আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

এগ্রোবিজ

অন্যতম উপার্জনের পথ প্রক্রিয়াজাতকৃত আমের তৈরি খাদ্য পণ্য

 প্রক্রিয়াজাতকৃত আমের তৈরি খাদ্য পণ্য হতে পারে অন্যতম আয় উপার্জনের পথ
প্রক্রিয়াজাতকৃত আমের তৈরি খাদ্য পণ্য হতে পারে অন্যতম আয় উপার্জনের পথ

আম বাংলাদেশের অন্যতম একটি জনপ্রিয় ফল। এটি খেতে সুস্বাদু ও পুষ্টি সমৃদ্ধ বলে আমকে ফলের রাজা বলা হয়। আম পাঁকা ও কাঁচা দুই ভাবে খাওয়া হয় এবং প্রক্রিয়াজাতের মাধ্যমে বিভিন্ন রকমের খাবার তৈরিতে ব্যবহার করা যায়। আমের বহুমুখী প্রয়োগ পৃথিবীর অনেক দেশেই খাদ্য সামগ্রী তৈরিতে ব্যবহার করা হচ্ছে এবং বিভিন্ন কৃষিজাত পণ্য প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান তা ব্যবহার করছে। ফলে আম উৎপাদনের সাথে জড়িত কৃষক, ব্যবসায়ী, উদ্যেক্তা ও অন্যান্য সহযোগী প্রতিষ্ঠান সকলেই লাভবান হচ্ছে। এতে করে কৃষক তার কষ্ট করে ফলানো পণ্য নিয়ে কোন উৎকণ্ঠার মধ্যে থাকে না বরং এই ব্যবসার সম্প্রসারণ নিয়ে স্বপ্ন দেখে ও উৎসাহিত হয়ে থাকে।

একটি বিষয় উল্লেখ না করলেই নয়, তা হলো আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশসহ পৃথিবীর অনেক দেশেই কৃষি পণ্য উৎপাদনের সাথে কৃষি পণ্য প্রক্রিয়াজাতকারী প্রতিষ্ঠানের মধ্যে একটি লিংকেজ বা সংযোগ থাকে যা দুর্ভাগ্যজনক ভাবে আমাদের দেশে এই ব্যবস্থা খুব একটা পরিলক্ষিত হয় না বা নেই বললেই চলে যদিও বর্তমান কৃষি বান্ধব সরকার এবং মাননীয় কৃষিমন্ত্রী মহোদয় একজন কৃতি কৃষিবিদ হওয়ায় বিষয়টিকে বর্তমানে খুবই গুরুত্ব দিয়েছেন। কৃষি পণ্যের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করতে বর্তমান কৃষি বান্ধব সরকারের বিভিন্ন প্রয়াস বা কৃষি পণ্য বাণিজ্যিকীকরণ করতে বিভিন্ন নীতি প্রণয়ন নিয়ে কাজ চলমান আছে যা কৃষক, প্রক্রিয়াজাতকারী প্রতিষ্ঠান এবং ভোক্তা সকলেই লাভবান হবে বলে আশা করা যায় এবং এটি পৃথিবীর অনেক দেশেই পরিলক্ষিত হচ্ছে।

প্রক্রিয়াজাতকৃত আমের তৈরি খাদ্য পণ্য হতে পারে অন্যতম আয় উপার্জনের পথ
প্রক্রিয়াজাতকৃত আমের তৈরি খাদ্য পণ্য হতে পারে অন্যতম আয় উপার্জনের পথ

প্রাকৃতিক র্দুযোগ আমাদের দেশে নতুন কিছু নয়। প্রতি বছরই বিভিন্ন ঝড়, অতি বৃষ্টি অথবা খড়া ও অন্যান্য মহামারি আমরা মোকাবিলা করছি এবং সরকার এ ক্ষেত্রে সফলতা দেখিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু কৃষক তার উৎপাদিত পণ্য এবং ন্যায্য মুল্য নিশ্চিত হওয়া নিয়ে ঝুঁকির মধ্যে রয়েই গিয়েছে।

গত বুধবার ও বৃহস্পতিবার ’আম্ফান’ নামক সুপার সাইক্লোন এর প্রভাবে অনেক কৃষি পণ্যের ক্ষতি সাধিত হয়েছে বলে বিভিন্ন প্রিন্ট বা ইলেকট্রনিক মিডিয়াতে খবরের শিরোনাম হয়েছে। বিশেষ করে এখন দেশের অন্যতম একটি উচ্চ মূল্যের ফসল আম যে ফলের স্বাদ নিতে দেশের ভোক্তা তথা প্রবাসী অনেক বাংলাদেশিও এ মধু মাসের জন্য অপেক্ষা করে থাকে। স্বাদ, ঘ্রাণ ও পুষ্টি গুন অধিক পরিমাণে বিদ্যমান হওয়ায় দেশের আপামর প্রায় সকলেই আম খেতে অত্যন্ত পছন্দ করে। 

সংকট মোকাবেলায় আমের বহুজাতিক ব্যবহার বাড়াতে হবে
সংকট মোকাবেলায় আমের বহুজাতিক ব্যবহার বাড়াতে হবে

এই ফলটিতে বিভিন্ন ভিটামিন, খনিজ উপাদান, ফ্ল্যাবোনয়েড, ফাইবারসহ অন্যান্য পুষ্টিগুন যথেস্ট পরিমাণে থাকে। আমাদের দেশে প্রতি বছর ঝরে, ঝড়ে ও শিলা বৃষ্টির ফলে অধিক পরিমাণে আম গাছ থেকে মাটিতে পড়ে যায়। অনেক সময় গাছ থেকে পড়া আম ফেটে যায়। ফলে বিভিন্ন দাগ বা কষ আমের গায়ে লেগে থাকায় আমের গুনগত মান (ফলের রং) দ্রুত নষ্ট হয়ে যায়। অনেক সময় আম উৎপাদনের সাথে সম্পৃক্ত কৃষক ও ব্যবসায়ী খুব অল্প মূল্যে বিশেষ করে কাঁচা আম বাজারে বিক্রয় করতে বাধ্য হয়ে থাকে কিন্তু প্রক্রিয়াজাতকরণের মাধ্যমে আমের অপচয় বহুলাংশে কমানো যায়। আমের বহুমুখী ব্যবহার হিসেবে বিভিন্ন খাদ্য সামগ্রী তৈরি করা যায়।

আমাদের দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাংশের জেলাগুলোর মধ্যে সাতক্ষীরা, বাগেরহাট, খুলনা, কুষ্টিয়া, মেহেরপুর, যশোর, রাজশাহী, চাপাঁইনবাবগঞ্জসহ অন্যান্য জেলাতে ’আমপান’ সুপার সাইক্লোন এর প্রভাবে গত দুই দিনে ব্যাপকভাবে আম ঝরে পড়ে।

পত্রিকার তথ্য মতে শুধু আম ফলটিরই ১৫০ কোটির সমপরিমাণ ক্ষতি সাধিত হয়েছে এবং বর্তমানে কৃষক ২ – ১০ টাকা কেজি দরে এই ঝরে পড়া আম বিক্রয় করতে বাধ্য হচ্ছে। অধিকাংশ আমই (ফজলি, হিমসাগর, ল্যাংড়া, ক্ষীরসাপাত ইত্যাদি) ছিল পরিপুষ্ঠ এবং হার্ভেস্টিং বা গাছ হতে ১ – ৪ সপ্তাহের মধ্যে পাড়ার উপযোগী বলে জানা যায়। এই ঝরে পড়া কাচাঁ বা পরিপ্ষ্ঠু আম প্রক্রিয়াজাতকরণের মাধ্যমে অপচয় অনেকটা রোধ করা সম্ভব। 

রোদে শুঁকানো ফ্রেশ আমের আমসত্ব
রোদে শুঁকানো ফ্রেশ আমের আমসত্ব

বিভিন্ন তথ্য থেকে জানা যায়, দেশে আমের সংগ্রহোত্তর অপচয়ের পরিমান শতকরা ২৫ – ৪৪ ভাগ। অপচয় তথা ক্ষতি কমানোর অন্যতম একটি পদ্ধতি হলো প্রক্রিয়াজাতকরণ ব্যবস্থাপনার প্রয়াগ করা।

বিভিন্ন গবেষণায় দেখা যায় যে, রকমারি খাদ্য সামগ্রী বা সহজ পদ্ধতিতে সংরক্ষণ করা হলে প্রক্রিয়াজাতকরণে যা বিনিয়োগ করা হয় রিটার্ন বা ফেরত হিসেবে তার ২ গুণ বা অনেক সময় ২.৫ – ৩ গুণ বা তারঁও অধিক পরিমাণ লাভ পাওয়া যায়। মৌসূমের শুরুতেই এই উদ্যোগ গ্রহণ করা গেলে ব্যক্তি,গ্রুপ, উদ্যোক্তা বা প্রতিষ্ঠান নিজেরাই স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে সহজ প্রযুক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে বিভিন্ন খাদ্য সামগ্রী তৈরি করে বিপণন করতে সক্ষম হবে বা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে তা সরবরাহ করতে পারে।

অব্যশই এ ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যসম্মত ব্যবস্থাপনাসহ দেশের প্রচলিত আইন অনুসরণ করে বিপণনের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে যা প্রস্তুতকৃত খাদ্য সামগ্রীটি নিজেকে ব্রান্ড হিসেবে পরিচিত করবে। ফলে ভোক্তার আস্থা উক্ত পণ্যের প্রতি যেমন অনেক বেড়ে যাবে তেমনি খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তনের মাধ্যমে খুব সহজেই খাবারের টেবিলে আমের তৈরিকৃত পণ্যের স্বাদ সারা বছরই নেওয়া সম্ভব হবে। এতে করে এই ফলের অপচয় অনেকাংশে রোধ করা যাবে।  

প্রক্রিয়াজাতকৃত আমের তৈরি খাদ্য পণ্য হতে পারে অন্যতম আয় উপার্জনের পথ

কৃষি মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন গাজীপুরস্থ বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইন্সটিটিউট (বিএআরআই) এর পোস্টহারভেস্ট টেকনোলজি বিভাগ আমের পরিচর্যা, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও সংরক্ষণ বিষয়ে গবেষণার মাধ্যমে বিভিন্ন বিজ্ঞান সম্মত প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছে। এই সব প্রযুক্তি খুব সহজেই ব্যবহার করে বৈজ্ঞানিক উপায়ে কাচাঁ আম দীর্ঘ সময় (৬ – ৮ মাস পর্যন্ত) পরিমিত লবণ ও এসিটিক এসিড বা ভিনেগার মিশ্রিত দ্রবণে সংরক্ষণ করা যায়। এছাড়াও এই সংরক্ষিত আম দিয়ে সারা বছর আমসত্ত্ব, আমচুর, ম্যাংগো বার, আমের জুস সহ রকমারী খাদ্য সামগ্রী তৈরি করা যাবে আবার বিভিন্ন খাবারের সাথে মিশিয়ে রান্না করে খাওয়া যাবে।  

অধিকন্ত পরিপক্ক বা পরিপুষ্ঠ আম দিয়ে আচার, চাটনী, জ্যাম, জেলী, ম্যাংগো জুস, নেকটার, বিভিন্ন ধরনের শুকনো খাদ্য সামগ্রী, মোরব্বা, অসমোটিক ডিহাইড্রেটেড পণ্য, আমকে পাউডারে রুপান্তরিত করার মাধ্যমে সারা বছর জুস তৈরিতে ব্যবহার করা, আমের পাল্প সংরক্ষণ, আমের ফ্রোজেন খাদ্য সামগ্রী, ফ্রেশকাট ইত্যাদি হিসেবে ব্যবহারের যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে। 

উল্লেখ্য যে, ভারত, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, ফিলিপাইন, ইন্দোনেশিয়া, ভিয়েতনাম, জাপান, কোরিয়া, চীন, ইউরোপ, আমেরিকা, কানাডা, অস্ট্রেলিয়াসহ অনেক দেশেই আমের ক্যান প্রডাক্ট, ম্যাংগো বার, ম্যাংগো জুস, অসমোটিক ডিহাইড্রেটেড পণ্য ও আমের ফ্রেশকাট পণ্য খুবই জনপ্রিয়। সে সব দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান (ক্ষুদ্র, মাঝারি ও বড়) নিজেরাই আমের বিভিন্ন খাদ্য পণ্য প্রস্তÍত করে ও বিদেশে রপ্তানী করে থাকে যা আমাদের দেশের অনেক সুপার শপেই এখন ভোক্তাকে ক্রয় করতে দেখা যায়। 

প্রক্রিয়াজাতকৃত আমের তৈরি খাদ্য পণ্য হতে পারে অন্যতম আয় উপার্জনের পথ

উৎপাদিত পণ্য সামগ্রীর মধ্যে ড্রাইড পণ্যগুলো কেজি প্রতি ১৫০০ টাকা হতে ২৫০০ টাকা দরে বিক্রয় হয়ে থাকে বলে বিভিন্ন সুপার শপ হতে জানা যায়। কাজেই আম বিভিন্ন পরিপক্কতায় গাছ হতে পাড়া বা ঝরে পড়া আমকে প্রক্রিয়াজাতকরণের মাধ্যমে বিভিন্ন খাদ্য পণ্য তৈরি করা গেলে এ ফলটি হতে পারে একটি অন্যতম অর্থকরী ফসল।

ফলটি বেশ সুস্বাদু হওয়ায় বিদেশে তথা মধ্য প্রাচ্যের দেশগুলো (সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, ওমান, কুয়েত, বাহরাইন, সৌদিআরব), ইউরোপ, যুক্তরাস্ট্র, যুক্তরাজ্যসহ অন্যান্য দেশে প্রস্তুতকৃত খাদ্য পণ্য হিসেবে রপ্তানীর যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে। 

লেখক : উর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা, পোস্টহারভেস্ট টেকনোলজি বিভাগ, বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট, গাজীপুর

  • প্রক্রিয়াজাতকৃত আমের তৈরি খাদ্য পণ্য হতে পারে অন্যতম আয় উপার্জনের পথ

    প্রক্রিয়াজাতকৃত আমের তৈরি খাদ্য পণ্য হতে পারে অন্যতম আয় উপার্জনের পথ

  • প্রক্রিয়াজাতকৃত আমের তৈরি খাদ্য পণ্য হতে পারে অন্যতম আয় উপার্জনের পথ

    প্রক্রিয়াজাতকৃত আমের তৈরি খাদ্য পণ্য হতে পারে অন্যতম আয় উপার্জনের পথ

  • প্রক্রিয়াজাতকৃত আমের তৈরি খাদ্য পণ্য হতে পারে অন্যতম আয় উপার্জনের পথ

    প্রক্রিয়াজাতকৃত আমের তৈরি খাদ্য পণ্য হতে পারে অন্যতম আয় উপার্জনের পথ

  • প্রক্রিয়াজাতকৃত আমের তৈরি খাদ্য পণ্য হতে পারে অন্যতম আয় উপার্জনের পথ

    প্রক্রিয়াজাতকৃত আমের তৈরি খাদ্য পণ্য হতে পারে অন্যতম আয় উপার্জনের পথ

  • প্রক্রিয়াজাতকৃত আমের তৈরি খাদ্য পণ্য হতে পারে অন্যতম আয় উপার্জনের পথ

    প্রক্রিয়াজাতকৃত আমের তৈরি খাদ্য পণ্য হতে পারে অন্যতম আয় উপার্জনের পথ

  • সংকট মোকাবেলায় আমের বহুজাতিক ব্যবহার বাড়াতে হবে

    সংকট মোকাবেলায় আমের বহুজাতিক ব্যবহার বাড়াতে হবে

  • রোদে শুঁকানো ফ্রেশ আমের আমসত্ব

    রোদে শুঁকানো ফ্রেশ আমের আমসত্ব

  • প্রক্রিয়াজাতকৃত আমের তৈরি খাদ্য পণ্য হতে পারে অন্যতম আয় উপার্জনের পথ
  • প্রক্রিয়াজাতকৃত আমের তৈরি খাদ্য পণ্য হতে পারে অন্যতম আয় উপার্জনের পথ
  • প্রক্রিয়াজাতকৃত আমের তৈরি খাদ্য পণ্য হতে পারে অন্যতম আয় উপার্জনের পথ
  • প্রক্রিয়াজাতকৃত আমের তৈরি খাদ্য পণ্য হতে পারে অন্যতম আয় উপার্জনের পথ
  • প্রক্রিয়াজাতকৃত আমের তৈরি খাদ্য পণ্য হতে পারে অন্যতম আয় উপার্জনের পথ
  • সংকট মোকাবেলায় আমের বহুজাতিক ব্যবহার বাড়াতে হবে
  • রোদে শুঁকানো ফ্রেশ আমের আমসত্ব
বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন

অনুগ্রহ করে মন্তব্য করতে লগ ইন করুন লগ ইন

Leave a Reply

এগ্রোবিজ

যুদ্ধের কারণে বাংলাদেশে হতে পারে সারের সংকট

সারের সংকট
সারের সংকট
সারের সংকট

চলতি বোরো মৌসুমে সার কিনতে কৃষকদের সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে প্রতি কেজিতে ১০ টাকা করে বেশি দিতে হয়েছে। আর সরকারকেও সার বাবদ ভর্তুকি দিতে হচ্ছে বাজেটে বরাদ্দের তিন গুণের বেশি—প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকা। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে বাংলাদেশ এখন মিউরেট অব পটাশ (এমওপি) সার আমদানি নিয়ে বিপাকে পড়েছে।

ধান, আলু ও সবজি চাষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এমওপি সারের ৬০ শতাংশ আনা হতো রাশিয়া ও বেলারুশ থেকে। ওই দুই দেশ নিষেধাজ্ঞার মধ্যে পড়ায় এখন বাংলাদেশকে এমওপি কিনতে হচ্ছে কানাডা থেকে। বিশ্ববাজারে দাম বেড়ে যাওয়া ও আমদানিতে অনিশ্চয়তার কারণে বাংলাদেশে সারের সংকট হতে পারে। ভর্তুকির চাপ সামলাতে বাংলাদেশকে সব ধরনের সারের খুচরা মূল্য বাড়াতে হতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের কৃষিবিষয়ক সংস্থা ইউএসডিএর চলতি সপ্তাহে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। ‘বাংলাদেশে সার সরবরাহ ও ব্যবহারে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাব’ শীর্ষক ওই প্রতিবেদনে আশঙ্কা প্রকাশ করে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের এমওপি সারের ২০ শতাংশ সরবরাহ কমানো হলে সামনের বোরো মৌসুমে ধান, গম ও রবি মৌসুমের অন্যান্য ফসলের উৎপাদন ১৫ থেকে ২০ শতাংশ কমতে পারে। এতে বাংলাদেশের খাদ্য উৎপাদন ও নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়তে পারে।

এমনিতেই এ বছর প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে আমাদের ফসলের উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। ফলে সারের কারণে নতুন করে যাতে আর সমস্যা না হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে।

এ এম এম শওকত আলী, সাবেক কৃষিসচিব

তবে কৃষি মন্ত্রণালয়ের সার ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকা শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তারা প্রথম আলোকে জানিয়েছেন, দেশে চলতি বোরো মৌসুমে নতুন করে আর সারের দরকার হবে না। সামনে আলুর মৌসুমে ইউরিয়া, এমওপিসহ অন্যান্য সারের চাহিদা বাড়বে। ওই সময়ের জন্য সার সরবরাহ নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ কানাডা ও মধ্যপ্রাচ্যের সার সরবরাহকারী দেশগুলোর সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছে।

জানতে চাইলে কৃষিমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা কানাডা থেকে মোট আট লাখ টন এমওপি সার আমদানির উদ্যোগ নিয়েছি। এ ব্যাপারে ওই দেশের সঙ্গে আমাদের সমঝোতা স্মারক হয়েছে। ফলে এই সার নিয়ে সরকারের কোনো দুশ্চিন্তা নেই। তবে সার বাবদ সরকারের বিপুল পরিমাণে ভর্তুকি বাড়ছে। এই চাপ নিয়েও সরকার ফসল উৎপাদন বৃদ্ধির ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে ওই ভর্তুকি দিয়ে যাবে।’

কমানো হয়েছে চাহিদা

বাংলাদেশে চলতি অর্থবছরে ৬৯ লাখ টন রাসায়নিক সার ব্যবহার করা হয়েছে। এর মধ্যে ইউরিয়া, টিএসপি, ডিএপি ও এমওপি—এই চার ধরনের সার ব্যবহার হয় ৫৭ লাখ টন। আগামী ২০২২-২৩ অর্থবছরের ওই চার ধরনের সারের চাহিদা কমিয়ে ৫৫ লাখ ৫০ হাজার টনে নামিয়ে আনা হয়েছে।

দেশে প্রয়োজনীয় সারের ৮০ শতাংশই বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। এর মধ্যে এমওপি সারের বড় অংশ আসে রাশিয়া ও বেলারুশ থেকে।

প্রসঙ্গত, ওই চারটি প্রধান সার কৃষকদের কাছে বিক্রির ক্ষেত্রে সরকার ভর্তুকি দিয়ে থাকে। চলতি অর্থবছরে সরকার প্রাথমিকভাবে সারে ভর্তুকি বাবদ ৮০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছিল। তবে আন্তর্জাতিক বাজারে গত ছয় মাসে সারের দাম অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে। বেশির ভাগ সারের দাম তিন থেকে চার গুণ বেড়ে যাওয়ায় সরকারকে ভর্তুকির পরিমাণ ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা করতে হয়। কিন্তু অর্থবছরের শেষের দিকে কৃষি মন্ত্রণালয় থেকে হিসাব করে দেখা হয়েছে, ভর্তুকির পরিমাণ এবার বেড়ে কমপক্ষে ৩০ হাজার কোটি টাকা গিয়ে দাঁড়াবে।

জিপসাম, জিংক সালফেট ও অ্যামোনিয়াম সালফেট ও ম্যাগনেসিয়াম সালফেট সারে সরকার কোনো ভর্তুকি দেয় না। আন্তর্জাতিক বাজার থেকে কিনে ব্যবসায়ীরা কৃষকদের কাছে তা বিক্রি করে থাকেন। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বেড়ে যাওয়ায় কৃষককেও বাড়তি দামে কিনতে হচ্ছে।

সাবেক কৃষিসচিব এ এম এম শওকত আলী প্রথম আলোকে বলেন, ‘এমনিতেই এ বছর প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে আমাদের ফসলের উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। ফলে সারের কারণে নতুন করে যাতে আর সমস্যা না হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে। আর সরকারের অন্যান্য খাতের ভর্তুকি কমিয়ে প্রয়োজনে সারে ভর্তুকি বাড়াতে হবে, যাতে সারের দাম কম থাকে। কারণ, কৃষকের হাতে এখন টাকা কম। বিশ্ববাজার থেকেও খাদ্য আমদানি করা সামনের দিনে আরও কঠিন হতে পারে। ফলে দেশের উৎপাদন ঠিক রাখতে সারের দাম ও জোগান ঠিক রাখা উচিত।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

বিদেশ থেকে খালি হাতে ফিরে ড্রাগন চাষে সাফল্য

বাগানে চাষ করা ড্রাগন হাতে মিরাজুল ইসলাম
বাগানে চাষ করা ড্রাগন হাতে মিরাজুল ইসলাম

মিরাজুল ইসলাম (৩৩)। ১০ বছর সৌদি আরবে ছিলেন। আকামা জটিলতায় খালি হাতে দেশে ফিরতে হয়েছে তাঁকে। কী করবেন ভেবে পাচ্ছিলেন না। এক বছর বেকার থাকার পর ইউটিউবে পতিত জমিতে ড্রাগন চাষের ভিডিও দেখেন। বাবার কাছ থেকে কিছু টাকা নিয়ে নেমে পড়েন ড্রাগন চাষে। দেড় বছরের ব্যবধানে এখন উপজেলার সবচেয়ে বড় ড্রাগন বাগান তাঁর। এ বছর খরচ বাদে আট থেকে নয় লাখ টাকা লাভের আশা করছেন তিনি।

পিরোজপুরের ইন্দুরকানি উপজেলার ইন্দুরকানি গ্রামের বাসিন্দা মিরাজুল। উপজেলার টগরা গ্রামে দেড় একর জমিতে তিনি ড্রাগনের বাগান তৈরি করেছেন। তাঁর বাগানে এখন সাড়ে তিন হাজার ড্রাগন ফলের গাছ আছে।

মিরাজুল ইসলাম বলেন, শ্রমিক হিসেবে ১০ বছর সৌদিতে কাজ করে ২০১৯ সালে দেশে ফেরেন তিনি। আকামা সমস্যার কারণে শূন্য হাতে ফিরতে হয়েছে তাঁকে। কিছু একটা করবেন বলে ভাবছিলেন। একদিন ইউটিউবে ড্রাগন চাষের ভিডিও দেখতে পান। সেই থেকে ড্রাগন চাষে আগ্রহ জন্মে। ২০২০ সালের ডিসেম্বরে দেড় একর পতিত জমি ড্রাগন চাষের উপযোগী করেন। গাজীপুর থেকে ৬০ টাকা দরে ৬০০ চারা নিয়ে আসেন। বাবার কাছ থেকে টাকা নিয়ে শুরু করেন চাষাবাদ। পরের বছর জুনে ফল পাওয়া শুরু করেন।

ড্রাগনের বাগান করতে মিরাজুলের খরচ হয়েছিল ছয় থেকে সাত লাখ টাকা। ইতিমধ্যে ফল বিক্রি করে তাঁর খরচ উঠে গেছে। সাধারণত মে থেকে নভেম্বর পর্যন্ত গাছে ফল আসে। বছরে ছয় থেকে সাতবার পাকা ড্রাগন সংগ্রহ করা যায়। এখন পরিপক্ব ও রোগমুক্ত গাছের শাখা কেটে নিজেই চারা তৈরি করেন। ড্রাগন চাষের পাশাপাশি বাগানে চুইঝাল, এলাচ, চায়না লেবুসহ মৌসুমি সবজি চাষ করেন। এ ছাড়া ড্রাগনের চারাও উৎপাদন করে বিক্রি করেন তিনি।

মিরাজুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, বাগানের বেশির ভাগ গাছে এ বছর ফল ধরেছে। গত মঙ্গলবার বাগান থেকে দেড় টন ফল সংগ্রহ করেছেন। ২৫০ টাকা কেজি দরে ঢাকা ও চট্টগ্রামের পাইকারদের কাছে বিক্রি করেছেন। স্থানীয় বাজারে ৩০০ টাকা কেজি দরে ড্রাগন বিক্রি হয়। নভেম্বর পর্যন্ত আরও পাঁচ–ছয়বার বাগান থেকে ফল তোলা যাবে। আশা করছেন, খরচ বাদে এবার আট থেকে নয় লাখ টাকা লাভ থাকবে।

মিরাজুল ইসলাম আরও বলেন, ‘আমার বাগান থেকে চারা নিয়ে অনেকে বাড়িতে ও ছাদে ছোট পরিসরে ড্রাগনের বাগান করেছেন। আমি এ পর্যন্ত ৪০ টাকায় দেড় হাজার চারা বিক্রি করেছি।’

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, পূর্ণ বয়সের একটি ড্রাগনের চারা রোপণের পর ২৫ বছর পর্যন্ত ফল পাওয়া যায়। এর মৃত্যুঝুঁকি নেই বললেই চলে। তবে কয়েক দিন পরপর সেচ দিতে হয়। বৃষ্টির পানিনিষ্কাশনের ব্যবস্থা রাখতে হয়। ড্রাগন ফল চাষে রাসায়নিক সার দিতে হয় না।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ইশরাতুন্নেছা বলেন, মিরাজুল ইসলামকে ড্রাগন চাষে নিয়মিত পরামর্শ দিয়ে আসছে কৃষি বিভাগ। উপজেলায় তাঁর বাগানটি সবচেয়ে বড়। তিনি নিরলস পরিশ্রম করে ছোট থেকে বাগানটি বড় করেছেন।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

নাসিরনগরে বন্যায় তলিয়ে গেল কৃষকের বাদামখেত

নাসিরনগরের গোয়ালনগর ইউনিয়নে অতিবৃষ্টি ও আগাম বন্যায় তলিয়ে গেছে কৃষকদের বাদামখেত। আজ মঙ্গলবার ইউনিয়নের সোনাতলা গ্রামে
নাসিরনগরের গোয়ালনগর ইউনিয়নে অতিবৃষ্টি ও আগাম বন্যায় তলিয়ে গেছে কৃষকদের বাদামখেত। আজ মঙ্গলবার ইউনিয়নের সোনাতলা গ্রামে

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলার গোয়ালনগর ইউনিয়নে অতিবৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের পানিতে তলিয়ে গেছে কৃষকের প্রায় ৩০ হেক্টর বাদাম চাষের জমি। কয়েক দিন আগে উজানের পানিতে তাঁদের পাকা ধানের জমি তলিয়ে গিয়েছিল। সেই ক্ষতি পুষিয়ে নিতে কৃষকেরা বাদাম চাষ করেছিলেন। আবারও ফসলি জমি তলিয়ে যাওয়ার বড় ধরনের ক্ষতির সম্মুখীন হলেন চাষিরা।

উপজেলা কৃষি কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১১ এপ্রিল উপজেলায় শিলাবৃষ্টি এবং ১৪ থেকে ২৫ এপ্রিল পর্যন্ত উজানের পানিতে কৃষকের পাকা ধানের জমি তলিয়ে যায়। কৃষকেরা সেই ক্ষতি পুষিয়ে নিতে ২০০ হেক্টর জমিতে বাদাম চাষ করেছিলেন। এর মধ্যে উপজেলার গোয়ালনগর ইউনিয়নে ৩০ হেক্টর জমিতে বাদাম চাষ করা হয়। উপজেলায় এবার প্রায় ৫০ হাজার মণ বাদাম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল। কিন্তু উজানের পানিতে হঠাৎ বন্যায় সেই লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হওয়া নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

গোয়ালনগর ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান মো. আজহারুল হক বলেন, ‘নাসিরনগর উপজেলার মধ্যে সবচেয়ে বেশি বাদাম চাষ করা হয় আমাদের ইউনিয়নে। কিন্তু এ বছর আগাম বন্যার কারণে কৃষকেরা তাঁদের ফসল ঘরে তুলতে পারেননি। তাঁদের সব ফসল পানিতে তলিয়ে গেছে।’

ওই এলাকার বাদামচাষি মেরাজ মিয়া বলেন, তিনি ছয় বিঘা জমিতে বাদাম চাষ করেন। দু-এক দিনের মধ্যে বাদাম তুলতে চেয়েছিলেন। কিন্তু খেতে গিয়ে দেখেন সব বাদাম পানির নিচে। এখন এই বাদাম তুলে কোনো লাভ নেই। এগুলো গরুও খাবে না।

মো. রজব আলী নামের এক কৃষক বলেন, ‘আমাদের ইউনিয়নের জামারবালি, সোনাতলা ও মাইজখোলা গ্রামে বাদামখেত আছে। গত তিন দিনে পাঁচ-ছয় ফুট পানি বাড়ায় সব তলিয়ে গেছে। এখন বাদাম তুলতে কাজের লোকও পাওয়া যাচ্ছে না।’

কৃষক ফতু মিয়া বলেন, গোয়ালনগর ইউনিয়নের বাদাম চাষের জমিগুলো হঠাৎ পানি আসায় তলিয়ে গেছে। ফসল তলিয়ে তাঁদের অনেক ক্ষতি হয়ে গেল। কয়েক দিন আগেও পাকা ধান পানির নিচে তলিয়ে গিয়েছিল। কৃষকদের দাবি, গোয়ালনগরে বাদাম চাষের জমি তলিয়ে যাওয়ায় কৃষকদের প্রায় কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আবু সাইদ প্রথম আলোকে বলেন, উপজেলার কয়েকটি চরাঞ্চলে বাদাম চাষ করা হয়। চরাঞ্চলের উঁচু জমিতে প্রথমে আলু চাষের পর বাদাম চাষ করা হয়। আগাম বন্যার কারণে নিচু এলাকার কিছু বাদামখেত পানিতে তলিয়ে গেছে।

আবু সাইদ আরও বলেন, ১৫-২০ দিন আগে উপজেলার প্রায় সব বাদাম উঠে গেছে। গোয়ালনগর ইউনিয়নে ৩০ হেক্টর জমিতে বাদাম চাষ করা হয়েছিল। এর মধ্যে এক হেক্টর জমির বাদাম তলিয়ে গেছে। সব মিলিয়ে ৭০ হাজার টাকার মতো ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। সিলেটে বন্যা হওয়ায় এমনটি হয়েছে বলে তিনি জানান।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

পানি দিতে অতিরিক্ত টাকা

পানি দিতে অতিরিক্ত টাকা
পানি দিতে অতিরিক্ত টাকা

ঠাকুরগাঁওয়ে বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিএমডিএ) একটি গভীর নলকূপের সেচের পানি সরবরাহে কৃষকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা নেওয়া হচ্ছে। ভুক্তভোগী কৃষকদের কাছ থেকে পাওয়া এমন অভিযোগের তদন্ত করে সত্যতা পেয়েছে বিএমডিএ কর্তৃপক্ষ। ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার বড় বালিয়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটেছে।

ভুক্তভোগী কৃষকেরা বলছেন, সেচের পানির জন্য প্রিপেইড কার্ডের বাইরে কোনো টাকা দেওয়ার নিয়ম নেই। কিন্তু বিএমডিএর ১০৮ নম্বর গভীর নলকূপের অপারেটরের দায়িত্বে থাকা বিউটি বেগমের স্বামী আকতারুজ্জামান বোরো ধান চাষের জন্য প্রতি বিঘার জন্য ১ হাজার ২০০ টাকা ও অন্য মৌসুমে ৩০০ টাকা নেন। ১০ বছর ধরে তিনি এভাবেই বাণিজ্য করে আসছেন।

সম্প্রতি রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে বিএমডিএর গভীর নলকূপ থেকে খেতে সেচের পানি পেতে হয়রানির শিকার দুই কৃষকের মৃত্যুর ঘটনা দেশজুড়ে আলোচিত হয়।

ঠাকুরগাঁও জেলায় বিএমডিএর ১ হাজার ৪৩১টি গভীর নলকূপ রয়েছে। এর মধ্যে সচল ১ হাজার ৪১৮টি। সেচের আওতায় ৭৬ হাজার ৫০০ পরিবারের জমি রয়েছে ৫৩ হাজার ৫০০ হেক্টর।

* সেচের পানির জন্য প্রিপেইড কার্ডের বাইরে কোনো টাকা দেওয়ার নিয়ম নেই। * সেচের আওতায় ৭৬ হাজার ৫০০ পরিবারের জমি আছে। * কৃষকদের নলকূপের আবেদন পেলে যাচাই করে স্কিম তৈরি করা হয়।

বিএমডিএ সূত্রে জানা গেছে, কৃষকদের নলকূপের আবেদন পেলে যাচাই করে স্কিম তৈরি করা হয়। এরপর সমবায়ের ভিত্তিতে অংশীদারি ফি বাবদ এক লাখ টাকা জমা দিতে হয়। এই নলকূপ পরিচালনার জন্য বিএমডিএ একজন অপারেটর নিয়োগ দেন। প্রিপেইড মিটারিং পদ্ধতিতে কৃষকের নিজ নামে প্রিপেইড কার্ড থাকতে হয়। সেই কার্ড থেকে প্রতি ঘণ্টায় সেচের পানির জন্য ন্যূনতম ১১০ টাকা স্বয়ংক্রিয়ভাবে কেটে নেওয়া হয়। এর বাইরে অতিরিক্ত কোনো টাকা দেওয়ার নিয়ম নেই।

বড় বালিয়া এলাকার কৃষকেরা জানান, ২০১১ সালের দিকে বড় বালিয়া মণ্ডলপাড়া গ্রামের বাসিন্দা মো. আকতারুজ্জামান এলাকায় গভীর নলকূপ স্থাপনের উদ্যোগ নেন। ফি হিসেবে এক লাখ জমা দেওয়ার নিয়ম থাকলেও কোনো কৃষক সেটা দিতে এগিয়ে আসেননি। ফলে আকতারুজ্জামান, দাউদুল ইসলাম ও জোবায়দুর রহমান মিলে অংশীদারি ফি দেন। আকতারুজ্জামানের ৮০ শতাংশ টাকা থাকায় গভীর নলকূপের নিয়ন্ত্রণ তিনিই পান। অপারেটর হিসেবে নিয়োগ পান তাঁর স্ত্রী বিউটি বেগম। যদিও কৃষকেরা আকতারুজ্জামানকেই অপারেটর হিসেবে জানতেন।

সেচের পানি পেতে হয়রানির শিকার হয়ে সদর উপজেলার বড় বালিয়া এলাকার ৫০ জন কৃষক গত ১৭ এপ্রিল বিএমডিএ সহকারী প্রকৌশলীর কাছে অভিযোগ দেন। সেখানে গিয়ে কৃষক ও অপারেটরের সঙ্গে কথা বলে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়।

ভুক্তভোগী কৃষকেরা বলেন, ২০১২ সালে নলকূপটি চালু হলে আওতাধীন কৃষকের কাছ থেকে আকতারুজ্জামান সেচের পানির জন্য প্রিপেইড কার্ডের অতিরিক্ত টাকা আদায় শুরু করেন। আর সেই টাকা থেকে তিনি মাঝেমধ্যে অন্য দুই অংশীদারকে কিছু টাকা ভাগ দেন।

ভুক্তভোগী কৃষক মো. শাহজাহান আলী বলেন, গভীর নলকূপটির আওতায় তাঁর ১০ বিঘা জমি রয়েছে। কার্ডের বাইরে টাকা দেওয়ার নিয়ম না থাকলেও আকতারুজ্জামানকে প্রতি বিঘায় সেচের জন্য ১ হাজার ২০০ টাকা দিতে হয়। এই টাকা না দিলে তিনি পানি দেন না।

ওই নলকূপের আওতায় চার বিঘা জমিতে বোরো আবাদ করছেন কৃষক মো. হেলাল। তিনি অতিরিক্ত টাকা না দেওয়ায় অপারেটর খেতে পানি দেননি। এতে জমি ফেটে যায়। পরে তিনি শ্যালো ইঞ্জিন দিয়ে জমিতে সেচ দিয়ে খেত রক্ষা করেছেন।

আরেক ভুক্তভোগী মোকলেসুর রহমান বলেন, ১০ বছর ধরে সেচের পানির জন্য অতিরিক্ত টাকা দিয়ে আসছেন। এখন বিরক্ত হয়ে বরেন্দ্র কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ দিয়েছেন। এরপরও কোনো বিচার পাননি।

এ বিষয়ে মো. আকতারুজ্জামান বলেন, তিনি সেনাবাহিনী থেকে অবসর নেওয়ার পর দেখেন গ্রামে কোনো গভীর নলকূপ নেই। পরে বিএমডিএ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে নলকূপটি স্থাপন করেন। কৃষকেরা অংশীদারত্বের টাকা দিতে রাজি না হলে তিনি বিএমডিএকে জানান। সে সময় তাঁরা টাকা দিয়ে দিতে পরামর্শ দিয়ে বলেন, ‘পরে আপনি টাকাটা ধীরে ধীরে তুলে নেবেন।’ সেই পরামর্শেই সেচের পানি বাবদ প্রিপেইড কার্ডের অতিরিক্ত কিছু টাকা তিনি নিচ্ছেন। জোর করে কিছু নিচ্ছেন না।

বিএমডিএ ঠাকুরগাঁও কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী শফিকুল ইসলাম বলেন, অভিযোগটি যাচাই করে সত্যতা পাওয়া গেছে। নলকূপটি সুষ্ঠুভাবে চালানোর জন্য সাত সদস্যের একটি কমিটি গঠন করে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ওই অপারেটরের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোটেক

কৃষি উৎপাদন বাড়াতে বাংলাদেশ ও নেদারল্যান্ডসের উদ্যোক্তারা এক সঙ্গে কাজ করতে রাজি

ধান কাটায় ব্যস্ত কৃষকেরাফাইল ছবি
ধান কাটায় ব্যস্ত কৃষকেরাফাইল ছবি

ডাচ প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে বাংলাদেশে কৃষি উৎপাদন বাড়াতে দুই দেশের বেসরকারি খাতের উদ্যোক্তারা একসঙ্গে কাজ করতে রাজি হয়েছেন।

গতকাল সোমবার নেদারল্যান্ডসের রাজধানী হেগে অনুষ্ঠিত কৃষি খাতের ব্যবসাবিষয়ক এক সম্মেলনে দুই দেশের ব্যবসায়ী ও বিশেষজ্ঞরা সহযোগিতার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন।

নেদারল্যান্ডসে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত এম রিয়াজ হামিদুল্লাহ প্রথম আলোকে বলেন, বাংলাদেশ দূতাবাস আয়োজিত এগ্রি বিজনেস কনক্লেভে বাংলাদেশের প্রায় ৪০জন উদ্যোক্তা ডাচ কৃষি খাতের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সরাসরি প্রযুক্তি সহযোগিতা ও ব্যবসায়িক সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেছেন। দিনব্যাপী আয়োজিত অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেছে ওয়েগেনিনজেন বিশ্ববিদ্যালয়।

আলোচনায় বাংলাদেশি ব্যবসায়ীরা প্রযুক্তি কিনতে আগ্রহ দেখিয়েছেন। বাংলাদেশি ব্যবসায়ীরা মেধাস্বত্ব সংরক্ষণের প্রতিশ্রুতি দিলে নেদারল্যান্ডসের ব্যবসায়ী ও বিশেষজ্ঞরা প্রযুক্তি সহযোগিতা দিতে রাজি থাকার বিষয়টি উল্লেখ করেছেন।

রিয়াজ হামিদুল্লাহ বলেন, বাংলাদেশকে সহযোগিতা করতে ডাচরা প্রস্তুত এবং বাংলাদেশি উদ্যোক্তারাও তাদের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী। এ ছাড়া ডাচ সরকার ইতিমধ্যে বাংলাদেশের বীজ, পশু খাদ্য, পোলট্রি, হর্টিকালচার ও এ্যাকুয়াকালচার বিষয়ে গবেষণা কার্যক্রম সম্পাদন করেছে, যা ওই দেশের বেসরকারি খাতকে আরও উৎসাহিত করেছে।

আলোচনায় কৃষি সচিব মো. সায়েদুল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশ সরকার এ বিষয়ে সব ধরনের সহযোগিতা করতে তৈরি আছে। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে স্কয়ার, ইস্পাহানি এগ্রো, একে খান অ্যান্ড কোম্পানি, প্যারাগন গ্রুপ, এসিআই, জেমকন গ্রুপসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। তিনি জানান, মঙ্গলবার বাংলাদেশের উদ্যোক্তারা ডাচ প্রযুক্তির প্রয়োগ সরেজমিনে দেখতে যাবেন।

বাংলাদেশের সঙ্গে নেদারল্যান্ডসের পোল্ট্রিখাতে সহযোগিতার আলোচনা অনেকটা এগিয়েছে উল্লেখ করে মো. সায়েদুল ইসলাম বলেন, দুই দেশের মধ্যে মৎস্য, পশুপালন ও হর্টিকালচারে সহযোগিতার বিপুল সম্ভাবনা আছে।

কনক্লেভ আয়োজনে প্রথমবারের মতো দূতাবাসের সঙ্গে অংশীদার হয়েছে নেদারল্যান্ডসের কৃষি মন্ত্রণালয়, নেদারল্যান্ডস এন্টারপ্রাইজ এজেন্সি, নেদারল্যান্ডস ফুড পার্টনারশিপ, ডাচ-গ্রিন-হাইজডেল্টা, লারিভ ইন্টারন্যাশনাল, স্টান্ডার্ড চার্টার্ড বাংলাদেশসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠান ।

কৃষিজাত পণ্য রপ্তানিতে বিশ্বে দ্বিতীয় স্থানে অবস্থানকারী নেদারল্যান্ডসের আয়তন বাংলাদেশের প্রায় এক-তৃতীয়াংশের কম। ২০২১-এ কৃষিপণ্য ও খাদ্য রপ্তানি করে নেদারল্যান্ডস ১১০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি আয় করেছে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২১ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com