আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

এগ্রোবিজ

অন্যতম উপার্জনের পথ প্রক্রিয়াজাতকৃত আমের তৈরি খাদ্য পণ্য

 প্রক্রিয়াজাতকৃত আমের তৈরি খাদ্য পণ্য হতে পারে অন্যতম আয় উপার্জনের পথ
প্রক্রিয়াজাতকৃত আমের তৈরি খাদ্য পণ্য হতে পারে অন্যতম আয় উপার্জনের পথ

আম বাংলাদেশের অন্যতম একটি জনপ্রিয় ফল। এটি খেতে সুস্বাদু ও পুষ্টি সমৃদ্ধ বলে আমকে ফলের রাজা বলা হয়। আম পাঁকা ও কাঁচা দুই ভাবে খাওয়া হয় এবং প্রক্রিয়াজাতের মাধ্যমে বিভিন্ন রকমের খাবার তৈরিতে ব্যবহার করা যায়। আমের বহুমুখী প্রয়োগ পৃথিবীর অনেক দেশেই খাদ্য সামগ্রী তৈরিতে ব্যবহার করা হচ্ছে এবং বিভিন্ন কৃষিজাত পণ্য প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান তা ব্যবহার করছে। ফলে আম উৎপাদনের সাথে জড়িত কৃষক, ব্যবসায়ী, উদ্যেক্তা ও অন্যান্য সহযোগী প্রতিষ্ঠান সকলেই লাভবান হচ্ছে। এতে করে কৃষক তার কষ্ট করে ফলানো পণ্য নিয়ে কোন উৎকণ্ঠার মধ্যে থাকে না বরং এই ব্যবসার সম্প্রসারণ নিয়ে স্বপ্ন দেখে ও উৎসাহিত হয়ে থাকে।

একটি বিষয় উল্লেখ না করলেই নয়, তা হলো আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশসহ পৃথিবীর অনেক দেশেই কৃষি পণ্য উৎপাদনের সাথে কৃষি পণ্য প্রক্রিয়াজাতকারী প্রতিষ্ঠানের মধ্যে একটি লিংকেজ বা সংযোগ থাকে যা দুর্ভাগ্যজনক ভাবে আমাদের দেশে এই ব্যবস্থা খুব একটা পরিলক্ষিত হয় না বা নেই বললেই চলে যদিও বর্তমান কৃষি বান্ধব সরকার এবং মাননীয় কৃষিমন্ত্রী মহোদয় একজন কৃতি কৃষিবিদ হওয়ায় বিষয়টিকে বর্তমানে খুবই গুরুত্ব দিয়েছেন। কৃষি পণ্যের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করতে বর্তমান কৃষি বান্ধব সরকারের বিভিন্ন প্রয়াস বা কৃষি পণ্য বাণিজ্যিকীকরণ করতে বিভিন্ন নীতি প্রণয়ন নিয়ে কাজ চলমান আছে যা কৃষক, প্রক্রিয়াজাতকারী প্রতিষ্ঠান এবং ভোক্তা সকলেই লাভবান হবে বলে আশা করা যায় এবং এটি পৃথিবীর অনেক দেশেই পরিলক্ষিত হচ্ছে।

প্রক্রিয়াজাতকৃত আমের তৈরি খাদ্য পণ্য হতে পারে অন্যতম আয় উপার্জনের পথ
প্রক্রিয়াজাতকৃত আমের তৈরি খাদ্য পণ্য হতে পারে অন্যতম আয় উপার্জনের পথ

প্রাকৃতিক র্দুযোগ আমাদের দেশে নতুন কিছু নয়। প্রতি বছরই বিভিন্ন ঝড়, অতি বৃষ্টি অথবা খড়া ও অন্যান্য মহামারি আমরা মোকাবিলা করছি এবং সরকার এ ক্ষেত্রে সফলতা দেখিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু কৃষক তার উৎপাদিত পণ্য এবং ন্যায্য মুল্য নিশ্চিত হওয়া নিয়ে ঝুঁকির মধ্যে রয়েই গিয়েছে।

গত বুধবার ও বৃহস্পতিবার ’আম্ফান’ নামক সুপার সাইক্লোন এর প্রভাবে অনেক কৃষি পণ্যের ক্ষতি সাধিত হয়েছে বলে বিভিন্ন প্রিন্ট বা ইলেকট্রনিক মিডিয়াতে খবরের শিরোনাম হয়েছে। বিশেষ করে এখন দেশের অন্যতম একটি উচ্চ মূল্যের ফসল আম যে ফলের স্বাদ নিতে দেশের ভোক্তা তথা প্রবাসী অনেক বাংলাদেশিও এ মধু মাসের জন্য অপেক্ষা করে থাকে। স্বাদ, ঘ্রাণ ও পুষ্টি গুন অধিক পরিমাণে বিদ্যমান হওয়ায় দেশের আপামর প্রায় সকলেই আম খেতে অত্যন্ত পছন্দ করে। 

সংকট মোকাবেলায় আমের বহুজাতিক ব্যবহার বাড়াতে হবে
সংকট মোকাবেলায় আমের বহুজাতিক ব্যবহার বাড়াতে হবে

এই ফলটিতে বিভিন্ন ভিটামিন, খনিজ উপাদান, ফ্ল্যাবোনয়েড, ফাইবারসহ অন্যান্য পুষ্টিগুন যথেস্ট পরিমাণে থাকে। আমাদের দেশে প্রতি বছর ঝরে, ঝড়ে ও শিলা বৃষ্টির ফলে অধিক পরিমাণে আম গাছ থেকে মাটিতে পড়ে যায়। অনেক সময় গাছ থেকে পড়া আম ফেটে যায়। ফলে বিভিন্ন দাগ বা কষ আমের গায়ে লেগে থাকায় আমের গুনগত মান (ফলের রং) দ্রুত নষ্ট হয়ে যায়। অনেক সময় আম উৎপাদনের সাথে সম্পৃক্ত কৃষক ও ব্যবসায়ী খুব অল্প মূল্যে বিশেষ করে কাঁচা আম বাজারে বিক্রয় করতে বাধ্য হয়ে থাকে কিন্তু প্রক্রিয়াজাতকরণের মাধ্যমে আমের অপচয় বহুলাংশে কমানো যায়। আমের বহুমুখী ব্যবহার হিসেবে বিভিন্ন খাদ্য সামগ্রী তৈরি করা যায়।

আমাদের দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাংশের জেলাগুলোর মধ্যে সাতক্ষীরা, বাগেরহাট, খুলনা, কুষ্টিয়া, মেহেরপুর, যশোর, রাজশাহী, চাপাঁইনবাবগঞ্জসহ অন্যান্য জেলাতে ’আমপান’ সুপার সাইক্লোন এর প্রভাবে গত দুই দিনে ব্যাপকভাবে আম ঝরে পড়ে।

পত্রিকার তথ্য মতে শুধু আম ফলটিরই ১৫০ কোটির সমপরিমাণ ক্ষতি সাধিত হয়েছে এবং বর্তমানে কৃষক ২ – ১০ টাকা কেজি দরে এই ঝরে পড়া আম বিক্রয় করতে বাধ্য হচ্ছে। অধিকাংশ আমই (ফজলি, হিমসাগর, ল্যাংড়া, ক্ষীরসাপাত ইত্যাদি) ছিল পরিপুষ্ঠ এবং হার্ভেস্টিং বা গাছ হতে ১ – ৪ সপ্তাহের মধ্যে পাড়ার উপযোগী বলে জানা যায়। এই ঝরে পড়া কাচাঁ বা পরিপ্ষ্ঠু আম প্রক্রিয়াজাতকরণের মাধ্যমে অপচয় অনেকটা রোধ করা সম্ভব। 

রোদে শুঁকানো ফ্রেশ আমের আমসত্ব
রোদে শুঁকানো ফ্রেশ আমের আমসত্ব

বিভিন্ন তথ্য থেকে জানা যায়, দেশে আমের সংগ্রহোত্তর অপচয়ের পরিমান শতকরা ২৫ – ৪৪ ভাগ। অপচয় তথা ক্ষতি কমানোর অন্যতম একটি পদ্ধতি হলো প্রক্রিয়াজাতকরণ ব্যবস্থাপনার প্রয়াগ করা।

বিভিন্ন গবেষণায় দেখা যায় যে, রকমারি খাদ্য সামগ্রী বা সহজ পদ্ধতিতে সংরক্ষণ করা হলে প্রক্রিয়াজাতকরণে যা বিনিয়োগ করা হয় রিটার্ন বা ফেরত হিসেবে তার ২ গুণ বা অনেক সময় ২.৫ – ৩ গুণ বা তারঁও অধিক পরিমাণ লাভ পাওয়া যায়। মৌসূমের শুরুতেই এই উদ্যোগ গ্রহণ করা গেলে ব্যক্তি,গ্রুপ, উদ্যোক্তা বা প্রতিষ্ঠান নিজেরাই স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে সহজ প্রযুক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে বিভিন্ন খাদ্য সামগ্রী তৈরি করে বিপণন করতে সক্ষম হবে বা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে তা সরবরাহ করতে পারে।

অব্যশই এ ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যসম্মত ব্যবস্থাপনাসহ দেশের প্রচলিত আইন অনুসরণ করে বিপণনের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে যা প্রস্তুতকৃত খাদ্য সামগ্রীটি নিজেকে ব্রান্ড হিসেবে পরিচিত করবে। ফলে ভোক্তার আস্থা উক্ত পণ্যের প্রতি যেমন অনেক বেড়ে যাবে তেমনি খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তনের মাধ্যমে খুব সহজেই খাবারের টেবিলে আমের তৈরিকৃত পণ্যের স্বাদ সারা বছরই নেওয়া সম্ভব হবে। এতে করে এই ফলের অপচয় অনেকাংশে রোধ করা যাবে।  

প্রক্রিয়াজাতকৃত আমের তৈরি খাদ্য পণ্য হতে পারে অন্যতম আয় উপার্জনের পথ

কৃষি মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন গাজীপুরস্থ বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইন্সটিটিউট (বিএআরআই) এর পোস্টহারভেস্ট টেকনোলজি বিভাগ আমের পরিচর্যা, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও সংরক্ষণ বিষয়ে গবেষণার মাধ্যমে বিভিন্ন বিজ্ঞান সম্মত প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছে। এই সব প্রযুক্তি খুব সহজেই ব্যবহার করে বৈজ্ঞানিক উপায়ে কাচাঁ আম দীর্ঘ সময় (৬ – ৮ মাস পর্যন্ত) পরিমিত লবণ ও এসিটিক এসিড বা ভিনেগার মিশ্রিত দ্রবণে সংরক্ষণ করা যায়। এছাড়াও এই সংরক্ষিত আম দিয়ে সারা বছর আমসত্ত্ব, আমচুর, ম্যাংগো বার, আমের জুস সহ রকমারী খাদ্য সামগ্রী তৈরি করা যাবে আবার বিভিন্ন খাবারের সাথে মিশিয়ে রান্না করে খাওয়া যাবে।  

অধিকন্ত পরিপক্ক বা পরিপুষ্ঠ আম দিয়ে আচার, চাটনী, জ্যাম, জেলী, ম্যাংগো জুস, নেকটার, বিভিন্ন ধরনের শুকনো খাদ্য সামগ্রী, মোরব্বা, অসমোটিক ডিহাইড্রেটেড পণ্য, আমকে পাউডারে রুপান্তরিত করার মাধ্যমে সারা বছর জুস তৈরিতে ব্যবহার করা, আমের পাল্প সংরক্ষণ, আমের ফ্রোজেন খাদ্য সামগ্রী, ফ্রেশকাট ইত্যাদি হিসেবে ব্যবহারের যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে। 

উল্লেখ্য যে, ভারত, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, ফিলিপাইন, ইন্দোনেশিয়া, ভিয়েতনাম, জাপান, কোরিয়া, চীন, ইউরোপ, আমেরিকা, কানাডা, অস্ট্রেলিয়াসহ অনেক দেশেই আমের ক্যান প্রডাক্ট, ম্যাংগো বার, ম্যাংগো জুস, অসমোটিক ডিহাইড্রেটেড পণ্য ও আমের ফ্রেশকাট পণ্য খুবই জনপ্রিয়। সে সব দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান (ক্ষুদ্র, মাঝারি ও বড়) নিজেরাই আমের বিভিন্ন খাদ্য পণ্য প্রস্তÍত করে ও বিদেশে রপ্তানী করে থাকে যা আমাদের দেশের অনেক সুপার শপেই এখন ভোক্তাকে ক্রয় করতে দেখা যায়। 

প্রক্রিয়াজাতকৃত আমের তৈরি খাদ্য পণ্য হতে পারে অন্যতম আয় উপার্জনের পথ

উৎপাদিত পণ্য সামগ্রীর মধ্যে ড্রাইড পণ্যগুলো কেজি প্রতি ১৫০০ টাকা হতে ২৫০০ টাকা দরে বিক্রয় হয়ে থাকে বলে বিভিন্ন সুপার শপ হতে জানা যায়। কাজেই আম বিভিন্ন পরিপক্কতায় গাছ হতে পাড়া বা ঝরে পড়া আমকে প্রক্রিয়াজাতকরণের মাধ্যমে বিভিন্ন খাদ্য পণ্য তৈরি করা গেলে এ ফলটি হতে পারে একটি অন্যতম অর্থকরী ফসল।

ফলটি বেশ সুস্বাদু হওয়ায় বিদেশে তথা মধ্য প্রাচ্যের দেশগুলো (সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, ওমান, কুয়েত, বাহরাইন, সৌদিআরব), ইউরোপ, যুক্তরাস্ট্র, যুক্তরাজ্যসহ অন্যান্য দেশে প্রস্তুতকৃত খাদ্য পণ্য হিসেবে রপ্তানীর যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে। 

লেখক : উর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা, পোস্টহারভেস্ট টেকনোলজি বিভাগ, বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট, গাজীপুর

  • প্রক্রিয়াজাতকৃত আমের তৈরি খাদ্য পণ্য হতে পারে অন্যতম আয় উপার্জনের পথ

    প্রক্রিয়াজাতকৃত আমের তৈরি খাদ্য পণ্য হতে পারে অন্যতম আয় উপার্জনের পথ

  • প্রক্রিয়াজাতকৃত আমের তৈরি খাদ্য পণ্য হতে পারে অন্যতম আয় উপার্জনের পথ

    প্রক্রিয়াজাতকৃত আমের তৈরি খাদ্য পণ্য হতে পারে অন্যতম আয় উপার্জনের পথ

  • প্রক্রিয়াজাতকৃত আমের তৈরি খাদ্য পণ্য হতে পারে অন্যতম আয় উপার্জনের পথ

    প্রক্রিয়াজাতকৃত আমের তৈরি খাদ্য পণ্য হতে পারে অন্যতম আয় উপার্জনের পথ

  • প্রক্রিয়াজাতকৃত আমের তৈরি খাদ্য পণ্য হতে পারে অন্যতম আয় উপার্জনের পথ

    প্রক্রিয়াজাতকৃত আমের তৈরি খাদ্য পণ্য হতে পারে অন্যতম আয় উপার্জনের পথ

  • প্রক্রিয়াজাতকৃত আমের তৈরি খাদ্য পণ্য হতে পারে অন্যতম আয় উপার্জনের পথ

    প্রক্রিয়াজাতকৃত আমের তৈরি খাদ্য পণ্য হতে পারে অন্যতম আয় উপার্জনের পথ

  • সংকট মোকাবেলায় আমের বহুজাতিক ব্যবহার বাড়াতে হবে

    সংকট মোকাবেলায় আমের বহুজাতিক ব্যবহার বাড়াতে হবে

  • রোদে শুঁকানো ফ্রেশ আমের আমসত্ব

    রোদে শুঁকানো ফ্রেশ আমের আমসত্ব

  • প্রক্রিয়াজাতকৃত আমের তৈরি খাদ্য পণ্য হতে পারে অন্যতম আয় উপার্জনের পথ
  • প্রক্রিয়াজাতকৃত আমের তৈরি খাদ্য পণ্য হতে পারে অন্যতম আয় উপার্জনের পথ
  • প্রক্রিয়াজাতকৃত আমের তৈরি খাদ্য পণ্য হতে পারে অন্যতম আয় উপার্জনের পথ
  • প্রক্রিয়াজাতকৃত আমের তৈরি খাদ্য পণ্য হতে পারে অন্যতম আয় উপার্জনের পথ
  • প্রক্রিয়াজাতকৃত আমের তৈরি খাদ্য পণ্য হতে পারে অন্যতম আয় উপার্জনের পথ
  • সংকট মোকাবেলায় আমের বহুজাতিক ব্যবহার বাড়াতে হবে
  • রোদে শুঁকানো ফ্রেশ আমের আমসত্ব

এগ্রোবিজ

২৬ টাকার পেঁয়াজ ৮০ টাকা

  • আমদানিকারক থেকে আড়তদার। তারপর পাইকারি থেকে খুচরা বিক্রেতার হাত ঘুরে পেঁয়াজ যাচ্ছে ক্রেতার কাছে। এতে হু হু করে বাড়ছে দাম।
  • চার স্থলবন্দরের তথ্যে দেখা যায়, রপ্তানি বন্ধের আগে এ মাসের প্রথম দুই সপ্তাহে ভারত থেকে ৪২ হাজার ১৭৬ টন পেঁয়াজ আমদানি হয়।
  • ভারত থেকে মূলত চারটি স্থলবন্দর দিয়ে পেঁয়াজ আমদানি হয়। বন্দর চারটি হলো বেনাপোল, ভোমরা, সোনামসজিদ ও হিলি।

চট্টগ্রামের ষোলশহরে কর্ণফুলী কমপ্লেক্স থেকে প্রতি কেজি পেঁয়াজ ৮০ টাকায় কিনেছেন আবুল হাশেম। এই ক্রেতার জানা নেই, এ পেঁয়াজ কদিন আগে স্থলবন্দর দিয়ে দেশের সীমানায় আনা পর্যন্ত খরচ পড়েছে ১৭ থেকে ২৬ টাকা। তাতে গড়ে দাম পড়েছে কেজিতে ১৯ টাকা।

গড় দামের তথ্য ক্রেতাকে বলার পর অবাক হয়ে জানালেন, খুচরা বাজার পর্যন্ত আসতে এক কেজি পেঁয়াজে গড়ে ৬১ টাকার ব্যবধান! পেঁয়াজ ব্যবসায়ীদের কাছে তাঁর প্রশ্ন, এক কেজি পেঁয়াজে কত টাকা মুনাফা করতে হয়?
আবুল হাশেমের প্রশ্নের জবাব খুঁজতে পেঁয়াজ বেচাকেনার প্রতিটি ধাপের মূল্যের তথ্য সংগ্রহে বুধবার দুপুরে কর্ণফুলী কমপ্লেক্স বাজারের খাদিজা ট্রেডার্স, আলিফ স্টোরসহ কয়েকটি দোকানে দেখা যায়, কেজিপ্রতি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে মানভেদে ৭৫ থেকে ৮০ টাকা।

খুচরা বিক্রেতারা জানান, পাইকারি বাজার থেকে সোমবার ৬৫ টাকায় পেঁয়াজ কিনেছেন তাঁরা। পচনশীল পণ্য হওয়ায় প্রতি বস্তায় এক–দু কেজি পেঁয়াজ নষ্ট থাকে। পরিবহন খরচ আছে। সব মিলিয়ে ৭৫ থেকে ৮০ টাকার নিচে বিক্রি করলে পোষানো যায় না।

এই পেঁয়াজ খুচরা বিক্রেতারা এনেছেন খাতুনগঞ্জ পাইকারি আড়ত থেকে। খাতুনগঞ্জের বড় আড়ত মোহাম্মদীয় বাণিজ্যালয়ের কর্ণধার মোজাম্মেল হক গতকাল বুধবার প্রথম আলোকে বলেন, পেঁয়াজের মূল্যবৃদ্ধিতে আড়তদারদের কোনো ভূমিকা নেই। স্থলবন্দর থেকে আমদানিকারকেরা আড়তে পেঁয়াজ দেন। তাঁদের দেওয়া দরে বিক্রি করে আড়তদারেরা শুধু কমিশন পান।

চার স্থলবন্দরের তথ্যে দেখা যায়, রপ্তানি বন্ধের আগে এ মাসের প্রথম দুই সপ্তাহে ভারত থেকে ৪২ হাজার ১৭৬ টন পেঁয়াজ আমদানি হয়। প্রতি কেজি পেঁয়াজের শুল্কসহ গড় আমদানিমূল্য ১৯ টাকা। এ পেঁয়াজ আমদানি করেছেন ১০৮ জন আমদানিকারক।

আমদানিকারকেরা কী বলছেন? দেশে পেঁয়াজ আমদানির সবচেয়ে বড় স্টেশন চাঁপাইনবাবগঞ্জের সোনামসজিদ স্থলবন্দর। এ বন্দর দিয়ে সোমবারও মেসার্স বিএইচ ট্রেডিং অ্যান্ড কোং নামের একটি প্রতিষ্ঠান শুল্কসহ কেজিপ্রতি ২৬ টাকা দরে ৩০ টন পেঁয়াজ আমদানি করেছে। সব মিলিয়ে এ মাসে প্রতিষ্ঠানটি গড়ে ২২ টাকা দরে ২৫৬ টন পেঁয়াজ আমদানি করেছে।

জানতে চাইলে প্রতিষ্ঠানটির কর্ণধার বাবুল হাসনাত মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, ‘সর্বশেষ চালানে ২৬ থেকে ২৭ টাকা পড়তা (খরচ) পড়েছে, এটা ঠিক। স্থলবন্দরে আমরা তা বিক্রি করেছি ৪০ টাকায়। প্রতি কেজিতে শুধু পাঁচ টাকার মতো পেঁয়াজ নষ্ট হয়েছে।’ আপনারা ৪০ টাকায় বিক্রি করলে খুচরায় দাম কত হওয়া উচিত জানতে চাইলে তিনি বলেন,বড়জোর ৫০–৫৫ টাকা।

খুচরায় ৮০ টাকা দাম ওঠার কারণ কী হতে পারে জানতে চাইলে এই আমদানিকারক বলেন, দাম বাড়ার কারণ একটাই, ভারতের রপ্তানি বন্ধ হওয়া। সরবরাহ যদি বাড়ে, তাহলে দামও নেমে আসবে।
কখন কত দরে আমদানি

ভারত থেকে মূলত চারটি স্থলবন্দর দিয়ে পেঁয়াজ আমদানি হয়। বন্দর চারটি হলো বেনাপোল, ভোমরা, সোনামসজিদ ও হিলি। এসব বন্দর দিয়ে এ মাসের প্রথম দিন ভারত থেকে ৩ হাজার ৬৪ টন পেঁয়াজ আমদানি হয়। প্রতি কেজি পেঁয়াজে শুল্ক ১ টাকা ৩৪ পয়সা। শুল্ককরসহ প্রতি কেজি পেঁয়াজের আমদানিমূল্য ছিল ১৭ টাকা। এরপর ধীরে ধীরে আমদানিমূল্য বাড়তে থাকে। পরের দুদিন প্রায় একই দরে আমদানি হয়। ৫ ও ৬ সেপ্টেম্বর কেজিতে আমদানিমূল্য বেড়ে দাঁড়ায় ১৮ টাকায়। একটানা দুদিন ৯ ও ১০ সেপ্টেম্বর কেজিতে গড় আমদানিমূল্য ওঠে ২০ টাকা। এ সপ্তাহের শনিবার আমদানিমূল্য ছিল ২২ টাকা। আর রোববার তা আরও ১ টাকা বেড়ে দাঁড়ায় ২৩ টাকায়।

ভারত যেদিন রপ্তানি বন্ধ করেছে, সেদিন অর্থাৎ সোমবার বিকেল পর্যন্ত সোনামসজিদ ও বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে ১ হাজার ২০০ টন পেঁয়াজ আমদানি হয়। প্রতি কেজির গড় আমদানিমূল্য ছিল ২৬ টাকা। এদিন খুচরা বাজারে প্রতি কেজি পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ৫০ টাকায়। এরপর গতকাল বুধবার বিকেল পর্যন্ত কোনো পেঁয়াজ আমদানি হয়নি। একই দরে কেনা পেঁয়াজ গতকাল বিক্রি হয়েছে প্রতি কেজি ৭৫–৮০ টাকা দরে।

সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে সিপিডির গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম গতকাল প্রথম আলোকে বলেন, আগামী দিনে সরবরাহ কেমন হবে, তার ওপর ভিত্তি করে পেঁয়াজের মতো পচনশীল পণ্যের বাজার ওঠানামা করে। এবারের অবস্থাও হয়েছে তাই। এখন দেশীয় মজুত দিয়ে বাজার স্বাভাবিক করার অবস্থায় নেই। বাজার স্বাভাবিক করতে হলে সরবরাহ বাড়াতে হবে। নতুন পেঁয়াজ না আসা পর্যন্ত অন্তত দুই লাখ টন পেঁয়াজ সরকারি–বেসরকারি পর্যায়ে আমদানির দ্রুত উদ্যোগ নেওয়া দরকার।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

পাবনায় কৃষকের ঘরে পেঁয়াজের মজুত

পাবনার সুজানগরে ৪০ হাজার, সাঁথিয়ায় ৩৮ হাজার ও বেড়ায় ১১ হাজার টন পেঁয়াজ মজুত আছে। ফলে পেঁয়াজের দাম ছিল কিছুটা পড়তির দিকে

দেশের পেঁয়াজের ভান্ডার বলে পরিচিত পাবনার সুজানগর, সাঁথিয়া ও বেড়া উপজেলায় কৃষকের ঘরে অন্তত ৮৯ হাজার টন পেঁয়াজ মজুত আছে। হঠাৎ দাম বেড়ে যাওয়ায় কৃষকেরা ঘরে থাকা পেঁয়াজ বাজারে আনতে শুরু করেছেন। এতে তিন উপজেলায় গতকাল বুধবার পেঁয়াজের দাম ছিল কিছুটা পড়তির দিকে।
মঙ্গলবার উপজেলাগুলোর বিভিন্ন হাটে পাইকারি ৮০–৮৮ টাকা কেজি দরে পেঁয়াজ বিক্রি হলেও গতকাল তা কেজিতে ৫–৮ টাকা কমে বিক্রি হয়েছে।

কৃষি কার্যালয় সূত্রগুলো জানায়, দেশের সবচেয়ে বেশি পেঁয়াজ উৎপাদনকারী উপজেলা হলো সুজানগর। এর পরেই সাঁথিয়ার অবস্থান। সুজানগরে এবার ১৮ হাজার হেক্টর জমিতে পেঁয়াজের আবাদ হয়ে ২ লাখ ১৩ হাজার টন উৎপাদিত হয়েছে। সাঁথিয়ায় ১৬ হাজার ৭৫০ হেক্টর জমিতে আবাদ হয়ে ১ লাখ ৯৫ হাজার টন পেঁয়াজ উৎপাদিত হয়েছে। আর বেড়ায় ৫ হাজার হেক্টর জমিতে আবাদ হয়ে ৫৬ হাজার ২০০ টন পেঁয়াজ উৎপাদিত হয়েছে।

তিন উপজেলা কৃষি কার্যালয়ের মতে, অন্য বছরের তুলনায় এবার কৃষকের ঘরে মজুত পেঁয়াজের পরিমাণ অনেক বেশি। চলতি বছরের পেঁয়াজ ওঠার মৌসুমের (মার্চ-এপ্রিল) পর পাঁচ মাস পেরিয়ে গেছে। ইতিমধ্যে কৃষকের ঘরের পেঁয়াজ শেষ হয়ে যাওয়ার কথা। কিন্তু এখনো তিন উপজেলায় অন্তত ৯৯ হাজার টন পেঁয়াজ কৃষকের ঘরে মজুত রয়েছে। এর মধ্যে সুজানগরে ৪০ হাজার, সাঁথিয়ায় ৩৮ হাজার ও বেড়ায় ১১ হাজার টন মজুত রয়েছে।

বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, করোনা পরিস্থিতির কারণে এবার পেঁয়াজ ওঠার মৌসুম, অর্থাৎ মার্চ-এপ্রিলে কৃষকেরা পেঁয়াজ বিক্রি করেছেন কম। কয়েক মাস সরকারি নিষেধাজ্ঞার কারণে এনজিওগুলো কৃষকদের কাছ থেকে কিস্তি আদায় করতে পারেনি। তাই কৃষকদের কিস্তি পরিশোধের চিন্তা ছিল না। তা ছাড়া সে সময় হাটে ব্যাপারীদের উপস্থিতি যেমন কম ছিল, তেমনি কৃষকেরাও পেঁয়াজ নিয়ে খুব একটা হাটে যাননি। তাই সব মিলিয়ে কৃষকের উৎপাদিত পেঁয়াজের একটা বড় অংশ এখনো মজুত আছে।

গত দুই দিন বিভিন্ন হাটে গিয়ে দেখা যায়, হাটে অন্যান্য দিনের তুলনায় পেঁয়াজের আমদানি বেড়েছে। ব্যবসায়ী ও কৃষকেরা জানান, পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধির খবরে কৃষকেরা হাটে পেঁয়াজ আনতে শুরু করেছেন। এ ছাড়া হাটে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে পেঁয়াজ কিনতে প্রচুর ব্যবসায়ীর উপস্থিতিও লক্ষ করা গেছে। গতকাল পাইকারি ৭৫–৮০ টাকা কেজি দরে পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে। অথচ আগের দিন এসব হাটে পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ৮০–৮৮ টাকায়।
সাঁথিয়ার করমজা হাটের পেঁয়াজের আড়ত মুন্নাফ ট্রেডার্সের ব্যবস্থাপক মো. আলম বলেন, ‘গতকালের (মঙ্গলবার) তুলনায় আজ পেঁয়াজের দাম পড়তির দিকে। দাম বাড়ার খবরে কৃষকেরা হাটে বেশি বেশি পেঁয়াজ নিয়ে আসছেন। এভাবে পেঁয়াজের আমদানি বাড়তে থাকলে দাম আরও কমবে বলে আমাদের ধারণা।’

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, অন্য বছরগুলোতে ব্যবসায়ীরা প্রচুর পেঁয়াজ মজুত করে রাখলেও এবার তেমনটি খুব একটা হয়নি। বরং এবার কৃষকেরাই পেঁয়াজ মজুত রেখেছেন বেশি।
এ বিষয়ে সাঁথিয়ার করমজা হাটের সবচেয়ে বড় পেঁয়াজের আড়তের মালিক মুন্নাফ প্রামাণিক বলেন, এবার পেঁয়াজ ওঠার মৌসুমে প্রতিমণ পেঁয়াজের দাম ছিল ১৭০০–১৮০০ টাকা। এত দামে ব্যবসায়ীরা পেঁয়াজ মজুতে সাহস পাননি। তাই ব্যবসায়ীদের ঘরে এবার পেঁয়াজের মজুত খুবই কম। অন্যদিকে এনজিওগুলো কৃষকদের কাছ থেকে দীর্ঘদিন কিস্তি আদায় করতে পারেনি। এই সুযোগে অনেক কৃষক পেঁয়াজ রেখে দিয়েছিলেন। এতে দাম বাড়ার সুফল কৃষকের ঘরেই যাচ্ছে।
বেড়ার সানিলা গ্রামের সিরাজুল ইসলাম, তারাপুর গ্রামের আলী আকবর, সাঁথিয়ার মহিষাকোলা গ্রামের নূর ইসলামসহ কয়েকজন কৃষক বলেন, পেঁয়াজ চাষ করে এর আগের কয়েক বছর তাঁরা টানা লোকসান দিয়েছেন। গতবার থেকে তাঁরা লাভের মুখ দেখছেন। তবে গতবার অনেকেই পেঁয়াজ ওঠার মৌসুমেই বেশির ভাগ পেঁয়াজ বিক্রি করে অল্প লাভ পেয়েছেন। কিন্তু এবার তাঁরা সাধ্যমতো পেঁয়াজ ধরে রাখার চেষ্টা করছেন।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

ট্রাক আসতে দেরি দেখেও অপেক্ষা করেন ক্রেতারা

ঘড়িতে তখন দুপুর সাড়ে ১২ টা। প্রচণ্ড গরমের মধ্যে মিরপুরের কালশীতে ওয়াসার গভীর নলকূপ এলাকায় টিসিবির ট্রাকের জন্য অপেক্ষা করছিলেন নিম্ন আয়ের কিছু মানুষ। এঁদের কেউ রিকশাচালক, কেউবা গৃহিণী, আবার কেউ গার্মেন্টস মানে তৈরি পোশাক কারখানার শ্রমিক, কেউ বাসাবাড়ির গৃহকর্মী। ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) ভ্রাম্যমাণ ট্রাক থেকে সাশ্রয়ী দামে পেঁয়াজসহ চাল-ডাল কিনতেই তাঁদের এই অপেক্ষা। কিন্তু কাঙ্ক্ষিত সেই ট্রাক আসে বেলা সোয়া একটার দিকে। ততক্ষণে আরও অনেকেই সেখানে জড়ো হয়েছেন।

সেখানে শাহনাজ আকতার নামের এক ক্রেতা জানান, টিসিবির ট্রাক থেকে তিনি নিয়মিত চাল, ডাল ও পেঁয়াজ কেনেন। দুপুর ১২টার দিকে পেঁয়াজ কিনতে এসে দেখেন ট্রাক তখনো আসেনি। সে জন্য পাশের কাঁচাবাজারে গিয়েছিলেন পেঁয়াজ কিনতে। কিন্তু দাম শুনেই ফিরে আসেন, অপেক্ষা করতে থাকেন ট্রাকের জন্য। তিনি আরও বলেন, ‘আমি পোশাক কারখানায় কাজ করি। অসুস্থতার কারণে কাজে যাইনি। অসুস্থ শরীর নিয়েই আধ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে ট্রাকের জন্য অপেক্ষা করছি।’

গতকাল বুধবার মিরপুরের কালশীতে টিসিবির পণ্য বিক্রির দায়িত্ব ছিল ডিলার প্রতিষ্ঠান মেসার্স এন ইসলামের। কালশী মোড়ে তাদের ট্রাক পৌঁছায় বেলা সোয়া একটার দিকে। এরপর শুরু হয় পণ্য বিক্রির কাজ। নির্ধারিত স্থানে পৌঁছে দুপুরে খাওয়ার সময়ও পাননি ওই প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা।

ডিলার এন ইসলামের মালিক সিরাজুল ইসলামের ছোট ভাই নয়ন হোসেন ছিলেন পণ্য বিক্রি তদারকির দায়িত্বে। তিনি জানান, টিসিবি থেকে পণ্যগুলো বুঝে পেতে তাঁদের দেরি হয়েছে। এটিই তাঁদের আসতে দেরি হওয়ার কারণ।

কালশীতে ট্রাক থেকে শুধু পেঁয়াজ কেনেন রিকশাচালক জাহাঙ্গীর হোসেন। তিনি জানান, বাজারে পেঁয়াজের দাম চড়া। ট্রাকে এক কেজি পেঁয়াজ ৩০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। তাই তিনি এখান থেকেই পেঁয়াজ কেনেন। তবে এক কেজি পেঁয়াজ পেতে তাঁকে আধঘণ্টার মতো অপেক্ষা করতে হয়েছে।

মোহাম্মদপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ভ্রাম্যমাণ ট্রাকে টিসিবির পণ্য বিক্রি করছিল ডিলার আরীফ ট্রেডার্স। গতকাল বেলা আড়াইটার দিকে ওই জায়গায় ক্রেতাদের ভিড় দেখা যায়। নারী ও পুরুষের পৃথক দুটি সারি থাকলেও উভয় সারিতেই প্রায় সমসংখ্যক ক্রেতা দাঁড়িয়ে ছিলেন। ক্রেতাদের মধ্যে পেঁয়াজ কিনতে আসা লোকজনের সংখ্যাই বেশি বলে জানান ডিলারের প্রতিনিধিরা। অনেক ক্রেতাকে নির্ধারিত এক কেজির বেশি পেঁয়াজ দিতে বিক্রেতাদের অনুরোধ করতে দেখা গেছে।

সেখানে মোহাম্মদপুর সাতমসজিদ এলাকার বাসিন্দা খাদিজা বেগম পেঁয়াজ কিনতে আসেন। তিনি জানান, প্রায় এক ঘণ্টা অপেক্ষা করে তিনি এক কেজি পেঁয়াজ পেয়েছেন। আরও কয়েক কেজি কিনতে চেয়েছিলেন।

খাদিজা বেগম বলেন, ‘বাসায় প্রায় সবাই অসুস্থ। তাই বাধ্য হয়ে বাজারে আসতে হয়েছে। অর্থনৈতিক এই দুরবস্থার সময়ে এক কেজি পেঁয়াজে ৪০ থেকে ৫০ টাকা বাঁচাতে পারলেও অনেক উপকার হবে।’

ট্রাকসেল থেকে যাঁরা পণ্য কিনছিলেন তাঁদের বেশির ভাগই নিম্ন আয়ের লোকজন। মোহাম্মদপুরে অনেক রিকশাচালককে রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় ভ্রাম্যমাণ ট্রাক দেখে থেমে পেঁয়াজ কিনতে লাইনে দাঁড়াতে দেখা যায়।

মেসার্স আরীফ ট্রেডার্সের প্রতিনিধি মো. মনির হোসেন বলেন, ‘আজ অনেকেই বেশি বেশি পেঁয়াজ চাইছেন। কিন্তু প্রত্যেক ক্রেতাকে এক কেজি করে দেওয়ার নির্দেশনা রয়েছে। চার দিন আগেও একজন ক্রেতা ট্রাকসেল থেকে দুই কেজি পেঁয়াজ কিনতে পারতেন। পেঁয়াজের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় এক কেজি করে বিক্রি করতে বলা হয়েছে।’

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

রপ্তানি বন্ধ করায় বিপাকে ভারতের ব্যবসায়ীরাও

গত ১৪ সেপ্টেম্বর হঠাৎ করে বাংলাদেশে পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ করে দেওয়ার ঘোষণায় বিপাকে পড়েছেন ভারতের ব্যবসায়ীরাও। পশ্চিমবঙ্গের ভারত-বাংলাদেশের ৪টি স্থলসীমান্তে পেঁয়াজ বোঝাই প্রায় এক হাজার ট্রাক আটকা পড়েছে। এ অবস্থায় ভারতের পেঁয়াজ রপ্তানিকারকেরা অবিলম্বে এই পচনশীল পণ্য বাংলাদেশে রপ্তানির দাবি জানিয়েছেন । তারা বলছেন, ঋণপত্র খোলা এই সব পেঁয়াজের ট্রাক অবিলম্বে বাংলাদেশে পাঠানোর অনুমতি দিক ভারত সরকার।

পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনা জেলার বেনাপোল-পেট্রাপোল, ঘোজাডাঙ্গা, মালদহের মহদিপুর এবং দক্ষিণ দিনাজপুরের হিলি সীমান্তে এসব পেঁয়াজ বোঝাই ট্রাক আটকে আছে। ইতিমধ্যে ওই সব ট্রাকের পেঁয়াজ নষ্ট হতে শুরু হয়েছে। পেঁয়াজ চুরিও হচ্ছে—এমন অভিযোগ করছেন ব্যবসায়ীরা। বর্তমানে মহদিপুর সীমান্তে ৩০০টি, ঘোজাডাঙ্গ সীমান্তে ১৫০টি এবং বেনাপোল-পেট্রাপোল ও হিলি সীমান্তে ৫০০টি পেঁয়াজ বোঝাই ট্রাক আটকে রয়েছে। এতে পেঁয়াজ রয়েছে ১৬ হাজার মেট্রিক টন । এই আটকে থাকার কারণে, এ দেশে পেঁয়াজ রপ্তানিকারকেরা প্রচণ্ড আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন।

বিশেষ করে সীমান্তে ট্রাক আটকে থাকায় তাঁরা প্রতিদিন ক্ষতির মুখে পড়ছে। অন্যদিকে ট্রাকের ড্রাইভার ও খালাসিকে খাওয়া খরচ দিতে হচ্ছে। তাই রপ্তানিকারকেরা চাইছেন অবিলম্বে সীমান্তে আসা পণ্যবাহী পেঁয়াজের ট্রাককে বাংলাদেশে প্রেরণ করে পেঁয়াজ খালাস করার অনুমতি দেওয়া হোক। নেপাল ও ভুটান সীমান্তেও সে দেশে যাওয়ার জন্য আটকে পড়েছে অন্তত ২০০ পেঁয়াজ বোঝাই ট্রাক। এসব পেঁয়াজ এসেছে ভারতের মহারাষ্ট্রের নাসিক থেকে।

নাসিক ছাড়া ভারতের পাঞ্জাব, কর্ণাটক, অন্ধ্র প্রদেশ , মধ্যপ্রদেশ, গুজরাট, রাজস্থান, তামিলনাড়ু-তেও প্রচুর উৎপাদন হয়। তবে বাংলাদেশে রপ্তানিমুখী এসব ট্রাকের পেঁয়াজ মহারাষ্ট্রের নাসিক থেকে মালবাহী ট্রেনে করে পশ্চিমবঙ্গের ডানকুনি ও কলকাতার চিৎপুর রেল ইয়ার্ডে আসে। সেখান থেকে ট্রাকে করে পাঠানো হয় বাংলাদেশে।

মহদিপুর এক্সপোর্ট অ্যাসোসিয়েশনের কর্মকর্তা সমীর ঘোষ আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে প্রথম আলোকে জানান, সরকার ইচ্ছে করলে পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ করতেই পারেন।

কিন্তু রপ্তানি বন্ধের আগে নোটিশ দেওয়া হলে এভাবে ট্রাকগুলি পেঁয়াজ নিয়ে সীমান্তে এসে আটকা পড়ত না। এতে করে ট্রাকে থাকা পেঁয়াজ নষ্ট হয়ে যাওয়ার সুযোগ থাকছে। বলেন, আগাম খবর জানতে পারলে কোনো রপ্তানিকারকই পেঁয়াজ এভাবে লোড করে সীমান্তে পাঠাতেন না। তিনি সরকারকে অনুরোধ করেছেন, অন্তত যেসব ট্রাক সীমান্তে এসেছে তাদের পেঁয়াজ খালাস করার জন্য বাংলাদেশ সীমান্তে পাঠিয়ে দেওয়া হোক। পাশাপাশি তিনি পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ করার বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করারও আবেদন জানিয়েছেন।

ওয়েস্ট বেঙ্গল এক্সপোর্টার্স কো-অর্ডিনেশন কমিটির সাধারণ সম্পাদক উজ্জ্বল সাহা বলেন, ‘দেশের বাজারে মূল্য নিয়ন্ত্রণে রপ্তানিতে রাশ টানার সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানাচ্ছি। তবে যেভাবে আচমকা নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছে তাতে বহুমুখী সংকট তৈরি হয়েছে। লোকসানের সঙ্গে বিদেশি আমদানিকারকদের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি খেলাপের মতো ঘটনা ঘটেছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘রপ্তানির জন্য পাঠানো পেঁয়াজ আবার দেশের বাজারে ফেরত আনাও বৈদেশিক বাণিজ্যের নিয়মনীতি পেরিয়ে সম্ভব নয়। তাই ১৪ সেপ্টেম্বর নিষেধাজ্ঞা ঘোষণার আগে বিভিন্ন ব্যাংকে যাদের এলসি খোলা হয়ে গেছে এবং যেসব পেঁয়াজ বোঝাই ট্রাক সীমান্তে পৌঁছে গেছে অন্তত তাঁদের ওই পেঁয়াজ রপ্তানি করার সুযোগ দেওয়া হোক।’

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

খুচরা বিক্রেতারা কেজিপ্রতি বেশি নিচ্ছেন ২০–২৫ টাকা

  • পাইকারি বাজারে দেশি পেঁয়াজের দাম ৭০–৮০ টাকা, ভারতীয় ৫৫–৬০ টাকা।
  • খুচরা বাজারে দেশি পেঁয়াজ ৯০-১১০ টাকা, ভারতীয় ৮০ টাকা।

ঢাকার বাজারে গত দুই দিনে পেঁয়াজের পাইকারি দাম কমলেও খুচরায় কমেনি। গতকাল বিভিন্ন বাজারে ঘুরে দেখা গেছে, দেশি পেঁয়াজে পাইকারি ও খুচরায় দামে পার্থক্য ২০ থেকে ২৫ টাকা। আর ভারতীয় পেঁয়াজের ক্ষেত্রে এই ফাঁরাক ২০ টাকা।

মিরপুর ১ নম্বর সেকশনের পেঁয়াজের আড়ত বিক্রমপুর ট্রেডার্সে বিক্রেতা রাকিব হোসেন গতকাল বৃহস্পতিবার মানিকগঞ্জের ঝিটকা জাতের পেঁয়াজ বিক্রি করছিলেন প্রতি কেজি ৮২ টাকা দরে। বেশ বড় আকারের ওই পেঁয়াজকে বাজারের সেরাও বলা যায়। রাকিব বললেন, ৬০ কেজির এক বস্তা পেঁয়াজ কেনার পর খুচরা বিক্রেতাকে ১০ টাকা আড়তদারী ও ২০ টাকা শ্রমিকের মজুরি বাবদ দিতে হয়। এ হিসেবে বিক্রমপুর ট্রেডার্স থেকে কয়েক শ গজ দূরে পেঁয়াজ নিতে খুচরা বিক্রেতার খরচ দাঁড়ায় কেজিপ্রতি ৫০ পয়সা। ফলে কেজিতে মোট দাম পড়ে সাড়ে ৮২ টাকা।

কিন্তু মিরপুর ১ নম্বর সেকশনের বাজারে ওই পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ১০০ টাকা দরে। ফলে সামান্য দূরত্বেই পাইকারি ও খুচরার পার্থক্য দাঁড়াচ্ছে ১৮ টাকা। আর মিরপুর ১ নম্বর সেকশনের আড়ত থেকে শেওড়াপাড়া, কাজীপাড়া ও পীরেরবাগ এলাকায় গিয়ে একই পেঁয়াজ ১১০ টাকা কেজি হয়ে যাচ্ছে। কেজিতে পার্থক্য দাঁড়াচ্ছে ২৮ টাকা।

ঢাকার আরও দুটি পাইকারি ও খুচরা বাজারের দামের তুলনা করে দেখা গেছে, পেঁয়াজে পাইকারি ও খুচরায় দামে পার্থক্য মোটামুটিভাবে ২০ থেকে ২৫ টাকা। বাজারে এক মাস আগেও যখন প্রতি কেজি পেঁয়াজের দাম ৪০ টাকার মধ্যে ছিল, তখন পাইকারি বাজারে দাম থাকত ২৮ থেকে ৩০ টাকার মধ্যে। এখন যখন দাম অনেক বেড়ে গেছে, তখন পাইকারি ও খুচরার পার্থক্যও বাড়ছে।

পাইকারি বিক্রেতা রাকিব হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, ৮২ টাকায় কিনে ৯০ থেকে ৯৫ টাকার মধ্যে বিক্রি করা উচিত। ১১০ টাকা তো অনেক বেশি। তিনি বলেন, ‘আমরা বিক্রির সময় রসিদ দিই। সেটা যাচাই করলেই কত দামে কেনে, আর কত দামে বিক্রি করে, তা বেরিয়ে আসবে।’

অবশ্য খুচরা বিক্রেতাদের নানা যুক্তি আছে। পীরেরবাগের ভ্রাম্যমাণ বিক্রেতা আবদুস সালাম বলেন, দাম বেড়ে যাওয়ায় পেঁয়াজের বিক্রি কমে গেছে। অথচ পরিবার চালাতে তাঁকে অন্তত ৫০০ টাকা আয় করতে হয়। তিনি বলেন, আগে ৩০ টাকা খাটিয়ে ৫ টাকা লাভ করলে এখন খাটাতে হচ্ছে ১০০ টাকা। ফলে লাভের পরিমাণও একটু বেশি হবে।

সব মিলিয়ে খুচরায় প্রভাব না পড়ায় পাইকারি বাজারে দাম কমার সুফল ক্রেতারা পাচ্ছেন না। পুরান ঢাকার শ্যামবাজারে গতকাল দেশি পেঁয়াজ প্রতি কেজি ৭০ থেকে ৭৫ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। গত মঙ্গলবারের তুলনায় তা ১৫ থেকে ২০ টাকা কম। আর ভারতীয় পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে প্রতি কেজি ৫২ থেকে ৫৫ টাকায়, যা কমেছে ১৫ টাকার মতো।

ঢাকার কারওয়ান বাজারেও পেঁয়াজের দাম কমেছে। গতকাল সেখানের আড়তের বিক্রেতারা পাঁচ কেজি করে দেশি কিং নামে পরিচিত পেঁয়াজ প্রতি কেজি ৮০ টাকা, পাবনা ও রাজশাহীর দেশি পেঁয়াজ ৯০ থেকে ৯৫ টাকা এবং ভারতীয় পেঁয়াজ ৬০ টাকা দরে বিক্রি করেন। বস্তা নিলে দাম আরেকটু কম পড়ে।

বিক্রেতারা বলছেন, গত সোমবার ভারত রপ্তানি বন্ধ করে দেওয়ার পর মানুষের মধ্যে কেনার যে হিড়িক পড়েছিল, তা এখন নেই। অন্যদিকে কৃষক ও ফড়িয়ারা বাড়তি পরিমাণে পেঁয়াজ বাজারে নিয়ে আসছেন। এতে সরবরাহ বাড়ায় দাম কমছে।

বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের (বিটিটিসি) হিসাবে, দেশে বছরে ২৫ লাখ মেট্রিক টন পেঁয়াজের চাহিদা রয়েছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের হিসাবে উৎপাদন হয়েছে সাড়ে ২৫ লাখ টন। তবে সংরক্ষণজনিত ক্ষতি বাদ দিলে সরবরাহ দাঁড়ায় ১৯ লাখ টনের কিছু বেশি। দেশে এখন পেঁয়াজের মজুত রয়েছে সোয়া পাঁচ লাখ টনের মতো।

কমিশনের সদস্য শাহ মো. আবু রায়হান আলবেরুনী প্রথম আলোকে বলেন, সামাজিক অনুষ্ঠানাদি বন্ধ থাকায় এখন মাসে ১ লাখ ৭০ হাজার টনের মতো পেঁয়াজের চাহিদা রয়েছে। মজুত দিয়ে আড়াই থেকে তিন মাসের মতো চলবে। এরপর নতুন পেঁয়াজ উঠতে শুরু করবে। এ ছাড়া সরকারি ও বেসরকারিভাবে আমদানি করা হচ্ছে। উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই।

বন্দরে আটকা ট্রাক

ভারত রপ্তানি বন্ধ করার আগে যেসব পেঁয়াজের ট্রাক বাংলাদেশের পথে রওনা হয়েছিল, তা এখনো স্থলবন্দরে আটকে আছে। ভারত সরকার গত সোমবার সন্ধ্যায় পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ ঘোষণা করে। এর আগে ওই দিন সকাল থেকেই ট্রাক বাংলাদেশে ঢোকেনি।

শুল্কায়নসহ রপ্তানির অনুমতি নিয়ে ভারতের পেট্রাপোল বন্দরে (বেনাপোলের ওপাশ) পেঁয়াজবোঝাই অন্তত ১৫টি ট্রাক এবং সাতক্ষীরার ভোমরা স্থলবন্দরের বিপরীতে ঘোজাডাঙ্গা বন্দরে ১৭০টি ট্রাক দাঁড়িয়ে আছে। হিলিতে রয়েছে প্রায় ২০০ ট্রাক। সোনামসজিদ স্থলবন্দরে ঢোকার অপেক্ষায় প্রায় ৩০০ ট্রাক।

পেঁয়াজ আমদানিকারক ও বেনাপোলের ক্লিয়ারিং অ্যান্ড ফরোয়াডিং (সিঅ্যান্ডএফ) এজেন্ট রফিকুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের সিদ্ধান্ত ছাড়া শুল্ক বিভাগ ওই পেঁয়াজ ছাড় করতে পারছে না। পেঁয়াজ পচে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। পেঁয়াজ ছাড় করাতে সরকারি আলোচনা দরকার।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com