ে দেয়া।’ (আল-খাতিব আল-জামি)

সুতরাং যখন কোনো মানুষ পাপ করে এটা তাকে উদ্বেগ ও দুঃখের দিকে ধাবিত করে। সে তার কৃতকর্মের ব্যাপারে ব্যতিব্যস্ত হয়ে পড়ে। ফলে ভোঁতা হয়ে যায় তার অনুভূতি এবং জ্ঞান অর্জনের মতো কল্যাণকর আমল থেকে সে দূরে সরে পড়ে। তাই আমাদের উচিত পাপ থেকে দূরে থাকার জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা করা।

> প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখা
সবার মুখস্থ করার পদ্ধতি বা স্মৃরণ রাখার শক্তি এক নয়। কারো শুয়ে পড়লে তাড়াতাড়ি মুখস্থ হয়, কারো আবার হেঁটে হেঁটে পড়লে তাড়াতাড়ি মুখস্থ হয়। কেউ নীরবে পড়তে ভালোবাসে, কেউবা আবার আওয়াজ করে পড়ে। কারো ক্ষেত্রে ভোরে তাড়াতাড়ি মুখস্থ হয়, কেউবা আবার গভীর রাতে ভালো মুখস্থ করতে পারে। তাই আমাদের প্রত্যেকের উচিত নিজ নিজ উপযুক্ত সময় ও পারিপার্শ্বিক পরিবেশ ঠিক করে তার যথাযথ ব্যবহার করা। আর কুর’আন মুখস্থ করার সময় একটি নির্দিষ্ট মুসহাফ (কুর’আনের আরবি কপি) ব্যবহার করা। কারণ বিভিন্ন ধরনের মুসহাফে পৃষ্ঠা ও আয়াতের বিন্যাস বিভিন্ন রকম হয়ে থাকে। একটি নির্দিষ্ট মুসহাফ নিয়মিত ব্যবহারের ফলে মস্তিষ্কের মধ্যে তার একটি ছাপ পড়ে যায় এবং মুখস্থকৃত অংশটি অন্তরে গভীরভাবে গেঁথে যায়।

> আমল করা
স্মৃতিতে থাকা বিষয়গুলোর উপর আমল করা। পড়ার জিনিস হলে তা বার বার পড়া। কাজের বিষয় হলে সংশ্লিষ্ট কাজে নিয়োজিত থাকা। কাজের বিষয়ে যতবেশি আমল বা বাস্তব প্রয়োগ হবে স্মৃতিশক্তি তত ঠিক থাকবে। এমনকি স্মৃতিশক্তি বেড়ে যাবে। মস্তিষ্কে বিষয়গুলো স্থায়ীভাবে জমে যাবে।

> অন্যকে শেখানোর দায়িত্ব পালন করা
স্মৃতিশক্তি ঠিক রাখার অন্যতম মাধ্যম নিজের শেখা জিনিসগুলো অন্যকে শেখানো। অন্যকে শেখানোর মাধ্যমে নিজের স্মৃতিশক্তি ঠিক থাকবে। একই বিষয় বারবার করলে তা স্মৃতিতে থাকবে অমলিন ও স্থায়ী। তাই জানা জিনিসগুলো বারবার

> সুষম খাদ্য গ্রহণ করা
স্মৃতিশক্তি বাড়াতে উপযুক্ত খাদ্যাভ্যাসের বিকল্প নেই। মস্তিষ্কের গঠন ও উন্নতির জন্য উপযোগী খাবার গ্রহণ করা। স্মৃতি শক্তি বাড়াতে পরিমাণ মতো আমিষ, চর্বি ও শর্করা, শব্জি ও শক্তিবর্ধক খাদ্য মধু, যয়তুন, দুধ ইত্যাদি পুষ্টি সমৃদ্ধ খাবার খাদ্য তালিকায় রাখা স্মৃতিশক্তি ও মস্তিষ্কের কার্যকারিতায় জরুরি।

ইমাম জুহরি রাহমাতুল্লাহি আলাইহির মতে, স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধিতে মধু ও কিসমিস খাওয়া উচিত। এ সম্পর্কে তিনি বলেন-
– ‘তোমাদের মধু পান করা উচিত; কারণ এটি স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধির জন্য উপকারী।’ মধুতে রয়েছে মুক্ত চিনিকোষ যা মস্তিষ্কের গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। মধু পান করার পর সাত মিনিটের মধ্যেই রক্তে মিশে গিয়ে কাজ শুরু করে দেয়।
– যে ব্যক্তি হাদিস মুখস্থ করতে চায়; তার উচিত কিসমিস খাওয়া।’

> যথাযথ বিশ্রাম নেয়া
স্মৃতিশক্তি বাড়াতে মস্তিষ্ককে বিশ্রাম দেয়ার বিকল্প নেই। মস্তিষ্ককে বিশ্রাম দিতে হলে অবশ্যই নিরিবিলি কোলাহল মুক্ত পরিবেশে সময় কাটানো। কাজের ফাঁকে ফাঁকে সময় ও ক্ষণ অনুযায়ী সামান্য সময় হলেও বিশ্রাম নেয়া জরুরি। এ বিশ্রাম মানুষের ক্লান্তি ও অবসাদকে দূর করে দেয়। স্মৃতিশক্তি বাড়াতে কার্যকরী ভূমিকা পালন করে। এটি বিশ্বনবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সুন্নাতও বটে।

> অপ্রয়োজনীয় বিষয়গুলো ছেড়ে দেয়া
প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো স্মৃতিতে জমা রাখতে অপ্রয়োজনীয় বিষয় ও কাজ ছেড়ে দেয়া জরুরি। অনেক সময় দেখা যায়, নামাজ পড়ার সময় কত আয়াত নামাজ পড়া হলো তাই স্মরণ করা কষ্ট হয়ে যায়। সে কারণে অপ্রয়োজনীয় কাজে মন ও স্মৃতিকে ব্যস্ততায় নিমজ্জিত না করা। অযথা আড্ডা-গান, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সময় ব্যয় না করা।

> তাওয়াক্কুল করা
স্মরণ রাখা কষ্টসাধ্য কাজ। কোনো কিছুই মনে রাখতে পারছেন না! তাই হতাশ হওয়ার কিছু নেই। স্মরণ রাখার প্রচেষ্টাই স্মৃতিশক্তি বাড়িয়ে দেবে। আশাহত না হয়ে যে কোনো কাজে নিয়মিত প্রচেষ্টা চালিয়ে যাওয়ায়। স্মৃতিশক্তি বাড়াতে মহান আল্লাহর ওপর প্রচণ্ড আস্থা ও বিশ্বাস রেখে প্রচেষ্টা চালিয়ে যাওয়ার বিকল্প নেই।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে উল্লেখিত বিষয়গুলোর প্রতি যথাযথ যত্নবান হওয়ার তাওফিক দান করুন। গোনাহমুক্ত জীবন গড়ার মাধ্যমে নিজেদের স্মৃতিশক্তি অটুট রাখাসহ তা আরও বাড়ানোর তাওফিক দান করুন। আমিন।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ইসলাম

দুনিয়ায় শাস্তি হলে পরকালেও কি সাজা হবে?

অন্যায়-অপরাধ করলে শাস্তি পাবে এটা সবারই জানা কথা। আল্লাহ তাআলা অপরাধের কারণে মানুষকে শাস্তি দেবেন এ মর্মে অনেক নির্দেশনা জারি করেছেন। এবার যদি কেউ কুরআনে ঘোষিত শাস্তিযোগ্য অপরাধ করে আর দুনিয়াতে সে অপরাধের শাস্তি কার্যকর করা হয়, তবে পরকালেও কি ওই ব্যক্তি একই অপরাধের শাস্তি ভোগ করতে হবে? এ সম্পর্কে ইসলামের দিকনির্দেশনা কী?

মানুষ তার ভালো কিংবা মন্দ কর্মের প্রতিফল দুনিয়াতেই পেতে হবে এমন নয়; বরং অনেকে দুনিয়ার সব ধরনের কর্মফল কেউ কেউ দুনিয়াতে পেয়ে থাকেন আবর কেউ কেউ পরকালেও পাবে।

আল্লাহ তাআলা কখনো কখনো বান্দাকে দুনিয়াতে মানুষের পাপ কর্মের শাস্তি দিয়ে থাকেন আবার কখনো দুনিয়াতে শাস্তি দেন না তা পরকালের জন্য জমা রাখেন। তিনি সেখানে তাকে কঠিন শাস্তির মুখোমুখি করবেন; যদি সে জীবদ্দশায় আল্লাহর কাছে অন্যায় অপরাধের জন্য ক্ষমা না চায়। আবার আল্লাহ তাআলা ইচ্ছা করলে দয়া করে নিজ থেকে তাকে ক্ষমাও করে দিতে পারেন।

ইসলামি শরিয়তে দুনিয়ায় শাস্তি হওয়ার পর পরকালে শাস্তি হবে কিনা এ সম্পর্কে হাদিসের দিকনির্দেশনা রয়েছে। তাহলো-

দুনিয়াতে কোনো ব্যক্তির গোনাহের কারণে বা কোনো অপরাধের কারণে যদি ইসলামি শরিয়া মোতাবেক শাস্তি পায় বা কোনো কারণে আল্লাহর পক্ষ থেকে শাস্তির সম্মুখীন হয় তবে তার ওই অপরাধের গোনাহ মাফ হয়ে যাবে। ওই শাস্তি পাওয়ার কারণে নির্ধারিত পাপ কাজের পরকালীন শাস্তি থেকেও মুক্তি পাবে। এ কথার সমর্থনে হাদিসে পাকে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন-
‘আল্লাহ তাআলা যখন তাঁর বান্দার কল্যাণ চান তখন দুনিয়াতে তার শাস্তি ত্বরান্বিত করেন, আর যখন কোনো বান্দার অকল্যাণ চান তখন তার পাপগুলো জমা রেখে কেয়ামতের দিন তাঁর প্রাপ্য পূর্ণ করে দেবেন।’ (তিরমিজি)

কুরআনে ঘোষিত শাস্তিযোগ্য কোনো অপরাধের শাস্তি কুরআন অনুযায়ী হলে তাতে বান্দার পরকালে ওই অপরাধের শাস্তি হবে না। প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এক নারীর ব্যভিচারের শাস্তি কার্যকর করে তাকে গোনাহ থেকে মুক্ত বলে ঘোষণা দিয়েছিলেন। হাদিসে এসেছে-

হজরত আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, আল্লাহ তাআলা যখন তাঁর কোনো বান্দার কল্যাণ চান তখন তাড়াতাড়ি দুনিয়াতে তাকে বিপদে (অপরাধের শাস্তিতে) নিক্ষেপ করেন। আর যখন তিনি তাঁর কোনো বান্দার অকল্যাণ চান তখন তাকে তার অপরাধের শাস্তি প্রদান থেকে বিরত থাকেন। তারপর কেয়ামাতের দিন তিনি তাকে পুরাপুরি শাস্তি দেন।’ (তিরমিজি)

এ হাদিসের ব্যাখ্যায় শায়খ আব্দুল্লাহ বিন বায রাহিমাহুল্লাহ বলেছেন, ‘অনেক সময় মানুষের এই শাস্তি হয় রোগ ব্যাধি, কখনো সন্তানের মৃত্যু, কখনো দারিদ্রতা, কখনো সম্পদ বিনষ্ট কখনো অন্যান্য বিপদ মুসিবত দ্বারা। এর মাধ্যমে আল্লাহ তাআলা বান্দার গোনাহ মোচন করেন। সেই সাথে তাকে উৎসাহিত করেন যেন সে বিপদে-মুসিবতে সবর ও সওয়াবের প্রত্যাশা করে।’

অন্য বর্ণনায় এসেছে, ‘রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘বিপদ যত মারাত্মক হবে, প্রতিদানও তত বড় হবে। আল্লাহ তাআলা যখন কোনো জাতিকে ভালোবাসেন তখন তাদের (বিপদে ফেলে) পরীক্ষা করেন। যে লোক তাতে (বিপদে) সন্তুষ্ট থাকে, তার জন্য (আল্লাহ তাআলার) সন্তুষ্টি বিদ্যমান থাকে। আর যে লোক তাতে অসন্তুষ্ট হয় তার জন্য (আল্লাহ তাআলার) অসন্তুষ্টি বিদ্যমান থাকে।’ (ইবনে মাজাহ)

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এক নারী সাহাবির শাস্তিযোগ্য অপরাধের শাস্তি দিয়ে তার তাওবাহ কবুল হয়েছে মর্মে ঘোষণা দিয়েছিলেন। হাদিসে এসেছে-

এক নারী সাহাবি রাসুলু সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে এসে বলল, আমি জিনা (ব্যভিচার) করেছি। জিনার কারণে গর্ভবর্তী হয়েছি। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে বললেন, তুমি চলে যাও। সন্তান হলে এবং তার দুধ পান করানোর সময় শেষ হলে এসো। যখন তার সন্তানের দুধ পানের মেয়াদ শেষ হলো, তখন সে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের দরবারে এসে উপস্থিত হলেন। তিনি বললেন, তোমার এ সন্তানকে কারো দায়িত্বে দিয়ে দাও। যখন সে তার সন্তানকে অন্য একজনের দায়িত্বে রেখে আসলেন, তখন তাকে (অপরাধের শাস্তি হিসেবে) পাথর নিক্ষেপে হত্যার নির্দেশ দেয়া হলো। তার জন্য বুক সমান গভীর একটি গর্ত করা হলো এবং তাকে সেখানে দাঁড় করিয়ে পাথর নিক্ষেপে হত্যা করা হলো। তারপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার জানাজার নামাজ পড়ালেন।

হজরত ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু আরজ করলেন, হে আল্লাহর রাসুল! আপনি তার জানাজা নামাজ পড়ালেন? এতো ব্যভিচারিনী। (এ কথা শুনে) তিনি বললেন, (হে ওমর!) এ নারী এমন তাওবাহ করেছে; তা যদি দুনিয়াবাসীর মধ্যে ভাগ করে দেয়া হয়; তবে তা সবার জন্য যথেষ্ট হবে। এর চেয়ে বড় আর কি হতে পারে যে, সে (আল্লাহর ভয়ে) নিজের জীবন দিয়ে দিল।’ (মুয়াত্তা মালেক)

অনুরূপভাবে কেউ যদি দুনিয়াতে কোনো অপরাধ করার পর ইসলামি আদালতের মাধ্যমে শাস্তিপ্রাপ্ত হয় তাহলে তা পরকালে তার জন্য কাফফারা (গোনাহ মোচনের মাধ্যম) হয়ে যায়। ফলে সেখানে তাকে এই অপরাধের কারণে পুনরায় শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে না। হাদিসের অন্য বর্ণনায় এসেছে-

হজরত উবাদা ইবনু সামিত রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, আমরা নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে ছিলাম, তখন তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, তোমরা কি এসব শর্তে আমার কাছে বায়আত করবে যে, তোমরা আল্লাহর সঙ্গে অন্য কাউকে শরিক করবে না, জিনা করবে না এবং চুরি করবে না? এরপর তিনি নারীদের শর্ত সম্পর্কিত আয়াত পাঠ করলেন-
إذا جاءك المؤمنات يبايعنك
(হে নবী!) মুমিন নারীগণ যখন আপনার কাছে এ মর্মে বায়আত করতে আসে।’
তারপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন-
‘তোমাদের যে ব্যাক্তি এ সব শর্ত পূরণ করবে, আল্লাহ তার প্রতিদান দেবেন। আর যে ব্যাক্তি এ সবের কোনো একটি করে ফেলবে এবং তাকে (দুনিয়াতে) শাস্তিও দেয়া হবে। তবে এ শাস্তি তার জন্য কাফফারা হয়ে যাবে। আর যে ব্যাক্তি এ সবের কোনো একটি করে ফেলল এবং আল্লাহ তা গোপন রাখলেন, তাহলে এ বিষয়টি আল্লাহর কাছে রইল। তিনি চাইলে তাকে শাস্তিও দিতে পারেন অথবা তাকে ক্ষমাও করে দিতে পারেন।’ (বুখারি, )

সুতরাং উল্লেখিত হাদিসের আলোকে এ বিষয়টি সুস্পষ্ট যে, কোনো ব্যক্তির যদি শাস্তিযোগ্য অপরাধের শাস্তি দুনিয়াতে যথাযথভাবে করা হয় তবে সে ওই অপরাধের বিষয়ে নিষ্পাপ হয়ে যাবে। পরকালে আল্লাহ তাআলা তাকে শাস্তি দেবেন না। আর আল্লাহ তাআলা অনেককে দুনিয়াতে সাধারণ গোনাহগুলো অনেককে বিপদ-মুসিবত, রোগ-ব্যধি ও কষ্টের মাধ্যমে মোচন করে দেন। আবার চাইলে তিনি যে কাউকে ক্ষমাও করে দিতে পারেন।

তাই কেউ যদি নিজের পাপাচার ও অন্যায় কাজের শাস্তি দুনিয়াতে পেয়ে যায় তাহলে এটা তার জন্য কল্যাণকর। কেননা দুনিয়ার শাস্তি লাভের পর সে গোনাহমুক্ত হয়ে যায়। কিন্তু যার শাস্তি পরকালের জন্য জমা রাখা হয়; নিঃসন্দেহে তার পরিণতি হবে ভয়াবহ।

আল্লাহ তাআলা মুমিন মুসলমানকে শাস্তিযোগ্য সব অপরাধ থেকে মুক্ত থাকার তাওফিক দান করুন। দুনিয়ার সাধারন সব গোনাহসহ সব বড় গোনাহের শাস্তি দুনিয়াতে যে কোনো কিছুর বিনিময়ে ক্ষমা পাওয়ার তাওফিক দান করুন। আমিন।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com