আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

ফুল

অবহেলায় ফুটে থাকা বুনোফুল

অবহেলায় ফুটে থাকা বুনোফুল
অবহেলায় ফুটে থাকা বুনোফুল

ফুলের কদর সবাই করে। অনুষ্ঠান-উৎসবে ফুলের প্রয়োজন হয়। তাই বলে সব ফুল কাজে আসে না। সব ফুলে মালা গাথা যায় না। সেসব ফুলই আমাদের কাছে বুনোফুল। বুনোফুলের ছবিগুলো তুলেছেন নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যায়ের ইংরেজি বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী নাসরিন হিমু-

অবহেলায় ফুটে থাকা বুনোফুল
অবহেলায় ফুটে থাকা বুনোফুল

বুনোফুলের ছবি তোলাই হিমুর শখ। বাড়ির পাশে অথবা রাস্তায় কোনো বুনোফুল দেখলেই ছবি তোলেন তিনি। হয়তো আমরাও সব সময় ফুলগুলো দেখি। নানা প্রজাতির এ ফুলের মধ্যে অনেক অবহেলিত ফুলও আছে। যেগুলোকে বলা হয় ‘বুনোফুল’। যেসব ফুলের হয়তো নিজস্ব কোনো নাম নেই, শুধু বুনোফুল নামেই সবার কাছে পরিচিত।

অবহেলায় ফুটে থাকা বুনোফুল
অবহেলায় ফুটে থাকা বুনোফুল

আমাদের আশেপাশে, বনে, জঙ্গলে, রাস্তার ধারে এসব দৃষ্টিনন্দন ফুল ফুটে থাকে। বুনোফুল মানুষের কাছে অবহেলিত হলেও এরা স্রষ্টার নির্দেশ মেনে পৃথিবীর সৌন্দর্য বাড়ানোর জন্য সব সময়ই ফোটে। এসব ফুলের মধ্যেও অনেক সুন্দর সুন্দর ফুল আছে, সেগুলোকে মানুষ পায়ে দলে মুড়িয়ে দেয়।

অবহেলায় ফুটে থাকা বুনোফুল
অবহেলায় ফুটে থাকা বুনোফুল

তবুও বুনোফুল ফোটে, পৃথিবীর সৌন্দর্য বাড়ায়। রাস্তার পাশে, বনে-জঙ্গলে অজস্র বুনোফুল ফোটে। কে আদর করলো, আর কে করলো না; তাতে বুনোফুলের কিছুই যায় আসে না। তারপরও এ ফুলগুলোর মধ্যে আলাদা সৌন্দর্য আছে। আমাদের তা খুঁজে দেখার ফুসরত মেলে না। সত্যিই অনিন্দ্য সুন্দর অলক্ষে, অবহেলায় ফুটে থাকা ফুলগুলো।

ফুল

অপূর্ব বুনো শিম

ছেলেবেলায় গ্রামবাংলায় পথে-মাঠে ফুটে থাকা শিম ফুলের থোকা এবং এর মিষ্টি রং দারুণ মোহিত করত। শিমলতায় ফুল ফুটলে ফুলের থোকায় আনাগোনা করত পিঁপড়ার দল। তা ছাড়া মৌমাছি, ভ্রমর, দুর্গাটুনটুনি শিম ফুলের থোকায় মধু নিতে উড়ে আসত। শিম ফুল বা ফল পাড়তে গিয়ে পিঁপড়ার কামড় খাওয়ার অভিজ্ঞতাটা হয়তো অনেকেরই আছে। দুরন্ত ছেলেবেলায় কয়েকটি শিম ফুলের থোকা হাতে নিয়ে হাঁটতে হাঁটতে ফুলের নানান অংশ ছিঁড়ে দেখতে ভালো লাগত। ফুলের মিষ্টি রং এবং গঠন এ কাজ করতে উৎসাহ দিত।

শরতের কোনো এক দুপুরে সাগরপাড় ধরে হেঁটে চলেছি। ঝকঝকে নীল আকাশ।কিছু দূরের সাগরের জলও নীল। সমুদ্রের ঢেউয়ের শব্দে পথ হাঁটার ক্লান্তি দূর হয়ে যায়। বঙ্গোপসাগরের তীরের গাছপালা ও পাখি দেখার জন্য টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপ থেকে হাঁটা শুরু। পুরো কক্সবাজার জেলার উপকূলেই প্রায় এক সপ্তাহ পথ চলতে হবে। সেই পথে দেখা হয়েছিল প্রকৃতির নানান অনুষঙ্গের সঙ্গে। সাগরের ঢেউয়ের আবেদন, উপকূলের ঘাসবন, ঝোপঝাড়, মহিষের পাল, শঙ্খচিলের ডাক এবং অজানা কিছু ফুলের রঙের সঙ্গে। যাদের সঙ্গে আগে কখনোই দেখা হয়নি! তবে তারা কলমি, ঝুমকো এবং শিম ফুল গোত্রীয় সদস্য।

টেকনাফ থেকে হিমছড়ি সৈকতে আসার পথেই সাগরতীরে দেখা হয় মিষ্টি গোলাপি রঙের এক ফুলের সঙ্গে। কী অপূর্ব তার রং এবং সৌন্দর্য। সে ফুলের বৈজ্ঞানিক নাম Canavalia rosea। ফুলের রঙের সঙ্গে মিল রেখেই ল্যাটিন নামের শেষে রোসিয়া জুটেছে। ইংরেজি নাম বিচ-বিন, বে বিন, সি-সাইড জ্যাকবিন ও কোস্টাল জ্যাকবিন। সাগরের বেলাভূমিতে জন্মে যে কারণেই এ নাম। ফলের বীজ ভেসে থাকার উপযোগী, সমুদ্রস্রোতের মাধ্যমে বীজ নানা প্রান্তে পৌঁছে যেতে পারে। যে কারণে এটি ছড়িয়ে পড়েছে গ্রীষ্মমণ্ডলীয় এলাকায়। বাংলাদেশে এটির উপস্থিতি ঠিক কখন বলা মুশকিল। কেবল দেশের কক্সবাজারের হিমছড়ি সৈকত এবং সেন্ট মার্টিন দ্বীপেই আমি দেখেছি। উপকূলের অন্যান্য জেলায় চোখে পড়েনি।বিজ্ঞাপন

বিচ বিন একটি প্যানট্রপিক্যাল প্রজাতি। উদ্ভিদ বীরুৎ এবং ভূমির ওপর লতা ছেয়ে যায়। পাতা যৌগিক এবং তিনটি পত্রকে সন্নিবেশিত। এটি অত্যন্ত লবণ সহনশীল একটি ধাবমান বহুবর্ষজীবী উদ্ভিদ। উত্তর এবং দক্ষিণ গোলার্ধের বেলেময় ও পাথুরে সমুদ্রতীরই এদের আদর্শ বাসস্থান। কোনো স্থানীয় নাম জানা যায়নি। তবে এটাকে বুনো শিম বলা যেতে পারে।

বিচ বিন ভূমিক্ষয় রোধের জন্য উপকারী। এর অর্থনৈতিক গুরুত্ব নিয়ে গবেষণা করা যায়। পাতা, ফুল ও বীজের ভেষজ গুণ রয়েছে। বীজ আমিষের গুরুত্বপূর্ণ উৎস হিসেবে ব্যবহার করে পশ্চিম আফ্রিকা এবং নাইজেরিয়ার অধিবাসীরা। প্রজাতিটির সঙ্গে কিছু ব্যাকটেরিয়ার মিথোজীবী সম্পর্ক রয়েছে। এসব ব্যাকটেরিয়া শিকড়ের সঙ্গে যুক্ত হয়, যা ভূমিতে বায়বীয় নাইট্রোজেন আত্তীকরণে কাজ করে ভূমির উর্বরতা বাড়িয়ে দেয়। এর ফলে লতাটির বৃদ্ধি ত্বরান্বিত হয় এবং কাছে জন্মানো উদ্ভিদেরও বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। কচি শিম সেদ্ধ করে খাওয়া হয়। কোথাও ফুলের পাপড়িও খাওয়ার চল রয়েছে। শুকনো পাতা চাটনির উপাদান হিসেবে ব্যবহার করা হয়।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

দৈনন্দিন

মাথার চুল বাড়ায় শিউলি ফুল!

লেখক

সকালে শিশির মাখা শিউলি ফুল দেখলেই মন ভালো হয়ে যায়। শিউলি মূলত শরতেরই ফুল। তবে শিউলির শোভা ও সৌরভ হেমন্তেও কিছুটা থাকে।

রূপেগুণে পরিপূর্ণ এই ফুল। সুবাস ছড়ানোর পাশাপাশি নানা রকম ওষুধি গুণে ভরপর এই ফুল। অনেকের কাছে এই ফুলটি খুবই প্রিয়। নানা কাজে শিউলি ফুল ব্যবহার করা হয়। চলুন জেনে নেওয়া যাক শিউলি ফুলে গুণগুলো।

আর্থারাইটিস ও সাইটিকার ব্যাথা সারাতে: প্রতিদিন সকালে চায়ের মতো এক কাপ পানিতে দুটি শিউলি ফুলের পাতা ও দুটি তুলসী পাতা ফুটিয়ে, ছেঁকে নিয়ে তা পান করুন। এতে আপনার আর্থারাইটিসের ও সাইটিকার ব্যাথা কমবে। নিয়মিত কয়েক সপ্তাহ খেলে এই ব্যাথা দূর হবে।

ব্রণের সমস্যা সমাধানে: ব্রণ দূর করতে দারুণ কাজ করে শিউলি। কারণ এতে আছে অ্যান্টি অক্সিডেন্ট ও অ্যান্টি ইনফ্ল্যামেটারি গুণ। যা আমাদের ত্বকের ক্ষেত্রে বিশেষ উপকারি। এটি মুখের ব্রণ প্রতিরোধ করতে সহায়তা করে।

গলার আওয়াজ: কারণে-অকারণে গলার আওয়াজ বসে যায়? তবে আপনি শিউলি পাতার রস ২ চামচ পরিমিত মাত্রায় গরম করে দিনে দুইবার খেতে পারেন। উপকার পাবেন।

জ্বর কমাতে: জ্বর কমাতে বেশ সাহায্য করে শিউলি। দীর্ঘস্থায়ী জ্বর কমাতে শিউলির চা পান করার পরামর্শ দেন চিকিৎসকরা।

কৃমি ও মেদ সমস্যা সমাধানে: শিউলিফুলের পাতার  রস অল্প গরম করে নিয়মিত কয়েকদিন খান। কৃমি সমস্যার সমাধান পাওয়া যাবে। এছাড়া শিউলি গাছের ছালের চূর্ণ সকালে ও বিকালে গরম পানিতে খেলে মেদ কমে।

ম্যালেরিয়ার পর: গবেষণা দেখা গেছে, ম্যালেরিয়ার সময় শিউলি পাতার বাটা খেলে এই রোগের উপসর্গগুলো কমতে শুরু করে। ম্যালেরিয়ার প্যারাসাইটগুলো নষ্ট হয়, রক্তে প্লেটলেটের সংখ্যা বাড়ে। 

মাথার চুল বাড়ায়: শিউলি ফুলের পাতা নারকেল তেলের সঙ্গে ফুটিয়ে নিন। এরপর পাতা ফেলে দিয়ে তেল সংরক্ষন করুন। এই তেলের ব্যবহারে আপনার মাথার চুল বাড়তে পারে।

শিউলি গাছের নির্যাস প্রাণীদের পাকস্থলিতে ক্ষত সৃষ্টি করতে পারে। এছাড়া মানব দেহে এর কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার কথা গবেষণায় পাওয়া যায়নি। প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে শিউলি গাছের যাবতীয় অংশ সেবন করতে পারেন।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ফুল

বাণিজ্যিক পদ্ধতিতে পদ্ম চাষ করে দ্বিগুণ মুনাফা অর্জন করুন

পশ্চিমবঙ্গ তথা সমগ্র দেশ জুড়ে প্রায় সব জায়গাতেই এই ফুলের চাষ হয়। বাংলার ‘ক্ষীরাই’ অঞ্চল পদ্মফুলের উপত্যকা বলে বহুদিন ধরে বিখ্যাত। সমগ্র রাজ্যের পদ্ম ফুলের ৫০ শতাংশ এই অঞ্চলেই চাষ হয়। পশ্চিমবঙ্গের দুই মেদিনীপুর, বাগনান, হুগলী, দক্ষিণ ২৪ পরগণা এবং রূপনারায়ণ নদীর তীরবর্তী গ্রামগুলিতে উন্নত মানের পদ্ম চাষ হয়। পদ্মফুল সাধারণ জমিতে বা জলাশয়ে চাষ হয়। বাড়িতেও অনেক সৌখিন মানুষ পদ্ম ফুলের চাষ করে থাকেন।  

পদ্ম চাষ (Lotus Farming) –

পশ্চিমবঙ্গের অনেক কৃষক নিজস্ব জলাভূমিতে পদ্মের চাষ করেন। পদ্ম ফুলের চাষ’ পশ্চিমবঙ্গের কৃষকদের আয় বৃদ্ধিতে সহায়তা করতে পারে। ব্যবসায়ের দৃষ্টিকোণ থেকে এটির জন্য বেশ চাহিদা রয়েছে। শুধু পশ্চিমবঙ্গেই নয়, বিভিন্ন রাজ্যের কৃষক পদ্ম চাষে প্রগতিশীলতা দেখিয়েছেন। বাংলার পদ্ম ফুল বাইরের বেশ কয়েকটি রাজ্যে রফতানি হয়, যারমধ্যে রাজস্থান, পাঞ্জাবের নাম উল্লেখযোগ্য।

চাষের উপযুক্ত সময় (Cultivation Time) –

জুলাই-অগাস্ট মাসে পদ্ম চাষ করা হয়। পদ্ম ফুল মূলত লাল, গোলাপী, হলুদ, সাদা এই রংগুলিতেই অধিক পরিমাণে বাজারে মেলে। গাছগুলি বীজ বা কন্দ থেকে জন্মাতে পারে। প্রথমে বীজগুলিকে ক্লোরিনমুক্ত উষ্ণ জলে রাখতে হবে। পদ্মের বীজ থেকে কন্দ না বের হওয়া পর্যন্ত নিয়ম করে জল পরিবর্তন করা উচিত। লক্ষ্য রাখতে হবে কন্দ যেন জলে ভাসমান অবস্থায় থাকে এবং যথেষ্ট সূর্যের আলো পায়। বীজ থেকে কন্দ বার হওয়ার সপ্তাহ কয়েক হওয়ার পরেই তা রোপণ করার জন্য তৈরী হয়ে যায়। পাতা বড় হতে শুরু করলে উদ্ভিদ গভীর জলে রোপণের জন্য সাধারণত তৈরী হয়ে যায়।

বীজ থেকে বৃদ্ধি –

পদ্ম ফুল সাধারণত বিভিন্ন আকার এবং লাল, গোলাপী, হলুদ, সাদা ইত্যাদি বর্ণে উপলব্ধ। গাছগুলি বীজ বা কন্দ থেকে জন্মাতে পারে। বীজ থেকে বৃদ্ধির জন্যে বীজগুলিকে উষ্ণ জলে রাখতে হবে, মনে রাখবেন, এই জলে যেন ক্লোরিন না থাকে এবং পদ্মের বীজ থেকে কন্দ না বের হওয়া পর্যন্ত প্রতিদিন অবশ্যই জল পরিবর্তন করতে হবে। কন্দ যেন জলে ভাসমান অবস্থায় থাকে এবং পর্যাপ্ত সূর্যালোক পায়। কন্দ বেরনোর পর কয়েক সপ্তাহের মধ্যে তা রোপণের জন্য প্রস্তুত হয়ে যায়। এর পাতা বৃদ্ধি পেতে শুরু করলে উদ্ভিদ গভীর জলে রোপণের জন্য প্রস্তুত হয়ে যায়। ছোট ধরণের পদ্মের জন্য মাটির উপরের অংশ থেকে কেবল ১ থেকে ৬ ইঞ্চি জল প্রয়োজন, তবে বড় জাতের গাছগুলিতে ১ মিটার পর্যন্ত জল প্রয়োজন হতে পারে।

পদ্ম চাষের জন্য কী কী সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত: (Lotus Cultivation Precautions)

বীজ থেকে পদ্মের চাষ করতে হলে বৃদ্ধির প্রথম বছরে নিষিক্ত করা যাবে না। পদ্ম কন্দে ছ’টি পাতা ফোটার পরে সার প্রয়োগ শুরু করা উচিত।প্রতি তিন থেকে চার সপ্তাহ বাদে বাদে সার প্রয়োগ করতে হবে। উদ্ভিদ সুপ্ততা প্রস্তুতির জন্য জুলাইয়ের মাঝামাঝি সময়ে প্রয়োগ বন্ধ করে দেওয়া উচিত। তরল কীটনাশক পদ্ম চাষের উপযুক্ত নয়, এই বিশেষ শ্রেণীর কীটনাশক প্রয়োগে পদ্ম পাতা পুড়ে যেতে পারে। মিলডিউ এবং রটিং থেকে পদ্মকে বাঁচাতে লাইভ স্প্যাগনাম মশে সংরক্ষণ করা উচিত।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ফুল

সহজ উপায়ে জুঁই ফুলের চাষ পদ্ধতি

খুব সহজেই স্বল্প পরিশ্রমে সুগন্ধি জুঁই ফুলের চাষ সম্ভব | জুঁই একটি অত্যন্ত জনপ্রিয় ফুল | এই ফুলের অনেকগুলো প্রজাতি পাওয়া যায় ইউরোপ ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে | এই গাছগুলির উচ্চতা ১০-১৫ ফুট পর্যন্ত হয় | এর পাতা চিরসবুজ যা কিনা আড়াই ইঞ্চি লম্বা, সবুজ ও সরু কান্ডযুক্ত এবং এটি সাদা বর্ণের ফুল ধারণ করে। ফুলগুলি মূলত মার্চ থেকে জুন মাসে ফোটে। এটি মূলত মালা তৈরির জন্য, ফুল সজ্জায় এবং উপাসনার ডালা সাজানোর জন্য ব্যবহৃত হয়। এর দৃঢ় এবং সুগন্ধযুক্ত সুবাসের কারণে এটি আতর তৈরিতে এবং সাবান, ক্রিম, তেল, শ্যাম্পু এবং ওয়াশিং ডিটারজেন্টগুলিতে সুগন্ধ যোগ করতে ব্যবহৃত হয়। সারাবছর এই ফুলের চাহিদা থাকায় এই ফুল বেচে প্রচুর লক্ষ্মীলাভও হয় কৃষকদের৷

জমি তৈরী:

ভাল চাষ উপযোগী করার জন্য প্রথমে চারা রোপণের জমিটিকে আগাছামুক্ত করতে হবে। ক্ষেতের আগাছা মুক্ত করার জন্য এক-দু’টি প্রাথমিক চাষ প্রয়োজন। লাঙল করার পরে গর্তগুলি রোপণের এক মাস আগে ৩০ ঘনসেমি আকারে প্রস্তুত করা হয় এবং সূর্যের আলোর নিচে রেখে দিতে হবে। জমি তৈরির সময় ১০ কেজি গোবর সার মাটির সাথে মিশ্রিত করতে হয়।

বপণের সময়(Time of planting):

সাধারণত, জুন থেকে নভেম্বর মাসে বপণ করা হয় | বিভিন্ন ব্যবধানে বিভিন্ন জাতের গাছ লাগানো হয়। সাধারণত গড়ে ১.৮*১.৮ মিটার ব্যবধান প্রয়োজন।

সার প্রয়োগ:

জমি তৈরির সময়, নাইট্রোজেন ৬০ গ্রাম প্রতি উদ্ভিদ, পটাশিয়াম ১২০ গ্রাম প্রতি উদ্ভিদ এবং ফসফরাস ১২০ গ্রাম প্রতি উদ্ভিদ আকারে সারের মিশ্রণ প্রয়োগ করতে হবে । এই স্যারের মিশ্রণটি সাধারণত দুটি ভাগে ভাগ করতে হবে | প্রথম ভাগটি জানুয়ারী মাসে দিতে হবে এবং দ্বিতীয় ভাগটি জুলাই মাসে দিতে হবে। অতিরিক্ত জৈব সার হিসাবে, নিমের খোল, সরিষার খোল  ইত্যাদি দেওয়া খুবই ভাল। এদেরকে ১০০ গ্রাম প্রতি উদ্ভিদে দেওয়া হয়। ফুলের ফলন বাড়াতে জিঙ্ক ০.২৫% এবং ম্যাগনেসিয়াম ০.৫% হরে স্প্রে করতে হবে । লৌহের  ঘাটতি থেকে রক্ষা পেতে, মাসিক বিরতিতে ফেরাস সালফেটের বড়ি ৫ গ্রাম প্রতি লিটারে স্প্রে করতে হবে |

আগাছা দমন:

ফসলের ভাল বৃদ্ধি ও বিকাশের জন্য আগাছা দমন অতি প্রয়োজনীয়।  রোপণের ৩-৪ সপ্তাহ পরে প্রথম আগাছা তোলা উচিত এবং তারপরে প্রতি ২-৩ মাসে একবার করে আগাছা পরিষ্কার করা উচিত।

সেচ:

ফুলের যথাযথ বৃদ্ধি এবং বিকাশের জন্য সময়ের ব্যবধানে সেচ দেওয়া প্রয়োজন। গ্রীষ্ম কালে সেচ সপ্তাহে একবার করা হয়। ফুল আসার পরে, পরবর্তী সার দেওয়া এবং ছাঁটাই পর্যন্ত কোনও সেচের প্রয়োজন হয় না।

রোগবালাই ও দমন:

শিকড় পচা রোগ:

এই রোগের লক্ষণগুলি হল বাদামি বর্ণের ফুসকুড়ি পাতার নিচের পৃষ্ঠে দেখা যায় এবং কখনও কখনও কান্ড এবং ফুলেও দেখা যেতে পারে।

প্রতিকার:

শিকড়ের পচা রোগ থেকে নিরাময় পেতে কপার oxychloride ২.৫ গ্রাম প্রতি লিটারে মিশিয়ে মাটিতে  প্রয়োগ করতে হয় |

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

দৈনন্দিন

যে ফুলগুলো খাওয়া যায়…

ফুল সবাই ভালোবাসে। বাড়ির সামনে বা আশপাশে জায়গা না থাকলে বারান্দায় বা ঘরের কোণায় ফুলের গাছ লাগান এমন মানুষের সংখ্যা নেহায়েত কম নয়। মজার ব্যাপার হলো ফুল শুধু চোখ নয়, পেটও ভরাতে পারে। এমন কয়েকটি ফুল রয়েছে, যেগুলো খাওয়া যায়। 

সজনে ফুল: সজনে ডাটা আর পাতা দেশের কোনো কোনো অঞ্চলে তরকারি হিসেবে খাওয়া হয়। এর ফুলও খাদ্য হিসেবে বেশ স্বাদের। গরম ভাতের সঙ্গে সজনে ফুলের বড়া খেতে অনেকেই পছন্দ করেন।  কুমড়ো ফুল: কুমড়ো ফুলের বড়া দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষের কাছেই জনপ্রিয়। বেসন বা চালের গুঁড়োর ব্যাটারে কুমড়ো ফুল চুবিয়ে ডুবোতেলে ভেজে নেয়া হয়। এছাড়া কুমড়ো ফুল ভেজেও খাওয়া যায়। কেউ কেউ ঝোল ঝোল করে তরকারিও রান্না করে থাকে এই কুমড়ো ফুল দিয়ে। 

শিমের ফুল: কেউ কেউ শিমের ফুল চুলার হালকা আঁচে ভেজে ভর্তা বানানো যায়। পেঁয়জ, মরিচ আর সরিষার তেল মাখানো এই ভর্তা গরম ভাতের সাথে খেতে ভালো লাগবে।  

মোচা: কলাগাছের ফুল যা মোচা নামে পরিচিত, এটি তরকারি হিসেবে খাওয়া হয়। ডালের বড়ি বা চিংড়ি দিয়ে মোচার ঘণ্ট রান্না করা হয় কোনো কোনো অঞ্চলে। মোচা ভেজেও খাওয়া হয়। আর ময়দা বা বেসন মিশিয়ে বড়া বানালে খেতে মন্দ লাগে না। 

জুঁই ফুল: সাধারণত গ্রিন টি’র সঙ্গে জুঁই ফুল মেশানো হয়।

গাঁদা: গাঁদা ফুলের পাপড়িও চায়ের সঙ্গে মিশিয়ে খাওয়া হয়। এতে দৃষ্টিশক্তি ভাল থাকে।

গোলাপ: বিভিন্ন খাবারে গোলাপ জল মেশানো হয় সেই আদি যুগ থেকে। একসময় মানুষ কোনো কোনো খাবারে গোলেপের পাপড়ি শুকিয়ে গুঁড়ো করে দিতেন।  

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২১ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com