আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

এগ্রোটেক

অন্যরকম জাপানের কৃষি

প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপ দেশ জাপান। ব্যাপক শিল্পায়নসহ নানাবিধ কারণে বর্তমানে এখানকার আবাদযোগ্য ভূমি মাত্র ১৩ শতাংশ। এর মধ্যে আবার বড় একটি অংশ অবস্থিত পাহাড়ি খাড়া অঞ্চলে। সেখানে ধান বা অন্যান্য ফসল উৎপাদন করতে হয় টেরেস ফার্মিং পদ্ধতিতে (পাহাড়ি জমি তাকের মতো স্তরে স্তরে কেটে সেখানে ফসল ফলানো পদ্ধতি)। তবে এখানকার আবহাওয়া বরাবরই ছিল চাষাবাদের অনুকূলে। পাশাপাশি পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত, জমির বাড়তি উর্বরাশক্তি ও প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে আবাদযোগ্য স্বল্প জমিতেই ব্যাপক নিবিড় আকারে শস্য উৎপাদন বাড়াতে সক্ষম হয়েছে জাপান।

আবাদযোগ্য ভূমির পরিমাণ যত কমই হোক না কেন, প্রকৃতপক্ষে জাপানের প্রতিটি অংশেই কৃষির উপস্থিতি দেখা যাবে। দেশটির কৃষিতে উত্তরাঞ্চলীয় দ্বীপ হোক্কাইডোর এক বিশেষ অবস্থান রয়েছে। জাপানের মোট কৃষি উৎপাদনের ১০ শতাংশই আসে হোক্কাইডো থেকে।

পৃথিবীর অন্যান্য এলাকার মতো জাপানের কৃষকদেরও একসময় প্রচণ্ড দারিদ্র্য আর অনটনে দিন কাটাতে হয়েছে। বিশেষ করে সামন্ত যুগের শেষ পর্যায়ে এসে জাপানজুড়ে যে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা দেখা দেয়, তার ঝড়ঝাপটা সেখানকার কৃষকদের ওপর দিয়েই বয়ে গেছে সবচেয়ে বেশি। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালেও অভাব-অনটন আর দারিদ্র্য ছিল জাপানের কৃষকদের নিত্যসঙ্গী। সে সময়ও দেশটির কৃষিজমির পুরোটাই কুক্ষিগত ছিল গোটাকতক জমিদার ও সামন্ত ভূস্বামীর হাতে। এসব জমিদার ও সামন্ত ভূস্বামী রাজনৈতিকভাবে বেশ ক্ষমতাবান ছিল। এদের অত্যাচার আর নিপীড়নের বিরুদ্ধে অসংখ্যবার বিদ্রোহ করেছেন জাপানের কৃষকরা।

পরিস্থিতির বদল ঘটে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর। মহাযুদ্ধে জাপান হেরে গেলেও দেশটির কৃষকদের জন্য তা শাপে বর হয়ে ওঠে। ১৯৪৬-৫২ সাল পর্যন্ত জাপানে দখলদারিত্ব বজায় রাখার পাশাপাশি দেশটির অর্থনৈতিক পুনর্গঠন কার্যক্রমে হাত দেয় যুক্তরাষ্ট্র। ম্যাকআর্থার প্রশাসনের অধীনে সে সময় যে কয়টি ইতিবাচক পদক্ষেপ নেয়া হয়েছিল, তার মধ্যে একটি ছিল কৃষি সংস্কার কর্মসূচি। জাপানের ক্ষুদ্র চাষীরা এ সংস্কার কর্মসূচির পূর্ণ সুফল ভোগ করেছেন।

দ্বিতীয় মহাযুদ্ধে জাপানের আগ্রাসী ভূমিকার পেছনে সেখানকার সামন্ত ও জমিদারদের ব্যাপক ভূমিকা ছিল। মহাযুদ্ধে জাপানের পরাজয়ের পর দেশটিতে ঘাঁটি গেড়ে বসল মার্কিন নেতৃত্বাধীন মিত্র বাহিনী। সামন্ত ও জমিদারদের দৃশ্যপট থেকে সরিয়ে দেয়ার উদ্যোগ নিল দখলদার ম্যাকআর্থার প্রশাসন। অর্থনৈতিক সংস্কার কার্যক্রমের অংশ হিসেবে জাপান সরকারকে দিয়ে মোট কৃষিজমির দুই-তৃতীয়াংশ কম দামে কিনিয়ে নেয়া হলো। এরপর তা কম দামেই বিক্রি করে দেয়া হলো ক্ষুদ্র কৃষকদের কাছে।

ম্যাকআর্থার প্রশাসনের এ সংস্কার কার্যক্রম জাপানের ক্ষুদ্র কৃষকদের ভাগ্য ফিরিয়ে দিল। যদিও অতিরিক্ত মূল্যস্ফীতির কারণে শুরুর দিকে তাদের মুনাফা সীমিত হয়ে পড়েছিল। সংস্কারের আগে জাপানে মোট কৃষিজমির মাত্র ২৩ শতাংশের ওপর মালিকানা ছিল কৃষকের। সংস্কার কার্যক্রমের বদৌলতে ১৯৮০ সালের দিকে এসে দেখা গেল, দেশটির মোট কৃষিজমির পুরোটাই চলে গেছে কৃষকের মালিকানায়।

তবে এরও কিছু নেতিবাচক দিক ছিল। জমিদারি প্রথা যাতে কোনোভাবে ফিরে আসতে না পারে, সংস্কারের কালে সেজন্য কৃষিজমির মালিকানার ওপর সীমা আরোপ করা হয়েছিল। অর্থাৎ কারো পক্ষে নির্দিষ্ট পরিমাণ ভূমির অতিরিক্ত কৃষিজমির মালিক হওয়া সম্ভব ছিল না। ফলে দীর্ঘ ৫০ বছর ধরে জাপানের কৃষিতে বেসরকারি করপোরেশনগুলোর বৃহদায়তন বিনিয়োগের কোনো সুযোগ ছিল না। পাশাপাশি প্রতিযোগীর অভাবে জাপানের বৃহত্তম কৃষক সমিতি নোকিয়োর (ইংরেজি নাম জাপান এগ্রিকালচার বা জেএ) একচেটিয়া কর্তৃত্বে চলে যায় দেশটির কৃষি খাত। একই সঙ্গে শক্তিশালী লবি ও প্রেসার গ্রুপ হিসেবেও নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করে ফেলে এ কৃষক সমবায় প্রতিষ্ঠান।

পরিস্থিতিতে বদলের সূচনা দেখা দেয় ১৯৯৪ সালের দিকে। জেনারেল এগ্রিমেন্ট অন ট্যারিফস অ্যান্ড ট্রেডের (গ্যাট) অধীনে আয়োজিত উরুগুয়ে সম্মেলনের পর থেকেই জাপানের কৃষিতে আরেক দফা পরিবর্তনের হাওয়া বইতে থাকে। এরপর ১৯৯৯ সালের মৌলিক কৃষি আইনের অধীনে যৌথ মূলধনি কোম্পানিগুলোকে কৃষিতে বিনিয়োগের অধিকার দেয়া হয়। ওই আইনে বলা হয়, কৃষকের নেতৃত্বাধীন উৎপাদন প্রতিষ্ঠানের মালিকানায় ২৫ শতাংশ পর্যন্ত বিনিয়োগ করতে পারবে যৌথ মূলধনি কোম্পানিগুলো। এরপর ২০০৯ সালের সংশোধিত কৃষিভূমি আইনের আওতায় প্রতিষ্ঠানগুলোকে কৃষিজমি ভাড়া করে কৃষিকাজের (মালিকানায় নয়) অধিকার দেয়া হয়।

সাম্প্রতিক কালে শিনজো আবের সরকার যৌথ মূলধনি কোম্পানিগুলোর জন্য কৃষিতে বিনিয়োগের সুযোগকে আরো শিথিল করে দিয়েছে। অকৃষি প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য কৃষিতে মূলধনি বিনিয়োগের সীমা ২৫ থেকে বাড়িয়ে ৫০ শতাংশে তুলে নেয়া হয়েছে। কৃষি উৎপাদনে নিয়োজিত প্রতিষ্ঠানগুলোর নিয়ন্ত্রক বোর্ডে কৃষকের সংখ্যা কমিয়ে আনা হয়েছে। আবে সরকারের এ উদ্যোগের ফলাফল তাত্ক্ষণিকভাবেই হাতে পাওয়া যায়। শিনজো আবে ক্ষমতায় আসেন ২০১২ সালে। ২০১৪ সালের মধ্যে জাপানে কৃষি উৎপাদনে নিয়োজিত প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা দাঁড়ায় ১৪ হাজারের বেশিতে। রাতারাতি দেশটিতে এ ধরনের কৃষি প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বেড়ে যায়। ২০১৪ সালেই কৃষি উৎপাদনে নিয়োজিত প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা দাঁড়ায় এর পাঁচ বছর আগের অর্থাৎ ২০০৯ সালের তুলনায় সাড়ে ২৯ শতাংশ বেশিতে। পরবর্তী সময়ে দেশটির কৃষিতে পরিবর্তনের সবচেয়ে জোরালো পদধ্বনি শোনা যায় ২০১৬ সালের মে মাসে। সে সময় দেশটির ন্যাশনাল স্ট্র্যাটেজিক স্পেশাল জোন আইনে পরিবর্তন আনা হয়। এর আওতায় বেসরকারি খাতের করপোরেশনগুলোকে ইয়াবু শহরাঞ্চলের কৃষিজমির শতভাগ মালিকানা গ্রহণের সুযোগ দেয়া হয়।

বর্তমান পরিস্থিতি

এত কিছুর পরও জাপানের কৃষি খাত দিন দিন সংকুচিত হয়ে আসছে। দেশটির কৃষি, বনায়ন ও মত্স্যসম্পদ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৫ সালে জাপানে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে কৃষিকাজে নিয়োজিত খানার সংখ্যা ছিল ১৩ লাখ ৩০ হাজার। ১৯৬৫ সালেও দেশটিতে কৃষকের সংখ্যা ছিল ১ কোটি ১০ লাখ। ৫০ বছরের ব্যবধানে ২০১৫ সালে তা নেমে আসে ২০ লাখেরও নিচে। দেশটির কৃষি খাতে এখন দুশ্চিন্তার আরেক বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে কৃষকদের বয়সও। জাপানের কৃষি খাতে এ মুহূর্তে বয়স্ক ও বৃদ্ধ কৃষকের সংখ্যাই বেশি। তথ্যমতে, দেশটির প্রতি ১০ জন কৃষকের মধ্যে ছয়জনেরই বয়স এখন ৬৫ বছরের বেশি। অন্যদিকে তরুণদের মধ্যেও এখন কৃষিকে সার্বক্ষণিক পেশা হিসেবে গ্রহণে অনীহা দেখা যাচ্ছে।

তবে এর মধ্যেও আশার আলো দেখাচ্ছে কৃষিতে করপোরেট অংশগ্রহণের মাত্রা বৃদ্ধি ও ব্যাপক যন্ত্রায়ণ। বেশকিছু প্রতিষ্ঠান দেশটির কৃষি ও কৃষিপ্রযুক্তিতে বিনিয়োগে এগিয়ে এসেছে। বৃহদায়তনে ধান ও সবজি উৎপাদন এবং বিনিয়োগে নিয়োজিত রয়েছে ইয়োন সুপারমার্কেট চেইন, লসন, সেভেন অ্যান্ড আই হোল্ডিংস ইত্যাদি প্রতিষ্ঠান।

জাপানের কৃষি উৎপাদন খাতে তথ্যপ্রযুক্তিতে বিনিয়োগের দিক থেকে অগ্রণী প্রতিষ্ঠান হলো ফুজিত্সু। ২০১২ সালে ক্লাউডভিত্তিক তথ্য ব্যবস্থাপনা সেবা আকিসাই চালুর মাধ্যমে এ খাতে পা রাখে ফুজিত্সু। বর্তমানে ইয়োনের ফার্মিং ডিভিশনসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠান আকিসাইয়ের গ্রাহক। এছাড়া এ খাতে বিনিয়োগ রয়েছে এনইসি, হিটাচি, তোশিবা ও টয়োটার মতো জায়ান্ট প্রতিষ্ঠানগুলোরও।

কানসাই অঞ্চলের কৃষকদের মধ্যে ‘প্যাসিভ হাউজ’ নামে প্যানাসনিক উদ্ভাবিত এক ধরনের গ্রিনহাউজ ইদানীং বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। প্যানাসনিকের ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিস্টেমস বিভাগ ও হাউজিং সিস্টেমস বিভাগ যৌথভাবে এ গ্রিনহাউজ উদ্ভাবন করেছে। এতে চাষাবাদের জন্য প্রয়োজনীয় আলো, তাপমাত্রা ও আর্দ্রতার কোনো ব্যত্যয় ঘটলেই সেন্সরে তা ধরা পড়ে এবং স্বয়ংক্রিয়ভাবেই তা সমন্বয় হয়ে যায়।

কৃষি যন্ত্রপাতি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান কুবোতা সম্প্রতি এর প্রত্যক্ষ কৃষি কার্যক্রম আরো বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে। মূলত গবেষণা ও উন্নয়ন কার্যক্রমের খাতিরেই কৃষিকাজে সংশ্লিষ্টতা তৈরি করেছে প্রতিষ্ঠানটি। চারটি খামারে এ কার্যক্রম শুরু করে প্রতিষ্ঠানটি। ২০১৯ সালের মধ্যে এ ধরনের খামারের সংখ্যা ১৫তে উন্নীত করার ঘোষণা দিয়েছে কুবোতা। সব মিলিয়ে প্রতিষ্ঠানটির আওতাধীন কৃষিজমির পরিমাণ এক হাজার হেক্টর। এছাড়া কৃষি যন্ত্রপাতিতে জিপিএস, সেন্সর ও ড্রোনের ব্যবহার বৃদ্ধির মাধ্যমে তথ্যপ্রযুক্তির প্রয়োগ নিশ্চিতে টেলিকমিউনিকেশন প্রতিষ্ঠান এনটিটির সঙ্গে অংশীদারিত্ব গড়ে তুলেছে কুবোতা। চলতি বছরের মধ্যেই স্বচালিত কৃষি যন্ত্রপাতি বাজারে নিয়ে আসার পরিকল্পনা রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির। মূলত যেসব তরুণ কৃষকের কৃষিকাজে অভিজ্ঞতা কম, তাদেরই পণ্যটির জন্য ‘টার্গেট মার্কেট’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে প্রতিষ্ঠানটি। কিয়োটোভিত্তিক স্টার্টআপ মাইফার্মের সঙ্গে অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে জাপানের জাতীয় পর্যায়ে কৃষিজমি বিক্রি বা ভাড়াসংক্রান্ত ডাটাবেজ গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছে আরেক টেলিকমিউনিকেশন প্রতিষ্ঠান সফটব্যাংক।

শিনজো আবের সর্বশেষ সংস্কার এ ধরনের অনেক বড় প্রতিষ্ঠানের জন্য কৃষিতে বিনিয়োগের পথ খুলে দিয়েছে। এছাড়া ব্যক্তি ও প্রাতিষ্ঠানিক সব পর্যায়ের কৃষিতে প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার হচ্ছে। ফলে দেশটির কৃষিতে সংকোচনের যে কালো ছায়া দেখা দিয়েছে, তা সাময়িক বলে মনে করছেন অনেকে।

এছাড়া জাপানে ভার্টিক্যাল ফার্মিং পদ্ধতিও ইদানীং বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। সনাতন পদ্ধতিতে কৃষি জমির পাশাপাশি সারি বেঁধে বপন ও রোপণের মাধ্যমে শস্য ও সবজি ফলানো হয়। একে বলা হয় হরাইজন্টাল বা আনুভূমিক কৃষি পদ্ধতি। কিন্তু ভার্টিক্যাল ফার্মিং বা উল্লম্ব পদ্ধতিতে গ্রিনহাউজে একের পর এক তাকে শস্য বা সবজি ফলানো হয়। বিশেষ করে কিয়োটো ও টোকিও অঞ্চলে এ ধরনের চাষ পদ্ধতির প্রয়োগ দেখা যাচ্ছে সবচেয়ে বেশি।

২০ বছর আগেই, অর্থাৎ ১৯৯৮ সালের দিকেই জাপানে চালু ছিল ২০ লাখেরও বেশি ট্রাক্টর। কম্বাইন হারভেস্টার চালু ছিল ১২ লাখেরও বেশি। জাপানে এসব যন্ত্রও এখন সেকেলে হয়ে পড়েছে। কৃষি ও কৃষিপ্রযুক্তির উন্নয়নে বিনিয়োগের দুয়ার খুলে দিয়ে দেশটির কৃষিকে করে তোলা হয়েছে আধুনিক থেকে আধুনিকতর ও স্মার্ট। অন্যান্য শিল্পের ব্যাপক অগ্রগতির কারণে জাপানের অর্থনীতিতে কৃষি এখন অত্যন্ত গৌণ একটি খাত, এ কথা সত্যি। কিন্তু এর পরও বাংলাদেশসহ উন্নয়নশীল অন্যান্য দেশের জন্য অত্যন্ত শিক্ষণীয় একটি জায়গা হতে পারে জাপানের কৃষি খাত।

এগ্রোটেক

বাংলাদেশের রপ্তানি আয় বেড়েছে

সেপ্টেম্বর মাসে বাংলাদেশ রপ্তানি থেকে আয় করেছে ৪১৬ কোটি ৫০ লাখ ডলার। ২০২০ সালের একই সময়ে রপ্তানি আয় হয়েছিল ৩০১ কোটি ৮০ লাখ ডলার

চলতি ২০২০-২১ অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ের পর আগস্ট ও সেপ্টেম্বরেও রপ্তানি আয় বেড়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য খুলতে শুরু করেছে। ফলে বাতিল ও স্থগিত হওয়া রপ্তানি আদেশ ফিরতে শুরু করায় রপ্তানি আয় বেড়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বর মাসে বাংলাদেশ রপ্তানি থেকে আয় করেছে ৪১৬ কোটি ৫০ লাখ ডলার। ২০২০ সালের একই সময়ে রপ্তানি আয় হয়েছিল ৩০১ কোটি ৮০ লাখ ডলার। সেপ্টেম্বরে রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৩৮%।নতুন অর্থবছরের (জুলাই-সেপ্টেম্বর) প্রথম তিন মাসে রপ্তানি আয় হয়েছে এক হাজার ১০২ কোটি ২০ লাখ ডলার। আগের বছরের একই সময়ে রপ্তানি হয়েছিল ৯৮৯ কোটি ৭০ লাখ ডলার। চলতি অর্থ বছরের প্রথম তিন মাসে (ফার্স্ট কোয়ার্টার) রপ্তানি আয়ের প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১১.৩৭%। একক মাস হিসাবে আগস্টে পণ্য রপ্তানি করে বাংলাদেশ আয় করেছে ২৯৬ কোটি ৭১ লাখ ডলার, যা গত বছরের আগস্ট মাসের চেয়ে ৪.৩২% বেশি।

বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) গবেষক ড. জায়েদ বখত বলেন, “একদিকে পুরনো অর্ডার ফিরে এসেছে, অন্যদিকে মহামারি করোনাভাইরাস বিশ্বজুড়েই কিছুটা নিয়ন্ত্রণে এসেছে। এর ফলে রপ্তানি আয় বেড়েছে।”

উল্লেখ্য, দেশে রপ্তানি আয়ের প্রায় ৮৫% আসে তৈরি পোশাক খাত থেকে। করোনাভাইরাসের কারণে গত মার্চ থেকে এ খাতের রপ্তানি কমতে শুরু করে, এপ্রিলে পোশাক রপ্তানিতে ধস নামে। মে মাসেও তা অব্যাহত থাকে। তবে জুন থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে। এর ধারাবাহিকতা জুলাই ও আগস্ট এমনকি সেপ্টেম্বরেও অব্যাহত রয়েছে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোটেক

কুমিল্লার চান্দিনায় অবৈধ ড্রেজার মেশিন ধ্বংস

লেখক

জেলার চান্দিনায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করায় শ্যালো ইঞ্জিনচালিত দু’টি ড্রেজার মেশিন ধ্বংস করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।
আজ বেলা ১১টায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও চান্দিনা উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা আশরাফুন নাহার উপজেলার জামিরাপারা এলাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালনা করেন। অভিযানকালে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে ড্রেজার মেশিন দুটি ধ্বংস করা হয়। অভিযানের খবরে ড্রেজার মালিকরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।


এ বিষয়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আশরাফুন নাহার বাসসকে জানান, অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের ব্যাপারে প্রশাসন কঠোর অবস্থানে রয়েছে। যারাই পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট করে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করবে, তাদের বিরুদ্ধেই আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোটেক

টানেল টেকনোলজির সাহায্যে সব্জি উৎপাদনে ফলন হবে দ্বিগুন

টানেল টেকনোলজির সাহায্যে সব্জি উৎপাদনে ফলন হবে দ্বিগুন

নানা ধরনের সবজি উৎপাদনের জন্য আমাদের মাটি খুবই উপযোগী। শীত ও গ্রীষ্মকালীন চাষ করা যায় এমন সবজির তালিকাটাও বেশ বড়। কিন্তু নানা কারণে আমাদের চাষযোগ্য জমির পরিমাণ দিন দিন কমে যাচ্ছে। সবজি চাষের জন্য বরাদ্দ থাকে রান্না বা গোয়াল ঘরের পেছনের এক চিলতে জমি। অথচ পুষ্টি চাহিদার কথা মাথায় রাখলে সবজি চাষের কথা ভাবতেই হবে। এজন্য সত্যি বলতে কি কম জমি কাজে লাগিয়ে পুষ্টির চাহিদা পূরণের একমাত্র উপায় সারা বছর সবজির নিবিড় চাষ

আমাদের দেশে বেশির ভাগ সবজি উৎপাদন হয় রবি মৌসুমে অর্থাৎ অক্টোবর থেকে মার্চ মাসে। খরিফ মৌসুম অর্থাৎ এপ্রিল থেকে সেপ্টেম্বর আবহাওয়া অনুকূল না থাকায় সবজি চাষ খুব কম হয়। ফলে বাজারে এ সময় সবজির দাম থাকে আকাশ ছোঁয়া। বিশেষ করে মে থেকে জুলাই মাসে প্রচুর বৃষ্টিপাত ও খরার কারণে সবজির উৎপাদন কম হওয়ার জন্য বাজার মূল্য বেশি থাকে।

টানেল চাষাবাদ কি(Tunnel agriculture):

মৌসুমে বাজারে সবজির সরবরাহ বেশি থাকায় চাষি ভাইয়েরা ন্যায্য মূল্য পান না। তাই মৌসুম শুরুর আগেই যদি আগাম সবজি উৎপাদন করে বাজারজাত করা যায়, তাহলে দ্বিগুণেরও বেশি দাম পাওয়া যায়। যে কৌশল অবলম্বন করে সারা বছর সবজি চাষ করা বা আগাম শীতকালীন সবজি উৎপাদন করা যায় তার নাম ‘টানেল টেকনোলজি”(Tunnel technology) ।

প্রকৃত মৌসুম ছেড়ে অন্য মৌসুমে সবজি চাষ করার জন্য এই কৌশলের কোনো জুড়ি নেই। তবে এই কৌশলের মাধ্যমে শীতকালীন সবজিকে গ্রীষ্মকালে চাষ করা কঠিন। কারণ শীতকালীন সবজি চাষের জন্য যে ধরনের তাপমাত্রা প্রয়োজন সেই ধরনের তাপমাত্রা কৃত্রিম পরিবেশে তৈরি করা বেশ ব্যয়বহুল। তবে এই কৌশলের মাধ্যমে কৃত্রিম পরিবেশ তৈরি করে গ্রীষ্মকালীন সবজিকে শীতকালে চাষ করা খুবই সহজ। কারণ প্লাস্টিক ছাউনি ব্যবহারের মাধ্যমে শীতকালে খুব সহজেই সৌরশক্তি সঞ্চয় করে তাপমাত্রা বাড়িয়ে নেয়া যায়, যা শীতকালে গ্রীষ্মকালীন সবজি চাষের জন্য যথেষ্ট।

কি কি সবজি উৎপাদন করা যায়(Vegetables farming):

টানেল টেকনোলজি বা ছাউনি পদ্ধতি ব্যবহার করে যেসব সবজি খুব সহজেই চাষ করা যায় সেগুলো হলো- শসাজাতীয় সবজি, টমেটো (Tomato),পালংশাক, পাতাকপি, ফুলকপি, শিম (Bean) ইত্যাদি। এই কৌশলে একজন চাষি আগাম সবজি চাষ করে প্রকৃত মৌসুমের চেয়ে বেশি দামে বিক্রি করতে পারেন। এই পদ্ধতিতে আমাদের দেশের অনেক অঞ্চলের চাষি ভাইয়েরা সবজি চাষ করে আসছেন যা প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম।

টানেলের প্রকারভেদ(Types of tunnel):

নিচু টানেল তৈরি

এ ধরনের টানেল তৈরির প্রধান উপকরণ বাঁশ। টানেলের দৈর্ঘ্য হতে হবে ৯৮.৪ ফুট এবং চওড়ায় হতে হবে ১৪.৭৬ ফুট। টানেলের ভেতরের মাঝ বরাবর উচ্চতা হবে ৭ ফুট এবং পাশের উচ্চতা হবে ৫ ফুট। সেচ ও পানি নিকাশের জন্য দুই বেড বা টানেলের মাঝখানে ৬ ইঞ্চি গভীরতার ২ ফুট চওড়া নালা রাখতে হয়। তারপর স্বচ্ছ কালো বা নীল রঙের পলিথিন দিয়ে টানেলটি নৌকার ছইয়ের মতো ঢেকে দিতে হয়।

উঁচু টানেল তৈরি

এ ধরনের টানেল তৈরির প্রধান উপকরণ স্টিল ফ্রেম বা বাঁশ। টানেলের দৈর্ঘ্য হতে হবে ১৩০ ফুট এবং চওড়ায় হতে হবে ৩২ ফুট। টানেলের ভেতরের মাঝ বরাবর উচ্চতা হবে ১২ ফুট এবং পাশের উচ্চতা হবে ১০ ফুট। সেচ ও পানি নিকাশের জন্য দুই বেড বা টানেলের মাঝখানে ৬ ইঞ্চি গভীরতার ৩ ফুট চওড়া নালা রাখতে হয়। চারা বা বীজ থেকে বীজের দূরত্ব রাখতে হয় ১.৫ ফুট। এরপর স্বচ্ছ কালো বা নীল রঙের পলিথিন দিয়ে টানেলটি নৌকার ছইয়ের মতো ঢেকে দিতে হয়।

টানেল পদ্ধতিতে চাষের জমি তৈরী(Land preparation):

এই পদ্ধতিতে সবজি চাষের জন্য যে জমিটি বাছাই করা হয় তা অবশ্যই উর্বর হতে হয়। মাটির পিএইচ থাকতে হয় ৫ থেকে ৭ এর মধ্যে। টানেল তৈরির পর জমি কোদাল দিয়ে বা অন্য কোনো উপায়ে ভালোভাবে চাষ বা কর্ষণ করে প্রতি টানেলে পর্যাপ্ত জৈব সার, ২.৫ কেজি খৈল, ইউরিয়া ৮০০ গ্রাম, টিএসপি ৫০০ গ্রাম এবং এমওপি ৭০০ গ্রাম প্রয়োগ করতে হয়। ইউরিয়া ও পটাশ সারের অর্ধেক জমি তৈরির সময় এবং বাকি অর্ধেক চারা গজানোর দুই সপ্তাহ পরে উপরি প্রয়োগ করতে হয়। এগুলো সম্পন্ন হলে চারা বা বীজ রোপণের আগে বেড তৈরি করে নিতে হয়। জ্যৈষ্ঠ মাসের শুরুতে টানেলপ্রতি ২০০ গ্রাম পালংশাকের বীজ বুনলে ১ মাস পর অর্থাৎ আষাঢ় মাসে ফসল তোলা যায়।

কৃষকদের লাভ(Farmers profit):

টানেল পদ্ধতিতে অমৌসুমে সবজি চাষ করে পৃথিবীর অনেক দেশ বিশেষ করে ভারত প্রতি বছর নিজেদের চাহিদা মিটিয়ে প্রচুর সবজি মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ এবং এশিয়ার বিভিন্ন দেশে রফতানি করে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা আয় করে থাকে। আমাদের দেশের চাষিদের যদি সবজি চাষের এই কৌশল সম্পর্কে সচেতন করার পাশাপাশি সরকার বিভিন্ন পর্যায়ে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিতে পারে তাহলে আমাদের দেশও নিজেদের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশে রফতানি করে বৈদেশিক মুদ্রা  আয় করতে পারে। এই পদ্ধতিতে সবজি উৎপাদন করে কৃষকবন্ধুরা আর্থিক দিক থেকেও লাভবান হয়ে থাকেন অনেক

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোটেক

বর্ষায় চাষের জমিতে ড্রাম সিডার যন্ত্র ব্যবহারের সুবিধা

লাগাতার বৃষ্টি ও জল জমে চাষের জমি প্রায় নষ্ট হয়ে যায় | এমনকি নষ্ট হয়ে যায় বীজতলাও | এগুলি পুনরায় তৈরী করাও বেশ কষ্টসাধ্য | ফলত, চাষীদের মাথায় হাত পরে যায় | তাই কৃষি বিজ্ঞানীদের আবিষ্কার “ড্রাম সিডার” যন্ত্র এরম অবস্থায় কৃষকদের সহায়তা করার একমাত্র পন্থা | এই যন্ত্রের মাধ্যমে নতুন করে বীজতলা তৈরী করা যায় |

 ড্রাম সিডার কি(What is Drum Seeder)?

ড্রাম সিডার প্লাস্টিকের তৈরি ছয়টি ড্রাম বিশিষ্ট একটি আধুনিক কৃষি বপণ যন্ত্র। প্লাস্টিকের তৈরি ড্রামগুলো ২.৩ মিটার প্রশস্ত লোহার দন্ডে পরপর সাজানো থাকে। লোহার দন্ডের দুপ্রান্তে প্লাস্টিকের তৈরি দুটি চাকা এবং যন্ত্রটি টানার জন্য একটি হাতল যুক্ত থকে। প্রতিটি ড্রামের দৈর্ঘ্য ২৫ সেন্টিমিটার এবং ব্যাস ৫৫ সেন্টিমিটার এবং এর দু’প্রান্তে ২০ সেন্টিমিটার দূরত্বে দুসারি ছিদ্র আছে। প্রয়োজনে রাবারের তৈরি সংযুক্ত বেল্টের সাহায্যে এক সারি ছিদ্র বন্ধ রাখা যায়।

ড্রাম সিডারের সুবিধা(Benefits of Drum Seeder):

এ যন্ত্রের সাহায্যে কাদা মাটিতে অঙ্কুরিত বীজ সারি করে সরাসরি বপণ করা যায়। ফলে আলাদা করে আর বীজতলা তৈরি, চারা উত্তোলন ও রোপণ করতে হয় না | যার ফলে শ্রম ও উৎপাদন ব্যয় অনেকটা কমে যায় | এই প্রযুক্তির মাধ্যমে ধান ও অন্যান্য সব্জি চাষ (vegetables cultivation) সহজে করা যায় | এই যন্ত্রের মাধ্যমে ধানের বীজ বপণ করলে বীজের পরিমাণ ৩০ শতাংশ কম লাগে। সারিবদ্ধ ও সার্বিক ঘনত্ব অনুযায়ী বীজ বপণের কারণে জমিতে নিড়ানিসহ অন্যান্য পরিচর্যা অনেক সহজ হয় এবং রোগপোকার উপদ্রপ কম হওয়ায় ফসলের ফলন গড়ে ২০- ২৫ শতাংশ বৃদ্ধি পায়। সর্বোপরি, এই যন্ত্র হালকা হওয়ায় সহজেই বহনযোগ্য | ১ জন লোক ঘণ্টায় অন্তত ১ বিঘা জমিতে বীজ বপণ করতে পারে।

আগাছা পরিষ্কার(Weed management):

ড্রাম সিডার যন্ত্রে বীজ বপণ করলে আগাছা দমন সহজ হয়। আগাছা দমনের জন্য আগাছানাশকও ব্যবহার করা যেতে পারে। জমিতে কম জল দাঁড়ানো থাকা অবস্থায় আগাছানাশক প্রয়োগ করতে হবে এবং পরের ৩-৫ দিন অবশ্যই হালকা জল রাখতে হবে | যে জমিতে আগাছা কম হয় সেখানেই ড্রাম সিডার পদ্ধতি ব্যবহার করাই ভালো এবং আগাছা বেশি হলে পরিষ্কার করা জরুরি |

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোটেক

‘ডিজিটাল ঢেঁকি’তে আগ্রহ ঠাকুরগাঁওয়ে

ঢেঁকিছাঁটা চালে পুষ্টিমান বেশি থাকে। খেতেও সুস্বাদু ও স্বাস্থ্যসম্মত। প্রযুক্তিগত উন্নয়নের এই যুগে মেশিনের দাপটে বিলুপ্ত হয়ে গেছে ঢেঁকি। কিন্তু তাই বলে কি ঢেঁকিছাঁটা চাল পাওয়া যাবে না? এই প্রশ্নেরই জবাব তৈরি করেছেন ঠাকুরগাঁওয়ের রানীশংকৈল উপজেলার ভোরনিয়া গ্রামের যুবক ওমর ফারুক।

তিনি তৈরি করেছেন ডিজিটাল ঢেঁকি। প্রযুক্তি ও আধুনিকতার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে টিকে থাকতে বিলুপ্ত প্রায় প্রাচীন ঐতিহ্যকে ফিরিয়ে আনছেন তিনি। ডিজিটাল ঢেঁকির মাধ্যমে ধান ভাঙিয়ে চাল তৈরি করে বাজারজাতও করেছেন। তার এই ঢেঁকিছাঁটা চাল বেশ সাড়া ফেলেছে এলাকায়। এই পদ্ধতির মাধ্যমে অসংখ্য মানুষের কর্মসংস্থান হবে বলে মনে করছেন ওমর ফারুক।

রানীশংকৈলের ভোরনিয়া গ্রামের আবুল হোসেনের ছেলে ওমর ফারুক। তিনি বৈদ্যুতিক মটরের মাধ্যমে ৬ মাস আগে স্থাপন করেন ‘ডিজিটাল ঢেঁকি’। প্রাচীন ঢেঁকিতে ধানের তুষ ছাড়িয়ে চাল বের করা ছিল খুব কষ্টসাধ্য ও সময়সাপেক্ষ। কিন্তু ওমর ফারুকের ডিজিটাল ঢেঁকিতে ধানভাঙা খুবই সহজ ও স্বল্প সময়ে অধিক চাল তৈরি হয়। সনাতন পদ্ধতিতে ঢেঁকিতে এক প্রান্তে কাউকে পা দিয়ে বার বার চাপ দিতে হয়। আর ওমর ফারুকের ডিজিটাল ঢেঁকিতে বৈদ্যুতিক মটরের মাধ্যমে লোহার হাতল দিয়ে একইভাবে চাপ দিতে হয়। এতে সময় ও শ্রম দুটোই কম ব্যয় হয়। এই ঢেঁকিতে দিনে ৫ থেকে ৬ মণ ধান ভাঙতে পারেন বলে শ্রমিক ও মেশিন অপারেটর মানিরুল ইসলাম জানান।

ওমর ফারুকের ‘ঢেঁকিছাঁটা চালের’ ফাইবার থাকছে অটুট, ঠিক সনাতন পদ্ধতির ঢেঁকিছাঁটা চালের মতোই বজায় থাকছে পুষ্টিমান। এ কারণে ওমর ফারুকের ডিজিটাল ঢেঁকির চালের চাহিদা বেড়েছে।

অন্যদিকে স্থানীয় এলাকাবাসী শহিদুল ইসলাম জানান, বর্তমানে বাজারে আমরা যে চাল খাচ্ছি তার চেয়ে ঢেঁকিছাঁটা চাল খেতে সুস্বাদু। এ ছাড়াও স্থানীয় আবুল হোসেন বলেন, আগে পুষ্টিসমৃদ্ধ ঢেঁকিছাঁটা চাল খেতাম। এখনো ঢেঁকিছাঁটা চালের চাহিদা আছে।

প্রযুক্তিগত বা কারিগরি সহায়তা পেলে বৃহদাকারে এই শিল্পের বিকাশ ঘটাতে পারবেন বলে জানান ওমর ফারুক। এ বিষয়ে নারগুন উচ্চবিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আবদুল জলিল বলেন, ওমর ফারুক সেই ঢেঁকিকে আবার জনপ্রিয় করে তুলেছেন। এই ধারা অব্যাহত রাখা হলে আমরা পুষ্টিসমৃদ্ধ চাল খেতে পারব।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২১ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com