আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

ফল

জেনে নিন আখ চাষের পদ্ধতি : সপ্তম পর্ব

আখ অর্থকরী ফসলের মধ্যে অন্যতম। আখ থেকে চিনি, গুড় এবং রস পাওয়া যায়। বাংলাদেশের মোট আবাদকৃত জমির ২.০৫% আখের আবাদ হয় যার পরিমাণ ১.৭০ লাখ হেক্টর। মিলজোনে ০.৮৬ লাখ হেক্টর এবং ননমিলজোনে ০.৮৪ লাখ হেক্টর। আসুন আখ চাষের পদ্ধতি জেনে নেই-

জমিতে পানি সেচ
কখন এবং কতদিন পরপর সেচ দিতে হবে তা নির্ভর করে আবহাওয়া, মাটির ধরন, ফসলের বৃদ্ধির হার এবং অবস্থার উপর। বাস্তব অবস্থা এবং নিজ অভিজ্ঞতার নীরিখে চাষিদের এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। সাধারণত শুষ্ক মৌসুমে কয়েক সপ্তাহ পর পর জমিতে ৪-৫ ইঞ্চি পানি সরবরাহ করলে আখের বৃদ্ধি অব্যাহত থাকে এবং ফলন ভালো হয়। এভাবে ৩-৪টি সেচ দিলে এবং প্রয়োজনমতো সার ও পরিচর্যা করলে একর প্রতি ফলন ৪০-৫০ টনে বৃদ্ধি করা সম্ভব। বর্ষাকালে আখের জমিতে বৃষ্টির পানি যেন জমে না থাকে সেজন্য পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থাও করতে হবে।

মুড়িআখ ব্যবস্থাপনা
সারা ক্ষেতে সমভাবে সুস্থ-সবল আখের চারা থাকা বাঞ্ছনীয়। চারা তৈরি করে রোপিত আখ জমিকেই মুড়ির জন্য নির্বাচন করা শ্রেয়। কারণ এ ধরনের জমিতে ফলন বেশি পাওয়া যাবে। রোগ পোকামাকড়ের উপদ্রব কম ছিল, এরূপ জমিতে মুড়ি আখের চাষ করা উত্তম।

মুড়িআখ রাখতে করণীয়
রেটুন সেভিং আখের একটি গুরূত্বপূর্ণ প্রযুক্তি। আখ অবশ্যই ধারালো কোদাল দিয়ে মাটি সমান এবং সম্ভব হলে একটু গভীরে কাটাই ভালো। কাটার এ পদ্ধতিকেই রেটুন সেভিং বলা হয়।

প্রাথমিক পরিচর্যা
আখ কাটার ৫-৭ দিনের মধ্যেই আখের পরিত্যক্ত অংশ পুড়ে, ট্রাক্টর বা পাওয়ার টিলার দিয়ে ৩-৪টি চাষ ও মই দিয়ে জমি ভালোভাবে প্রস্তুত করতে হবে। লাভজনক মুড়িআখ আবাদের জন্য বিকল্প প্রযুক্তি হিসেবে জমি চাষের সময় আখের পরিত্যক্ত অংশসমূহ আখের দুই পাশের সারিতে ভালোভাবে মিশিয়ে দেওয়া যেতে পারে। এভাবে মাটি উলটপালটের ফলে পরিত্যক্ত অংশ মাটির সঙ্গে মিশে আখের ফলন উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করে। এই পদ্ধতিতে জমিতে মাটির পানি ধারণ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়, আগাছা নিয়ন্ত্রণ হয়, জৈবসার প্রয়োগে মাটির গঠন উন্নত হয় এবং শেকড় থেকে আখের খাবার গ্রহণ সহজ হয়। তবে আখের পরিত্যক্ত অংশসমুহ রোগ-জীবাণুর নিরাপদ আবাসস্থল। অতএব এগুলো জমিতে ব্যবহারের আগে কীটনাশক এবং ছত্রাকনাশক ওষুধ দিয়ে শোধন করে নিতে হবে। এ পদ্ধতিতে পরিত্যক্ত অংশ পোড়ানোর চেয়ে, মাটিতে মিশিয়ে দেওয়া বেশি কার্যকর হবে।

প্রথম চাষের সময় অঞ্চলভেদে অনুমোদিত মাত্রার সবটুকু ফসফরাস সার, অর্ধেক পটাশ সার মাটির সঙ্গে ভালোভাবে মিশিয়ে প্রয়োগ করতে হবে। মুড়ি রাখার সময় চারা গজানোর জন্য মাটিতে পর্যাপ্ত রস না থাকলে সেচের ব্যবস্থা করতে হবে। তবে অঞ্চল এবং মাটির ধরনের দিকে লক্ষ্য রেখে অনুমিত মাত্রায় সেচ প্রয়োগ করতে হবে।

পরিচর্যা
ফাঁকা জায়গা পূরণের জন্য আগে তৈরি করা চারা পাতার দুই তৃতীয়াংশ ছেঁটে রোপণ করলে চারা সুস্থ ও সবলভাবে বেড়ে উঠবে এবং শেকড়ের ভিত্তি মজবুত হবে। কুশি গজানোর পর্যায়ে গ্যাপ ফিলিং অধিক কার্যকরী হয়। জমিতে আগাছা জন্মালে, আগাছা পরিষ্কার করে সঠিকভাবে চারা রোপণ করতে হবে। স্মাট ও সাদা পাতাসহ রোগাক্রান্ত ঝাড়ের সমস্ত গাছ শেকড়সহ উঠিয়ে ফেলে পুড়িয়ে ফেলতে হবে অথবা মাটিতে পুঁতে ধ্বংস করতে হবে। প্রচলিত এবং রোপা পদ্ধতিতে আখ রোপণে সার প্রয়োগ পদ্ধতি মুড়িআখের বেলায় ও প্রযোজ্য। তবে মুড়িআখে বিঘাপ্রতি ১২.৫ কেজি ইউরিয়া সার বেশি দিতে হবে। ৪-৬ ইঞ্চি গভীরে আখের গোড়ার চারপাশে ইউরিয়া সার প্রয়োগের ফলে মুড়ির ফলন উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়।

পরিপক্কতা
আখের পরিপক্কতার জন্য সাধারণত ১০ থেকে ১২ মাস সময় প্রয়োজন। পরিপক্ক আখের গায়ের রং সাধারণত উজ্জ্বল হয়, আখের গায়ে টোকা দিলে ধাতব শব্দ হয়। যে জমি থেকে আখ কাটা হবে ওই জমির কোনো একটি আখ সমান তিন খণ্ড কেটে চিবিয়ে যদি মনে হয় সব খণ্ডই প্রায় সমান মিষ্টি, তাহলে বুঝতে হবে আখে পরিপক্কতা এসেছে। মাঠে দণ্ডায়মান আখে ফুল দেখা দিলে পরিপক্কতা এসে গেছে বলে বুঝতে হবে। এছাড়া যে সব আখ জাতের ফুল হয় না; সেগুলোর পরিপক্কতা বোঝাতে সবুজ পাতার সংখ্যা ১৭-১৮ থেকে ৭-৮ এ নেমে আসলেই বুঝতে হবে আখ পরিপক্ক হয়েছে।

গুড় উৎপাদন
আখে নাইট্রোজেন সার ব্যবহার গুড়ের মানের ওপর দারুণভাবে প্রভাব ফেলে। মাত্রাতিরিক্ত নাইট্রোজেন সার ব্যবহারে রস কম পরিষ্কার হয়, বিধায় গুড়ের রং কালচে হয়ে যায়। এ ধরনের খারাপ রঙের গুড় দীর্ঘদিন সংরক্ষণ করা যায় না। কিন্তু সুষম মাত্রায় ফসফরাস জাতীয় সার ব্যবহারে রস পরিষ্কার করা সহজ হয় এবং গুড়ের মান ভালো হয়। আখের পাতা ছাড়িয়ে গিরা এবং গোড়ার শেকড় ভালোভাবে পরিষ্কার করে গোড়ার মাটি এবং অন্যান্য আবর্জনা পরিষ্কার করে আখ কাটার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মাড়াই করা উত্তম। মাড়াইকল, চুলা, কড়াই ও রস পরিষ্কারকই আখ থেকে গুড় তৈরির প্রধান উপকরণ।

মাড়াইলকল
বাংলাদেশে ইক্ষু গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএসআরআই) কর্তৃক সুপারিশকৃত ৫ রোলারবিশিষ্ট ও দুই স্তরে আখ মাড়াই উপযোগী এবং বর্তমানে প্রচলিত অন্যান্য মাড়াইকল থেকে শতকরা ১৫ থেকে ২০ ভাগ বেশি রস আহরণ ক্ষমতাসম্পন্ন শক্তিচালিত (১৬ হর্স পাওয়ার ডিজেল ইঞ্জিন চালিত) আধুনিক মাড়াইকল ব্যবহার করা যেতে পারে। মাড়াইকলটি সহজেই স্থানান্তরযোগ্য, ৪ চাকাবিশিষ্ট ১২ ফুট লম্বা ও ৩.৫ ফুট চওড়া একটি মজবুত লোহার ফ্রেমের উপর স্থাপিত। ঘণ্টায় ১ লিটার ডিজেল লাগে এবং ৫০০-৫৬০ কেজি আখ মাড়াই করা যায়।

চুলা
গুড় প্রস্তুতের জন্য সাধারণত বিভিন্ন ধরনের দেশি চুলা ব্যবহার হয়ে থাকে। দেশি চুলার মধ্যে ৭.৫ ফুট ৫ ফুট x ২.৫ ফুট আকারের চুলাই সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয়। নাটোর জেলার লালপুর এবং সংলগ্ন এলাকায় অধিক কার্যকর পিটচুলা ব্যবহৃত হয়। এ ধরনের চুলায় জ্বালানী প্রবেশদ্বারের কাছ ছোট গর্ত থাকে এবং এর ওপর লোহার রড ব্যবহার করে ছাই নিচে পড়ার ব্যবস্থা আছে। কমখরচে গুড় প্রস্তুতের জন্য পিটচুলায় ফ্লু-গ্যাস তাপের কার্যকর ব্যবহার করা হয়। এই চুলায় চিমনি ৪-৫ ফুট দূরে এমনভাবে স্থাপন করা হয়; যাতে চুলার ছাই কড়াইয়ের রসে মিশতে না পারে।

কড়াই
আখের রস জ্বাল দেওয়ার জন্য পরিষ্কার এবং আয়রনমুক্ত কড়াই বা প্যান ব্যবহার করা উচিত। গ্যালভানাইজিং করা স্টিলের তৈরি কড়াই ব্যবহার করতে হবে।

  • জেনে নিন আখ চাষের পদ্ধতি : সপ্তম পর্ব

    জেনে নিন আখ চাষের পদ্ধতি : সপ্তম পর্ব

  • জেনে নিন আখ চাষের পদ্ধতি : সপ্তম পর্ব

    জেনে নিন আখ চাষের পদ্ধতি : সপ্তম পর্ব

  • জেনে নিন আখ চাষের পদ্ধতি : সপ্তম পর্ব

    জেনে নিন আখ চাষের পদ্ধতি : সপ্তম পর্ব

  • জেনে নিন আখ চাষের পদ্ধতি : সপ্তম পর্ব

    জেনে নিন আখ চাষের পদ্ধতি : সপ্তম পর্ব

  • জেনে নিন আখ চাষের পদ্ধতি : সপ্তম পর্ব

    জেনে নিন আখ চাষের পদ্ধতি : সপ্তম পর্ব

  • জেনে নিন আখ চাষের পদ্ধতি : সপ্তম পর্ব
  • জেনে নিন আখ চাষের পদ্ধতি : সপ্তম পর্ব
  • জেনে নিন আখ চাষের পদ্ধতি : সপ্তম পর্ব
  • জেনে নিন আখ চাষের পদ্ধতি : সপ্তম পর্ব
  • জেনে নিন আখ চাষের পদ্ধতি : সপ্তম পর্ব

ফল

কমলা চাষে পঞ্চগড়ের শেফালির সাফল্য

গত সপ্তাহে গিয়েছিলাম দেশের সর্ব উত্তরের জেলা পঞ্চগড়ে। পঞ্চগড়ে গেলে চেষ্টা করি শেফালি বেগমের কমলা বাগান ঘুরে আসার। কৃষিক্ষেত্রে হাড়িভাসা ইউনিয়নের শেফালি বেগমের সফলতার কথা কম বেশি অনেকেই জানেন। এমন প্রত্যন্ত গ্রামের এক শিক্ষিত নারী কৃষি কাজকে বেছে নিয়ে দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখছেন দেখে সত্যিই অবাক লাগে।

গত দশ বছরে শেফালি গড়ে তুলেছেন বিশাল এক কমলার বাগান। আগেও তার সফলতার বিষয়ে লিখেছিলাম। এবারও তিনি নানান বিষয় নিয়ে কথা বলেন। তার কাছে জানতে চেয়েছিলাম শিক্ষিত হয়েও আপনি কৃষি কাজকে বেছে নিলেন এই বিষয়ে কিছু বলুন। তিনি বলেন, আমি যখন দেখলাম গ্রামের মহিলারা বিনা কারণে সময় নষ্ট করছে, এভাবে সময় নষ্ট করাটা আমার মোটেও পছন্দ ছিল না।

তাই আমি ভাবলাম অযথা সময় নষ্ট না করে কিছু একটা শুরু করি। অনেক ভেবে ঠিক করলাম কমলা চাষ করবো, যেহেতু আমার পুরোনো একটি কমলা গাছে বেশ ভালো কমলা ধরছে এবং খেতেও মিষ্টি সুস্বাদু। তাহলে বাগান আকারে করলে মনে হয় সফলতা আসবে। এই ভেবে পঞ্চগড় জেলার কমলা উন্নয়ন প্রকল্পের সাথে যোগাযোগ করি। তারা আমাকে কমলা চাষের উপর প্রশিক্ষণ দেয়। অন্যদিকে চারা ও বিভিন্ন উপকরণ দিয়ে সহযোগিতা করে এবং উৎসাহ দেয়।

Shefali-Orenge

এখন আমার খুবই ভালো লাগে কমলা গাছের যত্ন করতে। আমি সংসারের কাজ-কর্ম এবং সন্তানদের পড়া-লেখা দেখিয়ে বাকি সময়টা কমলা বাগানে কাজ করি। এতে আমার সময়ও ভালো কাটছে আর মনটাও প্রফুল্ল থাকছে। আমার দেখা-দেখি এখন অনেক মহিলারাই অযথা সময় নষ্ট না করে বাড়ির আঙ্গিনাতেই কিছু না কিছু একটা করছে। গত বছর মহামারি করোনার কারণে যেহেতু স্কুল-কলেজ বন্ধ ছিল তাই আমার দুই ছেলে এই দিনগুলোতে অনেক সাহায্য করেছে।

আজ থেকে ১১ বছর পূর্বে আমরা প্রথমে ০.২৫ হেক্টর জমিতে কমলার চাষ শুরু করি। বর্তমান জমির পরিমাণ আরো বৃদ্ধি করেছি। চারা রোপণের মাত্র এক বছরের মাথায় কমলা চারাগুলো অনেক বৃদ্ধি পায় এবং দ্বিতীয় বছর থেকেই বেশ কয়েকটি গাছে বড় বড় কমলা ধরতে শুরু করে। আর এখন তো বাগানের অধিকাংশ গাছেই ফল ধরছে।

গত বছর যে টাকা আয় করেছিলাম এবছর এর দ্বিগুণ আয় হবে বলে আমরা আশা করছি। তাপমাত্রা বেশি থাকার কারণে অনেক ফল ঝরে যাচ্ছে তারপরও আমরা আশা করছি এবছর প্রকৃতিক কোন সমস্যা না হলে অনেক ভালো আয় করতে পারব। বর্তমানে এই কমলা বাগানের আয় থেকে আমাদের সংসার খুব ভালোভাবেই চলছে।

তিনি বলেন, নভেম্বর মাস থেকে কমলা পাকতে শুরু করবে। আমাদের কমলা বাজারে নিতে হয় না, বাগান থেকেই পাইকারি দরে বিক্রি হয়ে যায়। এ বছর আমরা কয়েক হাজার কমলার চারা তৈরি করেছি। কেউ কমলার বাগান করতে চাইলে আমাদের কাছ থেকে চারা সংগ্রহ করতে পারেন।

Shefali-Orenge

শেফালি বেগমের একটি দুঃখ আছে বলে তিনি জানিয়েছেন। আলাপকালে তিনি বলেন, নারী দিবসে নারীদের নিয়ে অনেক আলোচনা হয় ঠিকই কিন্তু কৃষি ক্ষেত্রে নারীদের অপরিসীম অবদান থাকা সত্ত্বেও এ ক্ষেত্রে আমরা অবহেলিত। কৃষাণি হিসেবে এখনো তেমনভাবে আমাদের স্বীকৃতি মেলেনি। অথচ কৃষিতে নারীর অংশগ্রহণের ফলে একদিকে যেমন দেশের খাদ্য নিরাপত্তা বাড়ছে অন্যদিকে মাথাপিছু আয়ও বৃদ্ধি পাচ্ছে। আমাদেরকে যদি সরকারিভাবে সহযোগিতা করা হয় তাহলেই কেবল সামনের দিনে নারীরা কৃষিতে নতুন সবুজ বিপ্লব ঘটাতে আগ্রহী হয়ে উঠবেন।

এছাড়া তিনি অনেক আন্তরিক এবং আপ্যায়নপ্রিয়। এখনও যেহেতু কমলা পাকা শুরু হয়নি তাই কাঁচা কমলা দিয়েই শরবত বানিয়ে খাইয়েছেন।

এ অঞ্চলের জলবায়ু ও মাটি কমলা চাষের উপযোগী হওয়ায় কমলা চাষকে বাস্ততায় রূপ দিয়েছে এ জেলার মানুষ। বর্তমানে পঞ্চগড়ে কমলা এবং মাল্টা চাষের ফলে পাল্টে যাচ্ছে এ জেলার আর্থ সামাজিক উন্নয়নের ধারা। পঞ্চগড়ের চা চাষের সমৃদ্ধি যেমন আমাদের অর্থনীতিতে অনূকুল প্রভাব ফেলেছে তেমনি এই প্রভাবের সাথে যুক্ত হয়েছে আরেকটি মাত্রা তা হলো রসালো ফল কমলা চাষ।

পঞ্চগড় জেলায় কমলা চাষের বাস্তবতাকে কাজে লাগিয়ে কমলা আমদানি হ্রাস ও এর আমদানি বৃদ্ধি, পুষ্টি চাহিদা মেটানো ও কৃষকের আয় বৃদ্ধির জন্য উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এজন্য ২০০৬-২০০৭ অর্থ বছরে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অধীনে কমলা উন্নয়ন প্রকল্প হাতে নেয়।

Shefali-Orenge

এ প্রকল্পের অধীনে জেলার চারটি উপজেলায় গ্রামভিত্তিক কমলা গ্রাম হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে বসত বাড়ির আঙ্গিনায় ও এর আশ পাশে ব্যক্তি পর্যায়ে কমলা চাষের জন্য প্রায় ৫ হাজার পরিবারের মধ্যে ৮৮ হাজার কমলা চারা বিতরণ করা হয়। এর মধ্যে ১৯৫টি দুই বিঘা বাগান গড়ে তোলা হয়, প্রতিটি বাগানে ১৫৬টি করে চারা রোপণ করা হয়।

কমলা গাছ পাঁচ বছরেই ফল ধারণ করে। আট বছর বয়সী একটি কমলা গাছে প্রতি বছর গড়ে প্রায় ৫০০টি কমলা ধারণ করে। এ পর্যন্ত এ জেলায় ১৪১ হেক্টর জমিতে বাগান আকারে কমলা চাষ করা হয়েছে যা আগামি দুই বছরে পূর্ণ উৎপাদন শুরু করবে বলে আশা করা যাচ্ছে।

আশা করা যায় আগামি ১০ বছরের ভেতরে পঞ্চগড় জেলা কমলা উৎপাদনে দেশের শীর্ষ স্থান দখল করবে এবং সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা অব্যাহত থাকলে পঞ্চগড়ের কমলার চাষ দেশের অর্থনীতিতে ব্যাপক ভূমিকা রাখবে এবং দেশের কমলার চাহিদা পূরণেও অনেক অবদান রাখবে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ফল

মাল্টা চাষে সফল হতে চান মোস্তফা

কুড়িগ্রামে বাণিজ্যিকভাবে শুরু হয়েছে মাল্টা চাষ। জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার বোর্ডের হাট গ্রামের তালতলা এলাকায় মাল্টার চাষ করেছেন মোস্তফা কামাল।

এই গ্রামের পাকা রাস্তা সংলগ্ন এক বিঘা জমিতে দুই বছর আগে ৫০টি পেয়ারের চারা রোপণের পাশাপাশি ৪০টি মাল্টার চারাও রোপণ করেছেন মোস্তফা। গাছ লাগানোর প্রথম মৌসুমে মাল্টার ফলন ভালো না হলেও দ্বিতীয়বার মাল্টার ভালো ফলন হওয়ায় ওই বাগান দেখতে দূর-দূরান্ত থেকে অনেকে ছুটে আসছেন।

সম্প্রতি ওই বাগানে গিয়ে দেখা যায়, এক একটি গাছে ২০-৪০টি করে মাল্টা ঝুলছে। মাল্টার ওজনে নুইয়ে পড়েছে বেশির ভাগ গাছ। এসময় বাগানের পরিচর্যাকারী স্থানীয় বাসিন্দা খতিযবর রহমানের সঙ্গে নানা বিষয় নিয়ে কথা হয়। বাগানের পরিচর্যাকারী খতিযবর রহমান বলেন, ‘মোস্তফা ভাইয়ের এই মাল্টা বাগানের পাশেই আমার নার্সারি। নার্সারি দেখাশোনার পাশাপাশি আমি মাল্টা বাগানেরও পরিচর্যা করি।

মাল্টার গাছ লাগানোর পর থেকে এখন পর্যন্ত তিনি এক মণ মাল্টা বিক্রি করেছেন। আশা করি আরও ৫-৭ মণ মাল্টা বিক্রি করবেন। তবে নাগেশ্বরী উপজেলায় এটিই প্রথম মাল্টা বাগান। অনেক লোকজন দূর-দূরান্ত থেকে আসেন এই মাল্টা বাগান দেখতে।

বাগান দেখাশোনা করতে আসা চাষি মোস্তফার ছেলে স্কুল পড়ুয়া মিরাজ (১২) বলেন, এটি আমার বাবার তৈরি মাল্টা বাগান। আমি পড়ালেখার নিয়মিত বাগানে এসে মাল্টা গাছের পরিচর্যা করি। মাল্টা বাগানে এলে আমার খুবই আনন্দ লাগে। বাগান থেকে আমার বাবা কিছু মাল্টা বিক্রি করেছেন। পাশাপাশি পরিবারের সবাই আমরা এই বাগানের মাল্টা খাই। আশা রাখি বাবা এই বাগানের মাল্টা বিক্রি করে স্বাবলম্বী হবে।

jagonews24

মাল্টা বাগানে ঘুরতে আসা স্থানীয় দশম শ্রেণির ছাত্র মেহেদি জানান, আমি সুযোগ পেলেই এই বাগানে ঘুরতে আসি। এই প্রথম এলাকায় এতো সুন্দর একটি মাল্টা বাগান হয়েছে। বাগানে ঢুকলেই গাছ ভর্তি মাল্টা দেখে খুবই ভালো লাগে। তবে চাষি মোস্তফা চাচাকে অনুসরণ করে পাশের গ্রামেও একজন মাল্টা চাষ শুরু করেছেন।

মাল্টা চাষি মোস্তফা কামাল (৪৫) জানান, ২০১৯ সালে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা এসএম মাসুদ রানা স্যারের পরামর্শে মাল্টা চাষ শুরু করি। এক বিঘা জমিতে ৫০টি পেয়ারের চারা রোপণের পাশাপাশি ৪০টি মাল্টার চারাও রোপণ করি।

jagonews24

ওই বছর মাল্টার ফলন ভালো না হওয়ায় মাল্টা ছিড়ে ফেলে দিতে বাধ্য হই। তবে এ মৌসুমে প্রতিটি গাছে পর্যাপ্ত মাল্টা ধরেছে। এটা মুলত গ্রিন মাল্টা। ইতিমধ্যে ১৩০-১৫০ টাকা কেজি দরে বাগানের ৬০ কেজি মাল্টা বাজারে ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করেছি।

তিনি আরও বলেন, যদি হলুদ মাল্টার আমদানি কমিয়ে ক্রেতাদের গ্রিন মাল্টার চাহিদা বাড়ানো যায় তাহলে আমারমতো অনেক কৃষকই গ্রিন মাল্টা চাষে উদ্বুদ্ধ হয়ে নিজেদের উন্নতি করতে পারবে।

jagonews24

জানা যায়, দুই বছর আগে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শে কৃষক মোস্তফা কামাল বারি-১ মাল্টা প্রদর্শনী প্লট তৈরি করেন। মাল্টা চাষ করে স্বাবলম্বী হওয়া যায় কৃষি কর্মকর্তার দেয়া এমন ধারণা থেকে তিনি উদ্যোগ নেন মাল্টা চাষের। তিনি নিজের ১ বিঘা জমিতে বারি -১ জাতের ৪০টি চারা গাছ দিয়ে মাল্টার বাগান শুরু করেন। তার কাজে উৎসাহ দিতে কৃষি অফিস থেকে এসব মাল্টার চারা ও সার বিনা মুল্যে সরবরাহ করা হয়।

jagonews24

কুড়িগ্রাম কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, কুড়িগ্রাম জেলাজুড়ে বিক্ষিপ্তভাবে গ্রিন মাল্টা চাষ করেছেন কৃষকরা। গত মৌসুমে জেলায় ৯ মেট্রিক টন মাল্টা চাষ হয়েছে। তবে চলতি মৌসুমে মাল্টা চাষ আরও সম্প্রসারণ হওয়ায় জেলাজুড়ে ৯ হেক্টর জমিতে গ্রিন মাল্টা চাষের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়েছে। যদিও মাল্টা চাষের কোন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারিত নেই।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ফল

ছাদে সহজে জামরুল চাষের উপায়

এখন গ্রামে ও শহরে ছাদ বাগান জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। বিষমুক্ত ফল ও সবজি পেতে দেশের মানুষ ছাদ বাগানের দিকে ঝুঁকছে। ছাদে লাগানোর জন্য ফুল ও বাহারি গাছের চেয়ে ফল ও সবজি লাগানো ভালো। ফল হিসেবে জামরুল আমাদের দেশে জনপ্রিয়। খুব সহজে ছাদে জামরুল চাষ করা যায়। তাই জেনে নিন এ চাষ পদ্ধতি।

কাঁচা-পাকা সব অবস্থাতেই জামরুল খাওয়া যায়। মৌসুমে জামরুল গাছে কয়েক দফায় জামরুল ধরে। ফলের গড়ন অনেকটা নাশপাতির মতো, সাদা মোমের মতো। তবে আজকাল লাল, সবুজ নানা রঙের জামরুলের জাত উদ্ভাবিত হয়েছে। দেশী ছোট জাতের পানসে জামরুলের পাশাপাশি এখন দেশে এসেছে মিষ্টি ও বড় বড় জাতের জামরুল।

সম্প্রতি দেশে এসেছে নতুন কিছু জামরুলের জাত। যেগুলো আকারে বড়, স্বাদেও মিষ্টি। থাইল্যান্ড থেকে এসব জাতের জামরুল এসেছে বলে একে সবাই বলছে থাই জামরুল।

আধুনিক জাতের জামরুলের গাছ হয় ঝোঁপালো ও খাটো। তাই এসব জাতের গাছ ছাদে হাফ ড্রামে লাগানো যেতে পারে। তবে বাড়ির আঙিনায় জায়গা থাকলে টব বা ড্রামের চেয়ে মাটিতে লাগানো ভালো। হাফ ড্রামে মে মাসের মধ্যেই দো-আঁশ মাটি অর্ধেক ও অর্ধেক গোবর বা জৈব সার মিশিয়ে ভরতে হবে।

সাথে প্রতিটি হাফ ড্রামে ১ কেজি কাঠের ছাই ও ৫০০ গ্রাম হাঁড়ের গুঁড়া, ২৫০ গ্রাম টিএসপি, ১৫০ গ্রাম এমওপি এবং ৫০ গ্রাম বোরণ সার মিশিয়ে দেবেন। তবে ড্রামের ওপরের কানা থেকে অন্তত দু ইঞ্চি খালি রেখে সারও মাটি ভরবেন।

মাটিতে লাগানো গাছ বাড়ে বেশি। একাধিক কলম লাগালে একটি কলম থেকে অন্য কলমের দূরত্ব দিতে হবে ৩-৪ মিটার। তবে বাগান করতে চাইলে সব দিকে সমান দূরত্ব দিয়ে কলম লাগাতে হবে। জুন-জুলাই মাস কলম রোপণের উপযুক্ত সময়। তবে বছরের যেকোনো সময় জামরুল গাছ লাগানো যায়। নির্দিষ্ট জায়গায় সব দিকে আধা মিটার মাপ দিয়ে গর্ত করতে হবে।

গর্তের মাটির সাথে মিশাতে হবে গর্ত প্রতি ১৫ কেজি গোবর সার, ১ কেজি কাঠের ছাই ও ৫০০ গ্রাম হাঁড়ের গুঁড়া। গর্তের মাঝখানে কলম লাগিয়ে গোড়ার মাটি চেপে দিতে হবে। কাঠি পুঁতে ঠেস দিতে হবে। লাগানোর পর হালকা সেচ ও শুকানোর সময় সেচ দিতে হবে। ছোট গাছে ও ফলবান গাছে প্রতি বর্ষার আগে রাসায়নিক সার দিলে উপকার পাওয়া যায়।

ফলবান প্রতিটি গাছে বছরে ১০ কেজি গোবর সারের সাথে ৫০০ গ্রাম সরিষার খৈল, ১ কেজি ইউরিয়া, ৫০০ গ্রাম এমওপি ও ৫০০ গ্রাম টিএসপি সার গোড়া থেকে একটু দূরে চার দিকের মাটি নিড়িয়ে মাটির সাথে মিশিয়ে দিতে হবে। এসব ঝামেলা মনে হলে ছাদ বাগানে ড্রামের গাছে গাছ প্রতি ৪-৮টি ট্যাবলেট সার গাছের গোড়ার মাটিতে পুঁতে দিয়ে বছর ভর উপকার পেতে পারেন।

জামরুল গাছ ছাদে লাগানোর পরে নিয়মিত যত্ন নিতে হবে। নিয়তিম পরিমাণ মতো পানি দিতে হবে। তাইলে আশানুরূপ ফলন পাওয়া যাবে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ফল

যে কারণে রংপুরে বাড়ছে দেশি মাল্টার চাষ

রংপুরে জমে উঠেছে স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত গ্রিন মাল্টার বেচাকেনা। অল্প জমিতে এ ফলের উৎপাদন করে লাভবান হওয়ায় ব্যাপকহারে মাল্টা চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন এখানকার কৃষকরা। ফলে রংপুর অঞ্চলে প্রতিবছর বৃদ্ধি পাচ্ছে মাল্টা ফলের বাগান।

বর্তমানে প্রতিদিন ২০০ মণেরও বেশি মাল্টা পাইকারি বাজারে বিক্রি হচ্ছে। যার মূল্য প্রায় সাড়ে ৬ লাখ টাকা। এছাড়াও বাগান থেকে সরাসরি বিক্রি হচ্ছে মাল্টা। এর আর্থিক মূল্যও কম নয়।

সরেজমিনে দেখা যায়, নগরীর সিটি বাজার ও এর আশেপাশে ৩০ এর অধিক পাইকারি ফলের দোকানে অন্যান্য দেশি-বিদেশি ফলের মধ্যে থরে থরে সাজিয়ে রাখা হয়েছে গ্রিন মাল্টা। দুই বছর আগেও এমন দৃশ্য চোখে পাড়েনি।

রুবেল ফল ভান্ডারের মালিক মো. রুবেল বলেন, প্রতিদিন তার ৬০ মণেরমতো গ্রিন মাল্টা বিক্রি হচ্ছে। পাইকারি বিক্রেতাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি মাল্টা বিক্রির দাবি করে তিনি বলেন, গত দুই বছর আগেও তেমন এই মাল্টার চাহিদা ছিলো না। অনেককে জোর করে এই মাল্টা দিতে হতো। গত কোরবানি ঈদের সময় থেকে এখন পর্যন্ত মাল্টা বিক্রি করছেন। আরো মাসখানেক পর্যন্ত স্থানীয় মাল্টা পাওয়া যাবে বলে তিনি জানান।

jagonews24

রংপুর সিটি বাজারের তারেকুল ইসলাম মিলন এবং বাচ্চু মোল্লাসহ একাধিক পাইকারি ফল বিক্রেতা বলেন, আমাদানিকৃত মাল্টার দাম কেজি প্রতি অস্বাভাবিক বৃদ্ধি পাওয়ায় স্থানীয় মাল্টার চাহিদা বৃদ্ধি পেয়েছে। গত বছরের চেয়ে এবাব মাল্টার দামও ভালো পাওয়া যাচ্ছে। প্রতি কেজি ৭০ থেকে ৯০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে।

এবারে প্রথম ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা নিজেরাই আগ্রহী হয়ে গ্রিন মাল্টা কিনে আমেরমতো পাড়ায় পাড়ায় ফেরি করে বিক্রি করছেন।

রংপুর আঞ্চলিক কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ২০১৬ সালে রংপুর অঞ্চলের কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করার জন্য কিছু প্রদর্শনীর মাধ্যমে মাল্টা চাষ করা হয়। কিন্তু অল্প জমিতে ফলন ভালো এবং লাভজনক হওয়ায় কৃষকদের মাঝে মাল্টা চাষে আগ্রহ বৃদ্ধি পায়।

২০১৯-২০ মৌসুমে এ অঞ্চলে মোট ৯৮ দশমিক ২ হেক্টর জমিতে মাল্টার আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে রংপুর জেলায় মাল্টার আবাদ হয়েছে ৫০ হেক্টর জমিতে, গাইবান্ধায় আবাদ হয়েছে ৩ হেক্টর, কুড়িগ্রামে আবাদ হয়েছে ৯ হেক্টর, লালমনিরহাটে আবাদ হয়েছে ২২ হেক্টর এবং নীলফামারীতে আবাদ হয়েছে ১৪ দশমিক ২ হেক্টর।
লালমনিরহাট জেলার এয়ারপোর্ট এলাকায় মো. একরামুল গড়ে তুলেছেন ৬ একর জমিতে ২ হাজার ৮০০ মাল্টার বিশাল বাগান।

২০২০ সালে সামান্য কিছু মাল্টা পেলেও চলতি মৌসুমে প্রাকৃতিক কোনো দুর্যোগ দেখা না দিলে ২ হাজার মণ ফলন আশা করছেন তিনি। গত ২২ সেপ্টেম্বর ৮০ মণ মাল্টা সংগ্রহের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে ফলন পাওয়া শুরু হয় বলে তিনি জানান। প্রতি কেজি মাল্টা বিক্রি করেছেন ৯০ টাকা করে।

নীলফামারী জেলার সদর উপজেলার চরাই খোলা ইউনিয়নের কৃষক আব্দুর রহিম বসুনিয়া জানান, ২০ শতক জমিতে ২০১৭ সালের মে মাসে ৭০টি বারি মাল্টা-১ জাতের কাটিং চারা রোপণ করেন তিনি। এর মধ্যে ৪০টি কৃষি অফিস বিনা মূল্যে সরবরাহ করেছে। বাকি ৩০টি কাটিং চারা ১০০ টাকা করে কিনেছেন। ২০১৯ সালে প্রথম ৬০ কেজি ফলন পেয়েছেন। ২০২০ সালে ফলন পেয়েছেন ১৬ মণ। চলতি মৌসুমে প্রায় ২৫ মণ মাল্টা সংগ্রহ করেছেন।

jagonews24

তিনি বলেন, এবছর ৮০ টাকা কেজি দরে মাল্টা বিক্রি করেছেন। আগে এই ২০ শতক জমিতে শুধু বছরে একবারে আলু চাষ হতো। তার বিবেচনায় মাল্টা চাষ অর্থনৈতিকভাবে লাভজনক। তার দেখাদেখি চরাই খোলা ইউনিয়নে অনেকে মাল্টা চাষ শুরু করেছেন বলে তিনি জানান।

এ অঞ্চলের মধ্যে রংপুর জেলায় উল্লেখযোগ্য হারে মাল্টা চাষের সম্প্রসারণ হয়েছে। মাল্টা চাষে ব্যাপক সাফল্য পেয়েছেন মিঠাপুকুর উপজেলার রানীপুকুর ইউনিয়নের বলদিপুকুর মৌজার পারঘাট গ্রামে বৃক্ষপ্রেমীক মামুনুর রশীদ।

২০১৬ সালে দেড় একর আয়তনের বাগানে ১১২টি মাল্টা গাছ রোপণ করেন। এখন পর্যন্ত ৪ বার ফলন পেয়েছেন। আগে বিভিন্ন ফসল আবাদ করলেও মাল্টা চাষে লাভ বেশি হওয়ায় মাল্টা আবাদে ঝুঁকেছেন।

রংপুর আঞ্চলিক কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. মাহবুবর রহমান বলেন, এ অঞ্চলের মানুষের পুষ্টিকর খাবারের ঘাটতি পূরণ এবং সহজ প্রাপ্তির জন্য বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে ফলের আবাদ বৃদ্ধিতে ২০১৬ সাল থেকে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে। মাল্টার আবাদ বৃদ্ধি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কৃষকরা মাল্টা চাষ করে লাভবান হওয়ায় প্রতিবছর মাল্টার জমি বৃদ্ধি পাচ্ছে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ছাদকৃষি

ছাদে বেদানা চাষের সহজতম পদ্ধতি

বেদানা খেতে কার না ভালো লাগে। ছোট থেকে বড় বেদনার প্রতি আকর্ষণ সব্বার। দানাদার এই ফলের বীজ মুখের মধ্যে দিলেই, সুমিষ্ট রোষে মন উতলা হয়ে ওঠে। স্বাস্থ্যসম্মত ভাবে অত্যন্ত বলবর্ধক এই ফল, রুগীদের পথ্য হিসাবে আদর্শ। বাজারেও এর চাহিদা থাকায়, এই ফলের চাষ বহুল পরিমাণে আমাদের রাজ্যে হয়। তবে বাড়ির ছাদে এই ফলের চাষ নিয়ে অনেকেই ওয়াকিবহাল নন। সহজে, বুদ্ধিমত্ততার প্রয়োগে এই ফলের চাষ বাড়িতেও করা যায়। অনেকেই বাড়ির ছাদে ইদানিং এই ফলের চাষ নিয়ে মেতে উঠেছেন। আসুন জেনে নেওয়া যাক, বাড়ির ছাদে বেদনা চাষের সহজতম পদ্ধতি। যা শিখে আপনি আপনার পাড়া-পড়শীকেও তাক লাগিয়ে দিতে পারবেন।

script data-ad-client=”ca-pub-3140114751019908″ async=”” src=”https://pagead2.googlesyndication.com/pagead/js/adsbygoogle.js”>

ছাদে বেদানার চারা লাগানোর জন্য প্রথমে ভালো মানের টব সংগ্রহ করতে হবে। গাছের গোড়ায় যাতে জল না জমতে পারে, তারজন্য টবের তলায় তিন থেকে চারটি ফুটো করে নিয়ে সেগুলি স্টোন চিপস দিয়ে ভালোভাবে বুজিয়ে দিতে হবে। ছাদে রোদ পড়ে এমন জায়গায় ডালিমের টবটিকে রাখতে হবে।

প্রস্তুতি কালে বেলে দোআঁশ মাটি ২ ভাগ, গোবর ১ ভাগ, টিএসপি ৪০-৫০ গ্রাম, পটাশ ৪০-৫০ গ্রাম এবং ২০০ গ্রাম হাড়ের চূর্ণ ভালো করে মিশিয়ে টবে জল দিয়ে প্রায় ১৫ দিন রেখে দিতে হবে। পনেরটা দিন কাটলে টবের মাটি খুঁচিয়ে আলগা করে দিতে হবে। এরপর ৫ থেকে ৬ এরকম আরও কিছুদিন অপেক্ষা করতে হবে। এরপরেই লক্ষ্য করা যাবে টবের মাটি ঝুরঝুরে হয়ে আসবে। ঠিক সেইসময় বেদানার কলমের চারা টবে পুঁততে হবে। খেয়াল রাখতে হবে, সোজা করে বসিয়ে যেন বেদানার চারা রোপণ করা হয়। সরু লাঠি দিয়ে চারাটিকে এরপর বেঁধে দেওয়া উচিত। চারা রোপণের শুরুর দিকে জল অল্প দিলেই চলবে। পরবর্তী কালে জল দেওয়ার পরিমাণ চারাতে বাড়াতে হবে। গাছের গোড়ায় কখনোই যাতে জল না জমে তাতে নজর রাখা উচিত।

বেদানা গাছের চারা লাগানোর ৪-৫ মাস হয়ে গেলে, এক মাস অন্তর সরিষার খোল পচা জল গাছে দেওয়া উচিত। সরিষার খোল ১০ দিন ভালো রূপে জলে ভিজিয়ে নিয়ে সেই পচা খোলের জল হালকা ভাবে গাছের গোড়ায় প্রয়োগ করে নিতে হবে। টবের কিছুটা মাটি ১ বছর হয়ে গেলে বদলে দিতে হবে। মাটি যখন বদলাতে হবে সেই সময়কাল বর্ষার শেষ ও শীতের আগে যাতে হয় তাতে খেয়াল রাখা উচিত। মাঝে মধ্যেই টবের মাটি খুঁচিয়ে উল্টে পাল্টে দেওয়া উচিত।

script data-ad-client=”ca-pub-3140114751019908″ async=”” src=”https://pagead2.googlesyndication.com/pagead/js/adsbygoogle.js”>

সার প্রয়োগ (Fertilizer)


বেদানার চারা বসানোর আগেই টবে দেওয়া মাটির গর্তে সার দিয়ে নিতে হবে। প্রত্যেক বছর নিয়ম করে এই । গর্ত করার ৮-১০ র প্রয়োগ করা উচিত, এতে গাছের ফলনের মান উন্নত হবে। নিম্নলিখিত পদ্ধতিতে সার প্রয়োগ করলে বেদনা গাছের বৃদ্ধি দ্রুত হবে।

সারের নাম সারের পরিমাণ/গর্ত
কম্পস্টের গুঁড়া ৫০০ গ্রাম
ইউরিয়া ১৫০ গ্রাম
টিএসপি ১০০ গ্রাম
এমওপি ১০০ গ্রাম
জিপসাম ৭০ গ্রাম
১ বছর বয়সের প্রতিটি গাছে গোবর ১০ কেজি, ইউরিয়া ১২৫ গ্রাম, টিএসপি ১২৫ গ্রাম এবং পটাশ সার ১২৫ গ্রাম প্রয়োগ করতে হবে। প্রতি বছর সারের মাত্রা একটু করে বাড়াতে হবে। পূর্ণ বয়স্ক ১ টি গাছে ৬০ কেজি গোবর, ১.৫ কেজি ইউরিয়া, ১.৫ কেজি টিএসপি এবং ১.৫ কেজি এমওপি (মিউরেট অব পটাশ) সার প্রয়োগ করতে হবে। ওই পরিমাণ সার ২ বারে গাছে প্রয়োগ করতে হবে। প্রথম বারে মে- জুন মাসে এবং দ্বিতীয় বারে সেপ্টেম্বর- অক্টোবর মাসে গাছের গোড়ায় সারগুলি প্রয়োগ করতে হবে।

script data-ad-client=”ca-pub-3140114751019908″ async=”” src=”https://pagead2.googlesyndication.com/pagead/js/adsbygoogle.js”>

ফল সংগ্রহ: (Harvest)

৩-৪ বছর বয়স থেকেই বেদনা গাছে ফল আসতে শুরু করে। ফল পাকতে প্রায় ৬ মাসের মতো সময় লাগে। পরিপুষ্ট ফলের খোসার রঙ হলদে বাদামি বর্ণ নিলেই ফল পেড়ে নিতে হবে। ফল গাছে বেশিদিন থাকলেই তা ফেটে যেতে পারে। বেদনার খোসা অত্যন্ত শক্ত হওয়ার জন্য এই ফল অনেকদিন জমিয়ে রাখা যায়।

ফলন:(Yield)


চার-পাঁচ বছর বয়স হয়ে গেলেই ডালিম গাছ ফল দিতে শুরু করে। তবে জেনে রাখা ভালো প্রথম দিকে এই গাছ ভালো ফলন দেয় না। গাছের বয়স ৮ থেকে১০ বছর হয়ে গেলেই পরিপুষ্ট ডালিম গাছে আসতে থাকে। বয়স বাড়ার সঙ্গে ডালিম গাছের ফলনও বেড়ে যায়। সঠিক ভাবে পরিচর্যা করলে একটা বেদনা গাছ কম করে ২০০ টির মতন ফল দিতে পারে। কম করে ৩০ বছর বেদনা গাছ অত্যন্ত ভালো মানের ফলন দিতে পারে বলে বিশেষজ্ঞদের অভিমত।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২১ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com