আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

দৈনন্দিন

অপরাধের বিচারের ক্ষেত্রে ভিকটিম ব্লেমিং কতটা প্রভাব ফেলে?

সম্প্রতি সময়ে বাংলাদেশে বেশ কয়েকটি চাঞ্চল্যকর ধর্ষণের ঘটনা সামনে আসার পর এই অপরাধটি নিয়ে নানা ধরণের তর্ক-বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

একদিকে যেমন ধর্ষণের শাস্তি মৃত্যুদণ্ড করার দাবি উঠেছে ঠিক তেমনি অন্যদিকে আবার ধর্ষণের পেছনে ভুক্তভোগীদের ভূমিকা বা পরোক্ষ ইন্ধন থাকার মতো বিষয়গুলো নিয়েও কথা বলছেন অনেকে।

এর মধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে বাংলাদেশের চলচ্চিত্র তারকা অনন্ত জলিলের একটি ভিডিও। যেখানে তিনি নারীদেরকে টি-শার্টের মতো পোশাক পরা নিয়ে কটাক্ষ করেন।

তার মতে, নারীদের এ ধরণের পোশাক ধর্ষণের মতো অপরাধকে উস্কানি দেয়।

তার এই পোস্ট নিয়ে নানা ধরণের ট্রলসহ এর বিরুদ্ধেও আওয়াজ তুলেছেন অনেকে।

অনেকে বলছেন যে, পোশাক নিয়ে মন্তব্য করে মি. জলিল ধর্ষণের মতো অপরাধের শিকার ব্যক্তিদেরকেই আসলে দোষারোপ করছেন।

তিনি ভিকটিম ব্লেমিং করছেন বলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেকে অভিযোগ তুলেছেন।

ভিকটিম ব্লেমিং কী?

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভিকটিম ব্লেমিং হচ্ছে এক ধরণের চর্চা। এটা সাধারণত যৌন নির্যাতন বা ধর্ষণের ক্ষেত্রেই সবচেয়ে বেশি শুনতে পাওয়া যায়।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক তাসলিমা ইয়াসমিন বলেন, “পিতৃতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থা এবং এতো বছর ধরে চলে আসা নারী বিদ্বেষ, আমাদের সংস্কৃতিতে অনেক শক্তিশালী।”

তিনি বলেন, যখনই কোন ধর্ষণ কিংবা যৌন নির্যাতনের ঘটনা ঘটে তখন সমাজের বেশিরভাগ মানুষের নজর চলে যায় যে এটা কেন হল, কনটেক্সটা কোথায়। “প্রশ্ন আসে যে, শাড়ি কিভাবে পড়েছে, শাড়িটা কেমন ছিল, ওড়না ছিল না, এতো রাতের বেলা বের হয়েছে কেন-এগুলো সবই ভিকটিম ব্লেমিং। এর ফলে অ্যাটেনশনটা আর অপরাধীর উপর থাকে না। ভিকটিমের স্বভাব চরিত্রের উপর গিয়ে পড়ে।”

এ বিষয়ে মানবাধিকার আইনজীবী এলিনা খান বলেন, ভিকটিম ব্লেমিং দুই ধরণের হয়ে থাকে।

আরো পড়ুন:

প্রথম ক্ষেত্রে বলা হয় ধর্ষণ কিংবা যৌন নির্যাতনের ক্ষেত্রে যে, ভিকটিম চরিত্রহীন, লম্পট, খারাপ- যার কারণে সে মিথ্যা কথা বলছে। যার বিরুদ্ধে অভিযোগ এনেছে সেটা মিথ্যা। সে হয়তো নিজের ইচ্ছায় গেছে। ব্ল্যাক মেইলিং করতে না পেরে অভিযোগ এনেছে।

দ্বিতীয় ক্ষেত্রে দেখা যায় যে, জমি-জমা কিংবা পূর্ব শত্রুতার জেরে কোন নারীর স্বজন কিংবা স্বামী কোন কারো বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ বা মামলা দায়ের করে ওই নারীকে জড়িয়ে। আর সেটি মিথ্যা প্রমাণিত হওয়ার পর ওই নারীকেই দোষারোপ করা হয় যে, সে মিথ্যা বলেছে। অথচ এক্ষেত্রে সে নিজেও স্বজনদের ষড়যন্ত্রের কারণে ভিকটিম।

আইন বিভাগের শিক্ষক তাসলিমা ইয়াসমীন মনে করেন, ভিকটিম ব্লেমিংয়ের চর্চা সামাজিক অবস্থার সাথে সাথে বিচার ব্যবস্থা বা বিচার প্রক্রিয়াতেও প্রতিফলিত হয়।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের সমাজের যে পিতৃতান্ত্রিক মন-মানসিকতা তার অংশ সমাজের সব মানুষ। আর সেই সাথে বিচার ব্যবস্থা ও এর বিভিন্ন পর্যায়ে যেসব ব্যক্তি বা সংশ্লিষ্ট সংস্থা রয়েছে তারাও এটার অংশ।

অভিযোগকারীকে সন্দেহ করার এবং অপরাধীকে নিরপরাধ ভাবার যে প্রবণতা, বিচার ব্যবস্থার প্রতিটি ধাপে একজন ভুক্তভোগীকে তার মুখোমুখি হতে হয়।

মিজ ইয়াসমিন বলেন, সাধারণ কোন অপরাধের মামলায় একজন অভিযোগকারীকে যত না প্রমাণ দিতে হয়, ধর্ষণ বা যৌন নির্যাতনের মামলায় তাকে আরো অনেক বেশি প্রমাণ হাজির করে তারপর অভিযোগ প্রমাণ করতে হয়।

“তখন তাকেও অপরাধীর মতোই তাকে গণ্য করা হয়।”

ভিকটিম ব্লেমিং কেন হয়?

এ বিষয়ে সমাজবিজ্ঞানী সাদেকা হালিম বলেন, আমরা এখনো নারীদের সমাজে অধস্তন হিসেবে ভাবি।

এক ধরণের মনোভাব আছে যে, নারীরা নিজেরা নিজেদের দায়-দায়িত্ব নিয়ে চলাফেরা করবে। কী ধরণের পোশাক পড়বে, কেমন আচরণ করবে, কেমন করে চলাফেরা করবে-তার সবকিছুর দায় দায়িত্ব তাকে নিতে হবে।

তিনি বলেন, এ ধরণের বিষয়গুলোর সাথে ধর্ষণের ঘটনাকে এক করে ফেলা হয়। সেটাকেও তার দায় বলে ধরে নেয়া হয়।

অনন্ত জলিলের ভিডিওর কথা উল্লেখ করে সাদেকা হালিম বলেন, “অনন্ত জলিল যেসব মন্তব্য করেছে, সে তো ভিকটিম ব্লেমিংকে রি-ইনফোর্স করেছে তার কমেন্ট দিয়ে।”

তিনি বলেন, ধর্ষণ যেমনই হোক না কেন তার বিচার হতে হবে। এক্ষেত্রে সন্ধ্যা সাতটার সময় একজন নারী কোথায় ছিল, সেকি বন্ধুর সাথে ছিল কিনা, সে সিনেমা দেখতে গেছে কিনা-এসব বিষয় গুরুত্বপূর্ণ নয়। কারণ এগুলো তার সাংবিধানিক অধিকার।

গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষক ড. কাবেরী গায়েন বলেন, এক সময় নারীরা ধর্ষণ বা যৌন নির্যাতনের মতো ঘটনায় অভিযোগ দায়ের করতে চাইতো না লুকিয়ে রাখতো। যার কারণে অপরাধীরা পার পেয়ে যেতো।

কিন্তু এখন নারীরা আওয়াজ তুলছে এবং ধর্ষণের ঘটনায় অভিযোগ করছে। যার কারণে অপরাধীর অপরাধ ভিন্ন পথে ঘুড়িয়ে দেয়ার জন্য ভুক্তভোগীকেই দোষারোপ করা হয়।

বলা হয় যে, তার পোশাক ভাল ছিল না, ও রাতের বেলা গিয়েছিল, ছেলে বন্ধুর সাথে ছিল ইত্যাদি নানা ধরণের পাল্টা অভিযোগ তোলা হয়।

“যাতে করে অপরাধটাকে অপরাধীর কাছ থেকে সরিয়ে নিয়ে ভিকটিমের দিকে দিয়ে অপরাধীকে আড়াল করা যায় বা অপরাধীর অপরাধকে লঘু করা যায়। আর এই ক্যাচালের মধ্য থেকে অপরাধী পার পেয়ে যায়,” তিনি বলেন।

তিনি মনে করেন, এই ধরণের চর্চা চলতে থাকলে, ভুক্তভোগী আরো বেশি করে শিকার হওয়ার ভয়ে অভিযোগ বা প্রতিবাদ করবে না, পাশাপাশি যে অপরাধী সে নিশ্চিন্ত মনে অপরাধ চালাতে থাকবে।

“ফলে অপরাধের যে অভয়ারণ্য সেটি মুক্ত হয়ে যাবে। আর এর ফলাফল হবে মারাত্মক।”

এটা বিচার ব্যবস্থায় কতটা প্রভাব ফেলে?

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শিক্ষক তাসলিমা ইয়াসমীন বলেন, বাংলাদেশের আইনে বলা আছে যে যদি কোন বিচারক মনে করেন যে কোন ভিকটিমের জবানবন্দীই বিচারের জন্য যথেষ্ট, তাহলে তিনি সেই জবানবন্দী অনুযায়ী রায় দিতে পারেন। এটা নিয়ে আইনে কোন বাধা নেই।

কিন্তু বাংলাদেশে এমন কোন কিছু তো হয়ই না, বরং উল্টো জবানবন্দী ছাড়াও তাকে নানা ধরণের প্রমাণাদি দিয়ে সেটা প্রমাণ করতে হয়। যার কারণে ধর্ষণ মামলার বিচারের সংখ্যা গিয়ে দাঁড়িয়েছে ৩ শতাংশে।

জবানবন্দীতে যখন সন্দেহ এতো বেশি, এটা হয়ে থাকে ভিকটিম ব্লেমিংয়ের বিষয়টি থেকে। এটা শুধু সামাজিক অবস্থার উপর প্রভাব ফেলে তা নয় বরং বিচার ব্যবস্থার উপরও প্রভাব ফেলে।

তিনি বলেন, সামাজিক প্রভাবটা বিচার ব্যবস্থাকেও প্রভাবিত করে। এটা যখন বিচারে ঢুকে যায় তখন তার প্রভাব ন্যায়বিচার পাওয়ার উপরও থাকে। যখন জবানবন্দীর উপর সন্দেহ থাকে তখন প্রমাণাদির গুরুত্ব বাড়ে। আর তখন একটু এদিক-সেদিক হলেই অপরাধী পার পেয়ে যাওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হয়।

মানবাধিকার আইনজীবী এলিনা খান বলেন, এক সময় বাংলাদেশে তোলপাড় হয়েছিল যে, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মিথ্যা মামলা হয়েছিল।

তিনি জানান, তখন তারা একটি জরিপ চালিয়ে দেখেছেন যে, এই অভিযোগের কারণে অনেক নারীই আসলে আইনের আশ্রয় নিতে পারছে না।

তিনি বলেন, ভিকটিম ব্লেমিংয়ের কারণে প্রথমত থানায় কর্মকর্তারা অনেক সময় ধর্ষণ বা যৌন নির্যাতনের মামলা নিতে গড়িমসি করে।

দ্বিতীয়ত এটি যখন আদালতে গড়ায়, তখন আসামীপক্ষের আইনজীবী ভুক্তভোগীর চরিত্র নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। কারণ বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী, আসামীপক্ষের আইনজীবীর অবাধ স্বাধীনতা থাকে ভুক্তভোগীকে জিজ্ঞাসাবাদ করার। তার চরিত্র নিয়ে প্রশ্ন তোলার।

যার কারণে সাক্ষীর উপর চাপ পড়ে এবং মামলাটি অনেক সময় দুর্বল হয়ে যায় বলে জানান আইনজীবী এলিনা খান।

বিচার শেষ হওয়ার পর যদি আসামী পার পেয়ে যায় প্রমাণাদির অভাবে তাহলে সব দোষ তখন ভুক্তভোগীর উপর এসে পরে এবং ওই নারী সম্পর্কে সবার খারাপ ধারণা জন্মায়। কিন্তু সে যে একই সাথে ভিকটিম এবং বিচারও পায়নি সেটি কেউ বিবেচনায় নেয় না।

সমাজবিজ্ঞানী সাদেকা হালিম মনে করেন, ভিকটিম ব্লেমিং যে কোন অপরাধের ঘটনাকে হালকা করে দেয়।

তিনি বলেন, এর কারণে কোন অপরাধের তদন্ত, তার বিচার এবং অন্য আইনি বিষয়গুলোর উপর নেতিবাচক প্রভাব সৃষ্টি করে ভিকটিম ব্লেমিং। এমনকি তদন্তের মোড়ও অনেক সময় এর কারণে ঘুরে যেতে পারে বলে মনে করেন তিনি।

বিশেষজ্ঞরা বলেন, ভিকটিম ব্লেমিংয়ের প্রভাব থেকে বেরিয়ে আসতে হলে, বিচার ব্যবস্থার সাথে যারা জড়িত তাদের ধর্ষণের প্রতি সংবেদনশীলতা বাড়াতে হবে। প্রো-ভিকটিম অ্যাপ্রোচ বা অভিযোগকারীর প্রতি সহানুভূতিশীলতা বাড়ানো দরকার। আর এ ক্ষেত্রে সুপ্রিম কোর্ট পদক্ষেপ নিতে পারে বলে মনে করেন তারা।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন

অনুগ্রহ করে মন্তব্য করতে লগ ইন করুন লগ ইন

Leave a Reply

দৈনন্দিন

প্রচণ্ড খিদে পেলেও যেসব খাবার খাবেন না!

খিদে পেলে অনেক সময়েই সামনে যা আছে তাই খেয়ে ফেলতে ইচ্ছে হয়

প্রচণ্ড খিদে পেলে অনেক সময়েই সামনে যা আছে তাই খেয়ে ফেলতে ইচ্ছে হয়। কিন্তু এমন কিছু খাবার আছে যা এমন খিদের সময়ে খাওয়া শরীরের জন্য একেবারেই স্বাস্থ্যসম্মত নয়।

জেনে নিন কোন খাবারগুলো খিদের সময়ে খাওয়া উচিত নয়।

ঝাল খাবার

মধ্যাহ্নভোজ (লাঞ্চ) সারতে দেরি হয়ে গেছে। তাই হাতের কাছে পাওয়া ঝাল কোনো মুখরোচক খাবার অর্ডার করে বসলেন আর তা দিয়েই মধ্যাহ্নভোজ সেরে নিলেন। এর ফলে কি হবে জানেন? আপনার হজমের সমস্যা তৈরি হবে। খালি পেটে ঝাল খাবার খেলে এই মশলা আপনার পাকস্থলীর আবরণের (স্টমাক লাইনিং) ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলবে।

তাহলে কী করবেন? ঝাল খাবার খাওয়ার আগে দুধ বা দই খেতে পারেন। এতে সরাসরি ঝালের প্রভাব পাকস্থলীর ওপর পড়বে না।

ফল

খালি পেটে ফল খেতে নেই- এই কথাটা আমরা আমাদের ছেলেবেলা থেকেই জানি। একটা আপেল বা একটা কলা খেয়ে বেশিক্ষণ থাকতে পারবেন না। ফলে আপনার খিদে খিদে ভাব দ্রুত ফিরে আসবে। এর সঙ্গে আপনার খাওয়া উচিৎ কোনও প্রোটিন ধরনের খাবার। ফলের সঙ্গে খেতে পারেন সামান্য পরিমাণ বাদাম, পনির, এক পিস বিস্কুট বা পাউরুটি।

চা বা কফি

এসব পানীয় খালি পেটে খেলে অ্যাসিডিটি তৈরি করে। বিশেষ করে যাদের গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা রয়েছে, তাদের জন্য খালি পেটে কফি পান করাটা অত্যন্ত ক্ষতিকর।

বিস্কুট বা চিপস

এমনটা হতে পারে যে আপনি ঘণ্টা খানেক পর লাঞ্চ করবেন। তাই এখন ভারি কিছু খেতে চাচ্ছেন না। কিন্তু তা বলে বিস্কুট বা চিপস একেবারেই নয়! ছোট এক প্যাকেট বিস্কুট বা চিপস বেশিক্ষণ পেটে থাকবে না। এছাড়া এসব খাবারে থাকা কার্বোহাইড্রেট কিছুক্ষণের মধ্যেই হজম হয়ে যাবে। ফলে আপনার খিদে খিদে ভাব দ্রুত ফিরে আসবে। সে ক্ষেত্রে খেতে পারেন ২৫০-৩০০ ক্যালোরির কোনো খাবার। যেমন- একটা স্যান্ডউইচ কিংবা কেক।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

দৈনন্দিন

খুসকি তাড়ানোর কয়েকটি ঘরোয়া টোটকা!

রান্নাঘর বা বাড়ির আনাচে-কানাচেই এমন অনেক জিনিস রয়েছে যা খুসকি সারাতে অব্যর্থ!

খুসকি খুবই কমন সমস্যা। চুল ঠিকমত ব্রাশ না করলে স্ক্যাল্পে রক্ত চলাচল ঠিকঠাক হয় না। এতে স্ক্যাল্পের সেল রিনিউয়াল প্রসেস ব্যাহত হয়। ফলে স্ক্যাল্পের ত্বকে মৃত কোষ জমতে থাকে। স্ক্যাল্প যদি কোনও কারণে খুব শুষ্ক হয়ে যায় অথবা যাদের স্ক্যাল্প এমনিতেই খুব শুষ্ক, তাদের ক্ষেত্রে খুসকির সমস্যা বেশি হয়। 

শুষ্ক আবহাওয়া, বারবার তাপমাত্রার পরিবর্তন ইত্যাদিও খুসকি তৈরির জন্য দায়ী। অনেকের ধারণা থাকে যে অতিরিক্ত শ্যাম্পু করলে স্ক্যাল্পের ক্ষতি হয়। কথাটা আংশিক ঠিকই। অতিরিক্ত শ্যাম্পু করলে স্ক্যাল্প ইরিটেটেড হয় এবং তা থেকে ড্যানড্রফ হয়। তবে তাই ভেবে যদি শ্যাম্পু খুব কম করা হয় তাহলেও কিন্তু স্ক্যাল্পের ক্ষতি। এক্ষেত্রে নোংরা, তেল, মৃত কোষ স্ক্যাল্পে জমতে থাকে। ফলে অপরিষ্কার স্ক্যাল্পে খুসকির সমস্যা বেড়ে যায়। 

এছাড়া, খাবারে যদি পর্যাপ্ত পরিমাণে ভিটামিন বি, জিঙ্কসহ কিছু নির্দিষ্ট ফ্যাট না থাকে তাহলেও খুসকির সমস্যা হতে পারে। 

সমাধান

শ্যাম্পু বদলালেই অনেক সময় পুরোপুরি সমস্যা সেরে যায়। আর যাদের সমস্যা খুব বেশি তাদের ক্ষেত্রে শুধু শ্যাম্পু বদলালেই হবে না। শ্যাম্পুর পাশাপাশি চাই বিশেষ যত্ন। রান্নাঘর বা বাড়ির আনাচে-কানাচেই এমন অনেক জিনিস রয়েছে যা খুসকি সারাতে অব্যর্থ! শুষ্ক স্ক্যাল্প থেকে যাদের খুসকির সমস্যা হয় তাদের জন্য রইল কিছু ঘরোয়া সমাধান।

১. আধা কাপ উষ্ণ গরম পানিতে সমপরিমাণ কাপ অ্যাপেল সিডার ভিনেগার বা সাধারণ ভিনেগার মিশিয়ে চুলে লাগিয়ে কিছুক্ষণ হাল্কা হাতে স্ক্যাল্প ম্যাসাজ করুন। এরপর ভালো করে পানি দিয়ে চুল ধুয়ে নিন। শ্যাম্পু করবেন না।

২. এক বাটি পানিতে ২ চা চামচ মেথি মিশিয়ে সারারাত রেখে দিন। সকালে সেটা মিক্সারে পেস্ট করে স্কাল্পে লাগিয়ে রাখুন ৩০ থেকে ৪৫ মিনিট। এরপর মাইল্ড শ্যাম্পু দিয়ে চুল ধুয়ে নিন।

৩. বেশ কয়েকটা নিমপাতা ৫ গ্লাস পানিতে সারারাত ভিজিয়ে রাখুন। সকালে সেই পানি ছেকে তা দিয়ে চুল ধুয়ে নিন। চাইলে পাতাসহ পানি নিয়ে পেস্ট করে মাস্কের মত স্ক্যাল্পে লাগিয়েও রাখতে পারেন। একঘন্টা রেখে পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।

৪. বাড়িতে ডাইনিং টেবিলে লবণের কৌটো সবারই থাকে। তবে বেশি ভাল হয় যদি এপসম সল্ট ব্যবহার করা যায়। ৩ টেবিল চামচ লবণ শুকনো অথবা সামান্য ভিজে স্ক্যাল্পে হাল্কা হাতে ঘষে নিন। ২ থেকে ৩ মিনিট রেখে ভাল করে শ্যাম্পু করে নিন।

৫. ২ টেবিল চামচ লেবুর রস ভালে করে স্ক্যাল্পে লাগিয়ে এক মিনিট রেখে দিন। আলাদা বাটিতে ১ চা চামচ লেবুর রস নিয়ে এক কাপ পানিতে মিশিয়ে নিন এবং তা দিয়ে চুল ধুয়ে নিন। বেশ কয়েকদিন এভাবে ব্যবহার করলে ভাল ফল পাবেন।

৬. এক কাপ উষ্ণ গরম পানিতে এক চা চামচ টি-ট্রি অয়েল মিশিয়ে নিয়ে স্প্রে বোতলে ভরে রেখে দিন। শ্যাম্পু করার পর পুরো স্ক্যাল্পে ভালো করে স্প্রে করে হাল্কা হাতে ম্যাসাজ করে নিন।

৭. চুল ধোয়ার ১৫ মিনিট আগে স্ক্যাল্পে অ্যালোভেরা জেল লাগিয়ে নিন। ১৫ মিনিট পর শ্যাম্পু করে ফেলুন।

৮. গোসলের আগে স্ক্যাল্পে নারকেল তেল ম্যাসাজ করুন। এক ঘন্টা রেখে শ্যাম্পু করে নিন। নারকেল তেল ড্যানড্রফ তাড়াতে খুব উপকারি।

৯. রসুন থেতো করে মধুর সাথে মিশিয়ে স্ক্যাল্পে লাগাতে পারেন। কিছুক্ষন রেখে ধুয়ে ফেলুন। উপকার পাবেন।

১০. অলিভ অয়েল ও ড্যানড্রফ তাড়াতে ভাল কাজ করে। ৮-১০ ফোটা তেল নিয়ে স্ক্যাল্পে হাল্কা হাতে ম্যাসাজ করুন। শাওয়ার ক্যাপ পরে সারারাত রেখে দিন। সকালে শ্যাম্পু করে নিন।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

দৈনন্দিন

খেজুর-চিকেন কারি!

একটু অন্যরকম স্বাদের হলেও পরোটা বা লুচির সঙ্গে কিন্তু অনবদ্য লাগবে খেতে!

উপকরণ

চিকেন কিমা- ২৫০ গ্রাম

ডিম- ১টা (সেদ্ধ)

খেজুর- ৮ থেকে ১০টা

বড় পেঁয়াজ- ১টা (বাটা)

রসুন- ৫ কোয়া (বাটা)

আদা বাটা- ২ চা চামচ

বড় টমেটো- ১টা (বাটা)

কাঁচা মরিচ- ৪টে (বাটা) 

কাশ্মীরি মরিচ গুঁড়ো- ১ চা চামচ

মেথি- সামান্য

সয়াবিন তেল- ৪ টেবিল চামচ

লবণ- স্বাদমত

প্রণালী

প্রথমে কড়াইতে সয়াবিন তেল দিন। তেল গরম হলে পেঁয়াজবাটা, রসুন ও আদা বাটা দিয়ে কষিয়ে নিন। যতক্ষণ না মশলা থেকে তেল ছাড়ছে কষাতে থাকুন। এরপর টমেটো বাটা দিন। স্বাদমত লবণ দিয়ে আবারও নাড়াচাড়া করুন। আঁচ মাঝারি রাখুন। টমেটোর পানি শুকিয়ে এলে চিকেন কিমা দিয়ে দিন।িআলাদা করে আর পানি দেওয়ার দরকার নেই। তেল ছাড়তে শুরু করলে খেজুর ও কাঁচা মরিচ বাটা মেশান। এই সময় কাশ্মীরি মরিচ গুঁড়ো দিতে পারেন, সুন্দর রং আসবে। ভাল করে সব মিশিয়ে ওপর থেকে মেথি ছড়িয়ে দিন। সেদ্ধ ডিম ওপরে ছোট টুকরো করে কেটে সাজিয়ে দিন। চাইলে সেদ্ধ ডিম কিমার ভেতরে দিয়েও নাড়াচাড়া করতে পারেন। 

একটু অন্যরকম স্বাদের হলেও পরোটা বা লুচির সঙ্গে অনবদ্য লাগবে!

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

দৈনন্দিন

ঠোঁটের মেক-আপ!

হালকা আর গাঢ় রঙের মিশেলে আরও জীবন্ত হয়ে ওঠে ঠোঁটের ভাষা, অনেকটা ঠিক থ্রি-ডি এফেক্টের মত!

লিপস্টিকের মতো জনপ্রিয় মেক-আপ সামগ্রী বোধহয় এই জগতে আর দু’টি হয় না! বেজ বা চোখের মেক-আপ না থাকলেও হবে কিন্তু ঠোঁটে রঙের ছোঁয়া থাকা চাই-ই চাই!  আর শুধু একটা রং নয়, আধুনিক মেক-আপ ট্রেন্ডে লিপ মেক-আপের ক্ষেত্রেও একাধিক রঙের বেশ চল শুরু হয়েছে। আর এর কেতাবি নাম হলো, “অমব্রে”। হালকা আর গাঢ় রঙের মিশেলে যেন আরও জীবন্ত হয়ে ওঠে ঠোঁটের ভাষা! অনেকটা ঠিক থ্রি-ডি এফেক্টের মত! জেনে নিন কীকরে করবেন।

১. অমব্রে লিপ করার জন্য যেকোনও দু’টি পছন্দের শেড বেছে নিতে পারেন, আবার একই রঙের হালকা ও গাঢ় শেডও চলবে। আর চাই ম্যাচিং লিপলাইনার ও প্রিসিশন ব্রাশ।

২.  লিপলাইনারের সাহায্যে নিখুঁত করে ঠোঁট আউটলাইন করে নিন। লিপস্টিকের সঙ্গে ম্যাচিং শেড ব্যবহার করাই ভাল।

৩.  এবার যেকোনও একটি শেডের লিপস্টিক দিয়ে পুরো ঠোঁট ফিল করে নিন।

৪. এবার ঠোঁটের দুই কোণ এবং লাইনারের রেখা ঘেঁষে দ্বিতীয় শেড লাগান। খেয়াল রাখবেন, দু’টো রংই যেন বোঝা যায়।

৫.  দু’টো রং যেখানে মিশেছে, শুধু সেই অংশে লিপ প্রিসিশন ব্রাশ ব্যবহার করে ব্লেন্ড করে নিন।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

দৈনন্দিন

ঘরের সাজ বদল!

বইয়ের তাক বা শো-কেস যাই হোক না কেন, অন্যভাবে সাজানো যায় সবই! একঘেয়েমি কাটাতে মাঝে-সাঝেই এদিক-ওদিক করুন ঘর সাজানোর জিনিসগুলো

ঘরকে নতুন করে সাজানোর বিশাল আয়োজনের প্রয়োজন নেই। একটু বুদ্ধি খরচ করলেই করে ফেলতে পারবেন বাড়ির মেকওভার! বইয়ের তাক বা শো-কেস যাই হোক না কেন, অন্যভাবে সাজানো যায় সবই! একঘেয়েমি কাটাতে মাঝে-সাঝেই এদিক-ওদিক করুন ঘর সাজানোর জিনিসগুলো।      

১.  ঘরের দেওয়ালে লেগে রয়েছে একগাদা দাগ! রান্নাঘরের দেওয়ালে তেল-কালির কথা আর নাই বা বললাম। দাগ তোলার জন্য আপনি কিন্তু ব্যবস্থা নিতে পারেন ঘরেই। এক কাপ গরম পানিতে এক চামচ সাবান মিশিয়ে ভাল করে ঘষলে টাইলসের দাগ উঠে যাবে।

গভীর দাগ তোলার জন্য এক মগ পানিতে ভিনিগার আর বেকিং সোডা মিশিয়ে নিন। ক্রেয়ন কালারের দাগ তুলুন টুথপেস্ট দিয়ে। পার্মানেন্ট মার্কারের দাগ হলে অ্যালকোহল দিয়ে ঘষলেই উঠে যাবে।

২. একইরকম রং ঘরের দেওয়ালে দেখে বিরক্ত হয়ে গিয়েছেন? পুরো বাড়ি, ঘরে রং করা এই ক’দিনে সম্ভব নয়। কিন্তু কোনও একটা দেওয়াল হাইলাইট করার কথা ভাবতে পারেন। এটাই আপনার ঘরের লুককে এক নিমেষে বদলে দেবে। সুন্দর দেখতে নানারকম ওয়ালপেপার আজকাল পাওয়া যায়। রং করতে না চাইলে সেগুলো ট্রাই করে দেখতে পারেন।

৩. রান্নাঘরের লুক বদলাতে তেল-ঝুল পরিষ্কার করে রান্নাঘর রং করে ফেলুন। মশলার কৌটো বদলান। কিচেন ম্যাট, টাওয়েল বদলে দিন। কাঠের ম্যাট বা মাদুরের ম্যাট পাওয়া যায়, সেগুলো কিনতে পারেন। যে-বাসনগুলো বা নন-স্টিকগুলো পুরনো হয়ে গেছে এবার সেগুলো বদলে দিয়ে নতুন কিনুন।

৪.  ঘরের আলো কিন্তু ঘরের চেহারা অনেক বদলে দিতে পারে। সুন্দর দেখতে টেবলল্যাম্প কিনুন। হ্যাঙ্গিং ল্যাম্পশেডও কিনতে পারেন। ঘরে হাইলাইট করা দেওয়াল থাকলে তা অন্যরকমভাবে সাজান।

৫. দেওয়ালে ছবি রাখতে পারেন, দেওয়াল ঘড়িটাকে পালটে নতুন কোনও ঘড়ি কিনতে পারেন। আজকাল নানারকম ডেকোরেটিভ ওয়াল-আর্টও পাওয়া যায়। সেগুলোও লাগাতে পারেন দেওয়ালে।

৬. আজকাল বাড়িতে বা ঘরে অনেকেই ইনডোর প্ল্যান্ট রাখেন। ঘরের মধ্যে একটা সবুজ গাছ থাকলে মনটাও ভাল হয়ে যায়। বড় গাছ যদি চান তাহলে স্নেক প্ল্যান্ট, উইপিং ফিগ, ফিডল লিফ ফিগ টবে লাগিয়ে ড্রয়িং বা ডাইনিং রুমের একপাশে রাখতেই পারেন। আর যদি খাটের পাশে বা অন্য কোথাও ছোট গাছ লাগাতে চান, তা হলে মানি প্লান্ট, অ্যালোভেরা, ইংলিশ আইভি, অ্যাসপারাগাস ফার্ন আপনার জন্য ভাল অপশন হতে পারে।

৭. বিছানা বা সোফার কুশন, কভার বদলে দিতে পারেন। নতুন পর্দা লাগান। ঘরের চেহারাই বদলে যাবে। আজকাল অনেক সুন্দর, অন্যরকম ডিজাইনের বেড কভারও পাওয়া যায়। আপনার ঘরকে নতুন সাজে সাজাতে সেগুলো করে দেখতে পারেন। বদলে দিতে পারেন টেবিল কভারও।    

 ৮. হঠাৎ করে বাড়ির আসবাব তো বদলাতে পারবেন না। তাই ঘরে ছোটখাটো পরিবর্তন আনুন। আজকাল সুন্দর ডিজাইনার আয়না পাওয়া যায়, সেগুলো লাগাতে পারেন। 

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com