আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

বিশ্ব

অবশেষে মেসির হাতে উঠলো শিরোপা

২০১৪ এই মারাকানাতেই মেসির চোখের পানি মিশে গিয়েছিল ঘাসের সঙ্গে। বিশ্বকাপের সোনালী ট্রফিটার পাশ দিয়ে মাথা নিচু করে হেঁটে গিয়েছিলেন, কিন্তু ছুঁয়ে দেখার সুযোগ হয়নি। এরপর আরও দু’বার ফাইনালে উঠে হতাশায় মোড়াতে হয়েছিল মেসিকে।

ক্ষোভে, দুঃখে একবার তো অবসরই ঘোষণা করে ফেলেছিলেন। অনেক আন্দোলন, অনুরোধ-উপরোধের পর ফিরে এসেছিলেন। কিন্তু কোপা আমেরিকার দুটি ফাইনালে হারের পর আবারও আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে লম্বা বিরতি নিয়েছিলেন মেসি। অনেকেই ধরে নিয়েছিল, হয়তো আর ফিরবেন না।

কিন্তু দীর্ঘ সময় যে আর্জেন্টিনা কোনো শিরোপার নাগাল পাচ্ছিল না, নিজের ক্যারিয়ার এত কিছুতে রাঙানো, তবুও কোথায় যেন ফ্যাকাশে, কোথায় যেন রঙহীন। একটি আন্তর্জাতিক শিরোপাও নেই। অবশেষে মেসি ফিরে আসলেন। খেললেন এবারের কোপা আমেরিকা।

শুধু খেলাই নয়, পুরো টুর্নামেন্টটাই নিজের করে নিলেন। অসাধারণ খেললেন প্রথম ম্যাচ থেকে। পুরো মেসিময় একটি টুর্নামেন্ট দেখলো ফুটবল বিশ্ব। অবশেষে এবারের কোপা আর হতাশ করেনি বর্তমান সময়ের সেরা ফুটবলারকে। মারাকানাও খালি হাতে ফিরিয়ে দিলো না ফুটবলের বরপুত্রকে। দু’হাত ভরে দিলেন।

গোল্ডেন বল জিতলেন, গোল্ডেন বুট জিতলেন। অবশেষে প্রথমবারের মত কোপা আমেরিকার শিরোপাটাও হাতে তুলে নেয়ার সুযোগ পেলেন লিওনেল মেসি। ২১তম মিনিটে অ্যাঞ্জেল ডি মারিয়ার দুর্দান্ত এক গোলে নিশ্চিত হলো জয়। শেষ পর্যন্ত চ্যাম্পিয়ন দলের অধিনায়ক হিসেবে প্রথম কোনো শিরোপা হাতে তুলে নিতে পারলেন মেসি।

টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড় হিসেবে গোল্ডেন বল জিতলেন, একই সঙ্গে সর্বোচ্চ গোলদাতা হিসেবে জিতলেন গোল্ডেন বুট। ৪টি গোল করার পাশাপাশি ৫টি অ্যাসিস্টও করেছেন মেসি। ২০১৪ বিশ্বকাপেও সেরা খেলোয়াড় হিসেবে মেসি জিতেছিলেন গোল্ডেন বল। কিন্তু সেবার তার মুখে কোনো হাসি ছিল না। ছিল পরাজয়ের গ্লানি।

তবে এবার গোল্ডেন বল এবং গোল্ডেন বুটের পুরস্কার হাতে নেয়ার সময় মেসির মুখে ছিল চওড়া হাসি। এবার যে আর হতাশায় মোড়ানো একটি দিন নয়, বরং সাফল্যে মোড়ানো একটি দিন পেয়ে গেলেন তারা! ১৯৯৩ সালে সর্বশেষ কোপা আমেরিকার শিরোপা জিতেছিল আর্জেন্টিনা। এরপর দীর্ঘ ২৮টি বছর পার হয়ে গেছে, আর্জেন্টিনার হাতে শিরোপা ওঠেনি।

messi

গত দেড়টি দশক ফুটবল বিশ্ব শাসন কর যাচ্ছেন। ২০০৭ সালেও মেসি খেলেছিলেন কোপা আমেরিকার ফাইনাল। সেবার ব্রাজিলের কাছে হেরেছিলেন ৩-০ গোলে। এরপর ২০১৪ বিশ্বকাপ, ২০১৫, ২০১৬ কোপা আমেরিকার ফাইনালে উঠেও শিরোপা জেতা হয়নি।

অবশেষে ১৪ বছর পর কোপার ফাইনালে ব্রাজিলের মুখোমুখি হয়ে আর বঞ্চিত থাকতে হয়নি মেসিকে। ডি মারিয়ার একমাত্র গোলে চ্যাম্পিয়ন হয়েই বিজয়য়ী দলের অধিনায়ক হিসেবে শিরোপা হাতে তুলে নিতে পারলেন লিওনেল মেসি।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন

অনুগ্রহ করে মন্তব্য করতে লগ ইন করুন লগ ইন

Leave a Reply

ইসলাম

অজুর পর দুই রাকাআত নামাজ পড়ার ফজিলত

নামাজসহ অনেক ইবাদত-বন্দেগির জন্য অজু করা শর্ত। অজু ছাড়া অনেক ইবাদত করা মারাত্মক গোনাহ। বিশেষ করে নামাজের জন্য ৪টি ফরজ নির্দেশনা মেনে অজু করতে হয়। প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অজুর পর দুই রাকাআত নামাজ পড়ার কথা বলেছেন। অজুর পর দুই রাকাআত নামাজ পড়ার মর্যাদা কী? এ নামাজ সম্পর্কে হাদিসের নির্দেশনাই বা কী?

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অজুর পর দুই রাকাআত নামাজ পড়ার বিশেষ ফজিলত বর্ণনা করেছেন। এ নামাজকি অজু করার সঙ্গে সঙ্গেই পড়তে হবে না বিলম্ব হলেও চলবে? অজুর পর এ নামাজ সম্পর্কে হাদিসের একাধিক বর্ণনা থেকে যা জানা যায়; তাহলো-

১. হজরত ওসমান রাদিয়াল্লাহু আনহুর মুক্ত করে দেওয়া গোলাম হজরত হুমরান রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, তিনি হজরত ওসমান রাদিয়াল্লাহু আনহুকে দেখেছেন যে, ওসমান রাদিয়াল্লাহু আনহু (অজুর জন্য) পানির পাত্র আনতে নির্দেশ দিলেন। অতঃপর তিনি দুই কব্জির ওপর তিনবার পানি ঢেলে উভয়টি (হাত কব্জি পর্যন্ত) ধুয়ে নিলেন। তারপর তাঁর ডান হাত পাত্রের ভেতর প্রবেশ করিয়ে কুলি ও নাক পরিষ্কার করলেন। তারপর তাঁর মুখমণ্ডল তিনবার ধুয়ে নিলেন। দুই হাত কনুই পর্যন্ত তিনবার ধুয়ে নিলেন। তারপর মাথা মাসেহ করলেন। এরপর উভয় পা তিনবার ধুয়ে নিলেন। অতঃপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন-

 مَنْ تَوَضَّأَ نَحْوَ وُضُوئِي هَذَا ثُمَّ صَلَّى رَكْعَتَيْنِ لاَ يُحَدِّثُ فِيهِمَا نَفْسَهُ غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ

যে ব্যাক্তি আমার মত অজু করে এমনভাবে দুই রাকাআত নামাজ আদায় করবে, সে যাতে মনে মনে ভিন্ন কোনও চিন্তা-ভাবনা না করবে; তার আগের সব গোনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হবে।’ (মুসলিম)

২. হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ফজরের নামাজের সময় বেলাল রাদিয়াল্লাহু আনহুকে বললেন-

‏ يَا بِلاَلُ حَدِّثْنِي بِأَرْجَى عَمَلٍ عَمِلْتَهُ عِنْدَكَ فِي الإِسْلاَمِ مَنْفَعَةً فَإِنِّي سَمِعْتُ اللَّيْلَةَ خَشْفَ نَعْلَيْكَ بَيْنَ يَدَىَّ فِي الْجَنَّةِ

‘হে বেলাল! তুমি আমাকে বল, ইসলামের পর তুমি এমন কোনো আমল করেছ; যার উপকারের ব্যাপারে তুমি বেশি আশাবাদী? কেননা আজ রাতে (মেরাজের রাতে) আমি জান্নাতে আমার সামনে তোমার জুতার আওয়াজ শুনেছি। বর্ণনাকারী বলেন, বেলাল রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন-

مَا عَمِلْتُ عَمَلاً فِي الإِسْلاَمِ أَرْجَى عِنْدِي مَنْفَعَةً مِنْ أَنِّي لاَ أَتَطَهَّرُ طُهُورًا تَامًّا فِي سَاعَةٍ مِنْ لَيْلٍ وَلاَ نَهَارٍ إِلاَّ صَلَّيْتُ بِذَلِكَ الطُّهُورِ مَا كَتَبَ اللَّهُ لِي أَنْ أُصَلِّيَ ‏

ইসলামের মধ্যে এর চেয়ে বেশি লাভের আশা আমি অন্য কোনো আমলে করতে পারি না যেআমি দিন-রাত যখনই পূর্ণ অজু করিতখনই আল্লাহ তাআলা আমার ভাগ্যে যতক্ষণ লিখেছেনততক্ষণ ওই অজু দিয়ে নামাজ আদায় করে থাকি।’ (মুসলিম)

প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের হাদিসের আলোকে বুঝা যায়, অজুর পর ২ রাকাআত নামাজ পড়ার মর্যাদা ও ফজিলত অনেক বেশি। তবে হাদিস বিশারদ ও ইসলামিক স্কলারগণ এ ২ রাকাআত নামাজ পড়াকে মোস্তাহাব বলেছেন।

১. হাফেজ ইবনে হাজার আসকালানি রাহমাতুল্লাহি আলাইহি তাহিয়্যাতুল অজু সংক্রান্ত হাদিস উল্লেখ্য করার পর বলেন, ‘এই হাদিসে অজুর পরপরই দুই রাকাআত নামাজ আদায় করা মোস্তাহাব হওয়ার দলিল রয়েছে।’

২. ইমাম নববি রাহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন, ‘একাধিক বিশুদ্ধ হাদিস থাকায় প্রমাণিত হয়, অজুর পরপরই দুই রাকাত নামাজ পড়া মোস্তাহাব।’ (আল মাজমু শারহিল মুহাযযাব)

৩. শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া রাহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন-

وَيُسْتَحَبُّ أَنْ يُصَلِّيَ رَكْعَتَيْنِ عَقِبَ الْوُضُوءِ وَلَوْ كَانَ وَقْتَ النَّهْيِ ، وَقَالَهُ الشَّافِعِيَّةُ ” انتهى . (الفتاوى الكبرى)

‘অজুর পরপরই দুই রাকাআত নামাজ পড়া মোস্তাহাব যদিও তা নিষিদ্ধ সময়ে হয়। শাফেয়ীগণও এমনটি বলেছেন।’ (আল ফাতাওয়া আল কুবরা)

৪. আল্লামা জাকারিয়া আল আনসারি রাহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন, ‘যে ব্যক্তি অজু করবে তার জন্য অজুর পরপরই দুই রাকাআত নামাজ পড়া মোস্তাহাব; তা যে কোনও সময় হোক না কেন।’ (আসনাল মাতালিব)

৫. হজরত তানাজি শাফেঈ রাহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন, ‘এই হাদিস থেকে অজু শেষ করার পর এবং দীর্ঘ সময়ের ব্যবধান ও অমনোযোগী (অন্য কাজে ব্যস্ত) হওয়ার আগে অজুর দুই রাকাআত সুন্নাত নামাজ পড়ার প্রমাণ পাওয়া যায়।’ (নেহায়তুয যায়ন)

সুতরাং মুমিন মুসলমানের উচিত, অজু করার পর মসজিদে প্রবেশ করে (দুখুলুল মসজিদ/তাহিয়াতুল মসজিদের) দুই রাকাআত নামাজের নিয়ত করলে আল্লাহ তাআলা উভয় নামাজের সাওয়াব দান করবেন।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে অজু করার পর দুই রাকাআত নামাজ পড়ে হাদিসে ঘোষিত ফজিলত পাওয়ার তাওফিক দান করুন। আমিন।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ইসলাম

কোনো কঠিন বিষয়ের মুখোমুখি হলে যে দোয়া পড়বেন

মানুষ এখন মহামারি করোনার কঠিন পরিস্থিতি অতিক্রম করছে। একদিকে মহামারি করোনার ভয়াল থাবা অন্যদিকে মানুষ জীবন-জীবিকার টানে না বসে থাকতে পারছে, না কাজে যেতে পারছে। মানুষের জন্য সব দিক বিবেচনায় এটি এক কঠিন পরিস্থিতি।

হ্যাঁ, মানুষের এ রকম কঠিন বিপদের মুহূর্ত কিংবা পরিস্থিতি যে কোনো সময়ই আসতে পারে। কঠিন পরিস্থিতি যে শুধু ক্ষতিকর বিপদের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে এমনটি নয়; বরং দুনিয়ার রোগ-ব্যাধি, মহামারি, ঝড়-তুফান, বন্যা-বজ্রপাত, চাকরি-বাকরি, পড়া-শোনা, পরীক্ষা-ইন্টারভিউ, ব্যক্তি-পরিবার-সমাজ কিংবা দেশ-বিদেশে যে কোনো বিষয়েই হতে পারে।

তাই যদি কেউ যে কোনো বিষয়ে কঠিন পরিস্থিতি বা বিপদে পড়ে যায়; তবে তার উচিত হাদিসের অনুসরণে এ দোয়াটি বেশি পড়ে আল্লাহর কাছে সাহায্য প্রার্থনা করা। যা পড়তেন স্বয়ং বিশ্বনবি। কারণ তিনি নিজেও এ রকম অনেক পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়েছিলেন। হাদিসে এসেছে-
হজরত আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন-
اَللَّهُمَّ لَا سَهْلَ اِلَّا مَا جَعَلْتَهُ سَهُلَا وَ أَنْتَ تَجْعَلُ الْحُزْنَ اِذَا شِئْتَ سَهْلَا
উচ্চারণ : ‘আল্লাহুম্মা লা সাহলা ইল্লা মা ঝাআলতাহু সাহলা ওয়া আংতা তাঝআলুল হাযনা ইজা শিতা সাহলা।’
অর্থ : হে আল্লাহ! কোনো কিছুই সহজ নয়; তুমি যেটিকে সহজ করে দাও; সেটি ছাড়া। তুমি যখন চাও, পেরেশানিকে সহজ করে দাও।’ (ইবনু হিব্বান)

সুতরাং পরিস্থিতি যত কঠিনই হোক না কেন, মহান আল্লাহর ওপর ভরসা করার বিকল্প নেই। মানুষ যত বড় ক্ষমতার অধিকারীই হোক না কেন; মহান আল্লাহর ক্ষমতার কাছে কিছুই নয়; আবার আল্লাহর সাহায্য ছাড়া বিকল্প কোনো ক্ষমতা বা সাহায্যও নেই।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে সব কঠিন পরিস্থিতি ও বিষয়ে তাঁর কাছে প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের শেখানো ভাষায় সাহায্য প্রার্থনা করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

দৈনন্দিন

হেপাটাইটিস কি মারাত্মক ব্যাধি? জেনে নিন এর ধরন ও লক্ষণ

হেপাটাইটিস লিভারের একটি প্রদাহ। যা হেপাটাইটিসের বিভিন্ন ভাইরাসের মাধ্যমে ঘটে। দূষিত পানি ও খাবারের মাধ্যমে হেপাটাইটিসের বিভিন্ন ভাইরাস শরীরে প্রবেশ করে। যা প্রাথমিক অবস্থায় শরীরে কোনো উপসর্গ প্রকাশ না করলে ধীরে ধীরে মারাত্মক হয়ে ওঠে।

হেপাটাইটিস লিভারের কার্যক্ষমতা ধীরে ধীরে কময়ে দিতে শুরু করে। জানেন কি, প্রতি বছর লিভারের এই রোগে বিশ্বব্যাপী এক কোটি ৩০ লাখেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়। তবে এই রোগ ছোঁয়াচে নয়।

আজ বিশ্ব হেপাটাইটিস দিবস। এ বছরের হেপাটাইটিস দিবসের প্রতিপাদ্র হলো ‘হেপাটাইটিস অপেক্ষা করে না’। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে ২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্বব্যাপী ভাইরাল হেপাটাইটিসকে নির্মূল করার জন্য সব দেশকে একত্রে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছে।

বর্ষার এ সময় ডেঙ্গুসহ নানা রোগের পাশাপাশি করোনা সংক্রমণও ছড়িয়ে পড়ছে দ্রুত। তবে এই সময় হেপাটাইটিস রোগেরও প্রাদুর্ভাবও ঘটে থাকে। তাই সতর্ক থাকা জরুরি। সাধারণত দূষিত খাবার ও পানির মাধ্যমে এই রোগ শরীরে ছড়িয়ে পড়ে।

শরীরে রোগের বিস্তার না ঘটলে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই নির্দিষ্ট লক্ষণ ধরা পরে না। তবে দীর্ঘদিন শরীরে হেপাটাইটিস বাসা বাঁধলে যখন তা লিভারে আক্রমণ করে; তখন নানা লক্ষণ প্রকাশ পায়।

বর্ষার এ সময় ডেঙ্গুসহ নানা রোগের পাশাপাশি করোনা সংক্রমণও ছড়িয়ে পড়ছে দ্রুত। তবে এই সময় হেপাটাইটিস রোগেরও প্রাদুর্ভাবও ঘটে থাকে। তাই সতর্ক থাকা জরুরি। সাধারণত দূষিত খাবার ও পানির মাধ্যমে এই রোগ শরীরে ছড়িয়ে পড়ে।

শরীরে রোগের বিস্তার না ঘটলে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই নির্দিষ্ট লক্ষণ ধরা পরে না। তবে দীর্ঘদিন শরীরে হেপাটাইটিস বাসা বাঁধলে যখন তা লিভারে আক্রমণ করে; তখন নানা লক্ষণ প্রকাশ পায়।

যেমন- শরীর দুর্বল, বমি বমি ভাব, পেটব্যথা, শরীর হলুদ বর্ণ ধারণ করা এবং হলুদ প্রস্রাবের মতো উপসর্গ ইত্যাদি। শরীরে এই রোগের বিস্তার ঘটলে পেটে জল আসা, রক্ত পায়খানা ও রক্তবমি হতে পারে।

হেপাটাইটিসের বিভিন্ন ধরন ও লক্ষণসমূহ

হেপাটাইটিসের ৫টি ভাইরাস হলো এ, বি, সি, ডি এবং ই। এর মধ্যে টাইপ-বি এবং সি মারাত্মক রূপ নেয় এবং লিভার সিরোসিস এবং ক্যান্সারের মতো মারাত্মক আকার ধারণ করে। প্রাথমিক অবস্থায় তা চিকিত্সা না করলে গুরুতর হয়ে ওঠে এবং লিভার সম্পূর্ণরূপে ক্ষতিগ্রস্থ হতে পারে।

হেপাটাইটিস এ

দূষিত খাবার এবং জলের মাধ্যমে শরীরে ছড়িয়ে পড়ে এই ভাইরাস। এ রোগের ক্ষেত্রে, লিভার ফুলে যাওয়া, ক্ষিদে কমে যাওয়া, জ্বর, বমি এবং জয়েন্টে ব্যথা মতো উপসর্গ দেখা দেয়। এসব লক্ষণ দেখলে দ্রুত চিকিৎসকের শরনাপন্ন হতে হবে।

হেপাটাইটিস বি

এই ভাইরাসটি রক্ত, ঘাম, লালা, বীর্যসহ বিভিন্ন দেহনিঃসৃত তরলের মাধ্যমে ছড়ায়। সাধারণত রক্তে অবস্থিত ভাইরাস এবং এর বিরুদ্ধে অবস্থিত অ্যান্টিবডি থেকে এ রোগ নির্ণয় করা হয়।

হেপাটাইটিস বি ভাইরাস লিভারে মারাত্মক প্রভাব ফেলে। এ কারণে রোগীর বমি বমি ভাব, ক্লান্তি, কোলিক, ত্বকের হলুদ রঙের মতো সমস্যা দেখা দেয়।

এটি সবচেয়ে দীর্ঘস্থায়ী লিভার রোগ যা লিভার সিরোসিস এবং ক্যান্সারের রূপ নেয়। যদি কোনো গর্ভবতী নারী এতে আক্রান্ত হন; তবে তার গর্ভস্থ শিশুও এ রোগে আক্রান্ত হতে পারে।

হেপাটাইটিস সি

হেপাটাইটিস এ এবং বি এর চেয়েও বেশি বিপজ্জনক এই ভাইরাসটি। রক্ত দেওয়া-নেওয়া, শিরায় ইনজেকশনের মাধ্যমে বিভিন্ন ওষুধ প্রয়োগের সময় যদি জীবাণুযুক্ত চিকিৎসা সরঞ্জাম ব্যবহার করা হয়, সেখান থেকে হেপাটাইটিস সি এর সংক্রমণ হয়। পৃথিবী জুড়ে আনুমানিক ১৩০-১৭০ মিলিয়ন লোক হেপাটাইটিস সি রোগে আক্রান্ত।

হেপাটাইটিস সি আক্রান্ত ব্যক্তির তেমন কোনো উপসর্গ থাকে না। তবে দীর্ঘস্থায়ী সংক্রমণের ফলে লিভারের ক্ষত এবং বেশ কয়েক বছর পর সিরোসিস সৃষ্টি করে।

আবার অনেক সময় সিরোসিস আক্রান্ত ব্যক্তির লিভার অকার্যকর, যকৃতের ক্যান্সার, বা খাদ্যনালী ও পাকস্থলীর শিরা স্ফীত হতে পারে। যার ফলে রক্তক্ষরণে মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। এ ছাড়াও ত্বকে চর্মরোগ দেখা দিতে পারে।

হেপাটাইটিস ডি

হেপাটাইটিস বি এবং সি রোগীদের ঝুঁকি থেকে বেশি থাকে এই ভাইরাসে। এটি দূষিত রক্তের সংক্রমণ, সংক্রামিত সূঁচ ব্যবহার বা শেভিংয়ের অন্যান্য কিটগুলির ব্যবহারের মাধ্যমেও ছড়িয়ে পড়ে। লিভারের সংক্রমণের ফলে বমি ও হালকা জ্বর হয়।

হেপাটাইটিস ই

এই ভাইরাস দূষিত খাবার দ্বারা ছড়িয়ে পড়ে। এই রোগে আক্রান্ত হলে রোগী ক্লান্তি, ওজন হ্রাস, ত্বকের হলুদ হওয়া এবং হালকা জ্বর অনুভব করে। এ সংক্রমণের ফলে রোগী ক্লান্তি, ওজন হ্রাস, ফ্যাকাশে ত্বক ও চেহারা এবং জ্বরের মতো লক্ষণগুলো প্রকাশ পায়।

হেপাটাইটিসের বিভিন্ন ধরণ ও লক্ষণ যদি আপনার শারীরিক অসুস্থতার সঙ্গে মিলে যায়; তাহলে দ্রুত চিকিৎসকের শরনাপন্ন হতে হবে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

দৈনন্দিন

কলিজার বারবিকিউ কাবাব তৈরির রেসিপি

গরু বা খাসির কলিজা খেতে অনেকেই পছন্দ করেন। সবাই নিশ্চয়ই কলিজার ভুনা বা দোঁপেয়াজা খেয়েছেন। তবে কলিজার বারবিকিউ কাবাবও কিন্তু খেতে খুবেই মজাদার।

কোরবানি ঈদের পর এ সময় অনেকেই হয়তো কলিজার বিভিন্ন পদ রান্না করতে পারেন। চাইলে কলিজার বারবিকিউ কাবাব তৈরি করতে পারেন খুব সহজেই। জেনে নিন রেসিপি-

১. এক কাপ সেদ্ধ কলিজা
২. পেঁয়াজ কুচি ৩ টেবিল চামচ
৩. কাঁচা মরিচ কুচি ২ চা চামচ
৪. গোল মরিচের গুঁড়ো আধা চা চামচ
৫. ধনেপাতা কুচি ২ টেবিল চামচ
৬. লবণ স্বাদমতো

৭. সয়া সস ২ চা চামচ
৮. টমেটো সস ২ টেবিল চামচ
৯. বারবিকিউ সস ৩ টেবিল চামচ
১০. গরম মসলার গুঁড়ো ৩ টেবিল চামচ
১১. কাবাব মসলার গুঁড়ো ২ টেবিল চামচ
১২. চিনি পরিমাণমতো
১৩. ডিম একটি
১৪. পাউরুটি ২ টুকরো
১৫. পরিমাণমতো তেল

পদ্ধতি

প্রথমে বাটিতে সেদ্ধ কলিজার সঙ্গে সব উপকরণ মিশিয়ে ভালো করে মাখিয়ে নিন। এরপর ফ্রাইপ্যানে তেল দিন। এবার মসলায় মাখানো সেদ্ধ কলিজা বড়া আকার তৈরি করুন।

এরপর গরম তেলে কলিজার কাবাবগুলো ছেড়ে দিন। উল্টে পাল্টে ভালো করে ভেজে নিন। ভাজা হলে নামিয়ে সাজিয়ে পরিবেশন করুন গরম গরম কলিজার বারবিকিউ কাবাব।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

সুন্দরবনে বেড়েছে বাঘের বিচরণ

২০১৫ ও ২০১৮ সালে বাঘ জরিপে পশ্চিম সুন্দরবনের খুলনা ও সাতক্ষীরা রেঞ্জে বাঘের সংখ্যা কম ছিল। গত দুই-এক বছরে বনে বাঘের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় ইদানীং ওই এলাকায় বাঘের অবস্থান দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের সময় পুরো সুন্দরবন পানিতে ডুবে

 যায়। তখন বনের অভ্যন্তরে বনবিভাগের পুকুরপাড়ে বাঘের অবস্থান দেখা গেছে। এ ছাড়া কাছাকাছি সময়ে বাঘের আক্রমণে পশ্চিম সুন্দরবনের কয়েকটি স্থানে হতাহতের ঘটনাও ঘটেছে। এতে বাঘের সংখ্যা বাড়ছে বলে মনে করেন সুন্দরবন পশ্চিম বনবিভাগের কর্মকর্তা ড. আবু নাসের মোহসিন হোসেন।তিনি বলেন, ২০১৫ সালে ‘ক্যামেরা ট্র্যাপিং’ পদ্ধতিতে বনবিভাগের জরিপে সুন্দরবনে ১০৬টি বাঘ দেখা যায়। এরপর ২০১৮ সালে ইউএসএইড বাঘ প্রকল্পের আওতায় দ্বিতীয় পর্যায়ের জরিপে বনে ১১৪টি বাঘ দেখা যায়। বিভাগীয় বন কর্মকর্তা ড. আবু নাসের মোহসিন হোসেন বলেন, ২০১৫ সালের জরিপকে বেজলাইন (ভিত্তি) ধরে গবেষণায় ৪২ কোটি টাকার আরেকটি প্রকল্প যাচাই-বাছাই পর্যায়ে রয়েছে। ২০১৫ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত বাঘের সংখ্যা বেড়েছে। চলতি বছর তৃতীয় পর্যায়ে জরিপ হওয়ার কথা রয়েছে। ওই জরিপে বনে বাঘের প্রকৃত চিত্র পাওয়া যাবে। নতুন গবেষণায় বাঘ জরিপ ছাড়াও বাঘের শিকার হরিণ ও শূকর কি পরিমাণ আছে তা দেখা হবে। বাঘের আবাসস্থল নিয়েও গভীর পর্যবেক্ষণ থাকবে।

যেখানে সুন্দরি গাছ বেশি আছে, সেখানে বাঘ থাকতে পছন্দ করে নাকি কেওড়া গাছ বেশি সেখানে থাকে। ট্র্যাপিংয়ের জন্য কিছু ক্যামেরাও কিনতে হবে। এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য বাঘের বর্ধিত সংখ্যাটা ধরে রাখা, ন্যূনতম বাঘ যেন না কমে। বন কর্মকর্তারা বলছেন, সুন্দরবনের করমজল ও কলাগাছিয়ায় যেভাবে হরিণ, কুমির, কচ্ছপের ব্রিডিং গ্রাউন্ড হয়েছে একইভাবে বনে একটি বড় এলাকাকে বাঘের অভয়ারণ্য করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। সেক্ষেত্রে বনের কটকা ও নীলকমল অংশকে বাঘের ব্রিডিং গ্রাউন্ড বিবেচনায় রাখা হয়েছে। তবে এটি এখনো প্রস্তাবনা আকারে নেওয়া হয়নি। জানা যায়, ২০১৫ সালে জরিপে দেখা গেছে, একটি বাঘ সুন্দরবনে ১৫-১৭ স্কয়ার কিলোমিটার এলাকা পর্যন্ত ঘোরে। ফলে ব্রিডিং গ্রাউন্ডের জন্য নদী ও খাল থাকায় বিশাল এলাকাকে কীভাবে আটকানো যায় বা ‘ন্যাচারাল ব্রিডিং’-এর জন্য কীভাবে বাঘ-বাঘিনীকে একই জায়গায় রাখা যায় সে নিয়েও আলোচনা হচ্ছে।  জানা যায়, এ বছর ১৬ মার্চ পশ্চিম সুন্দরবনের সাতক্ষীরা রেঞ্জের পায়রাটুনি এলাকায় বাঘের আক্রমণে আবুল কালাম নামে এক বাওয়ালি নিহত হয়েছেন। পায়রাটুনি এলাকায় গোলপাতা কাটার সময় রয়েল বেঙ্গল টাইগার আক্রমণ করে তাকে। এরপর ১৪ এপ্রিল বনের সাতক্ষীরা রেঞ্জের হোগলদড়া খাল এলাকায় মধু সংগ্রহ করতে গিয়ে বাঘের আক্রমণে হাবিবুর রহমান নামে এক মৌয়াল নিহত ও হলদিবুনিয়ার আমড়াতলি এলাকায় আরেকটি বাঘের আক্রমণে রবিউল ইসলাম শেখ আহত হন।

এদিকে সুন্দরবনে বাঘ টিকিয়ে রাখতে নানারকমের চ্যালেঞ্জের কথা বলছেন বাঘ গবেষকরা। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফরেস্ট্রি অ্যান্ড উড টেকনোলজি ডিসিপ্লিনের অধ্যাপক ড. মো. নাজমুস সাদাত জানান, সুন্দরবনের ভিতরে ভেসাল চলাচল ও মুভমেন্ট বন্ধ করতে হবে। বাঘ নিরিবিলি থাকতে পছন্দ করে। পিকনিক পার্টি বনের মধ্যে উচ্চশব্দে মাইক বাজাতে থাকে- এসব নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। তিনি বলেন, প্রথমত. বন থেকে চোরা শিকারি তাড়াতে হবে। দ্বিতীয়ত. পরিবেশ ও প্রতিবেশ রক্ষা করতে হবে। ইকো সিস্টেমে কোনো একটা অংশে ব্যাঘাত হলে তার প্রভাব বাঘের ওপর পড়ে। এ ছাড়া বনে মিষ্টি পানির প্রবাহ রাখতে হবে। মিষ্টি পানির অভাবে লবণাক্ততা বাড়লে গরান বনের আধিক্য বাড়বে, পরিবেশ পরিবর্তন হবে। ফলে বাঘের স্বাভাবিক জীবনযাপন ব্যাহত হবে। জানা যায়, জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে প্রতি বছরের মতো আগামীকাল বিশ্ব বাঘ দিবস পালিত হচ্ছে। করোনা পরিস্থিতিতে অনুষ্ঠানসূচিতে পরিবর্তন আনা হয়েছে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com