আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

জৈব

অ্যান্টিবায়োটিকমুক্ত নিরাপদ প্রাণিখাদ্য প্ল্যানটেইন ঘাস

শেকসপিয়রের ‘রোমিও অ্যান্ড জুলিয়েট’ নাটকের প্রথম অঙ্কের দ্বিতীয় দৃশ্যের কথোপকথনে প্ল্যানটেইন নামক এক ঔষধি গুল্মের উল্লেখ রয়েছে। যে গুল্মের পাতা ব্যথা-বেদনা নিরাময় করে। কথিত আছে, গ্রিক বীর আলেকজান্ডার খ্রিস্টপূর্ব ৩২৭ অব্দে বিশ্ব জয় করে ফেরার সময় ইউরোপে নিয়ে আসেন প্ল্যানটেইন। ইউরোপ থেকে প্ল্যানটেইন যায় আমেরিকা, কানাডাসহ নিউজিল্যান্ড পর্যন্ত। সেখানে এর পরিচিতি হয় white man’s footprint নামে। কারণ, তারা দেখল ইউরোপীয়রা যেখানে যায় সেখানেই জন্ম নেয় এ গাছ। তাই নেটিভ আমেরিকানদের কাছে প্ল্যানটেইন পায় এমন পরিচিতি।

প্ল্যানটেইনের বহুল প্রচলন নিউজিল্যান্ডে। গোখাদ্য হিসেবে নিউজিল্যান্ডের ডেইরি খামারগুলো প্ল্যানটেইন ব্যবহার করে আসছে অনেক আগে থেকেই। আমি প্ল্যানটেইনের পাতা প্রথম দেখি জাপানে। ২০০৯ সালের জুনে ‘হৃদয়ে মাটি ও মানুষ’ অনুষ্ঠানের পক্ষ থেকে গিয়েছিলাম জাপানের ইউয়াতে বিশ্ববিদ্যালয়ে। সেখানে সাক্ষাৎ পাই বাংলাদেশের তরুণ গবেষক ড. আল মামুনের। তিনি পোস্ট ডক্টরাল গবেষণা করছিলেন অ্যান্টিবায়োটিকমুক্ত পশুখাদ্য নিয়ে। তখন অনুন্নত ও উন্নয়নশীল বিশ্বে পশু মোটাতাজাকরণে তুমুল জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে অ্যান্টিবায়োটিক গ্রোথ প্রমোটার। আর তার বিরুদ্ধে বিকল্প ও প্রাকৃতিক খাদ্য উৎপাদনই জাপানের বিজ্ঞানীদের প্রধান চ্যালেঞ্জ। সেখানে প্ল্যানটেইন নিয়ে গবেষণা করছিলেন ড. আল মামুন। প্ল্যানটেইন মূলত শীতপ্রধান দেশেই জন্মে। ড. আল মামুন তখন বলেছিলেন তার স্বপ্ন প্ল্যানটেইন একদিন বাংলাদেশে চাষ হবে।

এ বছরের মার্চের শেষ দিকে ড. আল মামুন আমাকে মানিকগঞ্জ যাওয়ার আমন্ত্রণ জানালেন। মানিকগঞ্জের গিলন্ডে গিয়ে দেখি তিনি তার স্বপ্ন বাস্তবে রূপান্তর করে ফেলেছেন। বাংলাদেশের মাটিতে ও আবহাওয়ায় তিনি চাষ করেছেন প্ল্যানটেইনের।

আশির দশকে এ দেশে গবাদি পশু মোটাতাজাকরণের ক্ষেত্রে গ্রোথ প্রমোটার বা অ্যান্টিবায়োটিকের ব্যবহার শুরু হয়েছিল। বর্তমানে গবাদি পশু মোটাতাজাকরণে স্বাভাবিক খাবারের পাশাপাশি নানা ধরনের অ্যান্টিবায়োটিকের ব্যবহার বেড়ে গেছে বহুগুণ। আর এসব সিনথেটিক অ্যান্টিবায়োটিক প্রাণিদেহের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা মারাত্মকভাবে হ্রাস করে। পশুখাদ্যে অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারের কারণে উৎপাদিত ডিম, দুধ ও মাংসের মধ্যেও তা ছড়িয়ে পড়ে। এসব খাবার খাওয়ায় মানুষের শরীরেও এর ক্ষতিকর প্রভাব পড়ছে। এতে মানবদেহের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা হ্রাস, হৃদরোগজনিত সমস্যা, ডায়াবেটিস, অটিজমসহ বিভিন্ন ভয়াবহ রোগ দেখা দিচ্ছে।

গ্রোথ প্রমোটার ব্যবহারের ক্ষতিকর দিক অনুধাবন করে ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ উন্নত বিশ্বে ২০০৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে পশুখাদ্যে অ্যান্টিবায়োটিকের ব্যবহার বন্ধ করে দেওয়া হয়। এর পর থেকেই বিজ্ঞানীরা গ্রোথ প্রমোটারের বিকল্প পশুখাদ্য খুঁজতে থাকেন। গবেষণায় দেখা যায়, ঔষধি উদ্ভিদ অ্যান্টিবায়োটিকের বিকল্প পশুখাদ্য হতে পারে। গ্রোথ প্রমোটার, অ্যান্টিবায়োটিকের ক্ষতিকর প্রভাব নিয়ে দেশবাসীর মধ্যে এ বিষয়ে কিছুটা হলেও সচেতনতা এসেছে। প্রতি বছরই কোরবানি ঈদ সামনে রেখে এ বিষয়ে আগাম সতর্কতা প্রচার করে আসছি। তবে এখন যারা গরু মোটাতাজাকরণ করছেন বা বাড়িতে প্রাণিসম্পদের খামার বা দুগ্ধ খামার গড়ে তুলেছেন, তাদের জন্য প্ল্যানটেইন নামের ঔষধি ঘাস হতে পারে দারুণ এক পশুখাদ্য।

ড. মামুন জানালেন, খামার পর্যায়ে এ ঔষধি গুণসম্পন্ন ঘাসের ফল খুব ভালো। এটি গরু-ছাগল থেকে শুরু করে পোলট্রির জন্যও সমান উপকারী। আগেই বলেছি, দুগ্ধশিল্পের সবচেয়ে বড় ক্ষেত্র নিউজিল্যান্ডে এ প্ল্যানটেইনের বহুল প্রচলন। আমাদের দেশের প্রাণিসম্পদের খাদ্য চাহিদা বিবেচনায় সেখান থেকেও আমদানির কথা রয়েছে। কিন্তু তা নির্ভর করছে এ প্রকল্পের ফলাফলের ওপর। প্ল্যানটেইনের কার্যকারিতা পর্যবেক্ষণের জন্য উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশের প্রাণিসম্পদ ও খাদ্য নিরাপত্তাবিষয়ক বিশিষ্ট বিজ্ঞানী ও গবেষকবৃন্দ। তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায় প্ল্যানটেইনের বিশেষত্ব সম্পর্কে।

বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ ইনস্টিটিউটের সাবেক ডিজি ড. খান শহীদুল হক জানান, গবাদি পশুকে তিন ধরনের খাবার দিতে হয়। একটি হচ্ছে আঁশজাতীয়, দ্বিতীয়টি দানাদার আর তৃতীয়টি সাপ্লিমেন্ট খাবার। যে খাবারে বিভিন্ন নিউট্রিয়েন্ট যুক্ত করা হয়। প্ল্যানটেইনকেও সাপ্লিমেন্ট খাবার হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে। কারণ এতে আছে প্রচুর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, ভিটামিন ও মিনারেল। ফলে এটি খাওয়ার পর গবাদি পশুর দুধ ও মাংসের গুণগতমানে যেমন পরিবর্তন আসে, তেমন বাড়ে পরিমাণে। শহীদুল হক আরও বলেন, গবাদি পশুর মাংসে হেম আয়রনের পরিমাণ বাড়িয়ে দেয় যা শিশুর স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। সবচেয়ে বড় কথা গবাদি পশুকে অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়ানোর বিকল্প হতে পারে প্ল্যানটেইন।

প্ল্যানটেইনের উপকারিতা সম্পর্কে ড. মামুন বলেন, গবাদি পশু-পাখির স্বাভাবিক খাবারের সঙ্গে খুব সামান্য পরিমাণে (পোলট্রিতে ১%, ভেড়ায় ৪%, গরুতে ৫-১০%) প্ল্যানটেইন ঘাস বা এর পাউডার মিশিয়ে খাওয়ালে প্রাণীর (হিট স্ট্রেস) কমিয়ে প্রোটিন সংশ্লেষণ বাড়িয়ে দেয়। উচ্চ অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ক্ষমতাসম্পন্ন হওয়ায় মাংসের উৎপাদন, স্বাদ বৃদ্ধি পায় ও পচন রোধ করে। এটি হরমোনের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে দুগ্ধবতী ও গর্ভবতী প্রাণীর দুধের উৎপাদন ক্ষমতা বাড়ায় এবং সুস্থ-সবল বাচ্চা জন্ম দেয়। একইসঙ্গে ফ্যাটি অ্যাসিডের (ওমেগা-৬ ও ৩) অনুপাত কমাতে সহায়তা করে। এতে মানুষের হার্ট ভালো থাকে। রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা ও আয়ুষ্কাল বাড়ায়। রক্তে কলেস্টেরলের মাত্রা কমায়। ক্যান্সার ও অটিজম প্রতিরোধ করে।

কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের পশু পুষ্টিবিজ্ঞান বিভাগের মোহাম্মদ রাহাত ও আহমেদ হৃদয়। তারা গবেষণার আলোকে দেখালেন মুরগিকে প্ল্যানটেইন খাওয়ানোর সুফল। দেখলাম প্ল্যানটেইন খাওয়ানো মুরগির মাংসের রং কমার্শিয়াল ফুড খাওয়ানো মুরগির মাংসের তুলনায় লাল বেশি। এর কারণ হিসেবে জানালেন এতে হেম আয়রনের পরিমাণ বেশি। আরও দেখলাম প্ল্যানটেইন খাওয়ানো মুরগির মাংসে অতিরিক্ত চর্বি নেই। অথচ কমার্শিয়াল ফুড খাওয়ানো মুরগির মাংসে প্রচুর চর্বি।

এলাকার কোনো কোনো খামারি পুষ্টিমানসম্পন্ন এ ঘাস গরুকে খাইয়েছেন। তারাও জানালেন এ ঘাসের উপকারিতা সম্পর্কে। মোটাতাজাকরণ কিংবা দুগ্ধ খামারি, সবাই পাচ্ছেন বেশ উৎসাহজনক ফল।

ড. মামুন জানালেন তার গবেষণা সম্পর্কে, কীভাবে শীতপ্রধান অঞ্চলের উদ্ভিদ প্ল্যানটেইনকে আমাদের দেশের আবহাওয়ায় চাষ করছেন। প্ল্যানটেইন চাষের জন্য তিনি বেছে নেন শীতকালকে। এটি ৬০-২৪০ সেলসিয়াস তাপমাত্রা পর্যন্ত সহ্য করতে পারে। তবে ২০০ সেলসিয়াস তাপমাত্রায় সবচেয়ে বেশি ঔষধি গুণ থাকে। মামুন বলেন, নভেম্বরের শুরুতে বীজ ছিটিয়ে দিতে হবে। কোনো ধরনের বিশেষ যত্ন ছাড়াই এটি যে কোনো ধরনের মাটিতে জন্মাবে। বীজ বপনের ৪৫-৫৫ দিন পর প্রথমবার কেটে নেওয়া যাবে এ ঘাস। এরপর প্রতি এক মাস পরপর কেটে নেওয়া যাবে। এর উৎপাদন ব্যয় কম। ফলে দেশের কৃষক এটি ব্যবহার করলে খুব কম খরচেই অধিক লাভবান হবে।

বিভিন্ন এলাকার খামারির সঙ্গে কথা বলে জেনেছি সংকটের জায়গাতেই রয়ে গেছে গরুর খাদ্যের দাম। এখন যারা দুগ্ধ খামার করছেন, শুধু গরুর খাদ্যের দুর্মূল্যই তাদের লোকসানে ফেলছে। খাদ্যের খরচ আর দুধের মূল্যে তারা পুষিয়ে উঠতে পারছেন না। এ বছর কৃষি বাজেট কৃষকের বাজেট কার্যক্রমে অনেক খামারিই এমন অভিযোগ করেছেন। মানিকগঞ্জের এ এলাকার কৃষকও বলেছেন, ধানের চেয়ে খড়ের দাম বেশি। এক মুঠির দাম পড়ছে ১০ টাকা। তবে প্ল্যানটেইনের মতো এমন পুষ্টিমান ও ওষুধি গুণসম্পন্ন ঘাস সুলভে পাওয়া গেলে পাল্টে যেত আমাদের দুগ্ধ উৎপাদন ও প্রাণিসম্পদ পালনের হিসাব-নিকাশ।

ড. মামুন বলছেন, কৃষকের মাঝে ইতিমধ্যেই এ পুষ্টিকর ঘাসের ব্যাপক চাহিদা সৃষ্টি হয়েছে। অনেক কৃষকই এ পুষ্টিকর ও লাভজনক ঘাস আবাদে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন। আমাদের দেশের প্রাণিসম্পদের বহুমুখী সম্ভাবনা থাকার পরও দিন দিন প্রাকৃতিক গোচারণভূমি কমে যাওয়ার কারণে খামারিরা শতভাগ ঘরোয়া খাদ্যের ওপর নির্ভর করতে বাধ্য হচ্ছেন। অন্যদিকে একশ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী দ্রুত লাভের আশায় গরুকে গ্রোথ প্রমোটার বা অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়াচ্ছেন। এর বিপজ্জনক প্রভাব পড়ছে জনস্বাস্থ্যে। অ্যান্টিবায়োটিক গ্রোথ প্রমোটার খাওয়ানো বা ইনজেকশন প্রয়োগ করা গরুর শরীরে অস্বাভাবিক পানি জমে যায়, একইভাবে ওই গরুর মাংসও স্বাস্থ্যের জন্য চরম ক্ষতিকর হয়ে ওঠে। বিষয়গুলো সম্পর্কে কিছুটা জনসচেতনতা আসার পর এখন সবাই প্রাকৃতিক খাদ্য বিশেষ করে কাঁচা ঘাস খাওয়ানো গরু ও মাংসের সন্ধান করছেন। এ ক্ষেত্রে হাইড্রোপনিক পদ্ধতিতে ঘাস উৎপাদন যেমন খামারিরা আকর্ষণীয় এক উদ্যোগ হিসেবে গ্রহণ করেছেন, একইভাবে ড. আল মামুনের দীর্ঘ গবেষণার আলোকে চাষ করা এই প্ল্যানটেইনও দেখাচ্ছে আশার আলো। সরকার শক্তিসম্পন্ন, রোগপ্রতিরোধী ও পুষ্টিকর এ ঘাস উৎপাদনের ব্যাপারে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করলে প্রাণিসম্পদের পুষ্টি উন্নয়নে এটি হবে এক ইতিবাচক দৃষ্টান্ত।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন

অনুগ্রহ করে মন্তব্য করতে লগ ইন করুন লগ ইন

Leave a Reply

জৈব

কোকোডাস্ট দিয়ে কিভাবে জৈব সার তৈরি করা হয়

বাংলাদেশে নারিকেলকে বলা হয় গ্রামীণ অর্থনীতির চালিকা শক্তি। ঐতিহ্যগতভাবে এদেশে নারিকেল চাষ হয় বাড়ির আঙিনায়। নারিকেল চাষে তাই বাড়তি কোনো জায়গা জমির দরকার হয় না। নারিকেল গাছের ছায়া বসতবাড়িতে সাথী ফসল হিসেবে অন্যান্য ফল ও শাকসবজি চাষ করতেও সহযোগিতা করে। রোপণ করার ৬-৭ বছর পর ফল আসে এবং বিরামহীনভাবে ৫০-৬০ বছর তা চলতে থাকে। বিস্ময়কর এ ফলদ বৃক্ষের ফুল, ফল, কাণ্ড পাতা বছরব্যাপী কোনো না কোনোভাবে আমাদের আর্থিক সহযোগিতা প্রদান করে থাকে। কৃষকের কাছে তাই নারিকেল সবচেয়ে সমাদৃত গাছ। নারিকেল থেকে উত্তম পুষ্টিগুণ সম্পন্ন ডাবের পানি পাওয়া যায়। নারিকেলের ছোবড়া থেকে আঁশ এবং আঁশজাত দ্রব্য তৈরি করা যায়।

সবশেষে নারিকেলের তুষ (কোকোডাস্ট) থেকে ভালোমানের জৈব সার তৈরি হয়ে থাকে। বরিশাল অঞ্চলের স্বরূপকাঠি (পিরোজপুর), খুলনার ফুলতলা, বাগেরহাট ও যশোর জেলার মনিরামপুর অঞ্চলে নারিকেলের ছোবড়া বা খোসা থেকে বংশানুক্রমে নারিকেলের খোসা, আঁশ ও আঁশজাত দ্রব্য করা হয়ে থাকে।

নারিকেলের খোসা

নারিকেলের খোসা থেকে আঁশ তৈরির সময় খোসার ৬৬% তুষ বা Cocodust বের হয়। নারিকেলের তুষে ৩১% সেলুলোজ ও ২৭% লিগনিন জাতীয় জৈব পদার্থ আছে এবং এর কার্বন ও নাইট্রোজেনের অনুপাত ১০৪:১ (Shekar, 1999)। সেলুলোজ খুব শক্ত বা Stable পদার্থ এবং এ কারণে নারিকেলের তুষ ১০-১৫ বছর পরও মাটিতে অক্ষতাবস্থায় থাকে। লিগনিন পচন-সৃষ্টিকারী ব্যাকটেরিয়া বা অনুজীবের কার্যক্ষমতা কমায়। নারিকেলের তুষে উদ্ভিদের প্রয়োজনীয় সব রকম পুষ্টি থাকে বলে তুষ পচালে উৎকৃষ্ট জৈব সারে রূপান্তরিত হয়। ভারত, শ্রীলংকা, ইন্দোনেশিয়া ও ফিলিপাইনে নারিকেলের তুষের সাথে চুন (প্রতি ১০০০ কেজি তুষে ৫ কেজি চুন) ও মাশরুম স্পন (Spawn) বা বীজ মিশিয়ে পচানো হয়। নারিকেলের তুষের মধ্যে মাশরুম চাষ করেও তা পচানো যায়। মাশরুমে ক্লোরোফিল না থাকায় সূর্যের আলো ব্যবহার করে খাদ্য উৎপাদন করতে পারে না। দৈহিক বাড়-বাড়তির জন্য মাশরুম নারিকেলের তুষের সেলুলোজ হতে শর্করা জাতীয় খাদ্য সংগ্রহ করে, ফলে নারিকেলের তুষের সেলুলোজ কঠিন পদার্থ হতে সরলতম পদার্থে রূপান্তরিত হয় ও সহজে পচে যায়। তুষে মাশরুম spawn ও চুন প্রয়োগ করলে ১ মাসের মধ্যে হিউমাস জাতীয় কালো পদার্থে পরিণত হয়।

হিউমাস রাসায়নিক সারের মতো পুষ্টি সমৃদ্ধ নয়, তবে মাটিতে দীর্ঘদিন সক্রিয় থেকে মাটির অনুজীবের কার্যক্ষমতা বাড়ায়, মাটির ভৌত গুণাবলি ধরে রাখে এবং গাছের জন্য প্রয়োজনীয় মুখ্য ও গৌণ সব ধরনের খাদ্য সরবরাহ নিশ্চিত করে। হিউমাস মাটির Ca++, Zn++, Cu++ Fe++ ধাতব আয়ন ধরে রাখতে সাহায্য করে। এসব আয়নগুলো গাছের আয়ন বিনিময় ক্ষমতা বাড়ায়, মাটি থেকে খাদ্য সংগ্রহ করার ক্ষমতা বাড়ায় এবং ক্ষতিকর ফ্রি-রেডিকেল অপসারণ করে গাছের বৃদ্ধি নিশ্চিত করে। ফ্রি-রেডিকেল এক ধরনের ক্রিয়াশীল যৌগমূলক যা গাছের ক্লোরোফিল নষ্ট করে দেয়। গাছের স্বাভাবিক রেচন প্রক্রিয়া (Metabolism) থেকেই ফ্রি-রেডিকেল তৈরি হয়। জমিতে বেশি বেশি রাসায়নিক সার ব্যবহার করলে ফ্রি-রেডিকেলও বেশি তৈরি হয়। ফল জাতীয় সবজি যেমন টমেটো, করলার ক্ষেত্রে ফ্রি-রেডিকেলের কারণে একবার ফল আসলেই গাছের পাতা শুকিয়ে মারা যায়। এসব ধাতব আয়ন গুলো Super oxide dismutage (SOD) নামে এক ধরনের এনজাইম তৈরির মাধ্যমে ফ্রি-রেডিকেলের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলে।

নারিকেলের তুষের বিশেষ গুণ হচ্ছে ওজনের ৮-১০ গুণ পানি ধারণক্ষমতা। তাই সঠিক ব্যবহার পদ্ধতি জানা থাকলে নারিকেলের অব্যবহৃত এ তুষ সরাসরি নার্সারি ব্যবসা ও ফুল চাষে ব্যবহার করে যায়। বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের উদ্যানতত্ত্ব গবেষণ কেন্দ্র যশোরের কর্মরত বিজ্ঞানীরা ২০০৮ সালে যশোর শহরতলীর চাচড়া এলাকায় কোকো ফাইবার মিল নামক কোম্পানির সহায়তায় নারিকেলের আঁশ তৈরি ও তুষ পচানোর ওপর এক গবেষণা পরিচালনা করেন। ওই গবেষণায় বিজ্ঞানীরা মাশরুমের বীজ ও চুন প্রয়োগ করে দ্রুত নারিকেলের তুষ পচানোর পদ্ধতি আবিষ্কার করেন। হাইড্রোলিক মেশিনে নারিকেলে তুষের ব্লক তৈরি করে তাতে চারা লাগানোর ওপরও বিজ্ঞানীরা গবেষণা করেন।

নারিকেল থেকে জৈব সার তৈরি

নারিকেলের তুষ ফলের অংশ হওয়ায় গাছের বৃদ্ধির জন্য দরকারি সব পরিমাণ পুষ্টি বিশেষ করে পটাশিয়াম জাতীয় পদার্থ থাকে। পচানোর পর মাটিতে প্রয়োগ করলে মাটির পানি ধারণক্ষমতা ও অন্যান্য ভৌতিক গুণাবলি বৃদ্ধিসহ অনুজীবের কার্যক্রম বৃদ্ধি করে দীর্ঘমেয়াদে গাছের পুষ্টি সরবরাহ ও বৃদ্ধি-সহায়তা প্রদান করে। তাছাড়া নারিকেল থেকে তৈরি জৈব সারে আছে অনেক রকমের এনজাইম (Enzyme) ও কোষীয় পদার্থ যা শিকড় দিয়ে গাছের মধ্যে প্রবেশ করে ও গাছের রোগ প্রতিরোধ ও পোকার আক্রমণ প্রতিহত করার বাড়তি ক্ষমতা প্রদান করে। নারিকেল থেকে তৈরি জৈব সারে আছে ৬০৭৫% জৈব পদার্থ, ০.৭৬/ নাইট্রোজেন, ০.৪% হারে ফসফরাস ও পটাশ, ০.২% সালফার ও ০.০০৪ বোরন।

কোকোপিটের ব্যবহার

০ ক্রমবর্ধমান হাইড্রোপোনিকউপায়ে সবজি চাষের জন্য কোকোপিট ব্যবহার করা হয় যেন কোনোভাবেই গাছ বা চারা ক্ষতিগ্রস্ত না হয়;
০ কোকোপিট উদ্ভিদের শিকড় উন্নয়নের জন্য একটি চমৎকার স্তর এবং গাছ বা চারা রোপণ করার সময় কোনো এজেন্ট প্রয়োজন হলে জৈব সারের সাথে কোকোপিটের সংমিশ্রণে একটি গ্রোয়ার মিডিয়া তৈরি করে সরাসরি চারা তৈরি করা যেতে পারে;
০ কোকোপিট মাটির তুলনায় অনেক হালকা এবং টবে ব্যবহারের সময় খুব সহজেই কোকোপিটের ভেতর বাতাস চলাচল করতে পারে যার ফলে গাছ বেশি বেশি অক্সিজেন নিতে পারে;
০ কোকোপিট শোষক সময়কাল অনেক : ফলে এটা গাছে ধীরে ধীরে শোষিত হয়;
০ কোকোপিট একটি উচ্চ বাফার ক্ষমতাসম্পন্ন জৈব পদার্থ যা মাটির গুণাগুণ বজায় রাখতে বিশেষভাবে সহায়তা করে থাকে। কাকোপিটের পিএইচ (pH) সবসময় ৫.৫ থেকে ৭ থাকে যা সুস্থ উদ্ভিদ তৈরি করে এবং খুব সহজেই উন্নত মানের গাছপালা তৈরি করতে সাহায্য করে এবং এর ফলে অনেক বেশি পরিমাণে ফসল সংগ্রহ করা যায়;
০ টবে মাটি ব্যবহার করলে ওজন বেশি হয়, কিন্তু কোকোপিট ব্যবহার করলে কম হয়। ছাদের ওপর অনেক টব ব্যবহার করলে লোড ক্যাপাসিটি কম হয়;
০ কোকোপিট দিয়ে যে কোনো প্রকার চারা তৈরি বা গাছ লাগানো যেতে পারে, নির্দিষ্ট কোনো ধরা বাঁধা নিয়ম নেই। আধুনিক গ্রিন হাউসে কোকোপিটকে বিভিন্নভাবে ব্যবহার করে

ফসল উৎপাদন করে থাকে:

০ কোকোপিট দিয়ে টবে গাছপালা লাগালে দ্রুত বৃদ্ধি পায় এবং পানি দিলে টবের ভেতর কখনও জলাবদ্ধতা তৈরি হয় না, পানি সাথে সাথে দ্রুত সব জায়গাতে ছড়িয়ে দেয় এবং নির্দিষ্ট পরিমাণমতো পানি ধরে রেখে গাছকে সতেজ রাখে এবং কখনও পানি আবদ্ধ হয়ে গাছ মারা যায় না ।
নিত্যপ্রয়োজনীয় সব চাহিদার জোগান দিলেও আমাদের দেশে নারিকেল অনেকটা অবহেলিত রয়ে গেছে। নারিকেল গবেষণা ও সম্প্রসারণ কার্যক্রম জোরদার করার মাধ্যমে নারিকেলের ফলন ও উৎপাদন বাড়ানো জরুরি। একই সাথে নার্সারির চারা তৈরি কলম লাগানোর ক্ষেত্রে কোকোডাস্ট নতুন সম্ভাবনা নিয়ে এসেছে। একে কাজে লাগিয়ে কৃষিকে আরও সমৃদ্ধ করতে হবে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

জৈব

মুলার ভালো ফলন পেতে যেসব সার ব্যবহার করবেন

মুলার ভালো ফলন পেতে কী কী সার ব্যবহার করব?

মুলা রবি মৌসুমের একটি প্রধান সবজি। প্রচুর ভিটামিন এ সমৃদ্ধ এ সবজির ভালো ফলন পেতে সঠিক সময়ে সঠিক মাত্রায় সার প্রয়োগ করতে হবে। মুলার জমিতে ইউরিয়া, টিএসপি, এমওপি, জিপসাম এবং বোরাক্স দিতে হয়।

প্রতি হেক্টর জমির জন্য ইউরিয়া প্রয়োজন হবে ৩৭৫ কেজি, টিএসপি ২২৫ কেজি, এমওপি ২২৫ কেজি, জিপসাম ১০০ কেজি এবং বোরাক্স ১০-১৫ কেজি। শেষ চাষের সময় টিএসপি, জিপসাম, বোরাক্স সবটুকু এবং ইউরিয়া ও এমওপি সারের অর্ধেক জমিতে দিতে হবে। সারগুলো জমিতে সমানভাবে ছিটিয়ে মাটিতে মিশিয়ে দিতে হবে।

বাকি ইউরিয়া ও এমওপি সার সমান দুই ভাগে ভাগ করে দুই কিস্তিতে জমিতে প্রয়োগ করতে হবে। এক্ষেত্রে প্রথম কিস্তি বীজ বপনের তিন সপ্তাহ পর এবং দ্বিতীয় কিস্তি বীজ বপনের পাঁচ সপ্তাহ পর প্রয়োগ করতে হবে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

জৈব

স্বল্প সময়ে জৈব সার তৈরির কলাকৌশল

জৈব পদার্থ হলো মাটির প্রাণ বা হৃদপিণ্ড। মাটির স্বাস্থ্য ভালো রাখার জন্য জৈব পদার্থের প্রয়োজন। সাধারণভাবে জৈব পদার্থ হলো গাছপালা ও জীবজন্তুর মৃতদেহ মাটিতে পচে যে পদার্থের সৃষ্টি হয় তাই। জৈব পদার্থ হতে সংগৃহীত, প্রক্রিয়াজাতকৃত বা রূপান্তরিত সারই হলো জৈব সার। আমাদের দেশে প্রচলিত জৈব সারের মধ্যে কম্পোস্ট সার খুবই জনপ্রিয়। বাংলাদেশে চার ধরনের কম্পোস্ট সার ব্যবহার করা হয়। যেমন সাধারণ কম্পোস্ট, কুইক কম্পোস্ট, ভার্মি কম্পোস্ট এবং ট্রাইকো কম্পোস্ট।

কুইক কম্পোস্ট হলো এমন একটি জৈব সার যা স্বল্প সময়ে তৈরি করা যায় এবং এর মধ্যে গাছের জন্য প্রয়োজনীয় খাদ্য উপাদানও বেশি থাকে।

কুইক কম্পোস্ট সারের উপকারিতা :
সাধারণ কম্পোস্ট সার তৈরি করতে ২ থেকে ৩ মাস লেগে যায়। কৃষক পর্যায়ে সবসময় সাধারণ কম্পোস্ট সার প্রস্তুত করা কঠিন হয়ে পড়ে। তাই কুইক কস্পোস্ট সার খুব কম সময়ে এবং সহজ উপায়ে তৈরি করা যায় অর্থাৎ মাত্র ১৪-১৫ দিন সময়েই কুইক কম্পোস্ট সার তৈরি করা যায়। ইহা মাটিতে পানি ধারণ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। উদ্ভিদের পুষ্টি উপাদান সহজলভ্য করে। মাটিতে থাকা অনুজীবের ক্রিয়াকলাপ বৃদ্ধি করে। গাছের শিকড় ও অঙ্গজ বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। সবজি ফসলে মালচিংয়ের কাজ করে। সর্বোপরি মাটির উর্বরতা সুরক্ষা করে এবং ফসল উৎপাদন ক্ষমতা বৃদ্ধি করে।

কুইক কম্পোস্ট তৈরির প্রয়োজনীয় উপকরণ ও অনুপাত : পচা গোবর, কাঠের গুড়া এবং খৈল। উপকরণগুলোর মিশ্রণের অনুপাত হবে পচা গোবব : কাঠের গুড়া : খৈল= ৪: ২: ১ ।

কুইক কম্পোস্ট প্রস্তুত প্রণালি :
১ ভাগ খৈল ভালোভাবে গুড়া করে ২ ভাগ কাঠের গুড়া বা চালের কুড়া এবং ৪ ভাগ পচা গোবর বা হাঁস মুরগির বিষ্ঠার সাথে ভালো করে মিশাতে হবে। পরিমিত পরিমাণ পানি এমনভাবে মিশাতে হবে যেন সব উপাদান খুব ভালোভাবে মিশে। উপাদান ভালোভাবে মিশলে এক ধরনের খামির মতো তৈরি হয়। ওই মিশ্রণের খামি দিয়ে এমন করে বল তৈরি করা যায়। বলটি কোমর পরিমাণ বা ১ মিটার ওপর থেকে ছেড়ে দেয়া হয় তাহলে যদি বলটি একদম ভেঙে না যায় আবার একে বারে লেপ্টে না যায় তাহলে বুঝতে হবে পানির পরিমাণ ঠিক আছে। পরবর্তীতে মিশ্রণটি স্তূপ করে রেখে দিতে হবে যেন ভেতরে জলীয় বাষ্প আটকিয়ে পচনক্রিয়া সহজতর হয়। স্তূপটির পরিমাণ ৩০০ থেকে ৪০০ কেজির মধ্যে হওয়া উত্তম।

শীতকালে স্তূপের ওপর চটের বস্তা দিয়ে ঢেকে দিতে হবে। স্তূপ করার ২৪ ঘণ্টা পর হতে মিশ্রণের ভেতরের তাপমাত্রা বাড়তে থাকে এবং ৪৮-৭২ ঘণ্টার মধ্যে স্তূপের তাপমাত্রা ৬০০-৭০০ সে. এ পৌঁছায়। ওই পরিমাণ তাপমাত্রা অনুভূত হলে স্তূপ ভেঙে মিশ্রণ ওলট-পালট করে ১ ঘণ্টা সময়ের জন্য মিশ্রণকে ঠাণ্ডা করে নিতে হবে এবং পুনরায় স্তূপ করে রাখতে হবে। স্তূপে বেশি পরিমাণ তাপ অনুভূত হলে খৈলের সমপরিমাণ পচা গোবর বা হাঁস-মুরগির বিষ্ঠা পুনরায় মিশিয়ে দিতে হবে। স্তূপের এ অবস্থায় অ্যামোনিয়ার মতো গন্ধ বের হবে। স্তূপটি প্রতি ২-৩ দিন পর পর ওলট-পালট করে পুনরায় স্তূপ করে রেখে দিতে হবে। এভাবে ওলট-পালট করতে থাকলে ১৪-১৬ দিনের মধ্যেই ওই মিশ্র জৈবসার জমিতে প্রয়োগ করার উপযোগী হয়। সার উপযোগী হওয়ার অন্যতম প্রধান লক্ষণ হলো এ সময় কোনো রকম গরম বা গন্ধ থাকবে না এবং কালো বাদামি বর্ণ ধারণ করবে, শুকনা এবং ঝুরঝুরে হবে।

সাবধানতা :
মিশ্রণটি উঁচু ও ছায়াযুক্ত স্থানে করতে হবে। স্তূপের নিচে পলিথিন শিট দিতে হবে যেন মিশ্রণে থাকা প্রয়োজনীয় পুষ্টি গুণাগুণ মাটিতে চলে না যায়।

পুষ্টি উপাদান :
কুইক কম্পোস্টের প্রতি ১০০ কেজিতে ২.৫৬% নাইট্রোজেন, ০.৯৮% ফসফরাস, ০.৭৫% পটাশিয়াম পাওয়া যায়। তাছাড়া পরিমিত মাত্রায় ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম এবং অন্যান্য গৌন পুষ্টি উপাদান পাওয়া যায়।

প্রয়োগমাত্রা :
জমির উর্বরতা ও ফসলের ওপর জমিতে কুইক কম্পোস্ট প্রয়োগের মাত্রা নির্ভর করে। সাধারণভাবে সবজি ফসলের জন্য প্রতি শতকে ৬ থেকে ১০ কেজি পরিমাণ প্রয়োগ করা যায়। এক্ষেত্রে জমি শেষ চাষের সময় শতাংশপ্রতি ৬ কেজি এবং পরবর্তীতে ২ বারে ৪ কেজি হারে নালা করে দিতে হবে। ধানের জমিতেও কুইক কম্পোস্ট দেয়া যেতে পারে। ধানের কুশি স্তরে শতাংশ প্রতি ৪ কেজি হারে ছিটিয়ে প্রয়োগ করা যেতে পারে।

সংরক্ষণ :
কুইক কম্পোস্ট ছায়ায় এমনভাবে শুকাতে হবে যেন হাতের মুঠোয় নিয়ে চাপ দিলে তাতে কোনো রস না দেখা যায়। এ অবস্থায় ভবিষ্যতে ব্যবহারের জন্য চটের/পাটের বস্তায় বা মাটির পাত্রে সংরক্ষণ করা যায়।
ফসল উৎপাদনের প্রধান মাধ্যম মাটি। জৈব পদার্থ মাটির প্রাণ। কুইক কম্পোস্ট ব্যবহার করে মাটির জৈব উর্বরতা রক্ষা করুন। কারণ জীবন ও সভ্যতার বিকাশে মাটির ভূমিকা অপরিসীম।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

জৈব

ডিমের খোসা দিয়ে সার তৈরির পদ্ধতি

আমরা ডিমের খোসা অপ্রয়োজনীয় মনে করে ফেলে দেই। কিন্তু এই ডিমের খোসা দিয়ে জৈব সার তৈরি করতে পারলে তা হতে পারে উৎকৃষ্টমানের সার। এজন্য সার তৈরির পদ্ধতি জেনে নিতে হবে।

গাছের ম্যাক্রো নিউট্রিয়েন্টস-এর চাহিদা পূরণ করে ডিমের খোসা। ডিমের খোসার মধ্যে থাকে প্রচুর পরিমাণ ক্যালসিয়াম। গাছের জন্য প্রয়োজনীয় ক্যালসিয়াম কার্বনেট পাওয়া যায় এই উপকরণ থেকে। এ ছাড়া ডিমের খোসায় আছে আয়রন, কপার, ম্যাঙ্গানিজ, জিঙ্ক, ফ্লোরিন, ক্রোমিয়াম ও মলিবডেনাম। ক্যালসিয়ামের অভাবে ফুল, কাণ্ড ও শিকড়ের বৃদ্ধি বাধাপ্রাপ্ত হয়। এর অভাবে বৃদ্ধির ক্ষেত্রে বিকৃতি, পাতা ও ফলে কালো দাগ দেখা দেয়। পাতার ধার ঘেঁষে হলুদ রং দেখা দেয়।

এবার জেনে নিন ডিমের খোসা দিয়ে কম্পোস্ট সার বা জৈব সার তৈরি করার পদ্ধতি,-

প্রথমেই ডিমের খোসাকে ব্যবহার উপযোগী করতে হবে। এক্ষেত্রে প্রথমে ডিমের খোসা সংগ্রহ করতে হবে, সংগ্রহকৃত ডিমের খোসা ভালোভাবে শুকিয়ে নিতে হবে।

শুকনো ডিমের খোসাগুলকে গুঁড়ো করে পাউডারে রূপান্তর করতে হবে। সেক্ষেত্রে ব্লেন্ডার, মিক্সচার ব্যবহার করা যেতে পারে বা পাটায় পিশেও তৈরি করা যেতে পারে। খেয়াল রাখতে হবে খোসাগুলো যেন ভালোভাবে মিহি হয়, দানা দানা যেন না থেকে যায়।

বড় দানার চেয়ে পাউডার দ্রুত মাটির সাথে মিশতে পারে, ফলে সহজেই তার মিনারেলসগুলো গাছের গ্রহণ উপযোগী হয়ে উঠে। দানা দানা থেকে গেলে এগুলো ব্যবহারে বা গাছে প্রয়োগের পর তা মাটির সাথে মিশতে অনেক সময় লাগে, পোকার আক্রমণ দেখা দিতে পারে। তাই এমন পাউডার তৈরি করতে হবে যাতে পিঁপড়ে বা পোকামাকড় তাতে আক্রমণ করে সেগুলোকে বহন করে নিয়ে যেতে না পারে।

ডিমের খোসা থেকে তৈরিকৃত সার যেকোনো ধরনের গাছে ব্যবহার করা যায়।

গাছে বা টবে ডিমের খোসার প্রয়োগের পরিমাণ জেনে নিন,-
৮ ইঞ্চি টবে ১ টেবিল চামচ
১০ ইঞ্চি টবে ১ টেবিল চামচ
১২ ইঞ্চি টবে ১.৫ টেবিল চামচ

ডিমের খোসার গুঁড়া পানি দিয়ে পাতলা করে গাছের নিচে ব্যবহার করতে পারি। এই সার টমেটো এবং বেগুনের মতো শাক-সবজি পানিজনিত রোগ এবং পাতা হলুদ বর্ণ ধারণ করা- এরমতো রোগের চিকিৎসা করতে কার্যকর।

এছাড়া এই কম্পোস্ট গোলাপ গাছে প্রয়োগ করলে ফুল ধারণ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। গাছ বৃদ্ধির প্রাথমিক পর্যায়ে এই পদ্ধতিটি প্রয়োগ করা যেতে পারে। টবে মাটির মিশ্রণ প্রস্তুত করার সময় ১-৪ ডিমের খোসার চূর্ণ দিয়ে একটি গাছ লাগানো যেতে পারে।

টবের মাটিতে ডিমের খোসার সার প্রয়োগের ক্ষেত্রে প্রথমে টবের মাটিকে নিড়ানি দিয়ে বা খুঁচিয়ে আলগা করে দিতে হবে। তারপর পরিমাণমতো ডিমের খোসার সার টবের চারিদিকে খুঁচানো মাটির উপর ছিটিয়ে প্রয়োগ করতে হবে।

এগ শেল বা ডিমের খোসা সিদ্ধ পানি গাছের দ্রুত বর্ধনশীলতার জন্য পৃথিবীর অন্যতম এক সার। এক লিটার পানিতে ৫টি ডিমের খোসা সিদ্ধ করুন। এই পানি উষ্ণ আবহাওয়ায় ২৪ ঘণ্টা পর্যন্ত রাখুন। পরের দিন মিশ্রণটি মাটিতে প্রয়োগ করুন অথবা গাছে স্প্রে করতে পারেন। এতে আরও বেশি ফল পাওয়া যায়। যদি ফুলের গাছ হয় তবে এর প্রয়োগে আরও বেশি ফুল পাবেন।

ডিমের খোসার সার প্রয়োগের ফলে মাটিতে পিঁপড়ে ও পোকামাকড় আক্রমণের আশঙ্কা থাকে। তাই খোসার সারের সাথে নিম বা খৈলের গুঁড়ো মিশিয়ে প্রয়োগ করুন যাতে ক্ষতিকর কীট পতঙ্গের আক্রমণ থেকে রক্ষা হয়।

একটি মিক্সারে দুটি ডিম, একটি কলার খোসা এবং তিন চা চামচ চা বর্জ্য মিশ্রিত করুন। এই মিশ্রণটি বেশি ফলনের জন্য উদ্ভিদে প্রয়োগ করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে এটি করতে পারেন। কোনো সার প্রয়োগের আগে মাটিকে আর্দ্র রাখা উচিত। মনে রাখবেন, সান্ধ্যকালীন সময় সার প্রয়োগের জন্য সেরা সময়।

ডিমের খোসা মিহি গুঁড়ো করে গাছে প্রয়োগ করুন। এতে শামুক, পোকামাকড় এবং অন্যান্য কীটপতঙ্গ থেকে উদ্ভিদ সুরক্ষিত থাকবে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

জৈব

যেভাবে কেঁচো সার উৎপাদন করবেন ও তার ব্যবহার

কেঁচো সার কি ?

প্রকৃতির লাঙ্গল নামে পরিচিত কেঁচো জিবন চক্রে খাদ্য খেয়ে যে মল ত্যাগ করে চা পাতার ন্যায় দেখতে ঝুর ঝুরে কেঁচোর ত্যাগকৃত এই মলই কেঁচো সার।এটি পৃথিবীতে অধিক ব্যবহৃত জৈব সারের অন্যতম,পরিবেশ বান্ধব সার।

কেঁচো সার কত প্রকার ?

এখন পর্যন্ত আমার জানা মতে বিজ্ঞানিদের ভাষায় কেঁচো সার ১ প্রকার। কেঁচোর ত্যাগকৃত মল। কিন্তু আমরা বিশেষভাবে কেঁচোর শরিরের নির্যাষ এবং সারের নির্যাষ নিয়ে তরল কেঁচো সার বর্তমানে পরিক্ষামুলক ব্যাবহার করে ভাল ফল পাচ্ছি।

কেঁচো সার কিভাবে কোথায় ব্যবহার করব ?

মাটির স্বাস্থ রক্ষায় মাটিতে কেঁচো সার ব্যবহার করলে মাটি থেকে উদ্ভিদের প্রয়োজনীয় খাদ্যের ৯ থেকে ১৪(কেঁচোকে সরবারহকৃত খাদ্যের প্রকারভেদ অনুসারে) টি নির্দোষ রাসয়নিক খাদ্য উপাদান উদ্ভিদ পেতে পারে।অর্থাৎ মাটিতে কেঁচোসার প্রয়োগ করলে মাটি কেঁচো সারের উপাদান ব্যাবহার করে উদ্ভিদকে ৯-১৪ টি খাদ্য উপাদান সরবারহ করতে পারে।

কি ধরনের কেঁচো দিয়ে সার উৎপাদন করব ?

হ্যা,কেঁচোসার উৎপাদন করতে আমরা আমাদের পরিবেশে প্রাপ্ত কেঁচো নয় বরং বিশেষ প্রজাতির কেঁচো ব্যাবহার করব।আমার জানা সর্বশেষ তথ্য মতে বিজ্ঞানিরা ৫৫০০ প্রজাতির কেঁচো নিয়ে গবেষনা করে, কেঁচোর খাদ্য গ্রহনের ও মল ত্যাগের ক্ষমতা এবং কেঁচোর শরিরে মাটির প্রয়োজনিয় বিশেষ নির্দোষ রাসয়নিক উপাদানের বিশেষত্বেকে বিবেচনায় নিয়ে বানিজ্যিক ভাবে কেঁচোসার উৎপাদনের জন্য চারটি প্রজাতির কেঁচো নির্বাচন করেন।

বাংলাদেশে কখন কারা কেঁচো চাষ শুরু করে ?

৮০ র দশকে ইউএনডিবি রিউপা প্রকল্প এবং বাংলাদেশ ব্যাংক যৈথভাবে বাংলাদেশে কেঁচোচাষের সূচনা করে। কৃষক পর্যায় প্রশিক্ষণ দিয়ে কেঁচো সার উৎপাদন এবং কৃষিকাজে এ সারের ব্যাবহারের প্রবর্তন করে।

কেঁচো কোথায় পাব ?

শুরুতে বাংলাদেশ বাংক অষ্ট্রলিয়া থেকে কেঁচো আমদানী করে চাষ শুরু করে।এর পরে বিভিন্ন সময় প্রাতিষ্ঠানিক এবং ব্যাক্তি পর্যায় ভিয়েতনাম,থাইল্যান্ড,চীন,অষ্ট্রেলিয়া,ভারত থেকে কেঁচো আমদানী হয়।তবে বর্তমানে দেশে বিভিন্ন খামারে পর্যাপ্ত কেঁচো পাওয়া যায়।বাংলাদেশ ব্যাংক প্রতি কেজি কেঁচোর দাম ৫০০০টাকা নির্ধারন করে।তবে বর্তমানে দেশের অভ্যন্তরে পর্যাপ্ত কেঁচো মজুদ থাকায় দাম কেজি প্রতি স্থান ভেদে ২০০০-২৫০০ টাকার মধ্যে।

প্রতিপালন ব্যাবস্থাঃ

কেঁচে অন্ধকার সেতস্যাতে পরিবেশে জীবন ধারনপছন্দকরে।আলো,রোদ,বৃষ্টি,ব্যাঙ্গ, পিপিলিকা, ছুচো,পাখি মুরগি,গুইশাপ ইত্যাদি কেঁচোর শত্রু।

কেঁচো চাষের জন্য উচু যায়গা নির্বাচন করে মাটির ভিটি তৈরী করে ঘর তৈরী করে নিতে হবে। ঘর করার জন্য ছন,খর,নারিকেলের পাতা দিয়ে চালা তৈরী করে নেয়া যেতে পারে। ব্যায় সাশ্রয়ে খুটির জন্য বাশ ও বেরার জন্য পাটকাঠি নারিকেলপাতা, সুপারির পাতা, ছন,খর ইত্যাদি ব্যবহার করা যেতে পারে।

ভিটি পাকা বা পাকা হাউজ করলে পিপিলিকার আক্রমণ থেকে খামারকে রক্ষা করতে ভিটিতে চারিদিকে ৩” গভির পানির নালা করতে হবে। হাউজ পাঁকা না করলে মাটির চারি অথবা সেনিট্যারী রিং ব্যাবহার করে কেঁচো চাষ করা যায়।চারিতে করলে কেঁচো খামারের ভিটির মাটি খুরে চাড়ির উপরিভাগ থেকে ৩” বাদ রেখে মাটির মধ্যে চাড়ি বসিয়ে নিতে হবে। খামারে একাধিক চাড়ি স্থাপন করা যেতে পারে।চাড়ি /রিং পদ্ধতিতেও ইচ্ছা করলে স্বল্প ব্যায়ে মেঝেতে সলিং ছারা ২” ডালাই দিয়ে প্লাষ্টার করে নেয়া যায়।একই ভাবে ঘরের মেঝের চারিদিকে পানির নালার ব্যবস্থা করা যায়। কোনরুপ সিমেন্টের কাজ করতে না চাইলে মেঝেতে চারিদিকে ৩” নালা করে মোটা পলিথিন দিয়ে পলিথিনের জোরার মুখে সিমেন্ট / কাঁদা দিয়ে জোরার মুখ আটকে পানির ব্যাবস্থা করা যায়।এভাবে খামারের ভৌত অবকাঠামো তৈরী হয়ে গেলে গোয়াল থেকে গোবর সংগ্রহ করে খামারের এককোণে/চাড়িতে/রিং এ/হাউজে রাখতে হবে।

৪৫% গোবর+ ২৫% কলাগাছ কুচি +২৫% কচুরিপনার সবুজ অংশ (কাল মুল অংশ কেটে বাদ দিতে হবে) ২/৩খন্ড করে দিতে হবে + ৫% গিরস্থলির উচ্ছিষ্ঠাংশ/তরিতরকারীর অবশিষ্ঠাংশ/গাছের সবুজ কঁচি পাতা ইত্যাদি একত্রে মিলিয়ে সামান্য পানি দিয়ে পায়ে পারাতে হবে। অতপর খর /ছালার চট দিয়ে ১৫/২৫ দিন ঢেকে রাখতে হবে।এই ১৫/২৫ দিনের মধ্যে পারলে২/৩ বার সামান্য পানি ছিটিয়ে পায়ে পারাতে হবে। এখন মাঝারী সাইজের পূর্বে সংগ্রিহীত চাড়ি/ রিং/হাউজে কেঁচোর জন্য তৈরী করা খাদ্য ভর্তী করে দিয়ে প্রতিটি হাউজে/চাড়িতে/রিং এ ২০০০-৩০০০ কেঁচো ছারতে হবে।চাড়ি/রিং/হাউজের উপরি ভাগে মশারি নেট/সবুজ কটের নেট দিয়ে ঢেকে সুন্দর করে বেঁধে দিতে হবে।এবং ছালার চট দিয়ে ঢেকে দিতে হবে।কেঁচোর আবাস স্থল অন্ধকার করে দিতে হবে।মাঝে মধ্যে প্রয়োজন হলে ছালার চটের উপর থেকে সামান্য পানি ছিটিয়ে দিতে হবে।মনে রাখতে হবে কেঁচো দাত বিহীন প্রানী।কেঁচো লেহন করে খাদ্য গ্রহন করে।তাই গোবর ও অন্যান্য উপাদান যেন প্রয়োজন মতো নরম থাকে।আরার অতিরিক্ত নরম না হয়। এমন নরম না হয় যে কেঁচো খেয়ে যে মল ত্যাগ করে তা পুনরায় কেঁচোর খাদ্যের সাথে মিসে না যায়।

মনে রাখতে হবে কেঁচোর ডি কম্পোষ্ট (কেঁচোর খাদ্য)তৈরীতে গোবর ১৫/২৫ দিন পচালেই গেবরে খতিকারক এ্যামনিয়া সহ অন্যান্য রাসয়নিক অপসারিত হয় কিন্তু কচিরিপনা এবং কলাগাছ কুচি পচেঁ ডি কম্পোষ্ট হতে ২/৩ মাস সময় প্রয়োজন তাই কচুরিপনা এবং কলাগাছ কুচি গেবরের পূর্বে পচিয়ে নিতে হবে।অন্যদিকে গোবর ৬০ দিনে কম্পোষ্ট হয়ে যায়, ঐ গোবরে কেঁচোর প্রয়োজনীয় খাদ্য থাকেনা।তাই মোটামুটি ১৫-৪৫ দিনের বেশি পচানো গোবর কেঁচোকে খাদ্য হিসাবে দেয়া ঠিক না।কেঁচোর খাদ্যে বেশি পরিমান তরকারীর অবশিষ্টাংশ, কঁচি পাতা দিলে কেচোসারে নাইট্রোজেনের পরিমান বেরে যায়।অন্য দিকে নিমের কঁচি পাতা,ছাল , বাসক পাতা, ছাল বৃদ্ধি করতে পারলে কেঁচোসার ছত্রাকনাশক হিসাবে কাজ দেয়।মনে রাখতে হবে কেঁচোর খাদ্যের সাথে বালি, ছাই, তিতা জাতীয় কোন উপাদান ব্যবহার না হয়।

এভাবে চাড়িতে কেঁচো অবমুক্তির পরে কেঁচো খাবে এবং মল ত্যাগ করবে। কিছুদিন পরে দেখা যাবে, চাড়ি/রিং/হাউজের উপরিভাগে সুন্দর চা পাতার মত ঝুরঝুরে সার। তখন আলতো করে নারা চারা দিতে হবে যেন কেঁচো ভয় পেয়ে চাড়ির গভিরে প্রবেশ করে। তখন আলত করে উপরিভাগ থেকে সার উত্তোলন করে ছোট ছিদ্রযুক্ত চালুনি দিয়ে সার চালনি করে কেঁচো আলাদা করে সার সংগ্রহ করতে হবে। এখানে সংগ্রহীত সার লক্ষ্য করে দেখুন, সারের সাথে ছেট ছেট কোকুন/কেঁচোর ডিম দেখতে পাবেন। এবং খুব ছোট ছোট বাচ্চা কেঁচো দেখতে পাবেন।

সার থেকে বাচ্চা,ডিম থেকে বাচ্চা সংগ্রহঃ

এ পর্যায় আপনাকে সারের মধ্যে থেকে যাওয়া বাচ্চা এবং কোকুন থেকে বাচ্চা সংগ্রহ করতে হবে।প্রথমে আপনি সংগ্রীহিত সার একটি পাত্রে/বস্তায় রাখুন। আপনার পরবর্তী ব্যাজের কেঁচোর জন্য যে গোবর পচিয়ে রেখেছেন তা থেকে হাতে গোল বল তৈরী করুন। বল তৈরীর সময় গোবরে এমন পরিমানে পানি ব্যাবহার করুন যেন বল আপনার হাতে লেপ্টে ভেঙ্গে না যায়। এবার বলগুলি ১২”/১৮”পর পর সারের মধ্য রেখে দিন। এবার সারের মধ্যে থাকা কোকুন গুলি ফুটে বের হয়ে খাদ্যের প্রয়োজনে ঘ্রান নিয়ে গোবরের বলে প্রবেশ করবে।বল দেবার ১০/১২ দিন পরে বল তুলে দেখুন প্রচুর পরিমান কেঁচো বলে আশ্রয় নিয়েছে।এভাবে ৩০/৪০ দিনে ৩/৪ বার বল দিয়ে বাচ্চা সংগ্রহ করুন।অতপর ছায়াযুক্ত তাপে সার সুকিয়ে আদ্রতা কমিয়ে ছিদ্রমুক্ত পলি বস্তায় ভরে, চটের বস্তাবন্দি করে সংরক্ষন করুন।

বিজ্ঞানিরা বলেন, কেঁচো গড়ে ৪০ দিনে ৮ গুন বৃদ্ধি পায়।আমরা খামারীগন বলি কেঁচো বছরে ২০/৩০ গুন বৃদ্ধি পায়।তাই ছোট আকারে খামার শুরু করলেও কেঁচো চাষ অত্যান্ত পরিবেশ বান্দব এবং লাভ জনক।

ব্যাবহারের ক্ষেত্র ও পরিমাণ
সাধারন ভাবে আমন মৌসুমের চাষে ভরা জলে কেঁচো সারের কার্যকারিতা কিছুটা কম।এছারা বোর ও আউস মৌসুমে শতাংশে প্রথম বছর ৬/৭কেজি, দিত্বিয় বছর ৫ কেজি,তৃতিয় বছর ৩ কেজি। শব্জিতে অনুরুপ ক্রমহ্রাসমান পদ্ধতিতে ভাল ফল পাওয়া যায়।পান চাষ কেঁচো সার ব্যাবহারে চমৎকার ফল আসে।এছারা মাদা পদ্ধতির শব্জি ও ফল গাছের পরিমান বিস্তারিত আগামী পর্বে দেওয়া হবে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২১ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com