আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

পরিবেশ

করোনা ভাইরাস: আকাশ থেকে দেখা ব্রিটেনের লকডাউন

ব্রিটেনে লকডাউন চলার সময় ফটোগ্রাফার ক্রিস গরম্যান ড্রোন ব্যবহার করে বেশ কিছু আশ্চর্য সুন্দর ছবি তুলেছেন। তার কিছু ছবি ব্রিটেনের সংবাদমাধ্যমেও ছাপা হয়েছে।

থর্প পার্ক, ব্রিটেনের সারে এলাকার একটি বিনোদন কেন্দ্র। গত ৩রা এপ্রিল থেকে এটি বন্ধ রয়েছে।
থর্প পার্ক, ব্রিটেনের সারে এলাকার একটি বিনোদন কেন্দ্র। গত ৩রা এপ্রিল থেকে এটি বন্ধ রয়েছে।

ক্রিস গরম্যানের ফটোগ্রাফির অভিজ্ঞতা ২৫ বছরের। করোনাভাইরাস মহামারিতে ব্রিটেনে লকডাউন শুরু হওয়ার পর নানা ক্ষেত্রে এর প্রভাব তিনি ছবিতে ধরে রাখেন।

তার বেশ কিছু ছবি ব্রিটেনের প্রধান সংবাদপত্র এবং আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমেও প্রকাশিত হয়েছে।

সারে অঞ্চলের শহর ফার্নাম-এর এক গার্ডেন সেন্টারের কর্মী জো ডিকিনসন গাছে পানি দিচ্ছেন।
সারে অঞ্চলের শহর ফার্নাম-এর এক গার্ডেন সেন্টারের কর্মী জো ডিকিনসন গাছে পানি দিচ্ছেন।

তিনি বলছেন, “পূর্ণাঙ্গ লকডাউন শুরু হওয়ার আগে প্রতিদিন নতুন নতুন ছবি পাওয়া যেত — জনশূণ্য শপিং মল থেকে শুরু করে আতঙ্কিত মানুষের কেনাকাটার দীর্ঘ লাইন এবং বিমানবন্দরের রানওয়েতে পার্ক করে রাখা অবিক্রিত গাড়ি।”

“আমার প্রথম ছবিটি ছিল ব্লুওয়াটার শপিং মলের প্রায় খালি কার পার্ক। ছবিটি তোলা হয় ১৬ই মার্চ (নিচে)। সেদিনই স্বাস্থ্যমন্ত্রী ম্যাট হ্যানকক ঘোষণা করেন যে সব ধরনের সামাজিক মেলামেশা বন্ধ রাখতে হবে।”

কেন্ট কাউন্টির সবচেয়ে বড় ব্লুওয়াটার শপিং সেন্টারের কার পার্ক।
কেন্ট কাউন্টির সবচেয়ে বড় ব্লুওয়াটার শপিং সেন্টারের কার পার্ক।

“আমি বুঝতে পেরেছিলাম ব্রিটেনের সবচেয়ে বড় শপিং মলগুলোর একটির ছবি দিয়ে দেশের অর্থনীতির সার্বিক অবস্থাটা তুলে ধরা সম্ভব হবে।”

তার এই ছবি দ্যা ডেইলি ট্রেলিগ্রাফ এবং ডেইলি মেইল-এ ছাপা হয়।

একই দিনে তিনি কেন্ট-এর লিডস কাসলের ওপর সূর্যাস্তের এই ছবিটি তোলেন (নিচে)।

লিডস কাসলের ওপর সূর্যাস্তের দৃশ্য।
লিডস কাসলের ওপর সূর্যাস্তের দৃশ্য।

“এর পরের ছবির ধারণা আমার মাথায় আসে আতঙ্কিত লোকজনের কেনাকাটা দেখে।

“সুপার মার্কেটে ভোর থেকেই ক্রেতাদের লম্বা লাইনের ওপর সোশাল মিডিয়ায় নানা ধরনের ছবি শেয়ার হয়।

“ইভিনিং স্ট্যান্ডার্ড কাগজ আমাকে খবর দেয় যে নিউ মল্ডেন এলাকায় দীর্ঘ লাইন দেখা যাচ্ছে।

“আমি সেখানে হাজির হই ভোর ৫.৪৫-এ (দোকান খোলা হয় ভোর ছ’টায়)। কিন্তু অবাক হয়ে দেখি ক্রেতাদের লাইন তখনই কার পার্কের অর্ধেক ছড়িয়ে গেছে। এবং লোকজন লাইনে দাঁড়ানোর জন্য দৌড়াদৌড়ি করছে।”

দক্ষিণ-পূর্ব লন্ডনের নিউ মল্ডেন এলাকায় ক্রেতাদের লম্বা লাইন। ছবিটি তোলা হয় ২০শে মার্চ।
দক্ষিণ-পূর্ব লন্ডনের নিউ মল্ডেন এলাকায় ক্রেতাদের লম্বা লাইন। ছবিটি তোলা হয় ২০শে মার্চ।

“এই ছবিটি ইভিনিং স্ট্যান্ডার্ড, ডেইলি মেইল, দা সান, ডেইলি ট্রেলিগ্রাফ এবং ডেইলি মিরর-এ ছাপা হয়।

ব্রিটেনের সবচেয়ে দর্শনীয় স্থানগুলোর একটি স্টোনহেঞ্জ-এর এই ছবিটি তোলা হয় ২৬শে মার্চ।

লকডাউনের সময় জনশূণ্য স্টোনহেঞ্জে সূর্যাস্তের দৃশ্য।
লকডাউনের সময় জনশূণ্য স্টোনহেঞ্জে সূর্যাস্তের দৃশ্য।

“অর্থনৈতিক সঙ্কট বাড়তে থাকায় আমি ভাবলাম এমন ছবি তুলতে হবে যার মধ্য দিয়ে অর্থনীতির ওপর মহামারির বিধ্বংসী প্রভাবকে তুলে ধরা যায়।

“আমি খবর পেয়েছিলাম, মিডল্যান্ডস অঞ্চলের অনেক বিমানবন্দরের অব্যবহৃত রানওয়েকে অবিক্রিত নতুন এবং পুরোনো গাড়ি রাখার জায়গা হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।

“আমি অক্সফোর্ডশায়ার, নর্থহ্যাম্পটনশায়ার এবং বেডফোর্ডশায়ারের তিনটি বিমানবন্দরকে ছবি তোলার জন্য বেছে নিলাম।

অক্সফোর্ডশায়ারের বিস্টার শহরের কাছে আপার হেফোর্ড বিমানবন্দরের রানওয়েতে হাজার হাজার নতুন গাড়ি রাখা হয়েছে।
অক্সফোর্ডশায়ারের বিস্টার শহরের কাছে আপার হেফোর্ড বিমানবন্দরের রানওয়েতে হাজার হাজার নতুন গাড়ি রাখা হয়েছে।
বেডফোর্ডশায়ারের থারলে এয়ারফিল্ড।
বেডফোর্ডশায়ারের থারলে এয়ারফিল্ড।

“লকডাউন চলার সময় নানা বিষয়ের ওপর ছবি তোলার সুযোগ আসে।

“এক সময় লক্ষ্য করলাম লকডাউনের সুযোগে মানুষ তাদের বাড়িঘর থেকে জঞ্জাল বাইরে ফেলছে।

ছবিটি কীভাবে তোলা যায় তা নিয়ে ভাবছিলাম। হঠাৎ নজরে এলো উত্তর লন্ডনের ওয়েম্বলি এলাকার এক রিসাইক্লিং সেন্টার এতটাই পরিপূর্ণ হয়েছে যে জঞ্জাল বাইরে উপচে পড়ছে।

উত্তর লন্ডনের ওয়েম্বলি এলাকার রিসাইক্লিং সেন্টার।
উত্তর লন্ডনের ওয়েম্বলি এলাকার রিসাইক্লিং সেন্টার।

“করোনাভাইরাস পরীক্ষা কেন্দ্র সম্পর্কে মানুষের আগ্রহ প্রবল।

“কিন্তু সমস্যা হলো সবগুলো ছবিতেই দেখা যাচ্ছিল সেগুলো খালি পড়ে আছে।

“পরে এনিয়ে সংবাদপত্রে নিউজ ছাপা হয়।

পোর্টসমাউথ এলাকার একটি করোনাভাইরাস পরীক্ষা কেন্দ্র। ছবিটি তোলা হয় ১৮ই এপ্রিল।
পোর্টসমাউথ এলাকার একটি করোনাভাইরাস পরীক্ষা কেন্দ্র। ছবিটি তোলা হয় ১৮ই এপ্রিল।

গুড ফ্রাইডের দিন মাথায় এলো আমি গত বছর বোর্নমাউথ সমুদ্র সৈকতের ছবি তুলেছিলাম।

“গরম পড়েছিল এমন একটা দিন ঠিক করে আমি সৈকতের ছবি তুললাম। সেটা ছিল প্রায় জনশূণ্য। এর মাধ্যমে পরিস্থিতির তফাৎটা তুলে ধরতে চাইছিলাম।

২০১৯ সালের ১৯শে এপ্রিল বোর্নমাউথ সৈকতের দৃশ্য।
২০১৯ সালের ১৯শে এপ্রিল বোর্নমাউথ সৈকতের দৃশ্য।
২০২০ সালের ১৯শে এপ্রিল জনশূণ্য বোর্নমাউথ সৈকতের দৃশ্য। ড্রোন থেকে একই অ্যাঙ্গেলে ছবিটি তোলা হয়েছে।
২০২০ সালের ১৯শে এপ্রিল জনশূণ্য বোর্নমাউথ সৈকতের দৃশ্য। ড্রোন থেকে একই অ্যাঙ্গেলে ছবিটি তোলা হয়েছে।
বার্মিংহাম শহরের কাছে যানবাহনশূণ্য মহাসড়কের এক জাংশন। এই মহাসড়ক দিয়ে প্রতিদিন ২,১০,০০০ গাড়ি চলাচল করে। ছবিটি তোলা হয় ২৪শে এপ্রিল।
বার্মিংহাম শহরের কাছে যানবাহনশূণ্য মহাসড়কের এক জাংশন। এই মহাসড়ক দিয়ে প্রতিদিন ২,১০,০০০ গাড়ি চলাচল করে। ছবিটি তোলা হয় ২৪শে এপ্রিল।

  • বার্মিংহাম শহরের কাছে যানবাহনশূণ্য মহাসড়কের এক জাংশন। এই মহাসড়ক দিয়ে প্রতিদিন ২,১০,০০০ গাড়ি চলাচল করে। ছবিটি তোলা হয় ২৪শে এপ্রিল।

    বার্মিংহাম শহরের কাছে যানবাহনশূণ্য মহাসড়কের এক জাংশন। এই মহাসড়ক দিয়ে প্রতিদিন ২,১০,০০০ গাড়ি চলাচল করে। ছবিটি তোলা হয় ২৪শে এপ্রিল।

  • ২০২০ সালের ১৯শে এপ্রিল জনশূণ্য বোর্নমাউথ সৈকতের দৃশ্য। ড্রোন থেকে একই অ্যাঙ্গেলে ছবিটি তোলা হয়েছে।

    ২০২০ সালের ১৯শে এপ্রিল জনশূণ্য বোর্নমাউথ সৈকতের দৃশ্য। ড্রোন থেকে একই অ্যাঙ্গেলে ছবিটি তোলা হয়েছে।

  • ২০১৯ সালের ১৯শে এপ্রিল বোর্নমাউথ সৈকতের দৃশ্য।

    ২০১৯ সালের ১৯শে এপ্রিল বোর্নমাউথ সৈকতের দৃশ্য।

  • পোর্টসমাউথ এলাকার একটি করোনাভাইরাস পরীক্ষা কেন্দ্র। ছবিটি তোলা হয় ১৮ই এপ্রিল।

    পোর্টসমাউথ এলাকার একটি করোনাভাইরাস পরীক্ষা কেন্দ্র। ছবিটি তোলা হয় ১৮ই এপ্রিল।

  • উত্তর লন্ডনের ওয়েম্বলি এলাকার রিসাইক্লিং সেন্টার।

    উত্তর লন্ডনের ওয়েম্বলি এলাকার রিসাইক্লিং সেন্টার।

  • বেডফোর্ডশায়ারের থারলে এয়ারফিল্ড।

    বেডফোর্ডশায়ারের থারলে এয়ারফিল্ড।

  • অক্সফোর্ডশায়ারের বিস্টার শহরের কাছে আপার হেফোর্ড বিমানবন্দরের রানওয়েতে হাজার হাজার নতুন গাড়ি রাখা হয়েছে।

    অক্সফোর্ডশায়ারের বিস্টার শহরের কাছে আপার হেফোর্ড বিমানবন্দরের রানওয়েতে হাজার হাজার নতুন গাড়ি রাখা হয়েছে।

  • লকডাউনের সময় জনশূণ্য স্টোনহেঞ্জে সূর্যাস্তের দৃশ্য।

    লকডাউনের সময় জনশূণ্য স্টোনহেঞ্জে সূর্যাস্তের দৃশ্য।

  • দক্ষিণ-পূর্ব লন্ডনের নিউ মল্ডেন এলাকায় ক্রেতাদের লম্বা লাইন। ছবিটি তোলা হয় ২০শে মার্চ।

    দক্ষিণ-পূর্ব লন্ডনের নিউ মল্ডেন এলাকায় ক্রেতাদের লম্বা লাইন। ছবিটি তোলা হয় ২০শে মার্চ।

  • লিডস কাসলের ওপর সূর্যাস্তের দৃশ্য।

    লিডস কাসলের ওপর সূর্যাস্তের দৃশ্য।

  • কেন্ট কাউন্টির সবচেয়ে বড় ব্লুওয়াটার শপিং সেন্টারের কার পার্ক।

    কেন্ট কাউন্টির সবচেয়ে বড় ব্লুওয়াটার শপিং সেন্টারের কার পার্ক।

  • সারে অঞ্চলের শহর ফার্নাম-এর এক গার্ডেন সেন্টারের কর্মী জো ডিকিনসন গাছে পানি দিচ্ছেন।

    সারে অঞ্চলের শহর ফার্নাম-এর এক গার্ডেন সেন্টারের কর্মী জো ডিকিনসন গাছে পানি দিচ্ছেন।

  • থর্প পার্ক, ব্রিটেনের সারে এলাকার একটি বিনোদন কেন্দ্র। গত ৩রা এপ্রিল থেকে এটি বন্ধ রয়েছে।

    থর্প পার্ক, ব্রিটেনের সারে এলাকার একটি বিনোদন কেন্দ্র। গত ৩রা এপ্রিল থেকে এটি বন্ধ রয়েছে।

  • বার্মিংহাম শহরের কাছে যানবাহনশূণ্য মহাসড়কের এক জাংশন। এই মহাসড়ক দিয়ে প্রতিদিন ২,১০,০০০ গাড়ি চলাচল করে। ছবিটি তোলা হয় ২৪শে এপ্রিল।
  • ২০২০ সালের ১৯শে এপ্রিল জনশূণ্য বোর্নমাউথ সৈকতের দৃশ্য। ড্রোন থেকে একই অ্যাঙ্গেলে ছবিটি তোলা হয়েছে।
  • ২০১৯ সালের ১৯শে এপ্রিল বোর্নমাউথ সৈকতের দৃশ্য।
  • পোর্টসমাউথ এলাকার একটি করোনাভাইরাস পরীক্ষা কেন্দ্র। ছবিটি তোলা হয় ১৮ই এপ্রিল।
  • উত্তর লন্ডনের ওয়েম্বলি এলাকার রিসাইক্লিং সেন্টার।
  • বেডফোর্ডশায়ারের থারলে এয়ারফিল্ড।
  • অক্সফোর্ডশায়ারের বিস্টার শহরের কাছে আপার হেফোর্ড বিমানবন্দরের রানওয়েতে হাজার হাজার নতুন গাড়ি রাখা হয়েছে।
  • লকডাউনের সময় জনশূণ্য স্টোনহেঞ্জে সূর্যাস্তের দৃশ্য।
  • দক্ষিণ-পূর্ব লন্ডনের নিউ মল্ডেন এলাকায় ক্রেতাদের লম্বা লাইন। ছবিটি তোলা হয় ২০শে মার্চ।
  • লিডস কাসলের ওপর সূর্যাস্তের দৃশ্য।
  • কেন্ট কাউন্টির সবচেয়ে বড় ব্লুওয়াটার শপিং সেন্টারের কার পার্ক।
  • সারে অঞ্চলের শহর ফার্নাম-এর এক গার্ডেন সেন্টারের কর্মী জো ডিকিনসন গাছে পানি দিচ্ছেন।
  • থর্প পার্ক, ব্রিটেনের সারে এলাকার একটি বিনোদন কেন্দ্র। গত ৩রা এপ্রিল থেকে এটি বন্ধ রয়েছে।
বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন

অনুগ্রহ করে মন্তব্য করতে লগ ইন করুন লগ ইন

Leave a Reply

পরিবেশ

বিকলাঙ্গ হয়েও পান না প্রতিবন্ধী ভাতা, থাকছেন ভাঙা ঘরে

বিকলাঙ্গ হয়েও পান না প্রতিবন্ধী ভাতা, থাকছেন ভাঙা ঘরে

আমার স্বামী একজন দিনমজুর। দিনমজুরি করে আমার চিকিৎসা খরচ চালান। এই দিনমজুরি টাকা দিয়ে ওষুধ কিনব, নাকি ঘর ঠিক করব, না সংসার চালাব? সরকারের কাছে আমার আবেদন যেন সরকার আমাকে একটা ঘর দেয়। এক ছেলে ও এক মেয়েকে নিয়ে যেন ওই ঘরে সুখে-শান্তিতে দিন কাটাতে পারি। এভাবেই কষ্টের কথাগুলো বলছিলেন শারীরিক প্রতিবন্ধী নমিতা রানী (২৮)। তার স্বামীর নাম সাধন চন্দ্র (৩৫)।

নিজস্ব জমি না থাকায় পাঁচ বছর ধরে সরকারি খাসজমিতে মানবেতর জীবনযাপন করছেন এই প্রতিবন্ধী দম্পতি। নমিতা রানীর একটি হাত ও একটি পা বিকলাঙ্গ। তারপরও এখন পর্যন্ত ভাগ্যে জোটেনি প্রতিবন্ধী ভাতা, ভিজিডি কার্ড কিংবা মাথা গোঁজার মতো একটা সরকারি ঘর। অভাবের কারণে অনেক সময় অভুক্ত থাকতে হয়।

লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার সিন্দুর্না ইউনিয়নের পূর্ব সিন্দুর্না গ্রামের খাসজমিতে বসবাস করেন দিনমজুর সাধন চন্দ্র ও তার শারীরিক প্রতিবন্ধী স্ত্রী নমিতা রানী (২৮)। এই দম্পতির এক ছেলে নয়ন চন্দ্র ও এক মেয়ে বৃষ্টিকে নিয়ে তাদের অভাবের সংসার। ছেলে নয়ন পঞ্চম শ্রেণিতে ও মেয়ে বৃষ্টি তৃতীয় শ্রেণিতে পড়াশোনা করছে।

শুধু খাওয়ার কষ্টই নয়, নমিতা বুকের ভাল্ভ ও ছেলে নয়ন হার্টের সমস্যায় ভুগছে। প্রতি সপ্তহে তাদের জন্য ওষুধ কিনতে লাগে প্রায় সাড়ে ৭০০ টাকা। তাদের চিকিৎসা করতে সব শেষ করছেন সাধন চন্দ্র।

ভূমিহীন এই পরিবারে থাকার একটি ঘর গত ছয় মাস আগে ঝড় ও ভারী বৃষ্টিতে ভেঙে পড়ে। সেই থেকে ভাঙা টিনের ঘরে দুই সন্তানকে নিয়ে ঠান্ডায় বসবাস করছেন এই দম্পতি। চার মাস আগে হাতীবান্ধা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) সঙ্গে দেখা করে ঢেউটিনের জন্য আবেদন দিয়েও আজ পর্যন্ত টিন পাননি।

সরেজমিন গিয়ে দেখা গেছে, কনকনে শীত আর ঠান্ডা বাতাসে ভাঙা টিনের ঘরে প্লাস্টিক মুড়িয়ে ছেলেমেয়েকে নিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছেন এই দম্পতি। ঘরের সব টিন জং ধরে ভেঙে পড়েছে। ঘরে থাকার কোনো

সাধন চন্দ্র বলেন, ‘আমি দীর্ঘদিন ধরে এই খাসজমিতে বসবাস করছি। স্ত্রী ও ছেলের চিকিৎসা করে সব শেষ করছি। ঘর ভেঙে পড়েছে। ঘরটি তোলার কোনো উপায় নেই। আমি সরকারের কাছে একটি ঘর চাই। ইউএনওর কাছে টিনের জন্য দরখাস্ত দিয়েছি। ইউএনও বলেছেন, টিন এলে পাবেন। কিন্তু চার মাসেও টিন পাইনি। কেউ যদি আমার ঘরটি টিন দিয়ে ঠিক করে দিত, তাহলে ভগবানের কাছে আশীর্বাদ করতাম।’

ওই গ্রামের প্রতিবেশী আবু সাঈদ জানান, সাধান চন্দ্র একজন দিনমজুর, গরিব। তার স্ত্রী নমিতা শারীরিক প্রতিবন্ধী ও অসুস্থ। টাকা-পয়সা না থাকায় ভাঙা ঘরটিতে ছেলেমেয়ে নিয়ে রাতযাপন করছেন। মুজিববর্ষ উপলক্ষে তার একটি সরকারি ঘর পাওয়া উচিত বলে মনে করি।’

সিন্দুর্না ইউনিয়ন পরিষদের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য (মেম্বার) আমিনুর রহমান জানান, সাধন চন্দ্র একজন হতদরিদ্র ব্যক্তি। তিনি সরকারি ঘর পাওয়ার যোগ্য। তবে সরকারি ঘর পাওয়ার তালিকা থেকে তিনি কেন বাদ পড়েছেন তা আমার জানা নেই।’

সিন্দুর্না ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নুরল আমিন বলেন, ওই পরিবারটির বিষয়ে আমার জানা নেই। তবে সরকারি ঘরের জন্য আবেদন দিলে বিষয়টি দেখা যাবে।

এ বিষয়ে হাতীবান্ধা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সামিউল আমিন বলেন, তিনি ভূমিহীন হলে বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে। তদন্তে সরকারি ঘর পাওয়ার যোগ্য হলে ঘরের ব্যবস্থা করা হবে। তিনি আরও বলেন, টিনের জন্য আবেদনপত্র জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

পরিবেশ

ফেসবুকে স্ট্যাটাস : খাট-লেপ-তোশক-খাবার পেলেন বৃদ্ধা

জামালপুরের বকশীগঞ্জে ফেসবুক স্ট্যাটাস দেখে ৭৬ বছর বয়সী অসহায় এক বৃদ্ধার পাশে দাঁড়িয়েছেন তরুণ বস্ত্র প্রকৌশলী আল ইমরান।

বৃহস্পতিবার (৭ জানুয়ারি) দুপুরে বৃদ্ধা তুলো বেওয়ার দুর্দশার কাহিনী ফেসবুকে পোস্ট করেন স্থানীয় আবদুর রাজ্জাক মাহমুদ নামের এসডিজি জেলা নেটওয়ার্কের এক সদস্য।

শুক্রবার (৮ জানুয়ারি) আল ইমরান তার প্রতিনিধির মাধ্যমে খাট, শীত নিবারণের জন্য লেপ, তোশক, বালিশ, খাবারের জন্য চাল ও নলকূপ ওই বৃদ্ধার বাড়িতে পাঠান।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বকশীগঞ্জের মেরুরচর ইউনিয়নের পূর্ব কলকিহারা গ্রামের মৃত জমুর শেখের বিধবা স্ত্রী তুলো বেওয়া একটি একচালা ছাপরা ঘরে বসবাস করেন। তার দুই ছেলেও অভাব ও দরিদ্রতার কারণে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

দুই ছেলে কাছে না থাকায় অনেক কষ্টে ও অন্যের কাছে খাবার চেয়ে কোনো রকমে দিন কাটান এই বৃদ্ধা। বিশেষ করে ছাপরা ঘরে অন্ধকার রাতে একা থাকেন তিনি। বিদ্যুৎ সংযোগও নেয়া সম্ভব হয়নি অর্থের অভাবে।

খুবই স্বল্প সময়ের মধ্যে বৃদ্ধাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দেয়ারও আশ্বাস দেন তরুণ সমাজসেবক আল ইমরান।

প্রকৌশলী আল ইমরান বলেন, বৃদ্ধার দুর্দশার কথা জানতে পেরে আমি এগিয়ে এসেছি। যতদিন বেঁচে থাকব অসহায়-দুস্থ মানুষের পাশে থেকে কাজ করে যাবো।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

পরিবেশ

তিন মেয়েকে নিয়ে ভাঙা ঘরে রাত কাটে ফাতেমার

মোর আড়াই শতক ভুই (জমি)। ভালো একনা ঘর নাই। একনা ভাঙা টিনের চালা। ওকনা চালায় তিন কোনা বেটি (মেয়ে) নিয়া থাকোং (থাকি)’ বলেন ফাতেমা।

‘আইতে (রাতে) ঘুমির পাং না, বৃষ্টির দিনোত চালা দিয়ে পানি পড়ে। শীতের দিনোত বাতাস ঢোকে ঘরের ভেতরোত। স্বামী মরছে দেড় বছর হয় বিধবা ভাতার কার্ডও পাং নাই। মুই তো মোর কষ্টের কতা (কথা) চেয়ারম্যান-মেম্বারের কতবার কছুং ৷ কাও মোর ভাতা করে দেয় নাই৷ সরকার থেকে যদি একনা ঘর পানুং হয় তাইলে বাকি জীবনটা ভালো করে কাটনুং (কাটিল) হয়’।

এভাবেই নিজের কষ্টের কথাগুলো বলছিলেন লালমনিরহাটের কালীগঞ্জের ৪নং দলগ্রাম ইউনিয়নের দক্ষিণ দলগ্রাম (হাজীপাড়া) এলাকার ৬নং ওয়ার্ডের মৃত্যু সামছুল হকের স্ত্রী ফাতেমা বেগম (৩৭)।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় দশ বছর ধরে মানবেতর জীবনযাপন করছেন তিনি। দেড় বছর ধরে স্বামীহারা হলেও এখন পর্যন্ত ভাগ্যে জোটেনি বিধবাভাতা, ভিজিডি কার্ড কিংবা মাথা গোঁজার মতো একটা সরকারি ঘর। তবে সরকারি কাজের বিনিময় খাদ্য কর্মসূচিতে নাম রয়েছে তার।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কয়েকটি টিন দিয়ে তৈরি একটি টিনের ঘরে বৃষ্টি ও কনকনে ঠান্ডায় তিন কন্যাসন্তানকে নিয়ে কোনোমতে কষ্টে বসবাস করছেন ফাতেমা।

অভাবের তাড়নায় এক মেয়েকে অন্য বাড়িতে রেখে ঝিয়ের কাজ করতে হচ্ছে। আর দুই মেয়ে স্থানীয় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণিতে পড়াশোনা করে।

সারাদিন পরিশ্রম করে রাতে একটু ভালোভাবে ঘুমাতেও পারেন না তারা। ঘন কুয়াশায় ভিজে যায় বিছানাপত্র। তবুও বেঁচে থাকার তাগিদে জরাজীর্ণ ভাঙা টিনের চালায় রাতভর ছটফট করে তিন সন্তানকে নিয়ে থাকতে হয় ফাতেমাকে। মুজিববর্ষে সরকারি একটি ঘর পাওয়ার আকুতি জানান ফাতেমা বেগম।

এ বিষয়ে দলগ্রাম ইউপি চেয়ারম্যান রবিদ্রনাথ বর্মণ জানান, মাত্র দুই মাস হলো দায়িত্ব নিয়েছি। তবে এ অসহায় বিধবা সরকারি ঘর পাওয়ার যোগ্য বলেই মনে করি।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

পরিবেশ

ছাগলের দৌড় প্রতিযোগিতা, প্রথম পুরস্কার মোবাইল

ছাগলের দৌড় প্রতিযোগিতা, প্রথম পুরস্কার মোবাইল

ষাঁড়ের লড়াই, মোরগ লড়াই, ঘৌড়দৌড়। এমনকি হালের বলদের দৌড় প্রতিযোগিতার কথা সবাই জানেন, দেখেছেন। তবে পোষা ছাগলের দৌড় প্রতিযোগিতার বিষয়টি একেবারেই নতুন। তাই তো ছাগলের দৌড় দেখতে ভিড় জমান এলাকার ছেলে-বুড়ো সবাই। করোনাকালীন একটু বিনোদনের ব্যবস্থা করতেই এমন আয়োজন আয়োজকদের।

বৃহস্পতিবার (৭ জানুয়ারি) কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর উপজেলার আব্দুল্লাহপুরে ছাগল দৌড়ের এমন ব্যতিক্রমী প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়।

জানা গেছে, কুলিয়ারচর উপজেলার ‘পশ্চিম মোজরাই শান্তি সংগঠন’ নামের একটি সামাজিক সংগঠনের উদ্যোগে এ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। এ দিন বিকেলে স্থানীয় ফেনাবাড়ি বন্দে অনুষ্ঠিত ছাগল দৌড় প্রতিযোগিতায় পালিত ১৬টি ছাগলসহ এর মালিকরা অংশ নেন। চারটি ধাপের ব্যতিক্রমী এ প্রতিযোগিতায় ছাগলের সঙ্গে দৌড়ান এর মালিকরাও।

প্রতিযোগিতায় পূর্ব আব্দুল্লাপুর গ্রামের সাকিব মিয়ার ছাগল প্রথম, মোজরাই গ্রামের মো. শফিক মিয়ার ছাগল দ্বিতীয় ও পূর্ব আব্দুল্লাপুর গ্রামের হিরু মিয়া ছাগল তৃতীয় স্থান অধিকার করে।

বিজয়ী ছাগলের মালিকদের যথাক্রমে একটি মোবাইল ফোন, একটি সাউন্ড বক্স এবং একটি হিটার জগ উপহার দেয়া হয়।

পশ্চিম মোজরাই শান্তি সংঘের ত্রাণ ও দুর্যোগ বিষয়ক সম্পাদক মেহেদী হাসান মাছুম বলেন, করোনাকালীন শহরের মতো গ্রামে কোনো বিনোদনের ব্যবস্থা নেই। তাই এলাকার মানুষকে নির্মল আনন্দ দিতেই এমন আয়োজন।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

পরিবেশ

হাট-বাজারে প্রকাশ্যে বিক্রি হচ্ছে বন্যপাখি

হাট-বাজারে প্রকাশ্যে বিক্রি হচ্ছে বন্যপাখি

পাখি শিকার দণ্ডনীয় অপরাধ হলেও তা তোয়াক্কা না করে ফাঁদ পেতে বন্যপাখি শিকার করছে ঠাকুরগাঁওয়ের একশ্রেণীর পাখি শিকারি।

শিকার করা সেসব পাখিকে বন্দী করা হচ্ছে খাঁচার ভেতরে। তারপর খাঁচাবন্দি পাখিগুলো প্রকাশ্যেই স্থানীয় হাট-বাজারে বিক্রি হচ্ছে। এ পাখিগুলো কিনছেন মধ্যবিত্ত ও উচ্চ মধ্যবিত্তরা।

শুক্রবার (৮ জানুয়ারি) জেলার বালিয়াডাঙ্গীর চাড়োল ইউনিয়নের হাটে এ দৃশ্য দেখা যায়।

চাড়োল ইউনিয়নের ঐতিহ্যবাহী ‘লাহিড়ী হাটে’ গড়ে উঠেছে বন্যপাখি বিক্রির এ হাট। প্রত্যেক সপ্তাহের সোমবার ও শুক্রবার এখানে বসে বন্যপাখির হাট। অথচ হাটটি ইজারার মাধ্যমে সরকার রাজস্ব আদায় করছে। শুধু এ হাটেই নয়, জেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে প্রকাশ্যে বন্যপাখি বিক্রি হচ্ছে।

২০১২ সালের বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা আইনে বলা হয়েছে, পাখি নিধনের সর্বোচ্চ শাস্তি এক লাখ টাকা জরিমানা, এক বছরের কারাদণ্ড বা উভয় দণ্ড। একই অপরাধ পুনরায় করলে দুই লাখ টাকা জরিমানা, দুই বছরের কারাদণ্ড বা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে।

এই আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে প্রকাশ্যে হাট-বাজারে বিভিন্ন প্রজাতির পাখি বিক্রি করা হচ্ছে। এদের মধ্যে রয়েছে- টিয়া, গাড়োল টিয়া, ঘুঘু, শালিক, বক, পানকৌড়ি ও ওয়াক্কাসহ বিভিন্ন প্রজাতির পাখি। এগুলোর মধ্যে প্রতি জোড়া টিয়া ৮০০ টাকা, ঘুঘু ৪৫০ টাকা, বক জোড়া ৩০০ টাকা করে বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়াও ছোট আকৃতির বিভিন্ন পাখি বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকা জোড়া করে।

জানা গেছে, স্থানীয়রা বাধা দিলেও পাখি শিকারিদের পক্ষ নিয়ে রাজনৈতিক নেতাকর্মীরা স্থানীয় মানুষদের হুমকি দিয়ে আসছেন।

স্থানীয়রা জানান, পাখি বিক্রি ও কিনতে আসাদের বাধা দিলেও তারা শোনেন না। দ্রুত আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করে কঠোরভাবে বন্যপ্রাণি নিধন দমন করা উচিত।

পাখি বিক্রেতাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন চাড়োল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান দিলীপ কুমার চ্যাটার্জী।

তিনি বলেন, ইউনিয়ন পরিষদ থেকে মনিটরিং করা হচ্ছে। পরিষদ ও গ্রাম পুলিশ পাখি নিধনরোধের চেষ্টা করছে।

এ ব্যাপারে ঠাকুরগাঁও বন বিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা হরিপদ দেবনাথ বলেন, যখনই জানতে পারি কোথাও পাখি শিকার হচ্ছে, তাৎক্ষণিকভাবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছি। পাশাপাশি সাধারণ মানুষকে সচেতন করছি।

প্রকৃতি ও পরিবেশ রক্ষায় বন্যপাখি শিকার বন্ধ করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন- এমনটাই আশা প্রকৃতিপ্রেমী সচেতন মানুষদের।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com