আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

বাংলাদেশ

অসময়ের শিম চাষে বদলে যাচ্ছে কৃষকের ভাগ্য

‘রূপভান’, ‘রানী’- দুটি আগাম জাতের শিমের নাম। চলতি মৌসুমে রূপভান ও রানীর মতো বিস্কুট, অটো, ইপসা-১,২ এবং বারী-১, ২ ও ৪ এ আগাম জাতের শিম চাষ হয়েছে চুয়াডাঙ্গায়। কৃষি বিভাগের সার্বিক সহযোগিতায় গ্রামীণ অর্থনীতিকে চাঙ্গা রাখতে অন্যান্য ফসলের পাশাপাশি শীতকালীন সবজি হিসেবে শিমের আবাদ করছেন কৃষকরা। মাঠজুড়ে শাদা ও বেগুনি ফুলে ফুলে ভরে গেছে মাচা। এর মাঝে মাঝে
উঁকি দিচ্ছে নতুন শিম।

চোখ জুড়ানো দৃশ্য। আসি আসি করছে শীত। এরই মধ্যে চুয়াডাঙ্গার চার উপজেলায় শীতকালীন সবজি হিসেবে শুরু হয়েছে শিমের আবাদ শিমের মাচা ভরে গেছে শাদা-বেগুনি ফুলে। আসতে শুরু করেছে শিমও। এসব আগাম জাতের শিম চাষ করে লাভবান হচ্ছেন কৃষকেরা অনুকূল আবহাওয়ায় শিমের ভালো ফলন ও বাজারে উচ্চমূল্য পাওয়ায় বেশ খুশি চাষিরাও।

ইতোমধ্যেই আগাম জাতের শিম উঠতে শুরু করেছে বাজারে। ভালো দামও মিলছে। পুষ্ট গাছ ও প্রচুর ফুল ফোটায় চলতি মৌসুমে শিমের ভালো ফলন হবে বলে মনে করছেন চাষিরা। ফলে করোনার দুঃসময়েও তাদের মুখে এখন মিষ্টি হাসি।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের তথ্য মতে, এ বছর জেলার চার উপজেলায় মোট ৭১৮ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন জাতের শিমের আবাদ হয়েছে। যা গতবছরের তুলনায় ৬৮ হেক্টর বেশি। এর মধ্যে চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলায় ২০৫ হেক্টর, দামুড়হুদা উপজেলায় ৩৭১ হেক্টর, আলমডাঙ্গা উপজেলায় ৩০ হেক্টর ও জীবননগর উপজেলায় ১১২ হেক্টর জমিতে শিম চাষ করেছেন কৃষকরা।

জেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে শিম তুলতে ব্যতিব্যস্ত দেখা গেছে চাষিদের। গ্রামীণ সড়কে দাঁড়িয়ে যতো দূর চোখ যায় শুধুই শিমের সবুজ ক্ষেত। সবুজ পাতা আর বেগুনি ফুলে ফুলে ছেয়ে গেছে আদিগন্ত মাঠ।

ক্ষেতের পরিচর্যা ও নতুন শিম তুলতে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন চাষিরা। শিম বিকিকিনির জন্য গ্রামে গ্রামে বসেছে অস্থায়ী বাজার। এসব বাজার থেকে শ্যালো ইঞ্জিনচালিত নছিমন-করিমন ও ট্রাকবোঝাই করে শিম যাচ্ছে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন হাটবাজারে। এখানে বর্তমানে পাইকারিতে প্রতি কেজি শিম বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ৮০ টাকা দরে। প্রথম দিকে ১৫০ থেকে ১৭০ টাকা দরেও শিম বিক্রি করেছেন বলে জানান কৃষকরা।

দামুড়হুদা উপজেলার ভগিরথপুর গ্রামের চাষি বাদশা মন্ডল বলেন, তার ২ বিঘা জমিতে শিমের লতায় ও ফুলে ভরে গেছে মাচা। ফুল ভরে গেছে প্রতিটি ডগা। ইতোমধ্যে শিম আসতে শুরু করেছে গাছে। প্রথম দিকে প্রচন্ড রোদ ও পোকার আক্রমণের কারণে ফুলে পঁচা লাগতো।

কৃষি বিভাগের পরামর্শে কঠোর পরিশ্রম, নজরদারি, সার ও বালাইনাশক স্প্রে করার পর ফল দেখা দিয়েছে। এখন আর পঁচা লাগে না। একই উপজেলার কালিয়াবকরী গ্রামের কৃষক আব্দুস সালাম জানান, শিম মূলত শীতকালীন সবজি। বেশি দামের আশায় একটু আগেভাগে শিমের আবাদ করেছেন তিনি।

বিঘা প্রতি খরচ হয়েছে ৩৫ থেকে ৪০ হাজার টাকা। কিছুদিন আগেও প্রতি কেজি শিম বিক্রি হতো ১৫০ থেকে ১৭০ টাকা দরে। বর্তমানে উৎপাদন বাড়ায় কিছুটা কমেছে শিমের দাম। নতিপোতা গ্রামের পাইকারি শিম ব্যবসায়ী সোলায়মান হক জানান, স্থানীয় কৃষকদের কাছ থেকে শিম কিনে ঢাকা, সিলেট, চট্টগ্রাম, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন পাইকারি বাজারে পাঠানো হয়।

ইতোমধ্যেই নতুন শিম পাঠানো শুরু হয়েছে। খুচরা বাজারেও চাহিদা ও দাম ভালো আছে শিমের। দামুড়হুদা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান বলেন, কৃষকরা এখন সচেতন হওয়ায় যেকোনো সমস্যায় সরাসরি স্থানীয় কৃষি অফিসের পরামর্শ নেন তারা। সাধারণত আগাম সবজি চাষ ঝুঁকিপূর্ণ। তবে, অসময়ে এ আবাদ থেকে চাষিরা বাড়তি আয় করতে পারেন। এসময় পোকা মাকড়, শাদা মাছি, শিম ছিদ্রকারী পোকার আক্রমণ বেশি থাকে।

নিয়মিত পরিচর্যা ও নজরদারিতে রেখে বালাই নাশক স্প্রে করলে ফলন ভালো পাওয়া সম্ভব। তিনি আরও জানান, এবার চলতি মৌসুমেরর শুরুতেও শিম ক্ষেতে ছত্রাক ও পোকামাকড়ের আক্রমণ দেখা দিলেও কৃষি বিভাগের পরামর্শ ও সুষ্ঠু পরিচর্যায় শেষ পর্যন্ত শিমের ফলন ভালো হচ্ছে। অন্য বছরের তুলনায় এবার দামও ভালো। শিমের উৎপাদন বাড়াতে মাঠ পর্যায়ে কাজ করছে কৃষি বিভাগ।

  • অসময়ের শিম চাষে বদলে যাচ্ছে কৃষকের ভাগ্য

    অসময়ের শিম চাষে বদলে যাচ্ছে কৃষকের ভাগ্য

  • অসময়ের শিম চাষে বদলে যাচ্ছে কৃষকের ভাগ্য

    অসময়ের শিম চাষে বদলে যাচ্ছে কৃষকের ভাগ্য

  • অসময়ের শিম চাষে বদলে যাচ্ছে কৃষকের ভাগ্য

    অসময়ের শিম চাষে বদলে যাচ্ছে কৃষকের ভাগ্য

  • অসময়ের শিম চাষে বদলে যাচ্ছে কৃষকের ভাগ্য

    অসময়ের শিম চাষে বদলে যাচ্ছে কৃষকের ভাগ্য

  • অসময়ের শিম চাষে বদলে যাচ্ছে কৃষকের ভাগ্য
  • অসময়ের শিম চাষে বদলে যাচ্ছে কৃষকের ভাগ্য
  • অসময়ের শিম চাষে বদলে যাচ্ছে কৃষকের ভাগ্য
  • অসময়ের শিম চাষে বদলে যাচ্ছে কৃষকের ভাগ্য

ফুল

শহুরে ফুটপাতে শিউলির স্নিগ্ধতা

অগ্রহায়ণের শুরুতেই রাজশাহীতে উত্তরের ঠান্ডা বাতাস বেশ টের পাওয়া যায়। সন্ধ্যাবেলায় শহর থেকে চিড়িয়াখানা সড়ক দিয়ে পর্যটন মোটেলে যাওয়ার পথে মিষ্টি একটা গন্ধ নাকে এসে লাগে। ছোটবেলার স্মৃতিতে থাকা শিউলি ফুলের এই সুবাস চিনে নিতে ভুল হয় না। পাশের ফুটপাতে তাকাতেই দেখা গেল, প্রায় আধা কিলোমিটারজুড়ে লাগানো সারি সারি শিউলি ফুলের গাছ। চর্মচক্ষু দিয়ে ভুল দেখলাম না তো!

কর্মসূত্রে ঢাকাবাসী হওয়ার পর থেকে ফুটপাত বেহালই দেখছি। দখলদার, ভাসমান ব্যবসায়ী, মূত্র স্রোতে ভাসতে থাকা ঢাকার ফুটপাতে কিছুটা পথ হেঁটে আসার পর কখনো নিজেকে অভিযাত্রীও মনে হয়। তাই পরিষ্কার ঝকঝকে ফুটপাতে সারি সারি শিউলিগাছকে কল্পনাতীত মোহনীয় মনে হতেই পারে। সেই সঙ্গে মনে হলো রাজধানী শহরে এ রকম শিউলিমাখা ফুটপাত হলে কী চমৎকারটাই না হতো!বিজ্ঞাপন

মোহনীয় সুবাসের লোভে আরেকবার সেই পথে যেতে অনুরোধ করলাম রিকশাচালককে। ফুটপাতে শিউলিগাছের নিচে কিছুক্ষণ দাঁড়ালাম। সব গাছের শাখা-প্রশাখায় ফুল ধরে আছে। সন্ধ্যার নীরবতায় মিষ্টি এই গন্ধ যেন ভিন্ন এক আবহ তৈরি করেছে। ষাটোর্ধ্ব এক ব্যক্তি হেঁটে যাচ্ছিলেন পাশ দিয়ে। যেতে যেতেই বলে গেলেন, ‘ভোরে আসবেন। দেখবেন কত ফুল পড়ে থাকে।’

ফুটপাতে যেন শিউলির গালিচা বিছানো
ফুটপাতে যেন শিউলির গালিচা বিছানো

ভোরে আসার লোভ সামলানো গেল না। ফুটপাতে যেন শিউলির গালিচা বিছানো। সাদা সাদা ফুলের ওপর ফুল পড়েছে। অনেকে কুড়াতেও এসেছেন সেই ফুল। দুহাত ভরে ফুল কুড়িয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। সে এক অভূতপূর্ব দৃশ্য। দেখতে দেখতে কখন যে আটটা বেজে গেছে, টেরই পেলাম না। ততক্ষণে অবশ্য ফুলগুলোও চুপসে গেছে। শিউলির মোহনীয় রূপ ফুটপাতের রূপ বাড়িয়েছে বহুগুণে।

উজ্জ্বল কমলাবৃন্তের ওপর সাজানো তুষারশুভ্র পাপড়ির চোখজুড়ানো স্নিগ্ধ রূপ মনে প্রশান্তি আনে। শিউলির জন্মস্থান উত্তর ভারত। বৈজ্ঞানিক নাম Nyctanthes arbor-tristis।আমাদের দেশের সব অঞ্চলেই জন্মে। মূলত শরতের ফুল শিউলি। তবে হেমন্তেও ফোটে।

শিউলি ও শেফালি, দুই নামেই পরিচিত ফুলটি
শিউলি ও শেফালি, দুই নামেই পরিচিত ফুলটি

শিউলি ও শেফালি, দুই নামেই পরিচিত ফুলটি। বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কবিতায় শিউলি ও শেফালি দুটি নামই এসেছে। ‘শিউলি ফুল, শিউলি ফুল, কেমন ভুল, এমন ভুল’, ‘শরৎ, তোমার অরুণ আলোর অঞ্জলি…শিউলিবনের বুক যে ওঠে আন্দোলি’, ‘শিউলবনের উদাস বায়ু পড়ে থাকে তরুতলে’, ‘ওগো শেফালিবনের মনের কামনা’, গানগুলো শিউলির মতোই সুরভিত হয়ে আছে শ্রোতাদের কাছে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ফসল

ফসল রক্ষা বাঁধে ইউএনওর অভিযান, দুটি নিষিদ্ধ জাল জব্দ

সুনামগঞ্জের ধরমপাশা উপজেলার চন্দ্র সোনার থাল হাওরের হুলাসখালী ফসল রক্ষা বাঁধে অভিযান চালিয়ে বাঁধটির কেটে দেওয়া স্থান থেকে দুটি নিষিদ্ধ ভিম জাল জব্দ করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। গতকাল শনিবার রাত পৌনে আটটার দিকে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই অভিযান চালানো হয়। অভিযান পরিচালনা করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মুনতাসির হাসান।

উপজেলা প্রশাসন ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার চন্দ্র সোনার থাল হাওরের হুলাসখালী ফসল রক্ষা বাঁধটি সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) অধীনে আছে। প্রায় চার সপ্তাহ আগে মাছ শিকারের উদ্দেশ্যে রাতের আঁধারে এই ফসল রক্ষা বাঁধটির ১৫ থেকে ২০ ফুট স্থান কেটে দেয় দুর্বৃত্তরা। এর সপ্তাহখানেক পর থেকে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহল বাঁধের কাটা স্থানে লোকজন নিয়োজিত করে ভিম জাল পেতে সেখান থেকে লাখ লাখ টাকার মাছ শিকার করে আসছিল।বিজ্ঞাপন

অপরিকল্পিতভাবে বাঁধ কেটে ফেলার কারণে আসন্ন বোরো মৌসুমে জমিতে সেচকাজ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয় কৃষকেরা। এ অবস্থায় গতকাল রাত পৌনে আটটার দিকে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, থানা-পুলিশ ও পাউবোর এক উপসহকারী প্রকৌশলীকে নিয়ে ওই বাঁধে অভিযানে যান ইউএনও মো. মুনতাসির হাসান। অভিযানে গিয়ে সেখান থেকে তিনি দুটি ভিম জাল জব্দ করেন। এ ছাড়া ওই ফসল রক্ষা বাঁধের অন্য কোনো স্থান মাছ শিকারের উদ্দেশ্যে যাতে কেউ কেটে না দিতে পারে, সে জন্য স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) পক্ষ থেকে গ্রাম পুলিশ দিয়ে বাঁধ রক্ষায় পাহারার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

ওই বাঁধ থেকে জব্দ করা দুটি ভিম জাল উপজেলার মহদীপুর লঞ্চঘাটে এনে ওই দিন রাত সাড়ে আটটার দিকে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়। এ সময় ইউএনও ছাড়া অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সুখাইড় রাজাপুর দক্ষিণ ইউপির চেয়ারম্যান আমানুর রাজা চৌধুরী, সুনামগঞ্জ পাউবোর উপসহকারী প্রকৌশলী ও উপজেলা কাবিটা প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সদস্যসচিব মো. ইমরান হোসেন, ধরমপাশা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সোহেল মাহমুদ প্রমুখ।

সুখাইড় রাজাপুর দক্ষিণ ইউপির চেয়ারম্যান আমানুর রাজা চৌধুরী বলেন, ‘মাছ শিকারের জন্য এই বাঁধের অন্য কোনো স্থান যাতে কেউ কেটে দিতে না পারে, সে জন্য আমি শনিবার রাত থেকে পালাক্রমে গ্রাম পুলিশ দিয়ে বাঁধ রক্ষায় পাহারার ব্যবস্থা করেছি।’

উপজেলা কাবিটা প্রকল্প বাস্তবায়ন ও পর্যবেক্ষণ কমিটির সদস্যসচিব এবং সুনামগঞ্জ পাউবোর উপসহকারী প্রকৌশলী মো. ইমরান হোসেন বলেন, ‘স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও এলাকাবাসীর কাছ থেকে বাঁধ কাটার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের তথ্য সংগ্রহ করছি। এ নিয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

ইউএনও মো. মুনতাসির হাসান প্রথম আলোকে বলেন, এখানকার অধিকাংশ মানুষই হাওরের একমাত্র বোরো ফসলের ওপর নির্ভরশীল। ফসল রক্ষা বাঁধ কেটে সরকারি সম্পদ বিনষ্ট করার সঙ্গে যারাই জড়িত থাকুক না কেন, তাদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় নিয়ে আসার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ফসল

ধান কাটা উৎসব

অগ্রহায়ণ মাস। দেশজুড়ে চলছে নবান্ন উৎসব। ধান কেটে বাড়ি নিতে কৃষিশ্রমিকেরা ব্যস্ত সময় পার করছেন। বাড়ির উঠানে চলছে মাড়াইয়ের কাজ। করোনার এই মহামারিতে আশানুরূপ ধান পেয়ে কৃষকেরা দারুণ খুশি। ঘরে ঘরে এখন নবান্নের আনন্দ। সাজ সাজ রব পাড়াগাঁয়ে। সারা দেশ থেকে ফটোসাংবাদিকদের ক্যামেরায় তারই চিত্র।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ফসল

হাওরে পানি কমছে ধীরে, বীজতলা তৈরি নিয়ে শঙ্কা

ধীরে ধীরে নেমে যাচ্ছে পানি। সম্প্রতি খালিয়াজুরি উপজেলার গোবিন্দডুবি হাওরে
ধীরে ধীরে নেমে যাচ্ছে পানি। সম্প্রতি খালিয়াজুরি উপজেলার গোবিন্দডুবি হাওরে

নেত্রকোনার হাওরাঞ্চলে ধীরগতিতে পানি কমার কারণে বীজতলা তৈরি করতে পারছেন না কৃষকেরা। এতে বোরো আবাদের চাষ দেরিতে শুরু হতে পারে। এ কারণে ফলন কমে যাবে। আবার আগাম বন্যায় ফসলহানিও হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন কৃষকেরা।

কৃষকেরা জানান, হাওরপারের মানুষের একমাত্র ফসল বোরো। এর ওপর কৃষকদের সারা বছরের সংসার খরচ, চিকিৎসা, আচার-অনুষ্ঠান ও সন্তানদের পড়ালেখা নির্ভর করে। কিন্তু এবার পানি নিষ্কাশনের ধীরগতির কারণে এখনো বীজতলা তৈরি করা যাচ্ছে না। অন্য বছর নভেম্বরের শেষ দিকে বীজতলা তৈরি করে বপন করা হয়। ডিসেম্বরের শেষের দিকে খেতে চারা রোপণ শুরু হয়। কিন্তু এ বছর দেরি হতে পারে। সঠিক সময়ে বীজ বপন ও চারা রোপণ করতে না পারলে আগাম বন্যায় ফসলহানির আশঙ্কা থাকে।বিজ্ঞাপন

খালিয়াজুরীর বোয়ালি গ্রামের বিধান সরকার বলেন, দেরিতে বীজ বপন করলে জমিতে চারা লাগাতেও সময় লাগবে। এ সময় শীত চলে আসবে। ভালো চারা না হলে ভালো ফসলও হয় না। আবার ফসল পাকতে দেরি হওয়ায় আগাম বন্যায় ফসলহানির আশঙ্কা রয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) ও জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, হাওরে ২৭১ দশমিক ৮৪ কিলোমিটার ডুবন্ত (অস্থায়ী) বাঁধ রয়েছে। এর মধ্যে খালিয়াজুরীতে রয়েছে ১৮১ কিলোমিটার। এসব বাঁধের ওপরও কৃষকদের প্রায় ৫০ হাজার হেক্টর জমির বোরো ফসল নির্ভর করে। এই ফসল রক্ষা বাঁধগুলো উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি (পিআইসি) গঠন করে জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) মেরামত করে থাকে। এবার পানি না কমায় বাঁধের জরিপকাজ শুরুতে দেরি হচ্ছে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

কুড়িগ্রামে কৃষকের স্বপ্ন দেখাচ্ছে ভাসমান বীজতলা

কুড়িগ্রাম: কুড়িগ্রামে তিন দফা বন্যায় আমন বীজতলার ব্যাপক ক্ষতি পুষিয়ে নিতে নতুন উদ্যোমে মাঠে নেমেছে বন্যাকবলিত এলাকার কৃষকরা। পানি নামার পর জমি চাষ, বীজ সংগ্রহ ও বপনে বাড়তি অর্থ যোগানে কৃষক যখন দিশেহারা, তখন পাশে দাঁড়িয়েছে সরকার।

সরকারি উদ্যোগ ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সহায়তায় বন্যাপ্লাবিত এলাকাসহ ইউনিয়ন পর্যায়ে কমিউনিটি বীজতলা, ভাসমান বীজতলা ও বাড়ির ভিতর প্লেট পদ্ধতিতে বিকল্প আমন বীজতলা কৃষকদের ক্ষতি পোষাতে স্বপ্ন দেখাচ্ছে।  

কুড়িগ্রাম জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ সূত্রে জানা যায়, চলতি বছর দীর্ঘস্থায়ী বন্যায় কুড়িগ্রামে ১৭ হাজার হেক্টর জমির ফসল বিনষ্ট হয়। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ১ লাখ ৩৫ হাজার কৃষক। সরকারিভাবে কৃষিতে ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৪০ কোটি টাকা। এরমধ্যে ২৫ হাজার ৮১০ জন কৃষকের আমন বীজতলার ক্ষতি হয়েছে ১ হাজার ৪০৯ হেক্টর জমির।  

আমন বীজতলার ঘাটতি মোকাবিলায় সরকারিভাবে ১০৫টি কমিউনিটি বীজতলা, ১১২টি ট্রে বীজতলা এবং শতাধিক ভাসমান বীজতলা তৈরি করা হয়েছে। যার মাধ্যমে ২১ হাজার কৃষক বিনামূল্যে ২০ হাজার ৯২২ বিঘা জমিতে আমন চাষ করার সুযোগ পাচ্ছে।  

এদিকে জেলায় এবার আমনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ১৫ হাজার হেক্টর জমিতে। এখন পর্যন্ত অর্জিত লক্ষ্যমাত্রা ৯৪ হাজার ৫৩৫ হেক্টর। আমন বীজতলার লক্ষ্যমাত্রা ৬ হাজার ৩ হেক্টর হলেও বিভিন্ন প্রণোদনা দিয়ে আমন বীজতলা তৈরি করায় লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়েছে ৭ হাজার ৪৭৫ হেক্টর জমিতে।  

কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের লালদীঘির পাড়ের কৃষক মতিয়ার রহমান বাংলানিউজকে জানান, বাড়ির পাশের বীজতলা বন্যার পানিতে ডুবে যায়। সেসময় কৃষি বিভাগের পরামর্শে তাদের কাছ থেকে ৬ কেজি বিআর-২২ নাভিজাত বীজ ও ৫২টি ট্রে বাড়িতে নিয়ে আসেন। তখন চারদিকে থৈ থৈ পানি, বীজ বপনের কোনো জায়গা নেই। বাড়ির ভিতরের উঠোনে ট্রে-তে বীজতলা স্থাপন করেন। ১৫ দিন বয়সী চারা দুই বিঘা জমিতে বপন করেন। কৃষি বিভাগ থেকে রাইচ ট্রান্সপ্ল্যান্টার মেশিন দিয়ে শতকে ১০ টাকা হারে ২ বিঘা জমিতে মাত্র ৩৩০ টাকা খরচেই রোপণ শেষ।

শুধু মতিয়ারই নন, বন্যাকবলিত এলাকার অনেক কৃষকই এখন কমিউনিটি বীজতলা, ভাসমান বীজতলা ও বাড়ির ভিতর প্লেট পদ্ধতিতে বিকল্প আমন বীজতলা থেকে চারা সংগ্রহ করে রাইচ ট্রান্সপ্ল্যান্টার মেশিনের মাধ্যমে রোপণ করে ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়ার স্বপ্ন দেখছে।

কুড়িগ্রাম জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপ-পরিচালক ড. মোস্তাফিজুর রহমান প্রধান বাংলানিউজকে বলেন, আমন আবাদ যাতে বিঘ্নিত না হয় এজন্য বন্যা পরবর্তী কৃষি পুনর্বাসন কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে। চলতি বছর জেলায় আমন চারার ঘাটতি মোকাবিলায় ১০৫টি কমিউনিটি বীজতলা, ১১২টি ট্রে বীজতলা এবং শতাধিক ভাসমান বীজতলা তৈরি করা হয়েছে। যা বিনামূল্যে কৃষকের মধ্যে বিতরণ করা হচ্ছে। ফলে বীজতলার ঘাটতি পূরণ করতে পারবে কৃষক।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com