আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

দৈনন্দিন

অপরাধের বিচারের ক্ষেত্রে ভিকটিম ব্লেমিং কতটা প্রভাব ফেলে?

সম্প্রতি সময়ে বাংলাদেশে বেশ কয়েকটি চাঞ্চল্যকর ধর্ষণের ঘটনা সামনে আসার পর এই অপরাধটি নিয়ে নানা ধরণের তর্ক-বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

একদিকে যেমন ধর্ষণের শাস্তি মৃত্যুদণ্ড করার দাবি উঠেছে ঠিক তেমনি অন্যদিকে আবার ধর্ষণের পেছনে ভুক্তভোগীদের ভূমিকা বা পরোক্ষ ইন্ধন থাকার মতো বিষয়গুলো নিয়েও কথা বলছেন অনেকে।

এর মধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে বাংলাদেশের চলচ্চিত্র তারকা অনন্ত জলিলের একটি ভিডিও। যেখানে তিনি নারীদেরকে টি-শার্টের মতো পোশাক পরা নিয়ে কটাক্ষ করেন।

তার মতে, নারীদের এ ধরণের পোশাক ধর্ষণের মতো অপরাধকে উস্কানি দেয়।

তার এই পোস্ট নিয়ে নানা ধরণের ট্রলসহ এর বিরুদ্ধেও আওয়াজ তুলেছেন অনেকে।

অনেকে বলছেন যে, পোশাক নিয়ে মন্তব্য করে মি. জলিল ধর্ষণের মতো অপরাধের শিকার ব্যক্তিদেরকেই আসলে দোষারোপ করছেন।

তিনি ভিকটিম ব্লেমিং করছেন বলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেকে অভিযোগ তুলেছেন।

ভিকটিম ব্লেমিং কী?

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভিকটিম ব্লেমিং হচ্ছে এক ধরণের চর্চা। এটা সাধারণত যৌন নির্যাতন বা ধর্ষণের ক্ষেত্রেই সবচেয়ে বেশি শুনতে পাওয়া যায়।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক তাসলিমা ইয়াসমিন বলেন, “পিতৃতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থা এবং এতো বছর ধরে চলে আসা নারী বিদ্বেষ, আমাদের সংস্কৃতিতে অনেক শক্তিশালী।”

তিনি বলেন, যখনই কোন ধর্ষণ কিংবা যৌন নির্যাতনের ঘটনা ঘটে তখন সমাজের বেশিরভাগ মানুষের নজর চলে যায় যে এটা কেন হল, কনটেক্সটা কোথায়। “প্রশ্ন আসে যে, শাড়ি কিভাবে পড়েছে, শাড়িটা কেমন ছিল, ওড়না ছিল না, এতো রাতের বেলা বের হয়েছে কেন-এগুলো সবই ভিকটিম ব্লেমিং। এর ফলে অ্যাটেনশনটা আর অপরাধীর উপর থাকে না। ভিকটিমের স্বভাব চরিত্রের উপর গিয়ে পড়ে।”

এ বিষয়ে মানবাধিকার আইনজীবী এলিনা খান বলেন, ভিকটিম ব্লেমিং দুই ধরণের হয়ে থাকে।

আরো পড়ুন:

প্রথম ক্ষেত্রে বলা হয় ধর্ষণ কিংবা যৌন নির্যাতনের ক্ষেত্রে যে, ভিকটিম চরিত্রহীন, লম্পট, খারাপ- যার কারণে সে মিথ্যা কথা বলছে। যার বিরুদ্ধে অভিযোগ এনেছে সেটা মিথ্যা। সে হয়তো নিজের ইচ্ছায় গেছে। ব্ল্যাক মেইলিং করতে না পেরে অভিযোগ এনেছে।

দ্বিতীয় ক্ষেত্রে দেখা যায় যে, জমি-জমা কিংবা পূর্ব শত্রুতার জেরে কোন নারীর স্বজন কিংবা স্বামী কোন কারো বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ বা মামলা দায়ের করে ওই নারীকে জড়িয়ে। আর সেটি মিথ্যা প্রমাণিত হওয়ার পর ওই নারীকেই দোষারোপ করা হয় যে, সে মিথ্যা বলেছে। অথচ এক্ষেত্রে সে নিজেও স্বজনদের ষড়যন্ত্রের কারণে ভিকটিম।

আইন বিভাগের শিক্ষক তাসলিমা ইয়াসমীন মনে করেন, ভিকটিম ব্লেমিংয়ের চর্চা সামাজিক অবস্থার সাথে সাথে বিচার ব্যবস্থা বা বিচার প্রক্রিয়াতেও প্রতিফলিত হয়।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের সমাজের যে পিতৃতান্ত্রিক মন-মানসিকতা তার অংশ সমাজের সব মানুষ। আর সেই সাথে বিচার ব্যবস্থা ও এর বিভিন্ন পর্যায়ে যেসব ব্যক্তি বা সংশ্লিষ্ট সংস্থা রয়েছে তারাও এটার অংশ।

অভিযোগকারীকে সন্দেহ করার এবং অপরাধীকে নিরপরাধ ভাবার যে প্রবণতা, বিচার ব্যবস্থার প্রতিটি ধাপে একজন ভুক্তভোগীকে তার মুখোমুখি হতে হয়।

মিজ ইয়াসমিন বলেন, সাধারণ কোন অপরাধের মামলায় একজন অভিযোগকারীকে যত না প্রমাণ দিতে হয়, ধর্ষণ বা যৌন নির্যাতনের মামলায় তাকে আরো অনেক বেশি প্রমাণ হাজির করে তারপর অভিযোগ প্রমাণ করতে হয়।

“তখন তাকেও অপরাধীর মতোই তাকে গণ্য করা হয়।”

ভিকটিম ব্লেমিং কেন হয়?

এ বিষয়ে সমাজবিজ্ঞানী সাদেকা হালিম বলেন, আমরা এখনো নারীদের সমাজে অধস্তন হিসেবে ভাবি।

এক ধরণের মনোভাব আছে যে, নারীরা নিজেরা নিজেদের দায়-দায়িত্ব নিয়ে চলাফেরা করবে। কী ধরণের পোশাক পড়বে, কেমন আচরণ করবে, কেমন করে চলাফেরা করবে-তার সবকিছুর দায় দায়িত্ব তাকে নিতে হবে।

তিনি বলেন, এ ধরণের বিষয়গুলোর সাথে ধর্ষণের ঘটনাকে এক করে ফেলা হয়। সেটাকেও তার দায় বলে ধরে নেয়া হয়।

অনন্ত জলিলের ভিডিওর কথা উল্লেখ করে সাদেকা হালিম বলেন, “অনন্ত জলিল যেসব মন্তব্য করেছে, সে তো ভিকটিম ব্লেমিংকে রি-ইনফোর্স করেছে তার কমেন্ট দিয়ে।”

তিনি বলেন, ধর্ষণ যেমনই হোক না কেন তার বিচার হতে হবে। এক্ষেত্রে সন্ধ্যা সাতটার সময় একজন নারী কোথায় ছিল, সেকি বন্ধুর সাথে ছিল কিনা, সে সিনেমা দেখতে গেছে কিনা-এসব বিষয় গুরুত্বপূর্ণ নয়। কারণ এগুলো তার সাংবিধানিক অধিকার।

গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষক ড. কাবেরী গায়েন বলেন, এক সময় নারীরা ধর্ষণ বা যৌন নির্যাতনের মতো ঘটনায় অভিযোগ দায়ের করতে চাইতো না লুকিয়ে রাখতো। যার কারণে অপরাধীরা পার পেয়ে যেতো।

কিন্তু এখন নারীরা আওয়াজ তুলছে এবং ধর্ষণের ঘটনায় অভিযোগ করছে। যার কারণে অপরাধীর অপরাধ ভিন্ন পথে ঘুড়িয়ে দেয়ার জন্য ভুক্তভোগীকেই দোষারোপ করা হয়।

বলা হয় যে, তার পোশাক ভাল ছিল না, ও রাতের বেলা গিয়েছিল, ছেলে বন্ধুর সাথে ছিল ইত্যাদি নানা ধরণের পাল্টা অভিযোগ তোলা হয়।

“যাতে করে অপরাধটাকে অপরাধীর কাছ থেকে সরিয়ে নিয়ে ভিকটিমের দিকে দিয়ে অপরাধীকে আড়াল করা যায় বা অপরাধীর অপরাধকে লঘু করা যায়। আর এই ক্যাচালের মধ্য থেকে অপরাধী পার পেয়ে যায়,” তিনি বলেন।

তিনি মনে করেন, এই ধরণের চর্চা চলতে থাকলে, ভুক্তভোগী আরো বেশি করে শিকার হওয়ার ভয়ে অভিযোগ বা প্রতিবাদ করবে না, পাশাপাশি যে অপরাধী সে নিশ্চিন্ত মনে অপরাধ চালাতে থাকবে।

“ফলে অপরাধের যে অভয়ারণ্য সেটি মুক্ত হয়ে যাবে। আর এর ফলাফল হবে মারাত্মক।”

এটা বিচার ব্যবস্থায় কতটা প্রভাব ফেলে?

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শিক্ষক তাসলিমা ইয়াসমীন বলেন, বাংলাদেশের আইনে বলা আছে যে যদি কোন বিচারক মনে করেন যে কোন ভিকটিমের জবানবন্দীই বিচারের জন্য যথেষ্ট, তাহলে তিনি সেই জবানবন্দী অনুযায়ী রায় দিতে পারেন। এটা নিয়ে আইনে কোন বাধা নেই।

কিন্তু বাংলাদেশে এমন কোন কিছু তো হয়ই না, বরং উল্টো জবানবন্দী ছাড়াও তাকে নানা ধরণের প্রমাণাদি দিয়ে সেটা প্রমাণ করতে হয়। যার কারণে ধর্ষণ মামলার বিচারের সংখ্যা গিয়ে দাঁড়িয়েছে ৩ শতাংশে।

জবানবন্দীতে যখন সন্দেহ এতো বেশি, এটা হয়ে থাকে ভিকটিম ব্লেমিংয়ের বিষয়টি থেকে। এটা শুধু সামাজিক অবস্থার উপর প্রভাব ফেলে তা নয় বরং বিচার ব্যবস্থার উপরও প্রভাব ফেলে।

তিনি বলেন, সামাজিক প্রভাবটা বিচার ব্যবস্থাকেও প্রভাবিত করে। এটা যখন বিচারে ঢুকে যায় তখন তার প্রভাব ন্যায়বিচার পাওয়ার উপরও থাকে। যখন জবানবন্দীর উপর সন্দেহ থাকে তখন প্রমাণাদির গুরুত্ব বাড়ে। আর তখন একটু এদিক-সেদিক হলেই অপরাধী পার পেয়ে যাওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হয়।

মানবাধিকার আইনজীবী এলিনা খান বলেন, এক সময় বাংলাদেশে তোলপাড় হয়েছিল যে, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মিথ্যা মামলা হয়েছিল।

তিনি জানান, তখন তারা একটি জরিপ চালিয়ে দেখেছেন যে, এই অভিযোগের কারণে অনেক নারীই আসলে আইনের আশ্রয় নিতে পারছে না।

তিনি বলেন, ভিকটিম ব্লেমিংয়ের কারণে প্রথমত থানায় কর্মকর্তারা অনেক সময় ধর্ষণ বা যৌন নির্যাতনের মামলা নিতে গড়িমসি করে।

দ্বিতীয়ত এটি যখন আদালতে গড়ায়, তখন আসামীপক্ষের আইনজীবী ভুক্তভোগীর চরিত্র নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। কারণ বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী, আসামীপক্ষের আইনজীবীর অবাধ স্বাধীনতা থাকে ভুক্তভোগীকে জিজ্ঞাসাবাদ করার। তার চরিত্র নিয়ে প্রশ্ন তোলার।

যার কারণে সাক্ষীর উপর চাপ পড়ে এবং মামলাটি অনেক সময় দুর্বল হয়ে যায় বলে জানান আইনজীবী এলিনা খান।

বিচার শেষ হওয়ার পর যদি আসামী পার পেয়ে যায় প্রমাণাদির অভাবে তাহলে সব দোষ তখন ভুক্তভোগীর উপর এসে পরে এবং ওই নারী সম্পর্কে সবার খারাপ ধারণা জন্মায়। কিন্তু সে যে একই সাথে ভিকটিম এবং বিচারও পায়নি সেটি কেউ বিবেচনায় নেয় না।

সমাজবিজ্ঞানী সাদেকা হালিম মনে করেন, ভিকটিম ব্লেমিং যে কোন অপরাধের ঘটনাকে হালকা করে দেয়।

তিনি বলেন, এর কারণে কোন অপরাধের তদন্ত, তার বিচার এবং অন্য আইনি বিষয়গুলোর উপর নেতিবাচক প্রভাব সৃষ্টি করে ভিকটিম ব্লেমিং। এমনকি তদন্তের মোড়ও অনেক সময় এর কারণে ঘুরে যেতে পারে বলে মনে করেন তিনি।

বিশেষজ্ঞরা বলেন, ভিকটিম ব্লেমিংয়ের প্রভাব থেকে বেরিয়ে আসতে হলে, বিচার ব্যবস্থার সাথে যারা জড়িত তাদের ধর্ষণের প্রতি সংবেদনশীলতা বাড়াতে হবে। প্রো-ভিকটিম অ্যাপ্রোচ বা অভিযোগকারীর প্রতি সহানুভূতিশীলতা বাড়ানো দরকার। আর এ ক্ষেত্রে সুপ্রিম কোর্ট পদক্ষেপ নিতে পারে বলে মনে করেন তারা।

দৈনন্দিন

ইফতারিতে হালিম-দই-জিলাপির সঙ্গে এবার হাড়িভাঙা আম

প্রতিবছর রোজায় বুট, বুন্দিয়া, বেগুনি দিয়ে ইফতারি করি। এবার আমের মৌসুমে রোজা, দামও কম। তাই প্রতিদিন ফজলি আম দিয়েই ইফতার করে তৃপ্তি পাচ্ছি। বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. তুহিন ওয়াদুদ বললেন, এবার ইফতারির তালিকা থেকে ভাজা-পোড়া খাবার বাদ দিয়ে রংপুরের ঐতিহ্য হাঁড়িভাঙা আম রেখেছি। আম দিয়ে ইফতারির পর বেশ তরতাজা মনে হয়।

রংপুরে হোটেল-রেস্তোরাঁ ও কনফেকশনারিগুলোতে জিলাপি, বাখরখানি, মাংসের রেজালা, মাসকেট হালুয়া, জালি কাবাব, রাসমতি, টিকা কাবাব, কলিজির চপ, রাজভোগ, ফালুদা, ডিমের চপ, চিকেন ফ্রাই, পাটিসাপটা পিঠা তৈরি করলেও এবার ইফতারিতে এসবের খুব একটা কদর নেই। ইফতারিতে বুট, বুন্দিয়া, বেগুনি আর পিয়াজুর আমেজ পুরনো হয়ে গেছে। এ বছর ইফতারিতে হাড়িভাঙা আমের কদর সবচেয়ে বেশি। এরপরই রয়েছে বৈশাখীর হালিম ও দইবড়ার কদর। নগরীর বিভিন্ন ইফতারি দোকান ঘুরে এবং রোজাদারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ভাজা-পোড়ার চেয়ে আম বা ফলমূল দিয়ে ইফতারি করা ভালো। নগরীর মেডিকেল মোড়ে বৈশাখী হোটেল ও রেস্তোরাঁয় তৈরি হয় ঐতিহ্যবাহী দইবড়া এবং হালিম। রোজার মাসে কেবল এসব খাবার তৈরি করা হয়। টক দইয়ের মধ্যে মাসকলাইয়ের ডালের বড়া দেওয়া হয়। এভাবে তৈরি হয় দইবড়া। ছোট ছোট প্লাস্টিকের বাটিতে প্রতিটি দইবড়া বিক্রি হচ্ছে ২০ টাকা করে। আর হালিম বিক্রি হচ্ছে ৬০, ১২০, ১৫০ ও ২৫০ টাকা বাটি। গতকাল বিকালে মুন্সিপাড়া থেকে ক্রীড়াবিদ নুর শাহিন ইসলাম লাল বৈশাখীর হালিম ও দইবড়া কিনতে আসেন। তিনি জানালেন, প্রতিদিন ইফতারিতে বৈশাখীর হালিম ও দইবড়া চাই। স্বাদ মুখে লেগে থাকে বলে প্রতিদিন ছুটে আসি হালিম ও দইবড়া কিনতে। হালিম ও দইবড়া ছাড়া ইফতারে পূর্ণতা আসে না।

বৈশাখী হোটেলের স্বত্বাধিকারী ফজলুল হক বলেন, চাহিদা অনুযায়ী দইবড়া ক্রেতাদের সরবরাহ করা সম্ভব হয় না। কারণ তৈরি করতে বেশ সময় লাগে। দুপুরের পর থেকে হালিম বিক্রিতে উপচে পড়া ভিড় জমে। জিনিসপত্রের দাম বেড়ে যাওয়ায় হালিমের দাম বাড়ানো হয়েছে। কাচারি বাজারে মহুয়া কনফেকশনারি ও মৌবন কনফেকশনারি বুট, বুন্দিয়া, বেগুনি ও পিয়াজুর পাশাপাশি নতুন করে বিক্রি করছে মাংসের রেজালা, মাসকেট হালুয়া, জালি কাবাব, রাসমতি, টিকা কাবাব, কলিজির চপ। মহুয়া কনফেকশনারির স্বত্বাধিকারী মুন্না মিয়া বলেন, ইফতারিতে আলাদা স্বাদ আনতে নতুন নতুন খাবার তৈরি করা হচ্ছে। এ ছাড়া নগরীর জাহাজ কোম্পানি মোড়ের স্বাদ কনফেকশনারি, নিউ স্বাদ কনফেকশনারি, মিঠু হোটেল, সেন্ট্রাল রোডের খালেক হোটেল, দেশ রেস্টুরেন্ট, সাতমাথার বিসমিল্লাহ হোটেল ও রেস্তোরাঁ, ভাই ভাই হোটেল, লালবাগের নূরানী হোটেল ও রেস্তোরাঁ ইফতারিতে নতুন ইফতারি সামগ্রী সংযোজন করেছে। জেলা স্বাস্থ্য পরিদর্শক মাহবুবুর রহমান জানান, ইফতারির দোকানগুলোতে ভেজালবিরোধী অভিযান শুরু হয়েছে। এখন পর্যন্ত বাসি ও ভেজাল মেশানো খাদ্য পাওয়া যায়নি। বিক্রি হচ্ছে ফরমালিনমুক্ত আম।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

দৈনন্দিন

ডাবের পানি খেলে কী হবে?

গরমের সময় তৃষ্ণা মেটাতে আমরা নানা ধরনের পানীয় পান করে থাকি। তারমধ্যে ডাবের পানি অন্যতম। ডাব কিন্তু স্বাস্থ্যের জন্যও বেশ উপকারী। এটি কোনো কৃত্রিম পানীয় নয়। শরীর থেকে যেসব লবণ গরমের কারণে বের হয়ে যায় তা পূরণ করার জন্য আমাদের খাদ্য তালিকায় নানা ধরনের ফলের সরবত, কোমল পানীয়র পাশাপাশি ডাবের পানি রাখা যায়।  

ডাবের পানি শুধু পানীয় হিসেবেই উপকারী তা নয়, ডাবের পানিতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে খনিজ লবণ ও নানা রকম রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা, যা অনেক জটিল রোগ নিরাময়ে সাহায্য করে। ডিহাইড্রেশনের মোকাবিলা থেকে শুরু করে শরীরের ইমিউনিটি গড়ে তোলাসহ নানা গুণ রয়েছে ডাবের পানিতে। আসুন জেনে নেই ডাবের পানির কিছুর উপকারিতা সম্পর্কে-ডিহাইড্রেশন-

অতিরিক্ত গরমের ফলে শরীরে ঘামের সঙ্গে প্রয়োজনীয় পানি বের হয়ে যায়। আবার কখনও অতিরিক্ত গরমে বমির ফলেও অতিরিক্ত পানি শরীর থেকে বের হয়ে যায়। প্রয়োজনীয় পানি শরীর থেকে বের হয়ে যাবার ফলে ডিহাইড্রেশনের মত সমস্যা হয়। ডাবের পানি শরীরে এই পানির ঘাটতি পূরণ করে। এতে আছে কার্বোহাইড্রেড যা এনার্জি বাড়ায়।  

ব্লাড প্রেসার নিয়ন্ত্রণ করে-

ব্লাড প্রেসার নিয়ন্ত্রণ করতে ডাবের পানি বেশ কার্যকরী। কারণ এতে আছে ম্যাগনেসিয়াম, পটাশিয়াম ও ভিটামিন সি যা ব্লাড প্রেসারকে নিয়ন্ত্রণ করে। মনে রাখবেন ডাবের পানি একটু মিষ্টি হয় তাই ডায়াবেটিসের সমস্যায় অতিরিক্ত না খাওয়াই ভালো।

হার্টের সমস্যা দূর করে-

ডাবের পানি হার্টকে ভালো রাখতেও সাহায্য করে। হার্টকে ভালো রাখতে খাবারের তালিকায় ডাবের পানি যোগ করতে পারেন। এটা প্রমাণিত, ডাবের পানি হার্ট অ্যাটার্কের সম্ভবনা অনেকটা কমায়। এটি হাইপারটেনশনও কমায়।

মজবুত হাড়-

হাড়কে মজবুত রাখার জন্য দরকার ক্যালসিয়াম ও আরও অনেক পুষ্টিগুণ। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, ডাবের পানিতে ক্যালসিয়াম আছে যেটা হাড়ের জন্য একটি অতি প্রয়োজনীয় উপাদান। এবং ম্যাগনেসিয়াম যেটা হাড়কে ভালো রাখতে সাহায্য করে।  

ত্বকের সমস্যা-

ডাবের পানি ত্বককে চকচকে করার পাশাপাশি, এটি প্রাকৃতিক ময়েশচারের কাজ করে। এর পাশাপাশি ত্বক তৈলাক্ত হলে ত্বকের অতিরিক্ত তেলকে দূর করে। এবং ত্বককে ময়েশচারাইজড করে।  

চুলের সমস্যায়-

ত্বকের সঙ্গে চুলের সমস্যা ও চুলকে ভালো রাখতেও ডাবের পানি উপকারী। ডাবের পানি স্ক্যাল্পে রক্ত সঞ্চালন বাড়ায়। 

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

দৈনন্দিন

চিনে নিন নকল ঘি

সৌখিন রান্না হোক বা ত্বক-চুলের চর্চা আমাদের নির্ভরতা বিশুদ্ধ ঘি-এ। খাঁটি ঘি এর উপকারিতা অনেক, কিন্তু নকল ঘি খেলে বা ত্বকে ব্যবহার করলে উপকার তো হয়ই না বরং ক্ষতি হওয়ার ঝুঁকি থাকে।

শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখে, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়, হজমে সাহায্য করে, শরীরের দুর্বলতা সারিয়ে তুলতে ঘিয়ের জুড়ি মেলা ভার। ত্বকে আর্দ্রতা ধরে রাখে ভিটামিন ই ও কে সমৃদ্ধ ঘি। এসব উপকারিতা পেতে আমরা আসল ঘি খোঁজ করি।

আজকাল সবাই বলছেন পাবনার ঘাঁটি ঘি আপনার ঘরে পৌঁছে দিচ্ছে, কিন্তু আসলেই ঘি খাঁটি কিনা এটা চেনার উপায় জানেন তো? না জানলে তো ঠকতে হবে। সহজে চিনবেন কী করে, আসুন জেনে নিন:    

এক চামচ ঘি হাতের তালুতে নিন। তার পর সেই ঘি দুই হাতে ঘষুন। যদি দেখেন, দানার মতো কিছু ঘঁষা খাচ্ছে, তা হলে বুঝবেন ঘি আসল নয়। এছাড়া ১৫ মিনিট পর যদি হাত থেকে ঘিয়ের গন্ধ উবে যায়, তা হলেও বুঝবেন ঘি নকল।   

একটি পাত্রে এক চামচ ঘি ঢালুন। তার পর তাতে কিছুটা চিনি ও হাইড্রোক্লোরিক অ্যাসিড মিশিয়ে দিন। ঘিয়ের রং বদলে লাল হলে বুঝবেন রাসায়নিক মেশানো হয়েছে। এক চামচ ঘি-তে আয়োডিন ফেলেও দেখতে পারেন। ঘিয়ের রং নীল হলে বুঝবেন নকল।   আর যদি তরলের রঙের কোনো পরিবর্তন না হয় তাহলে বুঝতে হবে বিশুদ্ধ বা আসল।  

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

দৈনন্দিন

কোষ্ঠকাঠিন্য কমায় চালকুমড়া

লেখক

চালকুমড়া পরিচিত একজি সবজি। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ঘরের চালে এ সবজি হয় বলে এটি চাল কুমড়া নামে পরিচিত। তবে এই সবজিটি মাচায় এবং জমিতেও চাষ করলে ফলন ভালো হয়। তরকারি হিসেবে খাওয়া ছাড়াও এই সবজি দিয়ে মোরব্বা, হালুয়া, পায়েস ও বড়ি তৈরি করে খাওয়া যায়।

শুধু চাল কুমড়োই নয় এর কচি পাতা ও ডগা শাক হিসেবে খাওয়া যায়। চালকুমড়াতে বিভিন্ন ধরনের ভিটামিন, খনিজ, শর্করা ও ফাইবার পাওয়া যাওয়ায় এটি শরীরের জন্য দারুন উপকারী। নিয়মিত চালকুমড়া খেলে যেসব উপকারিতা পাওয়া যায়-

১. চালকুমড়াতে অ্যান্টি মাইক্রোবিয়াল উপাদান থাকায় এটি পেট এবং অন্ত্রের ক্ষতিকারক ব্যাকটেরিয়া দূর করতে সাহায্য করে। এটি গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল সংক্রমণ বা আলসার রোগের বিরুদ্ধে লড়াই করে। এটি পাকস্থলিতে তৈরি হওয়া অ্যাসিড দূর করতে সাহায্য করে।

২. চালকুমড়া মানসিক রোগীদের জন্য ওষুধ হিসেবে কাজ করে, কারণ এটি মস্তিষ্কের নার্ভ ঠান্ডা রাখে। এজন্য চাল কুমড়োকে ব্রেইন ফুড বলা হয়।

৩. প্রতিদিন চাল কুমড়ার রস খেলে যক্ষ্মা রোগের উপসর্গ কেটে যায়। চাল কুমড়ো রক্তপাত বন্ধ করতে সাহায্য করে।

৪. চাল কুমড়া শরীরের ওজন ও মেদ কমাতে অনেক উপকারী । এটি রক্তনালীতে রক্ত চলাচল সহজ করে। চাল কুমড়া অধিক ক্যালরি যুক্ত খাবারের বিকল্প হিসেবেও খাওয়া যায়।

৫. মুখের ত্বক এবং চুলের যত্নেও চাল কুমড়ার রস অনেক সাহায্য করে। চাল কুমড়োর রস নিয়মিত চুল ও ত্বকে মাখলে চুল চকচকে হয় এবং ত্বক সুন্দর হয়। ত্বকে বয়সের ছাপ প্রতিরোধ করতেও চাল কুমড়া সাহায্য করে।

৬.চাল কুমড়োর বীজ গ্যাস্ট্রিক রোগ নিরাময়ে ভূমিকা রাখে। কোষ্ঠকাঠিন্য, পেট ফাঁপা এবং প্রস্রাব কোনও কারণে অনিয়মিত হয়ে গেলে চাল কুমড়া খেলে উপকার পাওয়া যায়।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

দৈনন্দিন

সারাদিন ক্লান্ত লাগলে বুঝবেন যে সমস্যায় ভুগছেন

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com